All posts by jitu

কিয়েভে গিয়ে ইউক্রেনের প্রশংসায় অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন

অনলাইন ডেস্ক:

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সফরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। আজ বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পোল্যান্ড থেকে ট্রেনে করে দুদিনের সফরে কিয়েভে যান তিনি। এ নিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো কিয়েভ সফরে গেলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবারের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন বলেন, পাল্টা আক্রমণে বেশ ভালো অগ্রগতি করেছে ইউক্রেন।

তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় জনগণ, সেনাবাহিনী এবং দেশটির নেতাদের অসাধারণ সাহস ও প্রতিরোধ দেখে আমি আবারও অভিভূত। আজ আমি এখানে এসেছি আগ্রাসন মোকাবিলায় ইউক্রেনের প্রতি আমাদের অব্যাহত ও দৃঢ় সমর্থন প্রদর্শন করতে।

ব্লিঙ্কেন আরও বলেন, আমরা পাল্টা আক্রমণে ভালো অগ্রগতি দেখেছি, যা খুবই আনন্দের। আমরা নিশ্চয়তা দিতে চাই যে, পাল্টা আক্রমণে সফল হতে যা দরকার ইউক্রেনের শুধু তা নয়, দীর্ঘমেয়াদে যা যা দরকার সেগুলো তাদের রয়েছে। আমরা এটারও নিশ্চয়তা দিতে চাই যে, এই ধরনের আগ্রাসন যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে সেজন্য তাদের শক্তিশালী প্রতিরোধক ও প্রতিরক্ষা ক্ষমতা রয়েছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা ছাড়াও প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও অন্যান্য প্রধান প্রধান কর্মকর্তার সঙ্গে ব্লিঙ্কেনের বৈঠক করার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া এবারের সফরে ব্লিঙ্কেন ইউক্রেনের জন্য নতুন করে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল ঘোষণা করতে পারেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা।

এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরপর ২০২২ সালের এপ্রিলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনকে সঙ্গে করে কিয়েভ সফর করেন ব্লিঙ্কেন। তারপর গত বছরের সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয়বারের মতো কিয়েভ সফর করেছিলেন তিনি।

রাশিয়াকে অস্ত্র দিলে উত্তর কোরিয়াকে দিতে হবে চড়া মূল্য

অনলাইন ডেস্ক:

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন রাশিয়া সফরের পরিকল্পনা করছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা দপ্তর। এবার সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়াকে অস্ত্র দিলে উত্তর কোরিয়ার কড়া মূল্য দিতে হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস উত্তর কোরিয়াকে আন্তর্জাতিক নীতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এ আইন অনুসারে তারা কখনোই অন্য কোনো রাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে পারে না। আর রাশিয়ার কাছে অস্ত্র বিক্রির মানে নিরপরাধ ইউক্রেনীয়দের হত্যায় নিজেদের সম্পৃক্ত করা। আর এমনটি করলে উত্তর কোরিয়ার জন্য কঠিন কিছু অপেক্ষা করছে।

হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাকি সুলিভান বলেন, উত্তর কোরিয়া এমনিতে প্রায় বন্ধুশূন্য। তাদের বিশ্বমঞ্চে অবস্থান একেবারে কোনঠাসা। এর মধ্যে এমন কাজ করলে তার জন্য দেশটিকে কড়া মূল্য দিতে হবে। সুলিভান বলেন, গোয়েন্দা সূত্র বলছে, পুতিনের সাথে দেখা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিম জং উন। এ সাক্ষাতে অস্ত্র সহযোগিতার জন্য তিনি মস্কো যাবেন। আর এমনকিছু করলে তার ফল ভালো হবে না।

সম্প্রতি ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শোইগু সাম্প্রতিক উত্তর কোরিয়া সফরের সময় ‘পিয়ংইয়ংকে রাশিয়ার কাছে আর্টিলারি গোলাবারুদ বিক্রি করতে রাজি করার’ চেষ্টা করেছেন। করোনা মহামারির পর এই প্রথম কিম বিদেশি অতিথিদের জন্য দেশের দরজা খুলে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘পুতিন এবং কিম এর পর থেকে ‘তাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চিঠি বিনিময় করেছেন।’ এ সময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করলে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ ধরনের চুক্তির বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া কী পাবে তা নিয়ে ওয়াশিংটন এবং সিউল উভয়েই উদ্বেগে রয়েছে, যার ফলে এশিয়ার দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কিম এবং পুতিনের মধ্যে বৈঠকটি রাশিয়ার পূর্ব উপকূলের বন্দর শহর ভ্লাদিভোস্টকে হতে পারে।

সংবাদপত্রের কূটনৈতিক সংবাদদাতা এডওয়ার্ড ওং বিবিসিকে বলেন, উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল গত মাসের শেষের দিকে ভ্লাদিভোস্টক এবং মস্কো ভ্রমণ করেছে। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়া তার স্যাটেলাইট এবং পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন কর্মসূচিতে সহায়তা করার জন্য মস্কোর কাছ থেকে ‘উন্নত প্রযুক্তি’ চাইছে।

স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাতে একসঙ্গে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ-ইন্দোনেশিয়া

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর মধ্যে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে জ্বালানি ও স্বাস্থ্য খাতে তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ ইস্ট এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) এবং ১৮তম ‘ইস্ট এশিয়া সামিটে’ অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়া সফরে রয়েছেন। জাকার্তা কনভেনশন সেন্টারে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোমেন বলেন, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন তাকে আমন্ত্রণ জানানো ও বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলকে চমৎকার আতিথেয়তা প্রদানের জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন, বিশেষকরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পিত ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ ধারণা- যা বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে প্রশংসা অর্জন করেছে, তার উছ¦সিত প্রশংসা করেন।

এ সময় তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক খাতে ব্যাপক উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ইন্দোনেশিয়া বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ, সিরামিক ও তৈরি পোশাক (আরএমজি) পণ্য আমদানি করতে পারে। রাষ্ট্রপতি গত এক দশক ধরে বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের ধারাবাহিকতার কারণে ইন্দোনেশিয়ার বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।

রাষ্ট্রপতির উদ্ধৃতি দিয়ে ড. মোমেন বলেন, ‘দুই দেশের চিকিৎসকদের সনদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি পারস্পরিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

মোঃ সাহাবুদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড), ৩৯টি হাই-টেক পার্ক ও অন্যান্য বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করছে। তিনি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া যদি আগ্রহী হয়, তবে বাংলাদেশ খুশি হয়ে তাদের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থান নির্ধারণ করবে।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি উৎপাদন কেন্দ্রে রুপান্তরিত হতে চায়। এই দশকের শেষ নাগাদ একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের লক্ষ্য। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বিনিয়োগের সুযোগ পেতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতার ওপর জোর দেন।

আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনা ৪৪১টি : নিহত ৪২৬

অনলাইন ডেস্ক:

সদ্য শেষ হওয়া আগস্ট মাসে সারা দেশে ৪৪১টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ৪২৬ জন নিহত এবং ৭৯৩ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, ১২৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত হয়েছে। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে- সংঘটিত হওয়া দুর্ঘটনার মধ্যে কেবল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই ঘটেছে ১৭১টি। এতে ১৬৮ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছে। মোট দুর্ঘটনার ৩৮.৭৭ শতাংশ, নিহতের ৩৯.৪৩ শতাংশ ও আহতের ১৮.৭৮ শতাংশ।

আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬৩৫টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৮.৩৪ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২২.২০ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৫.১১ শতাংশ বাস, ১৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫.৯৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৪.৫৬ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬.৭৭ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৬১.৪৫ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২১.৯৯ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১২.৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ২.৭২ শতাংশ বিবিধ কারণে এবং ০.৯০ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ মাসে মোট দুর্ঘটনার ৩৮.৫৪ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২১.০৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ৩১.০৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৭.২৫ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ১.১৩ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরে এবং ০.৯০ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে, আগস্ট মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণসমূহ হলো – দেশের সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক অবাধ চলাচল; মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও তিন চাকার যানের ব্যাপক বৃদ্ধি; সড়ক-মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কে বাতি না থাকা; মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যানবাহনের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা; উল্টোপথে যানবাহন চালানো, সড়কে চাদাঁবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন; অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়াভাবে যানবাহন চালানো; রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত ব্যক্তির গাফিলতি; ফিডার রোড এবং আঞ্চলিক রোড থেকে হঠাৎ যানবাহন উঠে আসা।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে তা হলো – মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের মতো ছোট ছোট যানবাহন আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ করা; দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে যানবাহনের ফিটনেস প্রদান; ধীরগতির যান ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা; সড়কে চাদাঁবাজি বন্ধ করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা; সড়কে রোড সাইন, রোড মার্কিং অঙ্কন ও স্থাপন করা; সড়ক পরিবহন আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা; ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ করা; গণপরিবহন বিকশিত করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা।

জঙ্গীবাদী শক্তি যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে : মেয়র তাপস

অনলাইন ডেস্ক:

প্রতিক্রিয়াশীল, সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গীবাদী শক্তি যেন এদেশে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। আজ বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ২০২৩ এর অংশ হিসেবে মহানগর সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল’ পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত সভায় উদ্বোধকের বক্তব্যে ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এ কথা বলেন।

ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘আজকের এই জন্মাষ্টমী উৎসব হতে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে যেন সেই প্রতিক্রিয়াশীল, সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদী শক্তি এই বাংলাদেশে আর মাথা উঁচু করে দাড়াতে না পারে। এবার আমাদের সংগ্রাম হবে, সেই সাম্প্রদায়িক-প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিকে বাংলাদেশ থেকে চিরতরে নির্মূল করে ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ করার।’

২০০১-২০০৬ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে সংগঠিত নানা অপকর্ম তুলে ধরে ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস বলেন, ‘৭৫ এর পরে যারা এদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, যারা সাম্প্রদায়িক ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল তারা ২০০১-২০০৬ সালে আবারও এই বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ ও কালো তালিকাভূক্ত রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল।

২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনের পরে সেই শক্তি সারা বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়সহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষের ওপরে অকথ্য নির্যাতন, অত্যাচার শুরু করেছিল। বাড়ি-ঘরে আক্রমণ, ডাকাতি, ধর্ষণ করে তারা হিন্দু সম্প্রদায়কে তাদের বাড়ি-ভিটা থেকে উচ্ছেদ করেছিল। পরে জননেত্রী শেখ হাসিনা বিপুল ভোটের বিজয় লাভ করে বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে রূপান্তর করেছেন।’

ঢাদসিক মেয়র এ সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি ও ঢাদসিক মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধন করেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ ও সাধারণ সম্পাদক রমেন মণ্ডল এবং করপোরেশনের কাউন্সিলরদের মধ্যে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চিত্তরঞ্জন দাস, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মোহাদ্দেস হোসেন জাহিদ, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আনোয়ার ইকবাল সান্টু ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান মানিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ড. ইউনূসকে ইস্যু করে বিএনপি অশুভ খেলা খেলতে চায় : ওবায়দুল কাদের

অনলাইন ডেস্ক:

গত নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল বিএনপি। এবার তারা ড. ইউনূসকে ইস্যু করে অশুভ খেলা খেলতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সনাতন ধর্মের মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে আপন আর কেউ নেই। আওয়ামী লীগ থাকাকালে হিন্দু ভাই বোনরা নিরাপদে ছিলেন। এবার আমি ভয় পাচ্ছি। নির্বাচনকে সামনে রেখে অশুভ শক্তি হিন্দুদের সঙ্গে বা ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে ফাটল ধরার চেষ্টা করছে। এ জন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, কোনো অশুভ শক্তি যেন আপনাদের ক্ষতি না করতে পারে, এ জন্য সবাইকে আহ্বান করব পাশে দাঁড়াতে। নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। বাসা বাড়ির নিরাপত্তা, মন্দিরের নিরাপত্তা, মণ্ডপের নিরাপত্তা। তিনি বলেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন। এর আগে অশুভ শক্তি নানা খেলা খেলবে। আমি আপনাদের আজ মানবতার ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিন উপলক্ষ্যে তার পাঁচটি উপদেশ বলতে চাই।

এক নম্বর উপদেশ, কখনো অতীতকে নিয়ে পড়ে থাকতে নেই। অতীতের শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে৷ আপনাকে নিয়ে কে কী ভাবল, সেটা নিয়ে পড়ে থাকবেন না। অন্তত যদি বলে আপনি ভালো কাজ করছেন, তাহলে অন্যের কথায় পিছিয়ে যাবেন না। আমাদের নেত্রী সেটা করেন। সময়কে কখনো পরিহাস করা উচিত নয়। সময় সবচেয়ে শক্তিশালী। নিজের জীবনকে কখনো অন্যের সঙ্গে তুলনা করা উচিত নয়। কারণ প্রত্যেকের জীবনের আলাদা পথ আছে।

এ সময় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

দাউদকান্দিতে নিরাপত্তা চেয়ে ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন

দাউদকান্দিতে নিরাপত্তা চেয়ে ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার:

প্রাণনাশের হুমকিতে আতংকে দিন কাটাচ্ছেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরপুর বাজারের ব্যবসায়ী ইকরাম হোসেন।

বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এসময় ব্যবসায়ী ইকরাম হোসেন নিজের নিরাপত্তার দাবী জানান।

লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ী একরাম জানান, গেীরীপুর ইউনিয়নের আঙ্গাউড়া গ্রামের মোস্তাক মাস্টারের ছেলে মোঃ হানিফ মিয়ার কাছ থেকে এক নছর আগে সাবকবলা দলিলের মাধ্যমে ৩৭সতাংশ জমি ক্রয় করি। ক্রয়কৃত জমিটি ভরাট করে র্নিমাণকাজ করতে গেলে হানিফ মিয়া তার লোকজন নিয়ে বাধা দেয়। এর কারণ জানতে চাইলে সে বলে আগে কমদামে বিক্রি করেছি, এখন আরো ৫০লাখ টাকা দিতে হবে। না হলে এখানে কাজ করা যাবে না।

এ নিয়ে সে আমাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। আমি অসহায় হয়ে আইনের আশ্রয় নেই। চাঁদা চাওয়ায় ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১৯ আগষ্ট দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। ২২ আগষ্ট অভিযোগটি মামলা আকারে রুজু করা হলেও তাকে গ্রেপ্তার না করায় অনবরত বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি দিচ্ছে। তিনি হানিফের হুমকি ধামকি থেকে রক্ষা পেতে মিডিয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, গৌরীপুর বাজারের ব্যবসায়ী মাজারুল সরকার, জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন, সৌদিয়া গার্মেন্টসের মালিক রিপন, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন ও বাবু সরকার প্রমূখ।
অভিযুক্ত হানিফ বিষয়টি অস্বিকার করে বলেন, আমি ইকরামের নিকট টাকা পাওনা। টাকা চাইতে গেলে তার সাথে বাকবিতন্ডা হয়।

এ বিষয়ে গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্য মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যবসায়ী ইকরাম হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে হানিফের নামে একটি চাদাবাজি মামলা নেয়া হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

‘সরকার পতনের একদফা আন্দোলন ভিন্ন খাতে নিতে ড. ইউনূস ইস্যু আনা হয়েছে’

ডেস্ক রিপোর্ট:

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আরো বলেছেন, সরকার পতনের একদফা আন্দোলন ভিন্ন খাতে নিতে ড. ইউনূস ইস্যু সামনে আনা হয়েছে।

বুধবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর পান্থপথে হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য রক্তদান কর্মসূচি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল জানান, ‘ড. ইউনূসের ব্যাপারটা আমরা এভাবে দেখি, এখানে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার ব্যাপার রয়েছে। আরেকটা ব্যাপার আছে, এই মুহূর্তে এটাকে এত দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসা; ইটস আ ডাইভার্সন অব দ্য মেইন ইস্যু। আমাদের প্রধান যে ইস্যুটা, সরকার পরিবর্তন করতে হবে, পদত্যাগ করতে হবে। সেটা ডাইভার্ট করার জন্য এটাকে সামনে নিয়ে এসেছে সরকার।’

ইউনূসকে নিয়ে সরকারের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে ফখরুল জানায়, ‘জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে উনি (ইউনূস) প্রাধান্য পাচ্ছেন। অর্থাৎ তাদের যে লক্ষ্য ছিল যে, এটাকে ডাইভার্ট করবে, কিছুটা হলেও তারা সেটা পেরেছে,’ যোগ করেন তিনি।

ফখরুল আরও জানান, ‘সেই কারণে আমি মনে করি, ড. ইউনূসের ইস্যু কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যাপার নয়। অধিকারের কর্মী আদিলুর রহমান, আগামীতে তার রায়ও হবে। আমি জানি না রায় কী আসবে, এটা বুঝতে পারি—তারা যেন সত্য কথা বলতে না পারে, তারা যেন মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলতে না পারে, সেই জন্য তাদের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা নিয়ে আসা হয়েছে। তাদের সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বরখাস্তের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ড. ইউনূসের পক্ষে কথা বলার জন্য ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বরখাস্ত করা হচ্ছে। এ রকম একটা রাষ্ট্র, যে রাষ্ট্রে সত্য কথা বলার কোনো উপায় নেই, যে রাষ্ট্রে মানুষের নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই, যে রাষ্ট্রে মানুষের ন্যায় বিচার পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই, সেই রাষ্ট্র অবশ্যই ভেঙে পড়ছে।

তিনি বলেন, অনতিবিলম্বে আমরা যদি এই সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে না পারি তাহলে দেশকে রক্ষা করা খুব কঠিন হয়ে যাবে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থকার কারণে ঢাকার জনপ্রতিনিধিদের দোষারুপ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, মূল কথা হচ্ছে সরকার এবং সিটি করপোরেশন দুটি ব্যর্থ হয়েছে ডেঙ্গু মহামারি নিয়ন্ত্রণ করতে। এরা প্রকৃতপক্ষে স্বাস্থ্য সেবা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। স্বাস্থ্য খাতে চরম অরাজকতা আমরা কোভিডের সময় দেখেছি—দেখেছি কী পরিমাণ দুর্নীতি এখানে হয়।

মশার ওষুধ কেনায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আবার সিটি করপোরেশনে এটা প্রমাণিত হলো, এডিস মশা ধ্বংসের নামে যে ওষুধ কেনা হলো সেখানেও ব্যাপক দুর্নীতি করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, সেই ওষুধগুলো মধ্যে কোনো গুণই নেই! সেটা মশা নিধনে সাহায্য করছে না।

তিনি বলেন, এখানে অনির্বাচিত যে স্থানীয় সরকার; কমিশনার বা মেয়র, জনগণের কাছে তাদের যেহেতু দায়বদ্ধতা নেই, সেই কারণে তারা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হচ্ছেন এই সমস্যা সমাধান করতে। কারণ তাদের তো এদিকে নজর নেই, তাদের নজর হচ্ছে দুর্নীতি; টাকার পাহাড় তারা গড়ে তুলছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির মনোনয়নে মেয়র পদে নির্বাচন করা ইশরাক হোসেন এবং উত্তরের তাবিথ আউয়াল।

৩৫০০ টাকার জন‍্য মাকে হত্যা করলো ছেলে

৩৫০০ টাকার জন‍্য মাকে হত্যা করলো ছেলে

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর মুগদায় শ্বাসরোধ ও কিল ঘুষিতে মমতাজ বেগম (৫০) নামে এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছেলে সোহানকে (১৪) আ