,

লাকসামের নিঃসন্তান আসমতের নেছা ১১৫ বছরেও পায়নি কোন ভাতা

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
February 28, 2019
news-image

 

সেলিম চৌধুরী হীরা .
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা ১নং বাকই ইউনিয়ন কৌটইশা গ্রামে আসমতের নেছা বয়স তার ১১৫। তার ভাগ্যে এখনো জোটেনি সরকারী বয়স্ক ভাতাসহ নানাহ সুযোগ-সুবিধা। বয়সের ভারে শরীর নিয়ে পড়েছে। চোখে ঝাপড়া দেখে, পরনে নোংরা বস্ত্র, হাতে লাঠি সাথে ভিক্ষার ঝুলি। লাঠির উপর ভর করে চলতে হয় তাকে। দু’মুঠো ভাতের জন্য শেষ বয়সেও তার দুঃখের শেষ নেই। তারপরেও অসুস্থ শরীর নিয়ে চলে এই বাড়ি ও বাড়ি ভিক্ষার খোজে। ভিক্ষার ঝুলিতে যা সংগ্রহ হয় তা নিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে  চলে তার জীবন।

সরকার বয়োজ্যোষ্ঠ, দুস্থ, স্বল্প উৎপার্জনক্ষম, অক্ষম বয়স্ক গোষ্ঠির সামাজিক নিরাপত্তা বিধান এবং পরিবার ও সমাজের মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৭/৯৮ অর্থ বছরে বয়স্ক ভাতাসহ অন্যান্য ভাতার কর্মসূচি চালু করে। তার মধ্যে পরেনি আসমতের নেছার তালিকা। বিচিত্র এ দেশ, আরো বিচিত্র এদেশের মানুষগুলো এবং তারচেয়ে শতগুণ বেশি বিচিত্র এ অঞ্চলের সামাজিক পরিবেশ।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, পাশের গ্রাম কোয়ারের আমিন উল্যাহর সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আসমতের নেছার। ছেলে সন্তান জন্ম নেয়নি তার ঘরে। এ নিঃশ্বন্তান আসমতের নেছা প্রায় ৫০ বছর আগে স্বামী পরিত্যাক্তা হয়ে বাপের বাড়ী কৌটইশা পশ্চিম পাড়া গ্রামে ভাইয়ের কাছে আশ্রয় নেয়। অস্বচ্ছল ভাইয়ের পরিবারেও সুখ খুজে পায়নি এই বৃদ্ধা। বর্তমানে ভিক্ষে করে ও দুই ভাইপো আমির হোসেন এবং জয়নাল আবেদীনের সাহায্য সহযোগীতায় চলে তার জীবন।

অনেকই তাকে নিয়ে হাসি তামাশা করে বলে আমাদেরকে দেখে তার কাছে অন্যান্য হাসি তামাশাকর লোক বলেই মনে হয়েছিল। এই হাস্যে উজ্জ্বল ১১৫ বছরের বৃদ্ধা আমাদেরকে বলেন, আপনারাই বলুন কোন ব্যক্তিকে ধরলে এবং কার কাছে গেলে সরকারি বয়স্ক ভাতাসহ অন্যান্য সাহার্য্য পাওয়া যাবে!

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা উপন্যাস চন্দ্র দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এমন অসহায় অবস্থায় থাকা আসমতের নেছার কথাটি কেউ আমাকে জানাইনি। বিষয়টি আমি জানতে পারলে ওই বৃদ্ধার এমন অবস্থা হতো না। না জানার ব্যাপারটা আমি খতিয়ে দেখছি, তবে এটা যখন সামনে এসেছে অতিদ্রুত ওই বৃদ্ধাকে সরকারী ভাতার আওতায় আনা হবে। হয়তো আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে আপনারা জানতে পারবেন।