,

বরুড়া বটতলীর ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধের ইতিহাস

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
December 16, 2017
news-image

এমডি আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার পয়ালগাছা ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের বটতলিতে যুদ্ধ চলাকালিন ১৯৭১ সালের ২ সেপ্টেম্বর পাকবাহিনী উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প আক্রমণ করে। একই দিনে তারা গ্রামে প্রবেশ করে ৬ জন নিরীহ লোককে হত্যা করে এবং ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে।

বটতলীর ভয়াবহ যুদ্ধ পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সংঘটিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ সেপ্টম্বর।
পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর আলবদর রাজাকারসহ শত শত হানাদারের বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পয়ালগাছার বটতলীতে এক সম্মুখ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

সে যুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম (১), শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরিফ হোসেন, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মমতাজ উদ্দিন, শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম (২), শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদিনসহ মোট ৫ জন শহীদ হন।

সে দিন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ চর্তুদিক থেকে পাক বাহিনীকে আক্রমণ করেন। অবশেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড আক্রমণে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাক হানাদার বাহিনী কিছুক্ষণের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। সে দিনের বটতলীর ভয়াবহ যুদ্ধে শাহাদাতবরণকারি ৫ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নারায়ণপুরের মাটিতে একই কবরে সমাধিস্থ করা হয়। এ জায়গাটি বর্তমানে ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থানে পরিণত হয়েছে।

বটতলীর এ যুদ্ধের কথা সেদিন বিবিসি ও ভারতীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। শত্রু বাহিনী এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাড়খার করে দিয়েছিল সে এলাকার অসংখ্য বাড়ি-ঘর। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন গণকবর-১,বর্তমানে নারায়ণপুর গ্রামের বটতলিতে একটি দৃষ্টিনন্দন স্মৃতিসৌধ স্থাপন করা হয়েছে।