,

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, আটক স্বামী

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
October 25, 2026
news-image

ডেস্ক রিপোর্ট:

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগ ওঠায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী নাজমুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়েছে থানা-পুলিশ। নাজমুলও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে ঘরের ভেতরে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এসআই গাজী সুমন মাহতাব জানান, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এদিকে ফারজানার পরিবারের দাবি, এটি কোনো সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পরিবারের অমতে বা অমতেই প্রায় তিন বছর আগে নাজমুলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ফারজানা। তবে বিয়ের পর থেকেই তার ওপর চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে নানা বাহানায় আমাদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা নেয় নাজমুল। কিছুদিন আগে চাকরি পাওয়ার পর তার টাকার লোভ আরও বেড়ে যায়। যৌতুকের দাবিতে বোনকে প্রতিনিয়ত মারধর করা হতো।’

স্বজনরা জানান, নিরুপায় হয়ে গত বছরের ডিসেম্বরে স্বামীর ঘর ছেড়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন ফারজানা এবং নাজমুলের বিরুদ্ধে নারী নিপিড়ন আইনে মামলা করেন। পরবর্তীতে নাজমুলের পরিবার নির্যাতন না করার লিখিত অঙ্গীকার ও সমঝোতার আশ্বাস দিলে মামলাটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ফারজানার ওপর পুনরায় চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের লিখিত অভিযোগ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।