All posts by jitu

উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ বৈঠক 

নিজস্ব প্রতিনিধি:
উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ
দ্বি পাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন, পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেশটির উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদিরের সাথে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। বৈঠকে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মশক্তির গতিশীলতার ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। যেখানে বৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণ এবং মালয়েশীয় সমাজে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের একীভূতকরণ উন্নত করার উপর বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী জনাব আরিফুল হক চৌধুরী।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেটকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং নতুন নীতিমালার অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততাকে আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার প্রকাশ করেছে।

উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা বলেছেন ফলে যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানব সম্পদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির অগ্রাধিকারের ওপর আলোকপাত করেছেন বলে জানা যায়। তিনি বহুমুখী ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ জোরদার করার পাশাপাশি বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য মালয়েশিয়া থেকে বৃত্তির সুযোগ বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

তিনি এমন সুসংগঠিত বৃত্তি ব্যবস্থার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন, যা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষকেই সমর্থন করে না, বরং মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক একীকরণও নিশ্চিত করে।

উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন পুনরায় নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের উপর গুরুত্ব দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় অংশীদারিত্ব জোরদার করা, একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা এবং মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তায় যৌথ শিক্ষা প্রকল্প গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন বলে জানা যায়।

মন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদির এই প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির অধীনে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি বরাদ্দ সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করার বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক—১১,০০০-এরও বেশি—বাংলাদেশী শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের অনেকেই বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে। উভয় পক্ষই একাডেমিক বিনিময় ও আর্থ-সামাজিক সংযোগে এই শিক্ষার্থীদের ইতিবাচক অবদান এবং বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে তারা যে ভূমিকা রাখে করে, তা স্বীকার করেছে।

উভয় পক্ষ পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত যোগ্যতা, যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রাম, দূরশিক্ষণ এবং সহজ শিক্ষা পদ্ধতির সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেছে। তারা উভয় দেশের শ্রম বাজারের চাহিদা এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতের সঙ্গে একাডেমিক প্রোগ্রামগুলোকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হয়েছে।

আলোচনায় স্নাতকদের গতিশীলতা এবং দক্ষতা উন্নয়নও অন্তর্ভুক্ত ছিল। উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশী শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের জন্য পেশাগত অভিজ্ঞতা ও উন্নয়নের পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। মন্ত্রী জাম্ব্রি প্রস্তাবটি স্বীকার করেন এবং মালয়েশিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষা নীতির সাথে সঙ্গতি রেখে সহায়ক কাঠামো খুঁজে বের করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

কাঠামোগত বৃত্তি কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা, শিক্ষার্থী সহায়তা ব্যবস্থা উন্নত করা এবং বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শিক্ষাগত, সামাজিক ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আলোচনাটি সমাপ্ত হয়, যা একটি টেকসই অর্থনৈতিক ও জ্ঞানভিত্তিক অংশীদারিত্বে অবদান রাখবে।

কুমিল্লায় কৃষক কার্ড বিতরণে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ

স্টাফ রিপোর্টার:
আগামী ১৭ এপ্রিল কুমিল্লায় কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সফল ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হচ্ছে।

কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানটি সফল  করার লক্ষ্যে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) কুমিল্লায় প্রস্তুতি সভা ও ভেন্যু পরিদর্শন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও কৃষি মন্ত্রী মোঃ আমিনুর রশিদ এর একান্ত সচিব খোরশেদ আলম, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এবং কৃষি মন্ত্রীর এ পি এস মোঃ আমিনুল ইসলাম।

এ সময় কুমিল্লা মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মোহামেডানকে হারিয়ে আবাহনীর জয়

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মোহামেডানকে হারিয়ে আবাহনীর জয়

 

স্পোর্টস ডেস্কঃ

ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই অসাধারণ অলিম্পিক গোলে মোহামেডানকে এগিয়ে নিয়েছিলেন উজবেক প্লে-মেকার মোজাফফরভ। শুরুতেই পাওয়া লিড ধরে রাখা কঠিন হবে, সেটা আবাহনীর আক্রমণাত্মক খেলাতেই বোঝা যাচ্ছিল। ১৭ মিনিটে মোহামেডানের লিড কেড়ে নেন সদ্য জাতীয় দলে অভিষিক্ত মিরাজুল ইসলাম।

আর দ্বিতীয়ার্ধে এমেকা ওগবাহ’র সাজিয়ে দেওয়া বল গোলে পরিণত করে পুরানো ক্লাবকে হার উপহার দেন সুলেমান দিয়াবাতে। তাতে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে আজকের লড়াইয়ে মোহামেডানকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আবাহনী।

এই জয়ে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের প্রথম পর্বে ৩-২ গোলে হারের প্রতিশোধ নিয়েছে আবাহনী। একই সঙ্গে পেশাদার লিগে মুখোমুখি লড়াইয়ে অগ্রযাত্রাটা আরও সমৃদ্ধ করেছে আকাশি-হলুদ জার্সিধারীরা। ৩৪তম ম্যাচে মোহামেডানকে ১৫তম বারের মতো হারের মতো স্বাদ দিয়েছে আবাহনী। ১২ ড্রয়ের বিপরীতে মোহামেডান জিতেছে মোটে সাতবার।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান এবার ধুঁকছে শুরু থেকেই। ১২ ম্যাচে মাত্র ২ জয়ে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তারা নেমে গেছে সপ্তম স্থানে। প্রথম পর্বে মোহামেডানের কাছে সেই হারের পর ঘুড়ে দাঁড়ানো আবাহনী ষষ্ঠ জয়ে ২২ পয়েন্ট নিয়ে উঠে গেছে দ্বিতীয়স্থানে। শীর্ষে থাকা বসুন্ধরার সঙ্গে তাদের ব্যবধান এখন দুই। আজ অবশ্য আরামবাগকে হারালে ব্যবধানটা পাঁচে নিয়ে যাবে বসুন্ধরা। আজ ফর্টিসেরও সুযোগ আছে আবাহনীকে পেছনে ফেলার। তার জন্য তাদের হারাতে হবে পুলিশ এফসিকে।

মোহামেডানকে শুরুতে লিড এনে দেন ক্ষোভে প্রথম পর্ব শেষে দল ছেড়ে যাওয়া মোজাফফরভ। বেতন অনিয়মিত হওয়ায় আর না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সাদা-কালোর জার্সিতে। পরে অবশ্য মান ভেঙে ফিরেছেন এবং দারুণ গোলে চির বৈরীদের বড়োসড়ো ধাক্কাই দিয়েছেন একেবারে শুরুতেই। যদিও সেই লিড বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। অস্টম মিনিটে গোলের ভালো সুযোগ নষ্ট করার প্রায়শ্চিত্ত ১৭ মিনিটে করেন মিরাজুল ইসলাম। নাইজেরিয়ান এমেকা ওগবাহর পাস ধরে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে পরাস্ত করেন মোহামেডান কিপার সুজন হোসেনকে। আক্রমণের গতিটা ধরে রেখে প্রথমার্ধেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে আবাহনী। তবে পারেনি।

বিরতি থেকে ফেরার পর নির্ভরযোগ্য সেন্টারব্যাক হাসান মুরাদকে হারাতে হয় আবাহনীর। গোলকিপার মিতুল মারমার সঙ্গে সংঘর্ষে চোয়ালে মারাত্মক ব্যথা পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এই অর্ধে কোচ মারুফুল হক মাঠে নামান জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড শেখ মোরসালিনকে। তিনি এসেই দারুণ দুটি সুযোগ তৈরি করেন দিয়েছিলেন। তবে বদলি কিপার সাকিব আল হাসানের বীরত্বে বেঁচে যায় মোহামেডান।

৫৭ মিনিটে মোরসালিনের ফ্রি-কিকে ইয়াসিন খানের শট বাঁ দিকে ঝাপিয়ে কর্নার করেন সাকিব। মোরসালিনের নেওয়া সেই কর্নারে গোলমুখের জটলা থেকে বদলি ফরোয়ার্ড সবুজের ডানপায়ের প্লেসিং ক্রসবার কাঁপালে হতাশ হতে হয় আবাহনীকে। ম্যাচের ৬৫ মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা এমেকার কাটব্যাক খুঁজে পায় দিয়াবাতের বিশ্বস্ত পা।

বল আয়ত্বে নিয়ে পুরো শরীর ঘুরিয়ে ডানপায়ের প্লেসিংয়ে দিয়াবাতে বল জালে পৌঁছে দেন। এটি আবাহনীর হয়ে মোহামেডানের বিপক্ষে প্রথম গোল দিয়াবাতের। অথচ গত পাঁচ মৌসুম মোহামেডানের জার্সিতে আবাহনীর বিপক্ষে অসংখ্য গোল করেছেন দিয়াবাতে।

সেই গোলে পাওয়া লিড শেষ পর্যন্ত ধরে রেখে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আবাহনী।

কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগনেতা পিয়াস গ্রেপ্তার

কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগনেতা পিয়াস গ্রেপ্তার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান পিয়াসকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা ইমিগ্রেশন পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তাকে আটক করা হয় এবং পরদিন শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে ওসি জানান, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঘটনায় পিয়াসের বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানায় ৯টি এবং সদর দক্ষিণ থানায় ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর শুক্রবার বিকেলে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. মামুনুর রশীদ জানান, আদালতে হাজির করার পর এক নম্বর আমলি আদালতের বিচারক মমিনুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জনরায় বাস্তবায়নে সরকারের টালবাহানার প্রতিবাদে কুমিল্লায় জামায়াতের গণমিছিল

জনরায় বাস্তবায়নে সরকারের টালবাহানার প্রতিবাদে কুমিল্লায় জামায়াতের গণমিছিল

 

স্টাফ রিপোর্টার:

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর উদ্যোগে গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে সরকারের টালবাহানার প্রতিবাদে মিছিল বের করে।

শুক্রবার ( ১০ এপ্রিল) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল মাঠ থেকে বিক্ষোভ ও গণমিছিল বের করা হয়।

জনরায় বাস্তবায়নে সরকারের টালবাহানার প্রতিবাদে কুমিল্লায় জামায়াতের গণমিছিল

মিছিলে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, নায়েবে আমির মুহাম্মদ মুসলেহ উদ্দিন ও একেএম এমদাদুল হক মামুন, সেক্রেটারি মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, সহকারি সেক্রেটারি মুহাম্মদ কামারুজ্জামান সোহেল, এ‍্যাডভোকেট নাছির আহমেদ মোল্লা, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি সহকারী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও দক্ষিণ জেলা সভাপতি মুহাম্মদ খাইরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি হাছান আহমেদ, জামায়াত ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মিজানুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ জাকির হোসেন, কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়াসহ অনেকে।

এর আগে নগরীর টাউন হল মাঠে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াত ইসলামির আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।

‎সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে কোনো সরকারই নৈতিক বৈধতা দাবি করতে পারে না। জনগণের অধিকার হরণ করে ক্ষমতায় থাকার দিন শেষ হয়ে এসেছে।”

‎নায়েবে আমীর মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, “জনগণের ভোট ও মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই গণতন্ত্রের মূলভিত্তি।

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

‎অন্যান্য বক্তারা অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং এ দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানান।

‎সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

দাউদকান্দিতে বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলায় জুলাইযোদ্ধা গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

দাউদকান্দিতে হত্যা মামলায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মুখপাত্র গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

 

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দিঃ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি হত্যা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাউদকান্দি উপজেলা শাখার মুখ্যপাত্র জুলাইযোদ্ধা মো. সাকিব হাসান ও তার বড় ভাই মো. নবীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার গৌরীপুর এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে তাদের কুমিল্লা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত মো. সাকিব সরকার রাব্বী (২৪) ও মো নবীর হোসেন (৪৩) তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামের জহির হোসেন মেম্বারের ছেলে।

এদিকে এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে আজ শুক্রবার বিকাল চারটায় দাউদকান্দি শহীদ রিফাত বাবু পার্কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম শান্ত, পৌরসভা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, মুখ্য সংগঠক মো. ফয়সাল সিকদার, পৌরসভার মুখ্য সংগঠক মো. সাগর, সহ-সমন্বয়ক মো. ইমন মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইজুদ্দিন এবং মো. আব্দুর রহিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্ট দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর পশ্চিম বাজারে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাকিব হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তারা দাবি করেন, সাকিব ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন এবং ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এছাড়া তার বড় ভাই নবীর হোসেন ঘটনার সময় বিদেশে অবস্থান করছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তারা।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি করা হচ্ছে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে সাকিব হাসান ও নবীর হোসেনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও বলেন, সাকিব সরকার সম্মুখসারীর একজন জুলাই যোদ্ধা। আর সুলতান হত্যার ঘটনাটি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত না । এটি স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে বলে আমরা জেনেছি। মুলতঃ এই হত্যাকান্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের সাথে বাদি নিহত সুলতানের স্ত্রীর সাথে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে রফাদফা হয়েছে বলেও আমরা জেনেছি। এই মামলার বাদিকে নিয়ে কিছু অভিযোগ আছে।

জুলাইযোদ্ধা গেজেট নিয়ে তারা বলেন, নিহত সুলতান বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের কোন শহীদ না। তবে কে বা কারা কিভাবে তাকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করেছে জানিনা। ওই গেজেটের বিরুদ্ধে আমরা অচীরেই আমরা রীট করবো। আর বৈষম্য বিরোধী মামলায় দাউদকান্দিতে অনেককেই অহেতুক জড়ানো হয়েছে, তাদেরকে অহেতুক হয়রানি না করার আহবান জানান বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এই গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা এবং অনতিবিলম্বে সাকিব সরকার ও তার ভাই নবীর হোসেনের মুক্তির দাবী জানান। সেইসাথে নেপথ্যে কারা কলকাঠি নাড়ছে তাদের মুখোশ উন্মোচন করার দাবী জানাচ্ছি। না হয় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।

জানাযায় , বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫ আগস্ট কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারে সুলতান মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। ঘটনার দীর্ঘ ১১ মাস পর বছর ২ নিহতের স্ত্রী রেহেনা বেগম বাদী হয়ে ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে দাউদকান্দি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি এম এ আব্দুল হালিম জানান, সুলতান হত্যা মামলায় সাকিব, নবীর হোসেন ও আঃ কাদের জিলানী নামে তিনজনকে প্রেপ্তার করেছি। তাদের আজ শুক্রবার কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।

কুমিল্লার মুরাদনগরে শিশু ধর্ষণ, প্রতিবাদ করায় মামার পায়ের রগ কাটলো ধর্ষকের বাবা

কুমিল্লার মুরাদনগরে শিশু ধর্ষণ, প্রতিবাদ করায় মামার পায়ের রগ কাটলো ধর্ষকের বাবা

 

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগরে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মেহেদী হাসান নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শিশুটির মামার পায়ের রগ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তের বাবার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলায় শুক্রবার দুপুরে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান (২০) উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের পরমতলা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ওরফে দুলালের ছেলে।

পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মেহেদী হাসান নির্যাতনের শিকার ওই শিশুটির দূর সম্পর্কের মামাতো ভাই। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে পরমতলা গ্রামের নানার বাড়িতে বেড়াতে আসা ৮ বছর বয়সী শিশুটি গোসল করে ঘরে ফিরছিল। এ সময় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ওই শিশুটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ঘরে ফিরে ধর্ষণের বিষয়ে শিশুটি তার খালাকে জানালে দ্রুত তাকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে শিশুটির মামার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তের বাবা দেলোয়ার হোসেন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পায়ের রগ কেটে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাসরুরুল হক জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরো জানান, শিশুটির চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষা চলছে। মামার ওপর হামলার ঘটনাটিও তদন্তাধীন রয়েছে।

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গাঁজাসহ মা-ছেলে আটক

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গাঁজাসহ মা-ছেলে আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি মা ও ছেলেকে আটক করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২।

বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গাঁজাসহ মা-ছেলে আটক

আটককৃত মাদক কারবারিরা হলেন বুড়িচং উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মোঃ রাসেলের স্ত্রী রোবিনা আক্তার (৩৮) ও তার ছেলে মোঃ রিফাত (২৫)।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাব জানায়, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা হতে মাদকদ্রব্য গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট পাইকারি ও খুচরা মূল্যে বিক্রয় করে আসছে| তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

কুমিল্লা নগরীর সংরাইশ এলাকায় পুকুর ভরাটে বাঁধা দেওয়ায় দুজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করলো সন্ত্রাসীরা

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লা নগরীর সংরাইশ এলাকায় পুকুর ভরাটে বাঁধা দেওয়ায় কামরুল হাসান ও আমজাদ হোসেনের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কুমিল্লা নগরীর সংরাইশ এলাকার শহিদুল হকের ছেলে কামরুল হাসান (৩২) বৃহস্পতিবার রাতে কোতয়ালী থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো 8/৫ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্তরা হলেন, নগরীর সংরাইশ এলাকার আবু হোসেনের ছেলে শাহদাত হোসেন (8০), মঞ্জিল মিয়ার ছেলে মো: মাসুম ( পেন্টা মাসুম (৩২)ও মঞ্জিল মিয়া (৫৫), মোঃ রিফাত (২৪) এবং ইদু মিয়ার ছেলে অসংখ্য মামলার আসামি  আল আমীন (৩৪)।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত ১ টার দিকে সংরাইশ ফেনা পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে।

মো: কামরুল হাসান থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, উল্লেখিত বিবাদীগনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন বিরুদ্ধে অভিযোগ করিতেছি যে, বিবাদীগন আমার প্রতিবেশী ও তারা সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত থাকে।তারা বহু মামলার আসামী । তাদের সাথে আমার লিজকৃত পুকুর সম্পত্তির বিষয়াদী নিয়ে বিরোধ মনো-মালিন্য চলছে। তারা জোর পূর্বক পুকুর ভরাট করার চেষ্টা করে আসছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরে একটি অভিযোগ করি। পরে উক্ত কার্যালয় হইতে পুকুরের মাটি ভরাট নিষেধ করে । কিন্তু বিবাদীগন এটা অমাণ্য করে আবার পুকুর ভরাট করতে চাইলে আমরা বাধা প্রদান করি, জরুরী পুলিশ সেবা ৯৯৯ ফোন করলে বিবাদীগন একজোট হয়ে হাতে দেশিয় অস্ত্র-শস্ত্র, দা, ছেনি ও লাঠিসোটা নিয়া আমাকে এলোপাথারী কিল ঘুষি ও লাথি মেরে নীলা ফুলা জখম করে । ১নং বিবাদী আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার হাতে থাকা ধারালো ছেনি নিয়া আমাকে কোপ মেরে ডান হাতের তালুতে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম করে৷ ২নং বিবাদী তার হাতে থাকা লাঠি দ্বারা’আমার সমস্ত শরীরের বিভিন্নস্থানে পিটিয়ে বেদনা দায়ক জখম করে। ৩নং বিবাদী আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় চিপ মেরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে৷ ৪নং বিবাদী আমাকে হুমকি ধমকি প্রদর্শন করে যে, বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমাদের বিরাট ক্ষতি সাধন করবে। এ সময় তারা আমজাদ হোসেনকেও হাতে-পিঠে-পায়ে কুপিয়ে আহত করে। অথবা এই পুকুরে কোন অধিকারখাটাইলে আমার বসত বাড়িতে আগুন দিয়া পুড়াইয়া দিবে । আর যদি উক্ত বিষয়ে আর কোন মামলামোকদ্দমা করি তাহলে আমাকে এলাকাছাড়া করবে। তখন আশ পাশের লোকজন এগিয়ে এসে বিবাদীগনের কবল হইতে আমাকে রক্ষা করে। পরে আমাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করি।

আমজাদ হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।

আমি এখন প্রাণহানীর আশংকা করছি। আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মুরাদনগরে অভাবের তাড়নায় বিষপানে মা-মেয়ের আত্মহত্যা!

 

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর :
কুমিল্লার মুরাদনগরে মানসিক যন্ত্রণা ও অভাবের তাড়নায় বিষ পান করে মা তাঁর মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

বুধবার দিবা গত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন শ্রীকাইল ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া ওই নারী আলীপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের মেয়ে খাদিজা বেগম (৩০) ও তাঁর মেয়ে রোকাইয়া (৫)। ঘটনার সময় মা ও মেয়ে ছাড়া তাদের ঘরে আর কেউ ছিলনা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খাদিজা বেগমের প্রথম বিয়ের পর বেশিদিন তার সংসার টেকেনি। পরবর্তীতে একই উপজেলার কামল্লা গ্রামের হুমায়ুন কবিরের সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। তার কিছুদিন পরই খাদিজা বেগমের স্বামী হুমায়ুন কবির মারা যান। তারপর থেকে আলীপুর গ্রামে বাবার বাড়িতেই থাকতেন খাদিজা বেগম।

পরিবারের সদস্যরা জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন খাদিজা। বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে খাদিজা বেগম ও তার মেয়ে রোকাইয়া বিষ পান করেন। এক পর্যায়ে মেয়ে রোকাইয়া কান্নাকাটি শুরু করলে পাশের ঘর থেকে খাদিজার মা রাফিয়া বেগম ঘরের দরজা খুলে দেখে মেয়ে ও নাতনি বিষ পান করেছে। এ সময় তাদেরকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে দুজনেই মৃত্যুবরণ করেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আব্দুল কাদের জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক অসুস্থতা ও অভাব অনটনের কারণেই আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মৃত্যু হওয়ার কারণে ময়নাতদন্তের বিষয়টি মুরাদনগর থানা পুলিশ দেখছে।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাসরুরুল হক জানান, লাশ দু’টির সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বাঙ্গরা বাজার থানা কে বেতার বার্তার মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে।