,

যৌতুকের টাকা দিতে না পারায়, হাত-পা বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
February 11, 2016

nirjatonগোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) : যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্বামী বাড়ির লোকজন দুই হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করেছে গৃহবধূ সুমি বেগমকে (২৮)।

সুমির স্বামী আফজাল হোসেন, শাশুড়ি রাহিলা বেগম ও জায়ের ছেলে সজিবসহ কয়েকজন মিলে দু’হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে মারপিট করে গৃহবধূ সুমি বেগমকে। এতে সুমি বেগমের তলপেট, কোমরের নিচে সামনে-পেছনে ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইর উত্তর পাড়া গ্রামে বুধবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে।

সুমি বেগম বর্তমানে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের ৪ নং বেডে চিকিৎসাধীন। তিনি একই উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের তরুণীপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালে গেলে দেখা হয় সুমির সঙ্গে। তিনি জানান, প্রায় দেড় যুগ আগে উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের পুনতাইর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত গোলজার রহমানের ছেলে আফজাল হোসেনের (৪০) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর আফজাল হোসেন সুমির কাছ থেকে যৌতুক বাবদ এক লাখ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে তার ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। বড় মেয়ে আরজিনা খাতুন (১০), মেঝো মেয়ে আশামনি (৮) ও ছেলে সোহান (৫)।

সুমি বেগম তিন সন্তানের মুখের দিক তাকিয়ে নির্যাতন সহ্য করে আসছিলেন। আফজাল গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করার সময় শাশুড়ি রাহিলা বেগম ও জায়ের ছেলে সজিবে আবার নির্যাতন শুরু করে। এক পর্যায়ে নিরূপয় হয়ে সুমি তিন শিশু সন্তান নিয়ে মৃত বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। দীর্ঘ কয়েক বছর পর আফজাল গাজীপুর থেকে নিজ বাড়িতে এসে মোবাইল ফোনে অভয় দিয়ে সুমিকে বাড়িতে আসতে বলেন।

স্বামীর কথা সরল মনে বিশ্বাস করে গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে স্বামীর বাড়িতে আসেন। এর পর তাকে বাড়ির পশ্চিম দুয়ারি একটি টিনশেড ঘড়ে শাশুড়ি রাহিলা বেগম ডেকে নেন। এ সময় ঘরের মধ্যে শাশুড়ি, স্বামী ও জায়ের ছেলেসহ ৫/৬ জনকে দেখতে পান। সেখানে তাকে দাবিকৃত যৌতুক দিতে বলেন। তা দিতে পারায় তাকে মারপিট করতে থাকে। এ সময় তারা তল পেটে ও কোমরে লাথি ও এলোপাতাড়ি মারে। পরে দু’হাত ও পা রশি দিয়ে বেঁধে ঘরে থাকা আকাশ মনি গাছের ডাল দিয়ে ব্যাপক মারপিট করে। এতে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে ভ্যান-রিকশা যোগে বাবারবাড়ী তরুণীপাড়া গ্রামে পাঠিয়ে দেয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালের ওয়ার্ড ইনচার্জ জিলান আকন্দ জানান, সুমি বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।

শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন জানান, এর আগেও এ ধরনের ঘটনার কথা শুনেছি। তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা জানার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেও আফজাল হোসেনকে পাওয়া যায়নি।

গোবিন্দগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যাবে।