All posts by jitu

কুমিল্লায় স্ত্রীর পরকীয়ার বলি স্বামী মনির, আসামি নুর আলম গ্রেফতার

স্টাফ  রিপোর্টার:
কুমিল্লায় স্ত্রীর পরকীয়ার বলি হয়ে খুন হন স্বামী মনির হোসেন । কুমিল্লা ডিবি পুলিশ রহস্য উদঘাটন করে আসামি নুর আলমকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন।

নিহত মনির হোসেন (৩৫) দাউদকান্দি উপজেলার পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ডের সিন্দি (ঢালী বাড়ি) এলাকার মৃত. আলাউদ্দিনের ছেলে।

ঘাতক  নুর আলম মিয়া (২৪) দাউদকান্দি উপজেলার তুজারভাঙ্গা গ্রামের  ফজলুর রহমানের ছেলে।

জানা যায়,  চলতি বছরের গত ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা  সাড়ে ৭ টায় সবজি ব্যবসায়ী  মোঃ মনির হোসেন (৩৫) সবজি  কেনার উদ্দেশ্যে নিমসার বাজারে যান। পরদিন অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর  জরুরী সেবা ৯৯৯ হতে  সংবাদ পেয়ে বুড়িচং থানা পুলিশ  উপজেলার  মোকাম ইউনিয়নের পরিহল পাড়া চেয়ারম্যান বাড়ির রাস্তার ১০০ গজ পূর্বদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেন।   প্রাথমিকভাবে মৃতদেহের মাথায়, মুখে ও নাকে অনেকগুলো রক্তাক্ত গভীর কাটা জখম দেখা যায়। পরবর্তীতে পুলিশ স্থানীয় লোকজনের সাহায্যে মৃতদেহটি সনাক্ত করেন এবং সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ মর্গে পাঠান। এ ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর নিহত মনির হোসেনের মা রেহানা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নাম্বার-১২।

এ হত্যাকান্ডের পর  মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করেন জেলা গোয়েন্দা কুমিল্লা। তদন্ত কালে দেখা যায়, ভিকটিম মনির হোসেনের স্ত্রী নাজমা’র সাথে ড্রাইভার নুর আলম মিয়ার সাথে গত দেড় বছর ধরে পরকীয়ার সম্পর্ক চলছিল।  এটা নিয়ে ভিকটিমের সাথে স্ত্রী নাজমার মনোমালিন্যের সৃষ্টি হলে ভিকটিমের স্ত্রী নাজমা স্বামীর বাসা থেকে দুই ছেলেকে নিয়ে তার বোন বিউটির বাসায় চলে যায়। সেখানে ঘাতক নুর আলম এর সাথে নাজমার সম্পর্ক আরো গভীর হয়। পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে কথা বলে নাজমা পুনরায় বাচ্চাদের নিয়ে তার স্বামীর বাসায় ফিরে আসে। তখন ঘাতক নুর আলম ভিকটিমের স্ত্রী নাজমাকে তার কাছে চলে আসতে বলে। নাজমা স্বামীর ঘর ছেড়ে আর কোথাও যাবে না জানালে ঘাতক নুর আলম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরই প্রেক্ষিতে গত ৪ অক্টোবর  ঘাতক নুর আলমকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদকালে উক্ত রহস্য উদঘাটন হয়।

গ্রেফতার হওয়া আসামি নুর আলমকে বুড়িচং থানায় হস্তান্তর করা হয়।  ৫ অক্টোবর  আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন এবং রিমান্ডের আবেদন করেন।

কুবিতে পরিচয়পত্র ছাড়া হলে প্রবেশ নিষেধ, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে(কুবি) উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পরিচয়পত্র ছাড়া আবাসিক হলে প্রবেশ করতে পারবে না বলে জনিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আব্দুল মঈন।

বুধবার (৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস শান্তিপ্রিয় রাখতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয় হলগুলো শান্তিপ্রিয় রাখতে চাই। যেহেতু এর আগে মারামারির ঘটনা ঘটেছে, তাই বহিরাগত ও অছাত্রদের হলে প্রবেশ করতে দেব না। বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পরিচয়পত্র ছাড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেব।

তবে উপাচার্যের এমন ঘোষণায় বিপাকে পড়তে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীরা। ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থীরা সাত মাস আগে ভর্তি হলেও এখনও মেলেনি তাদের পরিচয়পত্র। তারা বলছেন, কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা না করে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।

শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন বলেন, আমারা ১৫ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা এখনো পরিচয়পত্র পাইনি। পরিচয়পত্র ছাড়া যদি হলে প্রবেশ করতে না দেওয়া হয় আমরা কিভাবে প্রবেশ করব? হয় আমাদের পরিচয়পত্র ছাড়াই প্রবেশ করতে দেওয়া হোক অথবা আমাদের অনতিবিলম্বে আইডি কার্ড দেওয়া হোক।

নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হাসিব হাসান বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর এখনো পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ আমাদের নবীন শিক্ষার্থীদের (১৫ তম ব্যাচ) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র প্রদান করে নি। এখন যদি পরিচয়পত্র ছাড়া হলে প্রবেশ করতে দেওয়া না হয় তাহলে আমরা কোথায় থাকবো? কিভাবে হলে প্রবেশ করবো?

শেখ হাসিনা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম বলেন, আমাদের ভিসি স্যার বলেছেন যে পরিচয়পত্র ছাড়া হলে প্রবেশ করতে দিবে না। কিন্তু আমরা যারা ১৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী আছি তাদের ভর্তি কার্যক্রম মে মাসে শেষ হলেও আমরা এখনো পরিচয়পত্র পায়নি। পরিচয়পত্র না থাকার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এবং বহিরাগতদের মধ্যে পার্থক্য করা যাচ্ছে না। এই মুহূর্তে হলের শিক্ষার্থীদের পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। তাই যাদের পরিচয়পত্র নেই তাদের জন্য প্রশাসন যেন অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধমে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছে শিক্ষার্থীরা।

যাদের পরিচয়পত্র এখনো হয়নি তাদের হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে অন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কিনা জনতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মোকাদ্দেস-উল-ইসলাম বলেন, এবিষয় নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমাদের পরবর্তীতে মিটিংয়ে এ বিষয়ে সিন্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে শিক্ষার্থীরা যেন দ্রুত পরিচয়পত্র পায় সেবিষয়ে কাজ করছি।

এ বিষয়ে শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট মো. সাহেদুর রহমান বলেন, যেহেতু ২০২০-২১ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থীরা পরিচয়পত্র পায়নি তাই তাদের জন্য এক মাস অথবা দেড় মাস মেয়াদি স্টুডেন্ট পাস দেওয়া হবে এবং এটি অস্থায়ীপরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য হবে। পরবর্তী এক মাসের মধ্যে তাদের হাতে পরিচয়পত্র তুলে দেওয়া হবে।

সশস্ত্র হামলা ও বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ নেয় কুমিল্লার বাড়িছাড়া তরুণরা !

 

স্টাফ রিপোর্টার:

জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে কুমিল্লা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে বাড়ি ছেড়ে যাওয়া চার তরুণসহ সাতজনকে মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

র‌্যাবের দাবি, দেশের সংবিধান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি ক্রোধ ও ক্ষোভ জাগিয়ে তুলে সমাজ থেকে বাইরে নিয়ে এসে তাদের সশস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিতে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে আগ্রহী করে তোলে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িতরা।

এছাড়া মুসলমানদের উপর নির্যাতনসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞান দেওয়া হতো তরুণদের। ধাপে ধাপে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। নিরুদ্দেশ হওয়া তরুণদের সেইফ হাউজে পটুয়াখালী ও ভোলার বিভিন্ন চর এলাকায় সশস্ত্র হামলা, বোমা তৈরি, শারীরিক কসরত ও জঙ্গিবাদবিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

গ্রেফতাররা হলেন- পটুয়াখালীর হোসাইন আহম্মদ (৩৩), মো. নেছার উদ্দিন ওরফে উমায়ের (৩৪) ও বণি আমিন (২৭)। কুমিল্লা থেকে নিরুদ্দেশ হওয়া গ্রেফতার চার তরুণ হলেন- ইমতিয়াজ আহমেদ রিফাত (১৯), মো. হাসিবুল ইসলাম (২০), রোমান শিকদার (২৪) ও মো. সাবিত (১৯)।

গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে নব্য জঙ্গি সংগঠনের তিন ধরনের প্রচারপত্র, বিস্ফোরক তৈরির নির্দেশিকা সম্বলিত পুস্তিকা, নব্য জঙ্গি সংগঠনের কর্মপদ্ধতি (খসড়া মানহায), উগ্রবাদী বই ‘নেদায়ে তাওহীদের’ ৪ কপি ও জিহাদি উগ্রবাদ ভিডিও সম্বলিত একটি ট্যাব জব্দ করা হয় বলে দাবি র‌্যাবের।

খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ২৩ আগস্ট কুমিল্লা সদর এলাকা থেকে ৮ তরুণ নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় নিখোঁজ সংক্রান্তে গত ২৫ আগস্ট কুমিল্লার কোতয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি হয়। ঘটনাটি গণমাধ্যমে বহুলভাবে আলোচিত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের তৈরি হয়।

ফলশ্রুতিতে র‌্যাব নিখোঁজের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের উদ্ধারে ও জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। তদন্তকালে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা বাড়ি ত্যাগ করেছে। এরই মধ্যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৬ সেপ্টেম্বর বাড়ি ছাড়ার প্রস্তুতিকালে ৪ তরুণকে হেফাজতে নিয়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয় র‌্যাব।

এর ধারাবাহিকতায় গতকাল (বুধবার) রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-১১ এর অভিযানে মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সূত্র: জাগোনিউজ।

দেশকে ভালো অবস্থানে রাখতে বর্তমান সরকারের বিকল্প নেই: পরিকল্পনামন্ত্রী

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, বর্তমান সরকার সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করেছে। একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। সরকারের সজাগ দৃষ্টির কারণে এরা শারদীয় দুর্গাপূজায় এবার সফল হতে পারেনি।

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে জগন্নাথ জিউর মন্দিরে মঙ্গলবার রাতে দুর্গা উৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মান্নান বলেন, আওয়ামী লীগ একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। সবাই মিলে শান্তি সম্প্রতি বজায় রাখতে হবে। সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। বৈশ্বিক নানা সংকট কাটিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশকে এগিয়ে নিতে ও ভালো অবস্থানে রাখতে বর্তমান সরকারের বিকল্প নেই।

দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি প্রদীপ সূত্রধরের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিভাস দের পরিচালনায় এ সময় বক্তব্য দেন- উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম, ওসি মিজানুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজিত রায়, সহ-দপ্তর সম্পাদক মাসুম আহমেদ, উপজেলা যুবলীগ সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম রিপন, হিন্দু কমিউনিটি নেতা পিষূষ রায় কালা, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক অমিত দেব, কমিউনিটি নেতা হীরা মোহন দেব, প্রজেশ গোপ, শশী কান্ত গোপ, দেবাশীষ তালুকদার, প্রদীপ দে, অরূপ সরকার, বকুল গোপ, সজিব রায় দূর্জয়, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল মুকিত প্রমুখ।

এর আগে পরিকল্পনামন্ত্রী রানীগঞ্জ বাজারের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক হওয়ার দৌড়ে যোগ দিতে চায় ইউক্রেন

 

স্পোর্টস ডেস্কঃ

ইউক্রেনে এখন চলছে তুমুল যুদ্ধ। গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আক্রমণের মুখে রুখে দাঁড়ালেও নিজেরদ সার্বভৌম বেশ কিছু এলাকা হারাতে হয়েছে রাশিয়ার কাছে। যে যুদ্ধ এখনও চলমান এবং কেউ জানে না রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হবে কবে নাগাদ।

কিন্তু রাশিয়ার তুমুল আক্রমণের মুখেও ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার আবেদনে যোগ দেয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ। যৌথভাবে তারা আয়োজক হওয়ার দৌড়ে যোগ দিতে চায় স্পেন এবং পর্তুগালের সঙ্গে। স্পেন-পর্তুগাল আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজক হওয়ার আবেদন করার। ইউক্রেন তৃতীয় দেশ হিসেবে তাদের সঙ্গে যোগ দিতে চায়।

২০৩০ বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ এখনও নির্ধারণ করেনি ফিফা। যদিও এরই মধ্যে তারা আবেদন আহ্বান করেছে। ২০২৬ সাল থেকে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ৪৮ দলকে নিয়ে। মেগা সাইজের প্রথম টুর্নামেন্টটির আয়োজক যৌথভাবে তিন দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য দুটি পক্ষ আপাতত লড়াইয়ে নামতে যাচ্ছে। একপক্ষ হচ্ছে স্পেন-পর্তুগাল, সঙ্গে যদি ইউক্রেন যুক্ত হয়, তাহলে হবে তিনদেশ। অন্য পক্ষটি হচ্ছে লাতিন আমেরিকার চারটি দেশ। উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা, চিলি এবং প্যারাগুয়ে।

দ্য টাইমস পত্রিকার বরাত দিয়ে ডেইলি মেইল জানিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির আজই (বুধবার) এ বিষয়ে একটি ঘোষণা দেয়ার কথা যে, তারা স্পেন এবং পর্তুগালের সঙ্গে তৃতীয় দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হতে চায়।

এরই মধ্যে ইউক্রেন ফুটবল ফেডারেশনকে বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক হওয়ার দৌড়ে সামিল হওয়ার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদোমির জেলেনস্কি অনুমতিও দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি পর্তুগাল ও স্পেন সরকারও ইউক্রেনকে এই লড়াইয়ে নিজেদের সাথে সামিল করে নেয়ার প্রস্তাবকে অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

এর আগে বিশ্বকাপ আয়োজনের অভিজ্ঞতা রয়েছে স্পেনের। ১৯৮২ বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল তারা। তবে, পর্তুগাল কিংবা ইউক্রেনের বিশ্বকাপ আয়োজন করার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তিন দেশ মিলে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারলে হয়তো ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক তারা হয়েও যেতে পারে।

কিন্তু যে দেশটিতে যুদ্ধ চলমান, তারা কিভাবে বিশ্বকাপের আয়োজক হবে? এ প্রশ্ন উঠলে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা আশা করছে ২০৩০ সালের অনেক আগেই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে এবং তারা যথাসময়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হবে।

ইরানে হিজাববিরোধী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে নিজের চুল কাটলেন ইউরোপীয় সংসদের সদস্য

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

হিজাব না পরার কারণে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনী নামে এক তরুণীর মৃত্যু ঘিরে ইরানে চলমান হিজাববিরোধী আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে নিজের মাথার চুল কেটে ফেলেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (ইপি) সুইডিশ এক সদস্য। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বক্তৃতা দেওয়ার সময় কাঁচি দিয়ে নিজের মাথার চুল কেটেছেন ওই সদস্য।

হিজাব পরার বিধান লঙ্ঘনের দায়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইরানের নৈতিকতা পুলিশ ২২ বছর বয়সী মাহসা আমিনীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিশি হেফাজত থেকে কোমায় নেওয়া হয় এই তরুণীকে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিনই মারা যায় মাহসা আমিনী।

পুলিশি নির্যাতনে আমিনীর প্রাণহানি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এই ঘটনার পর ইরানে গত তিন বছরের মধ্যে বৃহত্তম বিক্ষোভ শুরু করেছেন দেশটির হাজার হাজার মানুষ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইরাকি বংশোদ্ভূত সদস্য আবির আল-সাহলানি বলেন, ইরান মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ক্ষোভ নিপীড়কদের চেয়ে বেশি হবে। ইরানের নারীরা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাদের পাশে রয়েছি।

এই বক্তৃতা দেওয়ার সময় হাতে কাঁচি তুলে নেন তিনি। এ সময় মাথার পেছনের পনিটেইল কাটতে কাটতে তিনি বলেন, ‘জিন, জিয়ান, আজাদি।’ এ সময় আবারও কুর্দি নারীদের জীবনের স্বাধীনতা চান তিনি।

পুলিশি হেফাজতে মাহসা আমিনীর মৃত্যুর পর ইরানের নারীদের হিজাববিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য আবির আল-সাহলানি ছাড়াও ইরানি নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ফরাসি অভিনেত্রী জুলিয়েট বিনোচি এবং ইসাবেলা হাপার্টও চুল কেটেছেন।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে নারীদের জন্য হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করা হয়। এই বিপ্লবের পর এবারই প্রথম ইরানের হিজাববিরোধী আন্দোলনকারী নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাবেশ হয়েছে। গত শনিবার বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি শহরে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন।

ইরানের সংখ্যালঘু কুর্দিদের আবাসস্থল দেশটির পশ্চিমাঞ্চল। মাহসা আমিনীও কুর্দি অধ্যুষিত দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দা। তার মৃত্যুর পর ওই অঞ্চলে প্রথম ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা ধীরে দেশটির অন্যান্য সব শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

সূত্র: রয়টার্স।

কুবি ছাত্রদল সদস্য জয়নাল আবেদীন জনির প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ

 

ইসতিয়াক আহমেদঃ

জয়নাল আবেদীন জনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২য় ব্যাচের ছাত্র ছিলেন এবং পড়াশোনাকালীন সময়ে তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন সাবেক সদস্য। তার প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

বুধবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগরপাড় বিএনপির কার্যালয়ে উক্ত দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আয়োজনের মধ্যে দিয়ে তাহার আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহবায়ক উৎবাতুল বারী আবু। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুসিক সাবেক মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ এর সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রদল সভাপতি রিয়াজউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন শিবলু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল সভাপতি নাদিমুর রহমান শিশির, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নুরুল আলম নোমান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক ১নং সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক এমদাদুল হক সাকিব, গিয়াসউদ্দিন আশিক, আবুল বাশার, আতিকুর রহমান ইউসুফ মিয়া, শাফায়েত হোসেন সজল ও সদস্য তরিকুল ইসলাম ।

কুমিল্লায় অশ্রু চোখে দেবী দূর্গাকে বিদায়

 

মো: উজ্জ্বল হোসেন বিল্লালঃ

সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লাতেও অশ্রু চোখে দেবী দূর্গাকে বিদায় জানালেন ভক্তরা। দেবীর বিদায়ের কষ্ট ভুলে থাকতে এবং হাসিমুখে বিদায় জানাতে ভক্তরা হাজির বিভিন্ন পূজা মন্ডপে।

বুধবার (৫ অক্টোবর) কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন পূজা মন্ডপে গিয়ে দেখা যায় বিহিত পূজা এবং পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে দশমীর পূজা শেষ করে ভক্তরা মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়। করোনা মহামারির কারণে সংক্রমণ এড়াতে গত দুই বছর সংক্ষিপ্ত করা হয় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।

দুর্গাপূজায় সবশেষ রীতিটি হচ্ছে ‘দেবী বরণ’। এটি শুরু হয় বিবাহিত নারীদের সিঁদুর খেলার মাধ্যমে। বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে দুর্গা মাকে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর একে-অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। সিঁদুর মাখানোর মাধ্যমে দুর্গা মাকে বিদায় জানান ভক্তরা। দুর্গাকে নিয়ে যাওয়ার আগে সিঁথিতে সিঁদুর মাখানোর পর আঙুলে লেগে থাকা বাকি সিঁদুরটুকু তারা একে-অপরের মুখে মাখেন। এই সিঁদুর মাখার রীতি অনেক সময় দশমী ঘরে পালন করা হলেও অনেকে আবার নিজেদের ঘরেই খেলে থাকেন। মুখ রঙিন করে হাসিমুখে মাকে বিদায় জানানোর জন্যই এই সিঁদুর খেলা। তাই মাকে বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে অপরকে সিঁদুর লাগিয়ে মিষ্টিমুখ করেন, নাচ-গান করেন, যেন সারাটা বছর এমন আনন্দেই কাটে।

সধবারা স্বামীর মঙ্গল কামনায় দশমীর দিন নিজ কপালে সিঁদুর লাগান এবং সেই সিঁদুরের কিছু অংশ দিয়ে দেবীর চরণ স্পর্শ করে থাকেন। তারপর সবাই মিলে একে অপরকে সিঁদুর মাখেন। দুর্গা আগামী বছর আবার সঙ্গে করে শাঁখা-সিঁদুর সঙ্গে নিয়ে আসবেন এবং সেই শাঁখা-সিঁদুর ধারণ করেই স্বামীর মঙ্গল হবে এই বিশ্বাসে ভক্তরা সিঁদুর নিয়ে দশমী উদযাপন করেন। এই উৎসবের নামই সিঁদুর খেলা।

এই সিঁদুর খেলা বিবাহিত নারীর জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও সবাই মন্দিরে ভিড় করেন, নেচে-গেয়ে এতে অংশ নেন। অবিবাহিত নারীরাও গালে আর হাতে মাখেন সিঁদুর।

মায়ের চরণে সিঁদুর দিতে আসা ইভা ভৌমিক জানান, ‘বিয়ে ছাড়া মাথায় সিঁদুর দেওয়া যায় না। আমাদের একদিন বিয়ে হবে, তখন ভালো স্বামী ও সুখের সংসারের কামনায় আমরা সিঁদুর খেলায় আসি। বিয়ে হলে আমরাও সিঁথিতে সিঁদুর পরবো।’

মৃণা রানীা ঘোষ বলেন, ‘স্বামীর মঙ্গল কামনায় মায়ের কাছে প্রার্থনা করি। তার পায়ে সিঁদুর ছুঁয়ে দিয়ে তার কিছুটা সিঁথিতে লাগালে সংসারে মঙ্গল হয়।’

মহালয়া থেকে দেবী দুর্গার মর্ত্যলোকে আসার ঘণ্টা বাজে। ষষ্ঠীতে তিনি ভক্তদের মাঝে অধিষ্ঠিত হন। আর দশমীতে তিনি কৈলাশ চলে যান। আজ বিজয়া দশমী। দুর্গা মায়ের বিদায়ের দিন। নৌকায় বসে দেবী দুর্গা ফিরে যাবেন।