All posts by jitu

আবারও বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের শর্ত অনুযায়ী ভর্তুকির বোঝা কমাতে চায় সরকার। এর ফলে, আগামী জুনের মধ্যে বিদ্যুতের দাম আবারও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকার এ বছর ইতোমধ্যে ৩ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। প্রতিবার ৫ শতাংশ করে মোট ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম।

তারপরও বিদ্যুতের ভর্তুকি কমাতে যথেষ্ট হয়নি এই মূল্য বৃদ্ধি। সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুতের ভর্তুকি ৬ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৩ হাজার কোটি টাকা করতে হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মঙ্গলবার আইএমএফ স্টাফ মিশনকে জানিয়েছেন, প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের জন্য বাজেট ভর্তুকি জিডিপির শূন্য দশমিক ৯ শতাংশে রাখার লক্ষ্যে এই অর্থবছরেই বিদ্যুতের দাম আবারও বৃদ্ধির সুপারিশ করা হবে।

৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ কর্মসূচির অধীনে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নীতি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করতে ৮ সদস্যের আইএমএফ স্টাফ মিশন ঢাকায় এসেছেন এবং তারা থাকবেন ২ মে পর্যন্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এই মিশন পৃথক বৈঠক করেছে।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় আইএমএফের এশিয়া-প্যাসিফিকের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন বলেছেন, ‘সব ভর্তুকি ভালো নয়, সব ভর্তুকি দরিদ্র ও দুর্বলদের জন্য হয় না। আপনি যদি বাংলাদেশের দিকে তাকান, গ্যাস ও বিদ্যুতের জন্য প্রচুর ভর্তুকি দেওয়া হয়। কারা গাড়ি চালায়? কারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ করে? দরিদ্ররা এগুলোর ব্যবহার করে না, করে ধনীরা। একটি আর্থিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাওয়া দেশে তারা যে ভর্তুকি পাচ্ছেন, তা প্রাপ্য নয়।’

সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং অবকাঠামো ব্যয়ে কতটা খরচ করতে সক্ষম তার ওপর সামগ্রিক ভর্তুকির বিষয়টি নির্ভর করে।

পরবর্তীকালে আইএমএফ সামগ্রিক ভর্তুকি বা সামগ্রিক কর ছাড় থেকে বের হয়ে আসতে এবং সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য ভর্তুকি প্রদানের ওপর জোর দেয়।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ভর্তুকি ব্যয়ের জন্য রেকর্ড ৮১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সংশোধিত বাজেটে আরও ২১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথা ছিল।

কিন্তু জীবনযাত্রার সংকটে জর্জরিত সাধারণ মানুষের জন্য ৬ মাসের মধ্যে চতুর্থবারের মতো বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আগামী জুনে নেট রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে মেজবাউল বলেন, ‘এখনো ৩ মাস বাকি। কাজেই এখনই এটা বলা সম্ভব নয়। তবে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি থাকবে বলে আশা করছি।’

ইতালীর আনকোনা সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হলেন বাংলাদেশী নাহিদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইতালির আনকোনা কর্পোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে শহরটিতে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ইতালির আলোচিত রাজনৈতিক দল ফাইভস্টার মুভমেন্টের মনোনয়ন পেয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মুখ উজ্জ্বল করেছেন নাজমুল আহমেদ নাহিদ। যে দলটির প্রধান জুসেপ্পে কন্তে করোনা কালে নাগরিকদের ব্যাপক প্রশংসা করেয়েছেন। আনকোনা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শতকরা ৯০ ভাগ প্রবাসী বাংলাদেশী তাকে সমর্থন করেন। তবে যেহেতু ইতালীয় নাগরিকরাই আসন্ন সিটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংখ্যা খুবই কম যারা নাগরিকত্ব লাভ করেছেন। নাহিদের ইতিবাচক দিক হলো, তাকে ইতালীয়সহ বিভিন্ন দেশের যারা ইতালীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন তারা তাকে সমর্থন করেন ভালবাসেন এবং নির্বাচনে ভোট দেবেন বলে জানা গেছে।

গত রোববার আনকোনাতে অনুষ্ঠিত নাজমুল আহমেদ নাহিদের নির্বাচনী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন পার্লামেন্ট সদস্য জজ্র্ ফেদে এবং এই সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী এনরিকু স্পারাপানি।

ইতালির সংসদ সদস্য মি.ফেদে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নাহিদের ভূয়সী প্রশংসার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীদেরও প্রশংসা করেছেন। বলেছেন বাংলাদেশিরা কাজ পছন্দ করে এবং তারা কাজ করে থাকে তাদের পরিবারের জন্য। ওই সভায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের নানা সমস্যার সমাধানেরও কথা বলেন তিনি। নাহিদের জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। মেয়র প্রার্থী মিস্টার এনরিকো স্পারাপানি স্পষ্ট করেই বলেছেন, তিনি নির্বাচিত হলে বাংলাদেশীদের জন্য স্কুল, ক্রিকেট খেলার জন্য মাঠ এবং থানাতে দ্রুত স্টে পারমিট নবায়নের ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন।

আনকোনা প্রবাসী বাংলাদেশীরা বলছেন, নাজমুল আহমেদ নাহিদ আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হতে পারেন। তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে বলেও মনে করেন তারা।

আগামী ১৪ এবং ১৫ মে আনকোনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশি উদ্ধারকারী দলকে বিশেষ সম্মাননা দিলো তুরস্ক সরকার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

তুরস্কে ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ধারকার্য পরিচালনাকারী বাংলাদেশ দলকে মানবিক সহায়তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের স্বীকৃতিস্বরূপ তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ানের কাছ থেকে বাংলাদেশের পক্ষে এই সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল ও উদ্ধারকারী দলের দলনেতা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রুহুল আমিন।

বুধবার (২৬ এপ্রিল) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানায়।

আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশের এই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং তুরস্কের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল সিরিয়ার সীমান্তবর্তী তুরস্কের গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে। ভূপৃষ্ঠের ১৭ দশমিক ৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। ভূমিকম্পের কারণে তুরস্ক ও সিরিয়ায় মানবিক বিপর্যয় নেমে আসে। শতাব্দীর অন্যতম প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে তুরস্ক ও পার্শ্ববর্তী দেশ সিরিয়ায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০ হাজারের বেশি।

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের ৮ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কৃষি, শুল্ক বিষয়ক, প্রতিরক্ষা, আইসিটি ও সাইবার-নিরাপত্তা, শিল্প আপগ্রেডিং, বুদ্ধিভিত্তিক সম্পদ, জাহাজ পুনর্ব্যবহার এবং মেট্রোরেল বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ৮ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ ও জাপান।

বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়।

এ সময় উভয় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন।

যে ৮ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হলো-

১. কৃষি গবেষণা ও উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে জাপানের কৃষি, বন এবং মৎস্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়।

২. শুল্ক বিষয়ক পারস্পরিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি চুক্তি সই করে বাংলাদেশ ও জাপান সরকার। এ চুক্তির আওতায় দুই দেশ শুল্ক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা; শুল্ক অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত ও দমন করা এবং শুল্ক পদ্ধতির সরলীকরণ ও সমন্বয়ে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।

৩. ‘বাংলাদেশ-জাপান শিল্পোন্নয় অংশীদারিত্ব’ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং শিল্প মন্ত্রণালয়। এ চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে মসৃণ উত্তরণ এবং ‘ভিশন ২০৪১’ এর আওতায় ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টায় সহায়তা হিসেবে সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে এবং যৌথভাবে শিল্পের মানোন্নয়নের সম্ভাবনাগুলো অন্বেষণ করার জন্য একটি কাঠামো স্থাপন করতে সহযোগিতা হবে।

৪. প্রতিরক্ষা বিষয়ে সহযোগিতা করতে একটি সমঝোতা সই করেছে বাংলাদেশ ও জাপান। এই সমঝোতার আওতায় প্রতিরক্ষা সংলাপ, সফর বিনিময়, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কোর্স, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত অন্যান্য কার্যক্রম এবং সহযোগিতা জোরদার করা হবে।

৫. মেট্রোরেলের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়। এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় মেট্রোরেল নীতি, আইন ও প্রবিধানে সহযোগিতা; অবকাঠামো, রোলিং স্টক ও সিস্টেমের জন্য প্রযুক্তি; নিরাপত্তা নীতি ও ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা হবে।

৬. জাহাজ ভাঙা শিল্প সেক্টরে একটি সহযোগিতা স্মারক সই করেছে জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের শিল্প মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ২০২৩ সালের মধ্যে জাহাজের নিরাপদ ও পরিবেশগতভাবে সঠিক পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে। এক্ষেত্রে একটি ট্রিটমেন্ট, সংরক্ষণ ও নিষ্ক্রিয়করণ সুবিধা প্রতিষ্ঠাসহ হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে জাপান।

৭. একটি সহযোগিতা স্মারক সই করেছে জাপান পেটেন্ট অফিস এবং বাংলাদেশের বুদ্ধিভিত্তিক সম্পত্তির পেটেন্ট, ডিজাইন এবং ট্রেডমার্ক বিভাগ। এর আওতায় তথ্য ও চর্চার আদান-প্রদানের মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অধিকার (আইপিআর) সিস্টেম এবং আইপিআর’র গুরুত্ব বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে করা, শিল্প ও উদ্ভাবনের বিকাশে আইপিআর সিস্টেমের উন্নতি।

৮. সাইবার নিরাপত্তাসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি সহযোগিতা স্মারক সই করে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।

এসব চুক্তি সইয়ের আগে শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে দুই প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

এর আগে শেখ হাসিনা জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে সেখানে তাকে স্বাগত জানান এবং তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেন ফুমিও কিশিদা।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেখানে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রবেশপথে গার্ড অব অনারও পরিদর্শন করেন। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষে যৌথ বিবৃতি প্রদান করা হয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার আমন্ত্রণে গতকাল (২৫ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে টোকিও’র হানেদা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং স্ট্যাটিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর আগে ২০১৯ সালে শেষবার সফর করার তিন বছর পর জাপান সফরে গেলেন।

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার থেকে ৯৮ বোতল ফেন্সিডিলসহ যুবক আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার থেকে ফেন্সিডিলসহ মোঃ রবিউল আলম (২০) নামের এক যুবককে আটক করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

বুধবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে ৯৮ বোতল ফেন্সিডিলসহ তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত যুবক কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ডিমাতলী গ্রামের মোঃ নাছিরের ছেলে।

কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

র‌্যাব জানায়, সে দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদকদ্রব্য সরবরাহ করে আসছিল। উক্ত বিষয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

চিৎকার করে সালমান খানকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন তরুণী

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বলিউডের ভাইজান খ্যাত তারকা সালমান খানের বয়স পঞ্চাশ পার হলেও এখনো ব্যাচেলর তিনি। এই বয়সেও গ্ল্যামারস বয়ে যায় চিরকুমারের। আর পর্দায় অ্যাকশন কিংবা রোমান্টিক সিক্যুয়েন্সেও দুর্দান্ত তিনি।

ইন্ডাস্ট্রির সুপারহিট এই তারকার ব্যক্তিজীবনে একাধিকবার প্রেম এসেছে। তবে বহুবার প্রেম এলেও বিয়ের পিঁড়িতে কখনো বসা হয়নি। কিন্তু জীবনে কি শুধুই প্রেম এসেছিল, নাকি বিয়ের প্রস্তাবও পেয়েছিলেন? এবার প্রকাশ্যেই এক তরুণী চিৎকার করে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন বিটাউনের মোস্ট এলিজিবল ব্যাচেলরকে।

ভাইজানের এই ইস্যু এখন ‘টক অব দ্য টাউন’। মূলত ঈদে তারকার ‘কিসি কা ভাই কিসি কি জান’ সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। দুবাইতে এই সিনেমার প্রচারে গিয়েই বিয়ের প্রস্তাব পান তিনি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর অনুযায়ী, অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চে উঠেন সালমান। তখন দর্শকাসন থেকে হঠাৎ করেই এক তরুণী চিৎকার করে বলেন, ‘সালমান, আমাকে বিয়ে করুন।’ এরপরই আবার অবাক ঘটনা ঘটে।

অপর এক তরুণী ওই প্রথম তরুণীকে থামিয়ে চিৎকার করে বলেন, ‘না সালমান, বিয়ে করো না। কারও বিয়ে করা উচিত নয়।’ আর এতে অবশ্য সাড়া দেন বলি তারকা। জবাবে তিনি বলেন, ‘ঠিক ঠিক। একদম ঠিক।’

এদিকে সালমানের মুখে বিয়ে না করার কথা তাৎক্ষণিক ক্যামেরাবন্দি করেন পাপারাজ্জিরা। আর সেই ভিডিও এখন সোশ্যালে ভাইরাল।

কুমিল্লার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঈদের আনন্দে উদ্বেলিত ভ্রমণ পিপাসুরা ভিড় জমিয়েছে। পরিবারের ছোট-বড় সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছেন কুমিল্লাবাসী। ঈদের দিন থেকে শুরু করে ৪র্থ দিনেও জেলার প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অতীতের যে কোন সময়ের তুলনায় রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের পদচারণায় কানায় কানায় পূর্ণ প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থান।

জানা গেছে, বিগত দিনের সকল রেকর্ড অতিক্রম করে শুধুমাত্র ঈদের দিন (শনিবার) একদিনের সর্বোচ্চ রাজস্ব আদায়ের রেকর্ড অর্জন করেছে কুমিল্লার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন শালবন বিহার। প্রতিদিন গড়ে ১৪/১৫ হাজারেরও বেশি দর্শণার্থী ভীড় জমাচ্ছেন ওই স্থানে।

সরেজমিনে কুমিল্লার বিনোদন কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কুমিল্লা শহরে অবস্থিত ধর্মসাগর পাড় নগর উদ্যান ছাড়াও কোটবাড়ি শালবন বিহার, যাদুঘর, ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি, আকর্ষনীয় ম্যাজিক প্যারাডাইসসহ বিভিন্ন বিনোদ কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভীড়। এছাড়া শালবন বিহার সংলগ্ন দর্শণীয় স্থান বৌদ্ধ বিহারেও ভ্রমণপিপাসুদের উপস্থিতি কম নয়। এসব স্থানে পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে নিয়ে আনন্দের জোয়ারে ভাসতে দেখা গেছে ভ্রমন পিপাসুদের।

শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে সব বয়সীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে জেলার বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ঈদের ছুটি কাজে লাগাতে আনন্দে মেতেছে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ। বিনোদনে একাকার হয়ে গেছে ধনী-গরীবের ভেদাভেদ। ঈদের এই ভ্রমনের স্মৃতি ধারণ করতে কেউবা নিজ মোবাইল ক্যামেরায় সেলফি তুলছে আবার কেউবা পরিবার পরিজন নিয়ে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি হচ্ছে। আবার অনেক সমবয়সীরা একত্রিত হয়ে গানের আড্ডায় মত্ত।

জেলার নগর উদ্যান বা ধর্মসাগরপাড় ছাড়া শহরের ভিতর তেমন কোন বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় কোটবাড়ি এলাকাস্থ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শণার্থীদের পদচারণা ব্যাপক। এর মধ্যে প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন শালবন বিহার, জাদুঘর, কুটিলামুড়া, রূপবানমুড়া। সরকারি ওই বিনোদন কেন্দ্রের পাশাপাশি কোটবাড়ি এলাকায় বেসরকারি বা ব্যক্তি মালিকানা উদ্যোগে বেশ কয়েকটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে উঠায় ভ্রমন পিপাসুদের ভ্রমন তৃষ্ণা মেটাচ্ছে ওইসব বিনোদন কেন্দ্রগুলো। এর মধ্যে রয়েছে সালমানপুরের ম্যাজিক প্যারাডাইস,কোটবাড়ির ডাইনোসর পার্ক, ব্লুওয়াটার পার্ক।

এছাড়া শহরের বাহিরে ময়নামতি সেনা নিবাস এলাকার রূপসাগর, ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি (যা ইংরেজ কবরস্থান হিসেবে পরিচিত), গোমতি নদীর পাড়ে পালপাড়া ব্রীজ এলাকা, লালমাই লেক লেন, নূরজাহান পার্ক, সদর দক্ষিণের লালবাগ এলাকার ইকোপার্কেও ছিল হাজার হাজার দর্শনার্থীদের পদচারণা। জেলার চান্দিনা উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকায় নতুন করে গড়ে উঠা ‘আপন বাড়ি’ বিনোদন কেন্দ্রে যেন তীল ধারণের ঠাঁই নেই। ঈদ আনন্দে ম্যাজিক প্যারাডাইসে দর্শনার্থীদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। সুমিং, রাইডিং, ইলেক্ট্রনিক ডাইনোসর সহ বিনোদনের বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকায় এ বিনোদন কেন্দ্রটি রয়েছে আলোচনার শীর্ষে।

পর্যটক দম্পত্তি সালমা আক্তার জানান, কুমিল্লাতে আমার বিবাহ হয়েছে পাঁচ বছর আগে। এখানে এতো সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র জেনেও সময় ও সুযোগের অভাবে আসা হয়নি। স্বামী-সন্তান নিয়ে এবারের ঈদে ছুটে আসলাম। আমার কাছে খুবই ভাল লেগেছে।

শালবন বিহারে ভ্রমণে আসা আয়শা আক্তার খুকু জানান, আমরা কুমিল্লা শহরেই থাকি, ঈদের ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। যে কারণে কোন ভাবেই এই সুযোগ মিস করিনি। প্রাণের টানে ছুটে এসেছি শাহবন বিহারে।

ঈদকে ঘিরে প্রতিটি বিনোদন কেন্দ্রে ছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারী। তাতেও বেশি খুশি ভ্রমন পিপাসুরা।

প্রত্নতাত্তিক অধিদপ্তর কুমিল্লা জোনের আঞ্চলিক পরিচালক একেএম সাইফুর রহমান জানান, সাধারণত ঈদের দিন আমাদের প্রত্নতাত্তিক নিদর্শণগুলো বন্ধ থাকে। কিন্তু এবছর আমরা ভ্রমণ পিপাসুদের কথা চিন্তা করে শুধুমাত্র শালবন বিহারটি খোলা রেখেছিলাম। আর ওইদিন ৩ লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা শালবন বিহারের ইতিহাসে একদিনের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

তিনি আরও বলেন, রাজস্বের হিসাব ছাড়াও শিশু ও সুবিধা সঞ্চিতদের কোন টিকেট না থাকায় দর্শণার্থীর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। এখন গড়ে প্রতিদিন ১৪/১৫ হাজারেরও বেশি দর্শণার্থী ভীড় জমাচ্ছে।

নাঙ্গলকোটে কৃষকের ধান কেটে দিল ছাত্রলীগ

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় চলতি বোরো মৌসুমে ক্ষেত থেকে ধান কেটে কৃষকের ঘরে ‘নিরাপদে’ পৌঁছে দিতে নেতাকর্মীসহ তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

সোমবার আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

ঘোষণার একদিন না যেতেই কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট দক্ষিণ ইউনিয়নের মনতুলী গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান ও কৃষক জামালের ফসলি জমির ধান কেটে ঘরে তুলে দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে মঙ্গলবার সকাল ১০  টায় বিশ জনের সহযোগিতা এ ধান কাটা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, ধান কাটা শ্রমিকদের মজুরি অন্যন্য বছরের তুলনায় এবার অনেকটাই বেশি, রয়েছে বাইরে থেকে শ্রমিক কম আসার সংকট। ঝড়বৃষ্টির শঙ্কায় জমির পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এ সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জমির ধানগুলো কেটে দিয়েছেন। তাদের এমন কাজে আমি ভীষণ খুশি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

ছাত্রলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদের আহবান অনুযায়ী জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান কেটে কৃষকের ঘুরে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশের ন্যায় আমরাও নাঙ্গলকোটে কৃষকের পাকা ধান কেটে ঘরে তুলে দিচ্ছি। চাহিদা অনুযায়ী কৃষকদের সকল সহযোগিতা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশের যেকোনো দুর্যোগ, দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। আগামীতেও আমরা সাধারণ মানুষের পাশে থাকবো।