,

নাঙ্গলকোট শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
September 15, 2017
news-image

 

সেলিম সজীবঃ

কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. নবীর উদ্দিনের বিরুদ্ধে খাত ভিত্তিক কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই অফিসারের এ কমিশন বাণিজ্য নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে ভুক্তভোগী শিক্ষকদের মধ্যে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের শুরুতে উপজেলার ১৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়নের জন্য স্কুল লেভেল ইমপ্রুপমেন্ট প্লান (স্লিপ) প্রকল্পের অধীনে প্রত্যেক স্কুলে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ লাখ ৪০ হাজার টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণের কারণে কয়েকটি স্কুল বরাদ্ধকৃত অর্থ পায়নি। এছাড়াও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নের জন্য ৫ হাজার টাকা ও স্কুল ম্যান্টেইনেন্সের জন্য ৫ হাজার টাকাসহ স্কুল প্রতি ১০ হাজার টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা বরাদ্ধ আসে। এর মধ্যে যে সমস্ত বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ বা বড় ধরনের মেরামত কাজ চলছে ওইসব বিদ্যালয় ম্যান্টেইনেন্সের জন্য বরাদ্ধের ৫ হাজার টাকা পাবে না। বরাদ্ধকৃত ওই টাকা হতে শিক্ষা অফিসার নবীর উদ্দিন স্লিপের টাকার জন্য প্রত্যেক প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রায় সোয়া ২ লাখ টাকা কমিশন নেন। একইভাবে প্রাক-প্রাথমিক ও ম্যান্টেইনেন্সের ১০ হাজার টাকার জন্য ৮০০ করে কমিশন নেন। তার মধ্যে শ্লিপ কমিটির তদন্ত ব্যয় বাবদ স্কুল প্রতি ধরা হয় ২০০ টাকা। বাকী ১ হাজার ৩০০ টাকা করে পকেটে ভরেন ওই শিক্ষা অফিসার। একই বরাদ্ধ থেকে গত বছর একই হারে শিক্ষা অফিসার কমিশন আদায় করেছিলেন। এছাড়াও আরও ১৯টি বিদ্যালয়ে রুটিন ম্যান্টেইনেন্স অর্থাৎ নিয়মিত নষ্ট হওয়া আসবাবপত্র মেরামতের জন্য ৯ হাজার টাকা করে বরাদ্ধ দেয়া হয়। ওই বরাদ্ধ থেকে বর্তমানে স্কুল প্রতি ১ হাজার টাকা করে তার অফিসের হেড ক্লার্ক ওয়াহিদুর রহমান ভূঁইয়া সেলিমের মাধ্যমে কমিশন আদায় করছেন ওই কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত ১৫ জন

প্রধান শিক্ষক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে  বলেন, ‘গত বছর শিক্ষা অফিসার মো. নবীর উদ্দিন আমাদের অফিসে ডেকে নিয়ে এ টাকা আদায় করে নেন। এ বছরও তার পছন্দ মত কিছু প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে এ টাকা আদায় করে নিয়েছেন। তাছাড়া কোনো স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এ কমিশনের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাকরির স্বার্থে প্রধান শিক্ষকরা তাদের ব্যক্তিগত তহবিল থেকেই ওই টাকা দিতে বাধ্য হন।’

জানতে চাইলে শিক্ষা অফিসের হেড ক্লার্ক ওয়াহিদুর রহমান ভূঁইয়া সেলিম এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। একইভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. নবীর উদ্দিনও এ ব্যাপারে কোন কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. নুরুল ইসলাম গত ১২ সেপ্টেম্বর বলেন, ‘এরকম কোন অভিযোগ আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উল্লেখ্য, উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. নবীর উদ্দিনের এসব অনিয়ম দূর্ণীতির কারণে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটাক্ষ করে প্রশ্ন প্রণয়নের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর (বুধবার ১৩ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর থেকে এক চিঠির মাধ্যমে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

সূত্র- ব্রেকিংনিউজ