মুরাদনগরে যুবলীগের মিছিলের পর রাতভর অভিযান, ইউপি সদস্যসহ গ্রেপ্তার ১৫
মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগরঃ
কুমিল্লার মুরাদনগরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিলের পর রাতভর অভিযান চালিয়ে ইউপি সদস্যসহ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে দেবিদ্বার উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ মামুনের নেতৃত্বে মুরাদনগরের লাজৈর এলাকা থেকে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
মিছিলটি চান্দিনার তীরচরের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হলেও, অন্যরা পালিয়ে যায়। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ‘কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগ’ লেখা একটি ব্যানার ও কয়েকটি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মিছিলের ঘটনাস্থল মুরাদনগর থানা এলাকায় হওয়ায় চান্দিনা থানা পুলিশ আটক তিনজনকে মুরাদনগর থানায় হস্তান্তর করে। পরে মিছিলের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে শুক্রবার রাতে অভিযান শুরু করে মুরাদনগর থানা পুলিশ।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর নির্দেশনায় এসআই রাজু বড়ুয়া, এসআই মো: আরকানুল ইসলাম ও এএসআই কুসুম বড়ুয়াসহ পুলিশের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আলমাস উদ্দিন মেম্বারও রয়েছেন।
গ্রেপ্তার ১৫ জন হলেন, উপজেলার দৌলবাড়ী গ্রামের মৃত শিশু মেয়ের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (২৬), হাটাশ গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে মো: সারোয়ার (১৯), গুঞ্জুর গ্রামের মিন্টু মিয়ার ছেলে আনিস মিয়া (৩২), সরমাকান্দা গ্রামের মৃত মজিবুর রহমান সরকারের ছেলে মোস্তফা সরকার (৩৩), পাহাড়পুর গ্রামের আব্দুল গনি সরকারের ছেলে আরিফুর রহমান সরকার (৪৫), চৌহদ্দী গ্রামের সেলিম মেম্বারের ছেলে মহসিন (২৫) ও ইয়াছিন (২৮), কামাল্লা গ্রামের মৃত বজলুর রহমানের ছেলে মো: জজ মিয়া (৪৫), গুঞ্জুর গ্রামের কনু মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়া (৩০), বাখরনগর গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে সোহেল মিয়া (৪৫), ভিটি পাঁচপুকুরিয়া গ্রামের মৃত কদম আলির ছেলে মোঃ শাহ আলম (৬৩), কামাল্লা গ্রামের মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে মো: জাহাঙ্গীর আলম (৬১), বাখরনগর গ্রামের মৃত মোসলেম মিয়ার ছেলে ইউপি সদস্য আলমাস উদ্দিন মেম্বার (৫৭), কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত সেকান্দর আলীর ছেলে মোঃ আব্দুস সাদেক (৬৯) এবং দেবিদ্বার উপজেলার ছেচড়া পুকরিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীন মাস্টারের ছেলে সারোয়ার হোসেন রাকিব (৩০)।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে শনিবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।