মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কোরবানীকে সামনে রেখে লাকসামে গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত খামারীরা

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
জুলাই ৯, ২০১৭
news-image

সেলিম চৌধুরী হীরা, লাকসামঃ
আসন্ন ঈদ-উল আজহাকে সামনে রেখে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা জুড়ে গবাদি পশু মোটাতাজাকরন করতে ছোটবড় খামারিরা ইতিমধ্যে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ অঞ্চলে ছোট বড় খামারীরা গরু মোটাতাজাকরন করতে খাওয়াচ্ছেন দেশী-বিদেশী কোম্পানীর অনেক রকম ইনজেকশন, ট্যাবলেট ও পাউডার।
জানা যায়, কোরবানী ঈদের আর প্রায় ২ মাস বাকি। তাই রমজানের ঈদের পরপরই তারা শুরু করেন গবাদি পশু লালন-পালনে ব্যাপক প্রস্তুতি। বছর জুড়ে স্থানীয় হাটবাজার থেকে কেনা ভুষি, খৈল, ঘাস ও খড় গবাদী পশুর স্বাভাবিক খাবারের তালিকায় অন্তরভূক্ত থাকলেও কোরবানী ঈদের ২ মাস আগেথেকেই গ্রামাঞ্চলের গৃহস্থ ও ছোটবড় খামারীরা গবাদী পশুর খাবারের রুচি বাড়ানোর নাম করে ব্যবহার শুরু করছেন নানা ধরনের ব্র্যান্ডের ভিটামিন জাতীয় ঔষধ।
বর্তমানে শহরের ফার্মেসী গুলোতে গবাদীপশুর ঔষধ বিক্রির ধুম পড়েছে। এবার প্রায় ৫ লাখ লোকের অধ্যুষিত উপজেলার গবাদীপশু লালন-পালন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এমনকি কমেছে গবাদী পশু পালনে খামারীর সংখ্যাও।
স্থানীয় গবাদী পশু খামারীরা জানায়, জেলার দক্ষিনাঞ্চলের লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, সদরদক্ষিন ও বরুড়া উপজেলার বড় বড় হাট বাজার গুলোতে ভারতীয় গরু চোরা কারবারী চক্র আসন্ন কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ব্যাপক তোড়ঝোড় শুরু করে দিয়েছে। কুমিল্লার ভারত সীমান্ত অঞ্চল হিসাবে জেলার দক্ষিনাঞ্চলে ৫টি উপজেলা দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্যের পাশাপাশি চোরাপথে গরু আমদানীর ট্রানজিট রুট হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষ করে উপজেলাগুলোর শহরেই নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিভূত পল্লী গাঁয়ে ও চোরা পথে আসা বিভিন্ন ভারতীয় পন্যের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী ও বিভিন্ন প্রজাতির ডিম পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় এ সব পন্যের অবৈধ এক চেটিয়া দখলের ফলে দেশীয় পন্যের চাহিদা কমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান গুলো ক্রমাগত বিপর্যয়ের দিকে এগুচ্ছে। ফলে সরকারও বছরে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে দেশীয় পশুর বাজার ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।