All posts by jitu

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থেকে ১২ কেজি গাঁজাসহ যুবক আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলা থেকে ১২ কেজি গাঁজাসহ মোঃ তাজুল ইসলাম ওরফে ফাহিম (১৯) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-১১।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ জুন বিকালে উপজেলার কমলাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

আটক হওয়া মাদক কারবারি সদর দক্ষিণ উপজেলার উলুরচর গ্রামের মোঃ ওমর ফারুকের ছেলে।

কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার এ কে এম মুনিরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে আসছিল বলে স্বীকার করে। উক্ত বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে অজিত গুহ কলেজ ছাত্রলীগের আনন্দ মিছিল

মো: উজ্জ্বল হোসেন বিল্লাল:

১১ জুন প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার করামুক্তি দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রলীগ শাখার অর্ন্তভুক্ত ভাষা সৈনকি অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় ছাত্রলীগ এর উদ্দ্যোগে আনন্দ মিছিল করা হয়েছে। ১১ জুন রবিবার কলেজ ক্যাম্পাসে উক্ত মিছিল মিছিল করা হয়।

ভাষা সৈনকি অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় ছাত্রলীগ এর যুগ্ম-আহ্বায়ক নাসিম উদ্দিন ফয়সালের নেতৃত্বে আয়োজিত মিছিলটি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ মোড় প্রদক্ষিণ করে কলেজ ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা সানি,নাঈম, পরাণ সহ কলেজ ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা।

 

চান্দিনায় বাঁচার আকুতি ব্ল্যাড ক্যান্সার আক্রান্ত সাহিদুলের

 

চান্দিনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চান্দিনায় মো. সাহিদুল (৩২) নামে এক যুবক দীর্ঘ দিন ধরে ব্ল্যাড ক্যান্সারে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসায় বিপুল অঙ্কের টাকা প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষে এ ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব। বর্তমানে টাকার অভাবে তার চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।

সাহিদুল চান্দিনা উপজেলার পৌর এলাকার হারং গ্রামের মৃত মো. রমিজ এর ছেলে। তার স্ত্রী এবং ১ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। তার বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই। সাত ভাই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ২০১৮ সাল থেকে তার শারিরিক সমস্যা দেখা দেয়। কয়েক বছর চিকিৎসা শেষে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ব্ল্যাড ক্যান্সার সনাক্ত হয়। এর পর থেকে চিকিৎসা চালিয়ে নিজের শেষ সম্বল ভিটিবাড়িটিও বিক্রি করে এখন সে একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন।

ক্যান্সার সনাক্ত হওয়ার আগে জীবিকার তাগিদে সাহিদুল সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। শারিরিক সমস্যা ধরা পড়ায় তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এখন সে কর্মহীন।

ক্যান্সারে আক্রান্ত সাহিদুল এর চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদন তার পরিবারের সদস্যদের। বর্তমানে সাহিদুল জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে ডা. মো. মেহবুব আহসান এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সাহিদুলের স্ত্রী রাহিমা স্বামীর চিকিৎসার জন্য সমাজের হৃদয়বান ও দানশীল ব্যক্তির আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। যে কোন হৃদয়বান তার জন্য সাহায্য পাঠাতে পারেন। মো. সাহিদুল ইসলাম, সঞ্চয়ী হিসাব নং- ০০৫৯১১১০০০০৪৬৪০, উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড, চান্দিনা শাখা, কুমিল্লা। বিকাশ পার্সোনাল- ০১৭৯৩৮৯৬৫৪৩

নগ্ন ভিডিও ধারণ করে লাখ টাকা আদায়,গ্রেফতার ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যুবককে ডেকে নিয়ে তরুণীর সাথে জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ ও চাঁদা আদায় চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলও নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন,উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের গাজী মেম্বার বাড়ির মৃত আমির হোসেনের ছেলে মো.ইমন (২১) ও একই গ্রামের চাঁন মিয়া মহুরী বাড়ির তাজুল ইসলাম সজিব (২০)।

সোমবার (১২ জুন) দুপুরের দিকে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে। এর আগে, গতকাল রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী বাজারের মোরশেদ আলম কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মো.আব্দুল আজিজ নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ করেন ইমন ও সজিব তাকে মারধর করে নাজনিন সুলতানা প্রিতি নামে এক তরুণীর বাড়িতে ঢুকিয়ে জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে। এরপর ভিডিও ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে নগদ ১লাখ ১০হাজার টাকা আদায় করে। পরবর্তীতে আরও চাঁদা দাবি করে । পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ অভিযোগের অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত ২ আসামিকে গ্রেফতার করে। একই সাথে ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলও নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

এসপি আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ওই মামলায় আসামিদের গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হবে।

১৭ বছরেও নেই কুবিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দির

চাঁদনী আক্তার,কুবি:

প্রতিষ্ঠার ১৭ বছর পার করলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য স্থাপিত হয়নি কোন মন্দির কিংবা উপাসনালয়। যদিও প্রথম থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্লাটফর্মে মন্দির প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সে দাবি বাস্তবায়নে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে এই ক্যাম্পাসে জায়গার স্বল্পতা রয়েছে। নতুন ক্যাম্পাসে থাকছে সব ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনাগৃহ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনুপ দাস অপুর্ব নামের এক সনাতনী শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘শুক্রবার আসলে একটা জিনিস আমার খুব ভাল্লাগে। এই যে বন্ধু, সিনিয়র ভাই, জুনিয়র সবাই মিলে দলবেঁধে একসাথে মসজিদে নামাজ পড়তে যান। অন্যদিকে আরেকটা জিনিস ভেবে খুব ব্যাথিত হই, এই ক্যাম্পাসে একটা মন্দির নাই। আমাদের ঈশ্বরের কাছে প্রেয়ার করার মতো নির্দিষ্ট একটা জায়গা নাই। কেনো আমাদের কি ধর্ম চর্চা করতে হয়না? কুবির প্রশাসনের কাছে আমি সম্মান রেখে বলতেছি, এই ক্যাম্পাসে জিম করার জন্য জায়গা আছে,থিয়েটারের জন্য জায়গা আছে। সাংবাদিকতার অফিস আছে, সেন্ট্রাল ফিল্ডের একটা কর্নারে দেখলাম বিশাল বড় করো একটা ভবন হইতেছে, এসব কিছুর জন্য আমিও গর্বিত,আমার ক্যাম্পাসের উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু কেনো ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও, সনাতনীদের জন্য একটা মন্দির বা প্রেয়ার রুমের জায়গা আপনারা দিতে পারছেন না? কেনো আমাদের যাযাবরের মতো ধর্ম চর্চা করতে হয়?দোষ কি আমাদের?’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সুব্রত সরকার বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬ শত সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠানগ্ন থেকেই আমরা বারবার প্রশাসনের কাছে গিয়েছি মন্দির প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে। কিন্তু বারবার প্রশাসন আমাদেরকে আশ্বাসের উপর রেখেছে, আমাদের দাবি তারা এখনও পূরণ করতে পারেনি। আহবায়ক হিসেবে প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ, তারা যেন আমাদের প্রতি সুদৃষ্টির প্রদর্শন করে মন্দির প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করে দেয়।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য ধর্মীয় উপাসনালয় রয়েছে কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতন, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান শিক্ষার্থী থাকলে নেই তাদের উপাসনালয়।

এতে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় উপাসনা করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এমনকি পূজা অর্চনার জন্যও নেই কোনো ব্যবস্থা। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মন্দির নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন আশ্বাস দিয়ে দিয়েছে কিন্তু সেটির বাস্তবায়ন এখনও দেখা যায়নি। পূজা উদযাপন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী প্রায় ৬ শত, শিক্ষক প্রায় ২৭ জন এবং বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। কিন্তু তাদের জন্য নেই কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়। যার ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন পূজা পার্বণ পালন করতে হয় কখনো ব্যাডমিন্টন কোর্টে, কখনো মুক্তমঞ্চে কিংবা ক্যাফেটরিয়ার ছাদে।

লোক প্রশাসন বিভাগের ১৫ তম আবর্তনের সুস্মিতা বনিক জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে আমাদের ধর্ম ও সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম একটি স্থান। কিন্তু আমাদের সনাতনী শিক্ষার্থীদের উপাসনা করার জন্য কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো নির্দিষ্ট স্থান নাই। এমনকি প্রার্থনার একটা রুম পর্যন্ত নেই সনাতনীদের জন্য। অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য উপাসনালয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ক্যাম্পাসে আসার পর থেকে আমাদের পূজা অথবা নিয়মিত উপাসনা করা হয় না, যাযাবরের মত আমরা এখানে সেখানে নিজেদের অনুষ্ঠান করি, বিষয়টি লজ্জাজনক। গত ১৮ বছরে সনাতনীদের একটি মন্দির অবশ্যই প্রাপ্য ছিল, আমাদের ক্যাম্পাসে অতি শীঘ্রই মন্দির প্রতিষ্ঠা হোক।

পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পার্থ চক্রবর্তী বলেন, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সনাতনীদের জন্য উপাসনালয় আছে কিন্তু আমাদের নেই, এখানে আমরা আমাদের ধর্ম চর্চা করতে পারছি না ঠিকমতো। বিভিন্ন পূজা আমরা ক্যাম্পাসে উদযাপন করি , এরজন্য আমাদের পূজার সামগ্রী কিনতে হয় কিন্তু আমাদের নির্দিষ্ট কোনো কক্ষ নেই তাই পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রী পরবর্তী বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে পারি না। প্রতিবছর এগুলো নতুন করে কিনতে হয় কিন্তু প্রশাসন থেকে যে সীমিত বাজেট দেওয়া হয় তাতে আমাদের অনুষ্ঠান পরিপূর্ণ করতে কষ্ট হয়ে যায়। নির্দিষ্ট ধর্মীয় উপাসনালয় না থাকার ফলে আমাদের এসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আশা করছি প্রশাসন খুব শীঘ্রই আমাদের জন্য মন্দিরের ব্যবস্থা করবেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈন বলেন, আগে কেন উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়নি তা আমি বলতে পারবো না। তবে বর্তমান ক্যাম্পাসে জায়গার সংকট রয়েছে। তাছাড়া এখানে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নয়, বৌদ্ধ এবং খ্রিষ্টানও রয়েছে। সবাইকে এই মুহূর্তে আলাদা আলাদা জায়গা বা রুম দেওয়া সম্ভব নয়। এই সংকট কিভাবে কাটিয়ে উঠা যায় তার জন্য আমরা চেষ্টা করবো। তবে নতুন ক্যাম্পাসে সব ধর্মের মানুষের জন্য উপাসনালয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

দাউদকান্দিতে বেসরকারী হাসপাতালের আয়ার মৃত্যু ঘিরে রহস্য!

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ফাতেমা আক্তার(২৮) নামে এক বেসরকারকারী হাসপাতালের আয়ার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনরা বলছে হাসপাতাল মালিকের স্ত্রীর মারধরের কারনে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

ফাতেমা আক্তার উপজেলার ইছাপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুন খানের মেয়ে। সে ইছাপুর এলাকার ইবরা ডিজিটাল ডায়গনস্টিক এন্ড মেডিকেল সেন্টারে আয়া পদে কাজ করতেন।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন বছর আগে ফাতেমা আক্তার ইবরা ডিজিটাল ডায়গনস্টিক সেন্টার হাসপাতালে আয়ার কাজ নেন । গত বুধবার(৭জুন) মালিকের পাঁচ বছরের মেয়েকে পাশের স্কুল থেকে আনার সময় অটোরিক্সার সাথে ধাক্কা খায়। এজন্য মালিকের স্ত্রী ফাতেমাকে মারধর করায় পরদিন বৃহস্পতিবার হাসপাতালের কাজে যায়নি ফাতেমা ।

পরে শুক্রবার ( ৯ জুন) আসমা নামে হাসপাতালের আরেক কর্মচারীর ফোন করলে কাজে যায় সে। ওইদিন বিকালে ইবরা হাসপাতাল থেকে ফাতেমার ছোট ভাই আরাফাতকে আবার ফোন করে যে, আপনার বোন অসুস্থ, তাকে নিয়ে যান । পরে ফাতেমার স্বজনরা তাকে বাড়ীতে নিয়ে যান এবং পরদিন শনিবার(১০ জুন) দুপুরে বমি করায় দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রবিবার ১১জুন দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ফাতেমার ছোট ভাই আরাফাত বলেন, শুক্রবার বিকেলে আমি ইবরা হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার বোন অসুস্থ, তাদের কাছে জিজ্ঞেস করলে বলে বমি করেছে, আমরা ইনজেকশান দিয়েছি, বাড়ীতে নিয়ে যান ভালো হয়ে যাবে। বাড়ীতে আনার পর কয়েকবার বমি করে। পরে শনিবার গৌরীপুর (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স) সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করি। অবস্থা খারাপ দেখে রাত দেড়টার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠায়। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার(১১জুন) বিকাল ৩টার দিকে মারা যায়।

ইবরা ডিজিটাল ডায়গনস্টিক এন্ড মেডিকেল সেন্টারের মালিক কাউসার আলম জানান, বাচ্চাকে স্কুল থেকে আনার সময় দুর্ঘটনার কারনে আমার স্ত্রী তাকে কোন মারধর করনি, শুধু বকাবকি করেছে। এরজন্য সে বৃহস্পতিবার কাজে আসেনি। পরদিন শুক্রবার কাজে আসলে বিকালে অসুস্থতাবোধ করলে ওর ভাইকে খবর দিয়ে বাড়ীতে পাঠানো হয়। আমার এখানে তাকে কোন ধরনের ওষুধ বা ইনজাকশান দেওয়া হয়নি। পরে শুনছি ঢাকা মেডিকেল নেয়ার পর মারা গেছে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আলমগীর ভূঞা বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় ৯৯৯ ফোন পেয়ে আমরা নিহত ফাতেমার বাড়ীতে যাই। তার স্বজনদের বক্তব্য শুনে মরদেহ থানায় নিয়ে আসি। আর মৃত্যু নিয়ে কোন রহস্য আছে কিনা ময়না তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

বাংলাদেশের দুই নারী এশিয়ার শীর্ষ ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায়

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এশিয়ার ১০০ বিজ্ঞানীর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট’। তালিকায় দুই বাংলাদেশি নারীর নাম এসেছে। তারা হলেন, গাওসিয়া ওয়াহিদুন্নেছা চৌধুরী ও সেঁজুতি সাহা।

‘দ্য এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ শিরোনামে রোববার এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। অষ্টমবারের মতো এই তালিকা করা হলো।

জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে হিমবাহ চক্র এবং কাঠামোগত ভূতত্ত্ব অনুসন্ধান, এমনকি মহাকাশ গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা মোকাবিলায় ভূমিকা রাখা গবেষক ও উদ্ভাবকদের এবার বেছে নেওয়া হয়েছে।

গাওসিয়া ওয়াহিদুন্নেছা চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক। তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় (জলভূমি পরিবেশবিদ্যা) বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডটিমের একজন বোর্ড সদস্য তিনি, যেটি বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কাজ করে। গাওসিয়া বাংলাদেশের জলজ বাস্তুতন্ত্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতির প্রাণি সংরক্ষণে অবদানের জন্য ২০২২ সালে ওডব্লিওএসডি-এলজাইভার ফাউন্ডেশন পুরস্কার পান। এখন তিনি জলপথে প্লাস্টিক দূষণের ঝুঁকি বিষয়ে কাজ করছেন বলে এশিয়ান সায়েন্টিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সেঁজুতি সাহা একজন অণুজীববিজ্ঞানী। জীববিজ্ঞানে বিশেষ অবদান রাখার জন্য এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তিনি। আণবিক জিনতত্ত্বের এই গবেষক কাজ করছেন বাংলাদেশের চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনে (সিএইচআরএফ)। সেঁজুতি সাহা ও তার প্রতিষ্ঠান সিএইচআরএফ বাংলাদেশের রোগীদের নমুনা থেকে নতুন করোনা ভাইরাসের পূর্ণাঙ্গ জিনোম বিন্যাস উন্মোচন করে।

শিশুদের আক্রান্ত করে এমন কিছু রোগ, যেমন ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়া নিয়ে তিনি গবেষণা করেন। তিনি বিশ্বে প্রথম দেখান যে, চিকুনগুনিয়া ভাইরাস শিশুদের মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং শিশুর মেনিনজাইটিস রোগ হতে পারে।

তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল পোলিও ইরেডিকেশন ইনিশিয়েটিভের বোর্ড মেম্বার পদে নিযুক্ত হন।

‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট’ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞানীদের পরিচয় এবং তাদের গবেষণার বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, হংকং, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের বিজ্ঞানী ওই ১০০ জনের তালিকায় রয়েছেন।

কুমিল্লাসহ দেশের ১৯টি অঞ্চলে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লাসহ দেশের ১৯টি অঞ্চলে ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

রবিবার (১১ জুন) বিকাল ৬ টা ৫ মিনিট থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে পূর্ব বা দক্ষিণ-পূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে পিকআপ-কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪

 

মোঃ উজ্জ্বল হোসেন বিল্লালঃ

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় পিকআপ ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জন হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন খেলোয়ারসহ অন্তত ১৫ জন।

রবিবার (১১ জুন) বিকাল ৪টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার লালবাগ এলাকায় ইউটার্নে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- গাড়িচালক মোর্শেদ আলম (৩৫), জোড়কানন পূর্ব ইউনিয়নের লালবাগ গ্রামের শাহআলমের ছেলে সাকিব (১৫), একই এলাকার মোহন মিয়ার ছেলে সৈকত (১৬) ও আব্দুর রহীমেরর ছেলে ফয়সাল (১৭)।

জানা গেছে, একটি খোলা পিকআপ ভ্যানে করে ২০/২৫ জনের একদল কিশোর খেলোয়ার সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ মাঠে খেলায় অংশ নিতে যাচ্ছিল। ওই মাঠে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক (অনূর্ধ ১৭) এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালিকা (অনূর্ধ ১৭) ২০২৩-এর খেলা ছিল। বিকালে ওই মাঠে ‘বারপাড়া বনাম জোড়কানন (পূর্ব)’ ইউনিয়নের মধ্যে খেলা হবার কথা ছিল। সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদ মাঠে যাওয়ার পথে মহাসড়কের লালবাগ এলাকায় ইউটার্নে পৌঁছার পর বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ডভ্যান ওই পিকআপকে ধাক্কা দিয়ে পিকআপসহ মহাসড়কের পাশে উলটে যায়।

এ সময় কাভার্ড ভ্যানটির নিচে চাপা পড়ে যায় পিকআপটি। এতে খেলোয়াররাও ওই পিকআপের নিচে চাপা পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও সদর দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। ক্রেন দিয়ে কাভার্ড ভ্যান সরিয়ে খেলোয়ারদের উদ্ধার করা হয়। ৫টি অ্যাম্বুল্যান্সে করে হতাহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পিকআপ চালক লালবাগ গ্রামের আলী আহাম্মদের ছেলে মোরশেদ এবং একই গ্রামের মোহন মিয়ার ছেলে ৯ম শ্রেণির ছাত্র সৈকতকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাকিব ও ফয়সালকে ঢাকা নেওয়ার পথে দাউদকান্দি যাওয়ার পর তারা মারা যায়। তাদেরকে বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।