All posts by jitu

৮৬ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে, কনটেইনারের পাশে মিলল মাথার খুলি ও হাড়গোড়

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও একটি দেহাবশেষের পুড়ে যাওয়া মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় বিএম ডিপোর দক্ষিণ পাশের পুড়ে যাওয়া কনটেইনারের পাশ থেকে মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৫ জনে।

ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আনিসুর রহমান মাথার খুলি ও হাড়গোড় উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আনিসুর রহমান বলেন, গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় আগুন লাগা ও বিস্ফোরণের প্রায় ৮৬ ঘণ্টা পর আগুন নেভাতে সক্ষম হন তাঁরা। আগুন নিভে গেলে এখনো ড্যাম্পিংয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। বুধবার সন্ধ্যায় ডিপোর দক্ষিণ পাশে পুড়ে যাওয়া কনটেইনারের ড্যাম্পিং কাজ করার সময় একটি দেহাবশেষের পুড়ে যাওয়া মাথার খুলি ও কিছু হাড়গোড় দেখতে পান। এ সময় তাঁরা সেগুলো উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন।

প্রসঙ্গত গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কাশেম জুট মিল গেট এলাকায় অবস্থিত বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভাতে যান। আগুন নেভানোর কাজ করার সময় রাসায়নিক ভর্তি একটি কনটেইনারের বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এঘটনায় এখন পর্যন্ত সীতাকুণ্ড ও কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের ৯ জন ফায়ার ফাইটারসহ ৪৫ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিকেরও অধিক মানুষ।

ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ২০, দফায় দফায় হামলা ভাঙচুর

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সমর্থক দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। সেইসঙ্গে দফায় দফায় হামলায় দুইপক্ষের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

বুধবার (৮ জুন) বিকেলে ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির এবং অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিয়েছেন নাসির উদ্দিন নামে একজন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সমর্থন করাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। তারই অংশ হিসেবে বুধবার বিকেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ফাতেমা মনির ও তার ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম, ফাতেমার মেয়ে-জামাই ইমরানসহ অন্তত ১২ জন আহত হন।

বিপরীতে তাদের মারধরে অপর গ্রুপের নাসির, তার স্ত্রী পারুল, তাদের ছেলে পিয়াস, পিয়াল, প্রতিবেশী রোকসানা ও জেবাসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতরা বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে দুইপক্ষের কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মাসুদ রানা বলেন, নাসির ব্রাজিল ও ফাতেমা মনির আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। তাদের সন্তানেরাও একই দলের সমর্থক। দুদিন আগে ব্রাজিলের খেলা হয়েছে, আর কয়েকদিন আগে আর্জেন্টিনার। সেই খেলা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উভয়পক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল হক দিপু বলেন, একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। আমরা দুইপক্ষের অভিযোগ পেয়েছি, মামলা প্রক্রিয়াধীন। স্থানীয়ভাবে ফুটবল খেলা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। প্রথমে তর্কাতর্কি পরবর্তীকালে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে, তদন্ত করে বিস্তারিত বলতে পারবো।

কাউন্সিলর নয় আপনাদের সেবক হতে চাই- তাহমিনা আক্তার লিন্ডা

 

শাহ ইমরানঃ

আগামী ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের তৃতীয় বারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীরা ব্যস্ত প্রচারণায়।

নানারকম নির্বাচনী গান আর মাইকিংয়ে চলছে প্রচারণা। প্রার্থীরাও দিচ্ছেন নানারকম প্রতিশ্রুতি। তবে ব্যতিক্রমী প্রচারণার কারণে ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৯,২০,২১নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিল প্রার্থী তাহমিনা আক্তার (লিন্ডা) চশমা প্রতিক নিয়ে।

বুধবার (৮ জুন) কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ১৯,২০,২১ নং ওয়ার্ডের আসনের মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী তাহমিনা আক্তার( লিন্ডা)

রাজাপাড়া, নেউরা, ইপিজেড পকেট গেইট, বাসায় বাসায় গিয়ে জনগণের সাথে হাত মিলান এবং ভোট চান তার জন্য। বিভিন্ন রাস্তার অলিগলিতে হাতে হ্যান্ডমাইক আর লিফলেট নিয়ে জনসংযোগ চালাচ্ছেন কাউন্সিলর প্রার্থী তাহমিনা আক্তার লিন্ডা। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সমবেত জনতার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সালাম দিয়ে নিজের পরিচয় দিচ্ছেন এবং তার মার্কায় (চশমা মার্কায়) ভোট চাচ্ছেন। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়নে নিজের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে ভোটারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন নিজের লিফলেট।

এ সময় তিনি বলেন- ক্ষমতা পেতে নয়, আপনাদের সেবা করতে এসেছি। কাউন্সিলর নয়, মানুষের সেবক হিসেবে থাকতে চাই। ওয়ার্ডবাসীর সুখ-দুঃখের ভার নিতে চাই। দুর্নীতিমুক্ত আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে রূপান্তর করতে চাই।

চান্দিনা পৌরসভার প্রথম মেয়র মান্নান সরকারের ইন্তেকাল

 

চান্দিনা সংবাদদাতাঃ

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার নির্বাচিত প্রথম মেয়র আব্দুল মান্নান সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না..রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৭ জুন) রাত সোয়া ৯টায় ভারতের চেন্নাই এর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। বৃহস্পতিবার (৯ জুন) বাদ আসর হারং উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

আব্দুল মান্নান সরকার চান্দিনা পৌরসভার হারং এলাকার বাসিন্দা। ১৯৯৭ সালে চান্দিনা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯৯ সালের প্রথম পৌর নির্বাচনে তিনি পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। মামলা জটিলতার কারণে ২০০২ সালে তিনি পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পৌর চেয়ারম্যানের পদটি ‘মেয়র’ পদে পদায়ন করায় তিনি চান্দিনা পৌরসভার প্রথম মেয়র ছিলেন। টানা ৯ বছর তিনি চান্দিনা পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই স্ত্রী, চার ছেলে ও পাঁচ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আব্দুল মান্নান সরকারের মৃত্যুতে কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা তপন বক্সী, পৌর মেয়র শওকত হোসেন ভূইয়া, কুমিল্লা উত্তর জেলা জাতীয় পার্টি সাবেক সভাপতি লুৎফর রেজা খোকন, সাবেক মেয়র মফিজুল ইসলাম, আলমগীর খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেন।

 

 

 

ভোটারদের কাছে টানতে সমানতালে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন মেয়র প্রার্থীরা

মো. লুৎফুর রহমান:

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আর মাত্র সাত দিন বাকি। এখানে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দিন-রাত ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। ভোটারদের সমর্থন আদায়ে তারা নানা কৌশল অবলম্বন করছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তবে এ সিটিতে পুরুষের চেয়েও নারী ভোটারের সংখ্যা অধিক এবং নতুন প্রজন্মের ভোটার আছেন ২০ সহস্রাধিক। তাই নারী ও নতুন ভোটারদের কাছে টানতে মরিয়া হয়ে দুয়ারে দুয়ারে ভোট চেয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিশেষ করে মেয়র পদে প্রভাবশালী তিন প্রার্থী।

এসব প্রার্থীদের স্ত্রী ও নারী কর্মীরা এলাকাভিত্তিক প্রচার-প্রচারণা ও উঠান বৈঠকে ভোটের মাঠে আছেন। এছাড়াও নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও জামায়াতের ভোট এবং নগরীর দক্ষিণাংশের সদর দক্ষিণ উপজেলা এলাকার অনেকটা উন্নয়নবঞ্চিত ৯টি ওয়ার্ডের ৬৭ হাজারের অধিক ভোটার জয়-পরাজয়ে অন্যতম ফ্যাক্টর হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাদের ভোট কোন দিকে যায় তা নিয়ে চলছে নানা সমীকরণ ও চুলচেরা বিশ্লেষণ।

নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে তরুণ ও যুবকদের জন্য বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেবেন, তরুণদের সঙ্গে নিয়ে মাদকমুক্ত কুমিল্লা গড়বেন এবং তিনি কুমিল্লার তরুণ ভোটারদের নিয়ে পদ্মা সেতু দেখতে যাবেন। তিনি আরো বলেন, বিগত সময়ে যিনি (সাক্কু) দুই বার মেয়র ছিলেন তিনি নগরীর দক্ষিণাংশের ৯টি ওয়ার্ডের উন্নয়নে বৈষম্য করেছেন, এসব এলাকা এখনো অবহেলিত। এসব ওয়ার্ডে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে আধুনিক নগরায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

সদ্য সাবেক মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, তিনি তরুণদের তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত কুমিল্লা নিউ মার্কেটের পঞ্চম তলায় ১১৯টি দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন। সেখানে কুমিল্লার তরুণরা তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ হচ্ছে। এছাড়া বিনোদনের জন্য তিনি নিজ উদ্যোগে একটি পার্ক করে দিয়েছেন। গোমতী নদীর পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন করে তাদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করেছেন। গত নির্বাচনে তিনি তার প্রতিশ্রুতির ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছেন। তিনি বলেন, তরুণরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। বেশির ভাগ তরুণ শিক্ষিত, তারা কারও কথায় প্ররোচিত হবে না। তিনি আরো বলেন, নগরীর দক্ষিণাংশের ৯টি ওয়ার্ড এলাকা ছিল গ্রামীণ জনপদ, সেখানে উন্নয়নমূলক অনেক কাজ হয়েছে। আরো কাজের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, এবার নির্বাচিত হলে অসম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করে আধুনিক নগর গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

অপর স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, এবারের নির্বাচনে ১০ শতাংশ তরুণ ভোটার। আর আমি নিজেও তরুণ সমাজের প্রার্থী। এই নতুন প্রজন্মের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি কুমিল্লা নগরীকে নতুন করে গড়তে চাই, যার সঙ্গে আধুনিকতা ও প্রযুক্তির একটা সমন্বয় থাকবে। তরুণ ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি, এবার তারা আমাকেই বেছে নেবে। তিনি বলেন, নগর এলাকা দক্ষিণে প্রসারিত হচ্ছে। ঐ এলাকাটি উন্নয়ন সম্ভাবনাময়। সেখানে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে উন্নয়নের দ্বার খুলে দেওয়া হবে মর্মে তিনি ভোটারদের আকৃষ্ট করছেন।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) কুমিল্লার সভাপতি রোকেয়া বেগম শেফালি বলেন, এ সিটিতে নারী ভোটার পুরুষের চাইতে বেশি। সব নির্বাচনেই নারী ভোটাররা কেন্দ্রের পরিবেশ ভালো চায়। এ নির্বাচনেও ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ পেলে তাদের উপস্থিতি বেশি হবে বলে মনে করছি।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলী আহসান টিটু বলেন, ভোটাররা এখন অনেক সচেতন। এখানে এবার মোট ভোটারের অর্ধেকের বেশি নারী। তাই এক জন মেয়র প্রার্থীর বিজয়ে নারী ভোটার অনেক ভূমিকা রাখতে পারে।

 

এমপি বাহারকে নির্বাচনী এলাকা ত্যাগের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আচরণবিধি লংঘন করে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগে সদর সাংসদ হাজী  আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারকে নির্বাচনী এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কুসিক নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা  মো: শাহেদুন্নবী এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আজ বুধবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর আগে  কুমিল্লা সদর সাংসদ হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ করে  ৬ জুন জাতীয় নিবন্ধন অনু বিভাগের পরিচালক ( অপারেশন) এবং কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ( টেবিল ঘড়ি)।

লিখিত অভিযোগে মনিরুল হক সাক্কু জানান, আগামী ১৫ জুন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল প্রার্থীদের মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম চলছে, কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীদের অর্থাৎ বহিরাগতদের আনাগোনা ও চলাচল দিন দিন বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করে মহানগর দলীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় মহানগর ও আদর্শ সদর উপজেলার নেতা কর্মীদের একত্রিত করে এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ মাদ্রাসার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অভিভাবকগণের সাথে আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তার পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত নেতাকর্মীদের ডেকে বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী সদর দক্ষিণ ও লালমাই উপজেলার নেতাকর্মীদের নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিয়ে সভা ও আলাপ আলোচনা করে বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র নিয়ে নির্দেশনা দিচ্ছে। যার ফলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল শোডাউনসহ নির্বাচনী সকল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, নির্বাচনী আচরণবিধিও লঙ্ঘন হচ্ছে। তেমনি সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ঠিক তেমনি আতঙ্কও সৃষ্টি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের নির্বাচনে কে জয়লাভ করবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথা নেই: রাষ্ট্রদূত পিটার হাস

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনে কে জয়লাভ করবে, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাথাব্যথা নেই। তাঁরা শুধু এমন একটি নির্বাচন চান, যাতে এ দেশের মানুষ তাঁদের নেতা বেছে নিতে পারেন।

আজ বুধবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন পিটার হাস।

নির্বাচন কমিশনকে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার আশ্বাসের পাশাপাশি পরিস্থিতি বোঝারও চেষ্টা করছেন বলে জানান রাষ্ট্রদূত পিটার হাস। তিনি বলেন, পুরো নির্বাচন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, সরকার, রাজনৈতিক দল, এনজিও, গণমাধ্যম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জনগণের ভূমিকা রয়েছে।

গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো পরামর্শ আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পিটার হাস বলেন, ‘না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের কাজ নয়। এটি নির্বাচন কমিশনের কাজ।’

সাক্ষাৎ শেষে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, নির্বাচন সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত তেমন কিছু আলোচনা করেননি। নির্বাচন সম্পর্কে তাঁরা কিছু ‘ব্রিফ’ দিয়েছেন। এখানে নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের মতো এত ‘স্মুথ’ নয়। এখানে একটু গোলযোগ হবেই, সব সময় এটি হয়ে আসছে। ওই দিক থেকে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইসি তৈরি।

সবার সহযোগিতা নিয়ে আগামী নির্বাচন সফল করার আশাবাদ জানিয়েছেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন সুষ্ঠু করার চেষ্টা করব। পর্যবেক্ষকদের অ্যালাউ করার চেষ্টা করব। আমরা আশা করি, আমাদের নির্বাচনটা আগের চেয়ে স্বচ্ছ হবে।’

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে যথাসম্ভব সিসি ক্যামেরা রাখার চেষ্টা করা হবে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ভালো নির্বাচন করা হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইভিএম নিয়ে রাষ্টদূতের সঙ্গে কথা হয়নি, নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিয়েও কথা হয়নি।

দলগুলোর বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যেও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ভোট হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, উনি (রাষ্ট্রদূত) চেয়েছেন নির্বাচন ফ্রি ফেয়ার হলে ভালো হয়, অংশগ্রহণমূলক হবে। শিগগিরই দলগুলোর সঙ্গেও সংলাপে বসব। অংশগ্রহণমূলক কীভাবে করা যায়, সে দিকটা আমাদের তরফ থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনা করলে একটা ওয়ে আউট হবে।’

সিইসি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হয়তো সমঝোতা হতে পারে। এটা রাজনৈতিক নেতৃত্ব বুঝবেন।

চৌদ্দগ্রামে সবজি বিক্রেতার ঝুলন্ত মরদেহ, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গুণবতীতে আতারুজ্জামান (৫০) নামে এক সবজি বিক্রেতার গাছের সাথে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার গুণবতী ইউনিয়নের ময়ূরপুর মধ্যমপাড়া বড় বাড়ীতে। পুলিশের দাবী-সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে পরিবারের দাবি-তাকে রাতে মোবাইল ফোনে কল করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে গাছের সাথে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়ূরপুর গ্রামের মৃত নজির আহমেদের ছেলে আতারুজ্জামান আতর স্থানীয় গুনবতী বাজারের সবজি ব্যবসায়ী। প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার রাতে তিনি বাজার থেকে বাড়িতে ফিরে আসেন এবং রাতের খাবার খেয়ে ঘুমোতে যান। এ সময় তার মুঠোফোনে কল আসলে বাহিরে কাজ আছে বলে ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে বাড়ীর পাশের চা দোকানে চা খেয়ে বাড়ীর দিকে ফিরে আসেন বলে জানা যায়। কিন্তু আসলে তিনি আর বাড়ী ফিরেননি। দীর্ঘক্ষণ বাড়ীতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় তিনশ’ গজ দূরে একটি আম গাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। পরদিন সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নিহতের লাশ উদ্ধার শেষে থানায় নিয়ে যায়। পরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকালে স্বজনদের লাশ হস্তান্তর করা হলে বা’দ আসর জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহতের একমাত্র ছেলে কাউছার বলেন, ‘প্রতিদিনের ন্যায় বাজার থেকে আমার বাবা বাড়িতে ফিরে আসে। এশার নামাজের সময় বাবাসহ স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় শেষে বাড়িতে গিয়ে একসাথে রাতের খাবার শেষ করি। পরে উনার মোবাইলে কল আসলে কাজ আছে বলে তিনি বাড়ির বাইরে যান। এরপর দীর্ঘক্ষণ ধরে বাসায় না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করি। পরে রাত দুইটার পর বাড়ির দক্ষিণ পাশের একটি নির্জন স্থানে আম গাছের সাথে আমার বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই। কাউছার অভিযোগ করে আরো বলেন, আমার বাবাকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা শেষে লাশ গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। আমার বাবা নামাজী মানুষ, তিনি আত্মহত্যা করতেই পারেন না। আমরা প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের বিচার দাবি করছি’।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে নিহতের ভাই নুরুজ্জামান থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত বলা যাবে’।

জামিন পেলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ

 

চান্দিনা  প্রতিনিধি :
ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগের দুই কর্মীকে গুলি করে আহত করা মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পাটি (এলডিপি) মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে বুধবার (৮ জুন) সকাল ১১টায় কুমিল্লা বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আতাব উল্লাহ রেদোয়ান আহমেদ এর অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।

আসামী পক্ষের আইনজীবী এড. আতিকুর রহমান সুমন জানান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদ দীর্ঘদিন হৃদরোগ ভূগছেন। তাঁর হৃদযন্ত্রে ৩টি রিং ও পেসমেকার বসানো রয়েছে। কারাগারে যে কোন মুহুর্তে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। ইতিমধ্যে তিনি কারাগারে অসুস্থ হয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। রেদোয়ান আহমেদ এর অসুস্থতার বিষয়টি আমরা বিজ্ঞ আদালতকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে। আদালতে আমাদের সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ড. রেদোয়ান আহমেদ এর জামিন মঞ্জুর করেন।

চান্দিনা উপজেলা এলডিপি নেতা জামশেদ আহমেদ জাকি জানান, নেতার জামিন হয়েছে। আজ বিকেলের মধ্যেই কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করতে পারেন। আমরা সকল কাগজপত্র ইতিমধ্যে প্রস্তুত করেছি।

এর আগে আরও তিনবার কুমিল্লার আদালতে জামিন আবেদন করেছিলেন ড. রেদোয়ান আহমেদ এর আইনজীবীরা।

প্রসঙ্গত, সোমবার (৯ মে) বিকাল ৪টায় চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজ ক্যাম্পাস-২ মমতাজ আহমেদ ভবন এ কলেজ ছাত্রলীগ ও পৌর এলডিপি পাল্টাপাল্টি ঈদপুনর্মিলনীর আয়োজন করেন। দুপুর ১টার পর