All posts by jitu

সৌদির ক্লাবে খেলবে মেসি, ৫ হাজার কোটি টাকায় চুক্তি

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি আগামী মৌসুমে ‘বিশাল অংকের চুক্তি’তে সৌদি আরবের ঘরোয়া ক্লাব ফুটবলে খেলবেন। এই চুক্তি সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করেছে সংবাদ সংস্থা এএফপি।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক সেই সূত্র এএফপিকে বলেছেন, ‘মেসির চুক্তি হয়ে গেছে। তিনি সৌদি আরবে আগামী মৌসুমে খেলবে।’

এফপি জানিয়েছে, মেসি মধ্যপ্রাচ্যে যেতে রাজি হয়েছেন। সৌদি ক্লাব ‘আল-হিলাল’ তার জন্য ৪০০ মিলিয়ন ইউরো যা বাংলাদেশি টাকায় ৪৭২৩ কোটির একটি চুক্তির কথা বলেছে- এই চুক্তির ফলে তিনি গ্রহের সর্বোচ্চ বেতনভোগী খেলোয়াড় হিসেবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রোনালদোর চেয়ে এগিয়ে থাকবেন।

চলতি মৌসুম শেষেই পিএসজির সঙ্গে চুক্তি শেষ হচ্ছে মেসি, নতুন চুক্তিও আর করতে চাননি বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। পিএসজি ছেড়ে কোথায় যাবেন সেটি নিয়েই ছিলো গুঞ্জন। সাবেক ক্লাব বার্সেলোনা আর সৌদি আরবের কোনো ক্লাবে যাওয়ার গুঞ্জনই শোনা গিয়েছিলো বেশি। অবশেষে মেসি যাচ্ছেন সৌদি আরবেরই ক্লাবে।

গত সোমবার দলীয় অনুশীলনে যোগ না দেওয়ায় মেসির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কাতারি মালিকানাধীন ক্লাব পিএসজি। অনুশীলনে যোগ না দিয়ে পিএসজির অনুমতি না নিয়েই সৌদি আরবের পর্যটন দূত হিসেবে উপসাগরীয় দেশটি সফরে গিয়েছিলেন মেসি।

ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেফতার

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মাদরাসার আবাসিক ছাত্রকে (১২) বলাৎকারের অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত শিক্ষকের নাম হোজায়ফা (২২)। সে উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের ভবভদ্রী গ্রামের আমিন উল্যার বাড়ির মনিরুল আলম ভুঁইয়ার ছেলে।

মঙ্গলবার (৯ মে) বিকেলের দিকে ওই শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জানা যায়, উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রকে তার মাদরাসার শিক্ষক গত রোববার ৭ মে রাত ১১টার দিকে মাথা টিপার কথা বলে তার রুমে ডেকে নেয়। পরে তাকে কৌশলে বলৎকার করে ওই শিক্ষক। পরবর্তীতে ভিকটিমকে ২শত টাকা দেন কাউকে বিষয়টি না বলার জন্য।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, এ ঘটনায় নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

ইমরান খান গ্রেপ্তার

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইমরান তাঁর নামে দায়ের করা কয়েকটি মামলায় জামিন নিতে আজ আদালতে হাজির হয়েছিলেন।

এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে একটি কালো রঙের গাড়িতে নিয়ে যান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

লরিয়াস পুরস্কার জিতলেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক:

গত বছর কাতার বিশ্বকাপ থেকে শুরু, এখনো চলছে লিওনেল মেসির পুরস্কার জিতে চলার পালা। আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে কাতার বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন দলকে।

স্বপ্নের বিশ্বকাপ জয়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। একটি ছাড়া গোল করেন টুর্নামেন্টের সব ম্যাচে। জেতেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার, জিতেছেন ফিফা দ্য বেস্ট পুরস্কার। এবার ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো মেসি জিতলেন লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড। বর্ষসেরা দলের পুরস্কার জিতেছে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার হয়ে এই পুরস্কারও গ্রহণ করেন মেসি।

বিতর্কিত সৌদি সফর শেষে গতকালই পিএসজির অনুশীলনে ফিরেছেন মেসি। গুঞ্জন আছে মেসিকে দেওয়া দুই সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে আনতে পারে পিএসজি। গতকালের অনুশীলন শেষে মেসিকে যোগ দিতে হয়েছে লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে।

ফ্রান্সের প্যারিসে সোমবার পুরস্কার অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। মেসি এর আগে ২০২০ সালে যৌথভাবে ফর্মুলা ওয়ান কিংবদন্তি লুইস হ্যামিল্টনের সঙ্গে এই পুরস্কার জিতেছিলেন। ফুটবলারদের মধ্যে একমাত্র মেসিই জিতেছেন এই পুরস্কার। শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত ও দলীয় পুরস্কারজয়ী প্রথম ক্রীড়াবিদও আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক।

লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড পেয়ে উচ্ছ্বসিত মেসি বলেছেন, ‘আমার আগে যেসব কিংবদন্তিরা লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড জিতেছে সেই নামগুলো দেখছিলাম। শুমাখার, উডস, নাদাল, ফেদেরার, বোল্ট, হ্যামিল্টন, জোকোভিচ…অবিশ্বাস্য সব সঙ্গীদের তালিকায় আমি আছি। এটা বিশেষ এক সম্মান।’ ক্রীড়াঙ্গনের সম্মানজনক এই পুরস্কারের নারী বিভাগের বর্ষসেরা হয়েছেন জ্যামাইকান স্প্রিন্টার শেলি-অ্যান ফ্রেজার-প্রাইস।

২০০০ সাল থেকে লরিয়াস ওয়ার্ল্ড স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড দেওয়া শুরু হয়। কে বিজয়ী হবেন, তা ঠিক করেন লরিয়াস স্পোর্টস একাডেমির ৭১ জন সদস্য।

নোয়াখালীতে একনলা বন্দুক-গুলিসহ গ্রেফতার ১

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর চাটখিলে আগ্নেয়াস্ত্র সহ এক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার থেকে একটি একনলা বন্দুক ও এক রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতার  হওয়া শফিকুল ইসলাম (৪৫) উপজেলার দক্ষিণ বদলকোট গ্রামের মৃত. সেকান্দার মিয়ার ছেলে।

মঙ্গলবার (৯ মে) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার পরকোট ইউনিয়নের বাইশসিন্দুর গ্রামের বদলকোট-দশঘরিয়া সড়কের পাশ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.গিয়াস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন,এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

যাদের কীর্তি আজো খবরের অন্তরালে

এস এন ইউসুফ:
কুমিল্লা একটি প্রসিদ্ধ জেলা ঢাকার পার্শ্ববর্তী যে কয়টি উন্নত জেলা রয়েছে তার মধ্যে কুমিল্লা অন্যতম একটি জেলার নাম। বৃটিশ আন্দোলন থেকে শুরু করে এই বাংলার মানুষের অধিকার আন্দোলনে কুমিল্লার কৃতি মানুষদের অবদান যুগে যুগে চির স্মরণীয়। ঐতিহাসিক ৫২‘র ভাষা আন্দোলনে কুমিল্লার শ্রী ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাম যেমনিভাবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা এই বাংলার ইতিহাসে। ঠিক তেমনিভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে কুমিল্লার বীর সেনানীদের নামও রক্তকালিতে লেখা।

কুমিল্লা সেই বৃটিশদের শাসনআমল থেকেই সম্পদশালীদের একটি শহর। স্বাধীনতার পূর্বে এবং স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে কুমিল্লায় সম্পদশালী যে কয়জন জমিদারের নাম উঠে আসতো তাদের মধ্যে জমিদার ভুদর দাশ গুপ্ত একজন অন্যতম।

তিনি কুমিল্লার একজন প্রথিতযশা আইনজ্ঞ ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ীও। জমিদার ভুদর দাশ গুপ্তের নাতি ছিলেন কুমিল্লা শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিশিরেন্দ্র দাশ গুপ্ত রানা। দাদা জমিদার ভুদর দাশ গুপ্তের সম্পদের বিত্ত থেকেই কুমিল্লা শহরের অধিকাংশ জমি এবং সম্পদ ছিলো তাদের। স্বাধীণতার পরবর্তী সময়ে কুমিল্লা শহরে বাড়িঘর নির্মাণসামগ্রী বিক্রির দোকান তথা রডসিমেন্টের দোকান ছিল হাতে গোনা দুই একটি তার মধ্যে নজরুল এ্যাভিনিউস্থ ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের বিপরীত পাশে ছিল শিশিরেন্দ্র দাশ গুপ্ত রানাদার রডসিমেন্টের দোকান। রানা দা ছাত্রজীবন থেকেই তার বাপদাদার ব্যবসাবাণিজ্যে সময় দিতেন। শিশিরেন্দ্র দাশ গুপ্ত রানার জন্ম ১৯৩৮ সালের ১১ মে, কুমিল্লা শহরে। অল্পবয়সেই তার বাবার মৃত্যু হয় তারপর থেকেই তিনি তার বাবার ব্যবসার দায়িত্ব কাঁদে নেন। বাবার মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে তিনি ৩৩ বছর বয়সে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৪ সালে বিয়ে করেন শিশিরেন্দ্র দাশ গুপ্ত রানা তার সংসারে দুই সন্তানের জন্ম হয়। তিনি একজন রাজনীতি সচেতন মানুষও বটে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে কুমিল্লায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কর্তৃক নির্বিচারে চলে বাঙ্গালীদের হত্যা, খুন ও ধর্ষণ।

ওই রাতে কুমিল্লার সম্পদশালীদের মধ্যে থেকে পাকিস্তানীরা অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীকে রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে তুলে নেয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল রাতে রানা দা‘কে পাকিস্তানি বাহিনী তার কুমিল্লা শহরের বাসা থেকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যায়। রানা দা‘র পরিবার কুমিল্লা শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হওয়ায় মোটা অংকের টাকা দিয়ে পাকিস্তানিদের হাত থেকে প্রথমাবস্থায় প্রাণে রক্ষা পায়। রানা দা প্রথমবারের মতো প্রাণে রক্ষা পেলেও পরবর্তীতে জানা যায় পাকিস্তানি বাহিনী তার উপর অমানুষিক নির্যাতন করেন। যা তার বুকে পিঠে আঘাতের চিহ্ন থেকে তখন অনুমেয় করা গিয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল পুনরায় রানা দা কে তুলে নেয় পাকিস্তানী বাহিনী তারপর আর তিনি ফিরে আসেননি। তার ফিরে না আসার সংবাদটি জানা যায় তার ভাই জনা দা থেকে। সে সময় তিনি ছিলেন চট্টগ্রামে তার ভাইয়ের মৃত্যুর খবরটি তার কাছে পৌঁছলে তিনিও কুমিল্লায় না এসে চট্টগ্রাম থেকেই মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে আর তার শরীরে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দিতে কুন্ঠাবোধ করেননি। পরবর্তীতে তিনি মুক্তিযুদ্ধ শেষে বিজয়ের বেশে কুমিল্লায় ফিরে আসেন। দূর্ভাগ্যের বিষয় হলো জনা দা ফিরে এসে দেখেন তার ভাই শিশিরেন্দ্র দাশ গুপ্ত রানা‘র স্ত্রী তার ভাইকে হারিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে অনেক অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। যার চিকিৎসা করতে অনেক যায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক অর্থ খরচ করতে হয়। কুমিল্লার একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানী বাহিনী কর্তৃক নির্মম হত্যার শিকার হয়ে প্রাণ হারালে কুমিল্লার ব্যবসায়ীক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। রানা দা‘কে এমন নির্মম হত্যার পর পাকবাহিনী কুমিল্লার ব্যবসায়ীদের উপর আরো ব্যাপক হত্যায় জড়িয়ে পরে। এতে করে তৎকালীন সময়ে কুমিল্লার অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় অনেক ধস নামতে শুরু করে।

পাকিস্তানী বাহিনী কর্তৃক নির্মম হত্যার শিকার শিশিরেন্দ্র দাশ গুপ্ত রানা‘র ১ জন পুত্র সন্তান ও ১ জন কন্যা সন্তান ছিলেন তারাও পিতা হারানোর শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। শিশিরেন্দ্র দাশ গুপ্ত রানা ছিলেন কুমিল্লার ব্যবসায়ী অঙ্গনে একজন প্রতিষ্ঠিত মানুষ যার নেতৃত্বে কুমিল্লার ব্যবসায়ীরা অনেক উপকৃত হতেন। শিরেন্দ্র দাশ গুপ্ত রানা‘র একমাত্র ছেলে যার নাম ছিল তাপস দাশ গুপ্ত।

তাপস দাশ গুপ্তের জন্ম ১৯৬৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর। একমাত্র পুত্র তাপস তার পিতা রানা দা‘র মৃত্যুর পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখাশোনা করতেন। দীর্ঘদিন পিতার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলেও তাপস দাশ গুপ্ত মহামারী করোনাকালে ২০২০ সালের ১৪ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে পরলোক গমন করেন। রানা দা‘র একমাত্র কন্যা মিতা দাশ গুপ্তা বর্তমানে ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে চাকুরীরত। মিতা দাশ গুপ্তার সংসারে রয়েছে দুই কন্যাসন্তান তার মধ্যে একজন প্রণতি দাশ ও প্রিয়াংকা দাশ। প্রণতি দাশ এর জন্ম ১৯৯৭ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর। প্রিয়াংকা দাশ এর জন্ম ১৯৯৯ সালের ৯ই মে। তারা বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রাণ হারানো এই পরিবারের খোঁজ এখন ক‘জনই বা রাখেন। তাদের অবদানের কথা কুমিল্লার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ।

(লেখক: এস এন ইউসুফ, জুনিয়র অফিসার(পাবলিক রিলেশান ডিভিশন), সিটিজেন্স ব্যাংক পিএলসি)

কারাগারে বসে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন দাউদকান্দির এক শিক্ষার্থী

জাকির হোসেন হাজারী:
কুমিল্লা জেলা কারাগার থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা দিয়েছেন দাউদকান্দির শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার( ৯ মে) চলমান এসএসসি পরীক্ষার গনিত বিষয়ে অংশ গ্রহন করেন কিশোরী সাইফা আক্তার নামে হাজতি।

সে উপজেলার গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের সোলাকান্দি গ্রামের সিপন সরকারের মেয়ে।

গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সেলিম মিয়া জানান, সাইফা আক্তার গত বছর নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেছিল। গনিত বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। এবছর কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সে জেলা কারাগারে বসে এক বিষয়ে(গনিত) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

উল্লেখ, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তিতাস উপজেলার সোলাকান্দি গ্রামে মিনরা বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধাকে তার নিজ ঘরে গলাকেটে হত্যা করা হয়। সাইফা আক্তার ওই বৃদ্ধা হত্যা মামলার আসামী।

সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি শিশু আহত

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ওবাইদুল্লাহ (১২) নামে এক বাংলাদেশি শিশু আহত হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ওবাইদুল্লাহ চর আষাড়িয়াদহ গ্রামের গোলাম রসুলের ছেলে। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ছয় নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

গোদাগাড়ী থানার ওসি কামরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ওবাইদুল্লাহর বাবা গোলাম রসুল বলেন, আমার ছেলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভারতীয় সীমান্তের কাছে গরুর জন্য ঘাস কাটতে যায়। এ সময় ভারতীয় সীমান্ত বুঝতে না পেরে প্রায় ১০ ফিট ভেতরে ঢুকে পড়ে। ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা এ সময় তাকে চলে যেতে বলে।

তিনি আরও বলেন, কাটা ঘাসগুলো বস্তায় ভরে নিয়ে আসার সময় বিএসএফ সদস্যরা ওবাইদুল্লাহকে গুলি করে। তার বাম পায়ের ওপরের অংশে গুলি লেগেছে। তার সঙ্গে থাকা শরিফ নামে আরেক শিশু পালিয়ে এসেছে। পায়ে গুলি লাগার পর ওবাইদুল্লাহ খুব কষ্ট করে সীমান্ত পার হয়ে আসে। এরপর স্থানীয় লোকজন আমাকে খবর দেন।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, গুলিবিদ্ধ হয়ে ওবায়দুল্লাহ নামে এক শিশু আহত হয়েছে। তাকে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রাতে তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করা হলো ‘দ্য কেরালা স্টোরি’

 

বিনোদন ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ হলো মুক্তির আগে থেকেই বিতর্কিত সুদীপ্ত সেনের ছবি ‘দ্য কেরালা স্টোরি’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীল কড়া নির্দেশ, পশ্চিমবঙ্গের কোনো সিনেমা হলে এই ছবিটি চালানো যাবে না। এই মর্মে মুখ্যসচিবকে উপযুক্ত পদক্ষেপেরও নির্দেশ দিয়েছেন মমতা।

‘দ্য কেরালা স্টোরি’ কে উস্কানিমূলক ছবি হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। এই ছবি কারণে রাজ্যে অশান্তি তৈরি হতে পারে, এজন্যই নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত। ‘এই সিনেমায় যে যব দৃশ্য দেখানো হয়েছে তা রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য বিপজ্জনক’- অফিশিয়ালি এমনটাই বক্তব্য।

এক বিজ্ঞপ্তিতে ভারতের এই রাজ্য সরকার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, “রাজ্যে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গে ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। এই সিনেমায় যেসব দৃশ্য দেখানো হয়েছে তা রাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলার পক্ষে বিপজ্জনক হতে পারে আশঙ্কা করে কলকাতাসহ সব জেলাতে এই ছবির প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হল। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই রাজ্য প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত।”

এর আগে তামিল নাড়ুর সিনেমা হল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ‘দ্য কেরালা স্টোরি’। কিন্তু তা তামিলনাড়ু থিয়েটার ওনার্স অ্যাসোশিয়েশনের সিদ্ধান্ত। এই প্রথম দেশের কোনও রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ হল ‘দ্য কেরালা স্টোরি’।

কেন বিতর্ক এই ছবি ঘিরে? কী আছে এই ছবিতে? এই ছবির টিজার মুক্তির পর থেকেই দানা বেঁধেছিল বিতর্ক। তারপর সময় যত গড়িয়েছে সুদীপ্ত সেনের ছবিটি ঘিরে বিতর্কের আগুন ততই ছড়িয়েছে। দক্ষিণের রাজ্য কেরালার হিন্দু ও খ্রিস্টান মেয়েদের ছলে-বলে-কৌশলে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইসিসে যোগ দেওয়ানোর হাড়হিম করা ঘটনা উঠে এসেছে এই ছবিতে।

হিন্দু মেয়েদের উপর চলা নির্যাতনের এই কাহিনিকে ‘ইসলাম বিরোধী’ এবং ‘প্রোপাগান্ডা ছবি’ বলে মন্তব্য করেছে বাম-কংগ্রেসের মতো রাজনৈতিক দল। কেরালার পিনারাই বিজয়ন সরকার এই ছবির সমালোচনা করলেও এই ছবির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি।

কথাসাহিত্যিক ও কালবেলা উপন্যাসের স্রষ্টা সমরেশ মজুমদার আর নেই

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দুই বাংলার কালজয়ী কথাসাহিত্যিক ও কালবেলা উপন্যাসের স্রষ্টা সমরেশ মজুমদার আর নেই। আজ সোমবার (০৮ মে) স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে কলকাতায় একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

বেশ ক’দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রের খবর, গত ২৫ এপ্রিল মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তাকে ভর্তি করানো হয়েছিল সাহিত্য অকাডেমি পুরস্কার জয়ী সাহিত্যিককে। এরপর শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা বাড়তে থাকে। আগে থেকেই সমরেশের সিওপিডি সমস্যা ছিল। হাসপাতালে ‘ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্টের সমস্যা’ (স্লিপ অ্যাপমিয়া) বাড়তে থাকে।

সমরেশ মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন বাংলা ১৩৪৮ সনের ২৬শে ফাল্গুন, ১০ই মার্চ ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দ। তার শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগানে। তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় জলপাইগুড়ি জেলা স্কুল থেকে। তিনি কলকাতায় আসেন ১৯৬০ সালে। বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেন কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে এবং মাস্টার্স সম্পন্ন করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কর্মজীবনে তিনি আনন্দবাজার পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেডএর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গ্রুপ থিয়েটারের প্রতি তার প্রচণ্ড আসক্তি ছিল। তার প্রথম গল্প ‘অন্যমাত্রা’ লেখাই হয়েছিল মঞ্চনাটক হিসাবে। আর সেখান থেকেই তার লেখকজীবনের শুরু। তার লেখা ‘অন্যমাত্রা’ ছাপা হয়েছিল দেশ পত্রিকায় ১৯৬৭ সালে। সমরেশ মজুমদারের প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’ ছাপা হয়েছিল দেশেই ১৯৭৫ সালে। তিনি শুধু তার লেখনী গল্প বা উপন্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি থেকে গোয়েন্দাকাহিনি, কিশোর উপন্যাস লেখনীতে তার জুড়ি মেলা ভার। তার প্রত্যেকটি উপন্যাসের বিষয় ভিন্ন, রচনার গতি এবং গল্প বলার ভঙ্গি পাঠকদের আন্দলিত করে। চা বাগানের মদেসিয়া সমাজ থেকে কলকাতার নিম্নবিত্ত মানুষেররা তার কলমে উঠে আসেন রক্ত-মাংস নিয়ে।

সমরেশ মজুমদারের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলির মধ্যে সাতকাহন, তেরো পার্বণ, স্বপ্নের বাজার, উজান, গঙ্গা, ভিক্টোরিয়ার বাগান, আট কুঠুরি নয় দরজা, অনুরাগ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তার ট্রিলজি ‘উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ’ বাংলা সাহিত্য জগতে তাকে বিশেষ খ্যাতির অধিকারী করেছে।

অনেক অসাধারণ লেখনীর শব্দের এই রূপকার জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন। ১৯৮২ সালে আনন্দ পুরস্কার, ১৯৮৪ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার, বঙ্কিম পুরস্কার এবং আইয়াইএমএস পুরস্à¦