,

মুক্তমত: বিবিসি বাংলার প্রথম পর্বের ইন্টারভিউতে তারেক রহমান ঝলক দেখিয়েছেন

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
October 6, 2025
news-image

রাকিব আল হাসান:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বিবিসি বাংলার ১ম পর্বের ইন্টারভিউটা বেশ ইন্টারেস্টিং। দীর্ঘ ১৭ বছর পর কোনো মিডিয়াতে সাক্ষাৎকার দিলেন তিনি, যদিও সেটা অনলাইনে না হয়ে ফেইস টু ফেইস হলে আই কন্টাক্টটা আরও ঠিকভাবে হতো!

এই ১৭ বছরে অনেক জায়গায় উনার ভাষণ, বক্তৃতা শুনলেও বিবিসির ইন্টারভিউতে তিনি তারচেয়ে বেশ সাবলীল, গুছানো এবং ম্যাচিউরড বক্তব্য দিয়েছেন। বেশ কিছু কঠিন প্রশ্নের সহজ উত্তরও দিয়েছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উনার উপর মাস্টারমাইন্ড ছাপিয়ে দিলেও তিনি বলেছেন এর একমাত্র মাস্টারমাইন্ড থাকলে সেটা জনগণ, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস টানতে গিয়ে তিনি হাসিনা রেজিমের পুরো সতেরো বছরের নির্যাতনের ইতিহাস উল্লেখ করেছেন।

নির্বাচন হলেই দেশ রাতারাতি চেইঞ্জ হবে না এমন বাস্তবতা তিনি স্বীকার করে উল্লেখ করেছেন, নির্বাচিত সরকার না থাকলে স্থিতিশীলতা থাকবে না, নির্বাচিত সরকার থাকলে সমস্যাগুলোকে এড্রেস করে ধীরে ধীরে পরিবর্তন করা যাবে।

বিএনপির সাত হাজার নেতাকর্মীদের বহিষ্কারের বিষয়টি উল্লেখ করে চাঁদাবাজি, দলীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থার কথাও বলেছেন। ক্ষমতায় এলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং আইনী প্রক্রিয়া দুটোই আলাদা রাখার প্রতিশ্রুতিও এসেছে উনার কণ্ঠে।

দলীয় মনোনয়নে শুধু সাংগঠনিক লোকদের নয়, অন্যান্যদেরও প্রাধান্য দিয়েছেন। উনার বক্তব্যে স্থানীয় সরকার কাঠামোর শক্তিশালীকরণের বিষয়টি উঠে এসেছে। উনার বাবা প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান যেমন মেরিটোক্রেসিকে প্রায়োরিটি দিয়েছিলেন, তারেক রহমানের বক্তব্যেও সে স্পষ্ট বার্তা আছে।

ডাকসু-জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের পরাজয়কে সাদরে গ্রহণ করেছেন এবং অন্যদের অভিনন্দন জানাতেও ভোলেন নি। এমন রাজনৈতিক কালচার এ সময়ে বেশ জরুরি ছিল।এমনকি ছাত্র রাজনীতি এবং জাতীয় রাজনীতি যে দুটো আলাদা জিনিস এবং উনিও আলাদাই রাখতে চান, তাও ব্যক্ত করেছেন।

আওয়ামিলীগের ব্যক্তি বিচার বা দলীয় বিচারে তিনি কোনো ডিপ্লোমেটিক উত্তর দেন নি। সরাসরি বলেছেন বাংলাদেশের প্রথাগত আইনে যদি কারো ব্যক্তি বা দলীয় বিচার করতে হয়, তবে তা ইনসাফের ভিত্তিতেই হবে। এখানে কোনো হিংসাত্মকভাবে আচরণ প্রদর্শিত হবে না।

বেগম খালেদা জিয়া বা তারেক রহমান কেউই চান না বাংলাদেশের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি আর চলুক। প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের রাজনীতির এন্ডিং এবার তারা নিজ হাতেই করতে চান। তারেক রহমানের পুরো বক্তব্যে কাউকে আঘাত করে, ছোট করে, টার্গেট করে কোনো অংশ ছিল না। গত এক বছরে বেগম জিয়া বা তারেক রহমান কেউই সেটা করে নি।

এটাই হচ্ছে রাজনীতির নতুন ট্রেডমার্ক বা গুণগত পরিবর্তন। আমরা আশা করবো বাকিরাও এই কালচার এডপ্ট করবে। তারেক রহমানের উপর দেশের মানুষ যে ভরসা করতে পারেন, তার প্রাথমিক ঝলক তিনি আজ দেখালেন। তবে উনার বক্তব্য বা ন্যারেটিভেরও কনস্ট্রাক্টিভ ক্রিটিসিজম হতে পারে। দ্বিতীয় পর্ব দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।

লেখক:
রাকিব আল হাসান
রাজনীতিবিদ, রাজনীতি বিশ্লেষক, ইয়ুথ লিডার।