,

সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবীতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সালমা আক্তার

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
March 24, 2021
news-image

 

জাকির হোসেন হাজারীঃ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নবজাতকের পিতৃ পরিচয়ের জন্য স্থানীয় মাতাব্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সালমা আক্তার নামে এক মা।

স্থানীয়ভাবে গোপনে কয়েক দফা শালিস বৈঠক হলেও এর কোনো সুরাহা পাননি তিনি। সালমা আক্তার (৩০) উপজেলার দশপাড়া গ্রামের দিনমজুর আলী আজগরের মেয়ে।

সালমা আক্তার জানান, প্রতিবেশি শাজাহানের ছেলে রবি মিয়া প্রায় সময়ই আমাদের বাড়িতে আসতো। আসা যাওয়া করা কালে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। বলে আমিতো তোমাকে আগেই পছন্দ করতাম, এখনতো তোমার ডিভোর্স হয়ে গেছে, এই বলে এক পর্যায়ে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একদিন এক হুজুর এনে গোপনে বিয়ে পড়ায় সে। এরপর আমার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করে রবি। আমি গর্ভবতী হয়ে পড়লে এলাকার লোকজনকে জানাই। এনিয়ে গোপনে সালিশ বৈঠক হলে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে মেনে নিবে বলে জানায়। আর চার বছর আগে ডিভোর্সের সময় পাওয়া কাবিনের চার লাখ টাকা রবি সুদে লাগাবে দিবে বলে নিয়েছে। মুলত ওই টাকার লেনদেন করতে গিয়েই তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এখন পুরো বিষয়টি অস্বীকার করছেন রবির পরিবার। এখন সুস্থ্য হওয়ার পর আইনের আশ্রয় নিব।

গত ১৯ মার্চ দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গৌরীপুর সংলগ্ন একটি বাড়িতে কন্যা সন্তান প্রসব করেন সালমা আক্তার।

দশপাড়া গ্রামের খোকন ব্যাপারী বলেন, তিন/চার মাস আগে বিষয়টি জানার পর আমরা গ্রামের লোকজন উভয় পরিবারের সাথে কথা বলে সামাজিকভাবে সমজোতা করে দিয়েছি যে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে পড়ানো হবে। সব কিছু মেনে নবজাতকের খরচ বাবদ সাতদিন আগে আমার মাধ্যমে দশ হাজার টাকাও দিয়েছে রবির পরিবার। কিন্তু সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার তিনদিন পর সব অস্বিকার করছেন রবি।

রবি মিয়া বলেন, সালমা আক্তারের সাথে আমার টাকার লেনদেন আছে ঠিক, তবে সে না আমি তার কাছে টাকা পাবো। সে টাকা না দেয়ার জন্য আমার নামে অহেতুক বদনাম করছে। কিসের টাকা পাওনা জানতে চাইলে বিষয়টি এরিয়ে যান। প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়টি অস্বিকার করে বলেন, সে আদালতে যাক, সেখানে ডিএনএ পরীক্ষায় যদি আমার সন্তান হয় আমি মাথা পেতে নেব।