All posts by jitu

আচরণবিধি লঙ্ঘনে মেয়র প্রার্থী কায়সারকে ফের জরিমানা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

মিছিল এবং শোডাউনের অভিযোগে কুসিক নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রোববার বিকালে নগরীর ২৭ নাম্বার ওয়ার্ড এবং আশপাশের কয়েকটি স্থানে গণসংযোগ ও পথসভায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ওই মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে জড়ো হন। এতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এদিকে ঘোড়া প্রতীকের মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সারকে বিএনপির একক প্রার্থী মনে করে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তার গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কায়সারের পক্ষেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। এতে তার প্রতিদিনের গণসংযোগে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, আমি প্রতিদিনই দুয়েকজন কর্মী সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগে নেমে পড়ি, কিন্তু পেছন থেকে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হয়ে যান। আমি চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি কন্ট্রোলে রাখতে পারি না। তারপরও সামনের দিনে এ ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো ঘটনা যেন না ঘটে সেদিকে আমি বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখব।

কুমিল্লায় ডাকাত আতঙ্কে দুই গ্রামের মানুষের রাত কাটে পাহারায়

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার চান্দিনায় হঠাৎ বেড়েছে ডাকাতের উপদ্রব। আজ এ বাড়িতে কাল ওই বাড়িতে। আবার কখনও সড়কে। এমন ডাকাত আতঙ্কে ঘুম হারাম হয়ে গেছে উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের কুটুম্বপুর ও মীরগঞ্জ গ্রামবাসীর। পুলিশ চিহ্নিত ডাকাত এবং ডাকাতচক্রকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে না পারায় গ্রামবাসীদের পাহারায় রাত কাটাচ্ছে ওই এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত এক মাস যাবৎ চান্দিনা উপজেলার মাধাইয়া ইউনিয়নের কুটুম্বপুর, মীরগঞ্জ, পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়নের সাহারপাড়, সূর্যপুর গ্রামের গৃহডাকাতি সংগঠিত হচ্ছে। ওই চারটি গ্রাম পাশাপাশি হওয়ায় ডাকাতচক্র ২-৩ দিন পর পর ওই চারটি গ্রামে ধারাবাহিকভাবে ডাকাতি করে মালামাল লুটে নিচ্ছে। কখনো কখনো গৃহকর্তাদের ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে আহত করছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাসপাতালে এখনো মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্চা লড়ছে। ডাকাতের কবল থেকে রক্ষা পেতে ইতোমধ্যে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও সভা-সমাবেশ করে।

চান্দিনার মাধাইয়া ইউনিয়নের কুটুম্বপুর গ্রামের বাসিন্দা নাছির জানান, আমার ভাই এলাকার প্রতিষ্ঠিত গরু ব্যবসায়ী। ব্যবসার কারণে আমার ঘরে মোটামুটি টাকা রাখতে হয়। ২৯ মে রাত ২টায় ডাকাত দল ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে টাকা-পয়সা লুটে নেয়। এ সময় আমার ভাই সফিকুল ইসলাম বাঁধা দিলে তাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। আমার ভাই ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

একই গ্রামের সবুজ হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ডাকাত দল আমার ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে আমার সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে যায়।

ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুটুম্বপুর বাস স্টেশন এলাকার এক পাশে চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর, মীরগঞ্জ গ্রামে অপরপাশে দেবিদ্বার উপজেলার সাহারপাড়, সূর্যপুর ও খাদঘর গ্রামে। গত এক মাসে ওইসব এলাকায় অন্তত ৭-৮টি ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

সাহারপাড় গ্রামের বাসিন্দা তানভীর আহমেদ জানান, ২৮ জুন রাতে সাহারপাড় আক্তারুজ্জামান খন্দকার বাড়িতে ডাকাতি করে সর্বস্ব লুটে নেয় ডাকাত দল। গত এক মাসে ওই গ্রামের আরও ৩টি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গত বুধবার ডাকাতি রোধে মানববন্ধন করেছে কয়েক গ্রামের মানুষ।

এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমান জানান, সফিক এর বাড়িতে ডাকাতি নয়, ‘সেটি পূর্ব শত্রুতায় হামলা। সবুজ এর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা আমার জানা নেই। দুই গ্রামে এখন প্রতিরাত পাহারা দিচ্ছে’।

ডাকাতি যদি নাই হয় তা হলে গ্রামের মানুষ রাতে পাহারার দিচ্ছে কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ডাকাতি হলে তো কিছু নিত। সফিকের ঘর থেকে কিছু নেয়নি’।

তবে আহত সফিকুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ডাকাত দল প্রথমে আমার ভাইয়ের ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকার চেষ্টা করে। আমার ভাইয়ের চিৎকার শুনে আমি ঘরের দরজা খুলতেই ডাকাত দল আমাকে ধরে ফেলে। আমি ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করলে তারা আমাকে কুপিয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। আমার জ্ঞান ফেরার পর দেখি আমি হাসপাতালে। আমার ঘরে আমি একাই থাকি। আর ব্যবসায়িক কয়েক লাখ টাকা আমার ঘরে ছিল। ঘর থেকে কি কি লুটে নিয়েছে আমি কিছুই বলতে পারব না।

নোয়াখালীতে ইয়াবাসহ তরুণী আটক

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় ২০০ পিস ইয়াবাসহ এক তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (৬ জুন) দুপুরে আটককৃত আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে রোববার রাত ৮টার দিকে সোনাইমুড়ী পৌরসভা এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করে পুলিশ।

আটককৃত মোসাম্মৎ শাহিদা আক্তার মনি (২০) সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভানুয়াই গ্রামের আবুল কালাম জিলানীর বাড়ির মো.রুবেলের স্ত্রী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওই তরুণীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে তল্লাশী করে ২০০ পিস ইয়াবা জব্দ করে পুলিশ।

ওসি আরো জানায়, এ ঘটনায় আটককৃত আসামিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ডিপোতে আরও ৪ কনটেইনারে ক্ষতিকর কেমিক্যাল শনাক্ত

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার পর ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তা নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এখনও বেশ কয়েকটি কনটেইনার জ্বলছে। ধোঁয়া বোরোচ্ছে অর্ধশতাধিক কনটেইনার থেকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডিপোর পশ্চিম পাশে কয়েকটি কনটেইনারে আগুন জ্বলছে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের ওপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পানি ছেটাচ্ছেন।

জ্বলন্ত কনটেইনারগুলোর মধ্যে কেমিক্যাল বোঝাই কনটেইনার থাকতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। যে কারণে সতর্কতার সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন তারা। আর তাদের শঙ্কা সত্যিতেই রূপ নিল। আরো ৪টি কনটেইনারে অতি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কেমিক্যাল শনাক্ত করা হয়েছে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনা কর্মকর্তা লেফ. কর্ণেল আরিফুল ইসলাম। তবে এসব কেমিক্যাল গতকাল পাওয়া হাইড্রোজেন পার অক্সাইড নাকি অন্য কোনো দাহ্য রাসায়নিক তা নিশ্চিত করেননি তিনি। পরে ল্যাব টেস্টে তা জানানো হবে।

তিনি জানান, কনটেইনার থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক বঙ্গপোসাগরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা মুক্ত আমরা। সেনাবাহিনীর বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং টিম ড্রেনেজব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে।

এর আগে শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুন লাগে। আগুন লাগার পর রাসায়নিকের কন্টেইনারে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণ ঘটতে থাকলে বহু দূর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। অগ্নিকাণ্ড ও ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ জন হয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে মৃতের সংখ্যা ৪৬ জন। দগ্ধ ও আহত ১৬৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রাতেই শনাক্ত হওয়া নিহতদের পরিবারে জেলা প্রশাসনের সহায়তার টাকা হস্তান্তর হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সীতাকুণ্ডের ওই ডিপোর আগুন নেভাতে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে যৌথভাবে কাজ করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন, র্যাব, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট, সিপিপি ও স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা।

কুমিল্লায় কোটি টাকার ভারতীয় বাজি আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার সদর দক্ষিণের ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৯ লাখ ৪৬ হাজার ২৪ পিস ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার বাজি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ১০-বিজিবি এবং টাস্কফোর্সের সমন্বয়ের একটি টিম। যার আনুমানিক মূল্য এক কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার ৬শত টাকা।

রবিবার (৫ জুন) দুপুর আড়াইটায় নিমসা নামক এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসময় ১০-বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ ইসহাকের সার্বিক দিক নির্দেশনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ এহসান উদ্দীন এবং ১০ বিজিবির সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ পারভেজ শামীমের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বাঁচতে চান চান্দিনার যুবক প্রবাসী আউয়াল

 

চান্দিনা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার যুবক আব্দুল আউয়াল। চান্দিনা পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড হারং গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের এর ছেলে। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আব্দুল আউয়াল দ্বিতীয়। ২০০৬ সালে চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশের পর চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু অস্বচ্ছল পরিবারে স্বচ্ছলতার চাকা ঘুড়াতে ২০০৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষার পূর্ব মুহুর্তে কর্মের তাগিদে দুবাই পাড়ি জমান তিনি। সেখানে দৈনিক শ্রমিকের কাজ করে যা উপার্জন হতো তাতেই চলছিল তার পরিবার।

উপার্জিত টাকায় ধারের টাকা পরিশোধ, সংসারের ঘানি টানার পাশাপাশি বিয়ে দিয়েছেন দুই বোন ও এক ভাইকে। দুবাই কর্মরত অবস্থায় পরিচয় ঘটে বাংলাদেশ অপর এক প্রবাসীর সাথে। তার হাত ধরে উচ্চ আশায় জীবন ঝুঁকি নিয়ে নৌ-পথে পাড়ি জমান ইউরোপের দেশ গ্রীসে। সেখানে কঠোর ত্যাগ স্বীকার করে মাটি কামড়ে আকড়ে ধরেন তিনি। অবশেষে ২০২১ সালের শেষ দিকে গ্রীসের নাগরিকত্ব মিলে বাঙ্গালী যুবক আব্দুল আউয়ালের। গ্রীসের নাগরিকত্ব নিয়ে ২০২২ সালের জানুয়ারীতে চলে যানে পর্তুগালে।

এদিকে, কঠোর পরিশ্রম সহ্য করে ইউরোপে থাকার নিশ্চয়তা হলেও শারীরিক অসুস্থতায় পৃথিবীতে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা দিনে দিনে হ্রাস পেতে থাকে ওই উদ্যোমী যুবকের। অকেজো হয়ে গেছে তার দেহের অন্যতম চালিকা শক্তি দুইটি ‘কিডনি’। গ্রীস ও পর্তুগালের চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত ডায়ালাইসিস করে বেঁচে আছেন কোন রকম। পর্তুগালে প্রবেশের মাত্র দুইমাস পর নিরুপায় হয়ে চলে আসেন নিজ মাতৃভূমি বাংলাদেশের গ্রামের বাড়িতে। এখন সপ্তাহে তিন দিন দুইটি কিডনি ডায়ালাইসিস করে চলছেন মৃত্যুপথ যাত্রী আউয়াল।

ইউরোপের বাসিন্দা হওয়ার চিন্তায় মগ্ন থেকে ৩১ বছর বয়সেও ঘর বাঁধেনি এই জীবনযোদ্ধা। কিন্তু তার শরীরে বাঁসা বেঁধেছে মারাত্মক ব্যধি। প্রবাসে গিয়ে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনলেও এখন অর্থের বিনিময়েও পাচ্ছেন না নিজে বেঁচে থাকার জন্য একটি কিডনি।

আব্দুল আউয়াল জানান, যদি ‘ও’ পজেটিভ রক্ত গ্রুপের কোন সহৃদয়বান ব্যক্তি আমার বেঁচে থাকার স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেন তার অস্বচ্ছলতা দূর করতে আমিও সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। আমি বাঁচতে চাই। আমি দয়াবান একজন ব্যক্তির সহায়তা চাই।

তিতাসে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে কিশোর গ্যাং

 

মোঃ জুয়েল রানা, তিতাসঃ

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কদমতলী গ্রামের কিশোর গ্যাং ওমরসানী ও তার সঙ্গপাঙ্গরা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক যুবককে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার আনুমানিক রাত ১০টার দিকে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়ন কদমতলী গ্রামের আহত শাহীন শরিফের বাড়িতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়ন রতনপুর মসজিদের সামনে ঝাল মুড়ি দোকানে বসে থাকা শাহীন শরীফ একই গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে কিশোর ওমর সানীকে ডেকে বলে, গাছের ছোট ছোট পেয়ারা গুলো কেন ছিড়েছো? আর ছিড়বানা পরে কিশোর বলে আমি ছিঁড়ি নাই। তখন কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কিশোর ওমর সানি বাড়ীতে চলে যায় এবং শাহীন শরীফও বাড়ীতে চলে যায়। কিছুক্ষন পরেই কিশোর গ্যাং ওমর সানি ও তার সঙ্গপাঙ্গ নিয়ে শাহীন শরীফের বাড়ীতে গিয়ে ঘরে ঢুকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে শাহীন শরীফকে গুরতর আহত করে। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করেন।

এলাকাবাসী জানান, কিশোর গ্যাং ওমরসানী ও তার সঙ্গপাঙ্গ পূর্বেও বিচারশালীসসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার হট্টগোলের সৃষ্টি করেছে।

ওই গ্রামের একাধিক বাসিন্দা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আর্কষণ করে বলেন, এখনই যদি কিশোর গ্যাং ওমরসানীসহ তার সঙ্গপাঙ্গদের প্রতিরোধ করা না হয় তাহলে তারা আরো বড় ধরনের সহিংসতা ঘটাতে পারে।

ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্সরে মেশিন বিকল, ওটিতে তালা

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লা জেলার ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসাস্থল ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে চিকিৎসক থাকলেও নেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অপারেশনের যন্ত্রপাতি। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে।

সার্জারি, গাইনী ও এনেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ কনসালটেন্ট থাকলেও এক্সরে মেশিন ও অপারেশনের যন্ত্রপাতি না থাকায় বন্ধ রয়েছে অপারেশন কার্যক্রম। অপারেশন থিয়েটার চালুসহ সব ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাসেবার একমাত্র এক্সরে মেশিনটি এক বছরের বেশি সময় ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে।ফলে দিনের পর দিন এসব চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা।

চিকিৎসা নিতে আসা করিম মিয়া নামে স্থানীয় একজন বলেন, আমাদের মতো গরিব মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল। এখানে এলে ওষুধ ছাড়া কিছুই মিলে না।

সকিনা বেগম নামে একজন বলেন, এখানে অপারেশন থিয়েটার আছে কিন্তু অপারেশন হয় না। আমাদের খুব দ্রুত অপারেশন কার্যক্রম চালু করা হোক। কারণ বাইরে অপারেশন করতে গেলে আমাদের দ্বিগুণ খরচ করতে হয়।

স্থানিয় এক ব্যক্তি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ আসেন। এখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক অপারেশন করা যায় না। আমরা বার বার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। কোন লাভ হয়নি।

ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আবু হাসনাত মোঃ মহিউদ্দিন (মবিন) বলেন, আমাদের অপারেশন থিয়েটার আছে। তবে যন্ত্রপাতি না থাকায় অপারেশন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারছি না। আমি এ বিষয়ে সিভিল সার্জনের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি খুব দ্রুত ওটি চালু করা সম্ভব হবে। এক্সরে মেশিন নষ্ট হওয়ায় সেটারও চাহিদাপত্র আমরা পাঠিয়েছি। নতুন মেশিন আসবে। আশা করি খুব দ্রুত সমস্যা সমাধান হবে ইনশাআল্লাহ।

লেখক- মোঃ আবদুল আউয়াল সরকার

চৌদ্দগ্রামে স্বামীর গলা কেটে হত্যার অভিযোগ স্ত্রীর বিরুদ্ধে

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামী শুক্কুর আলীকে (৪৮) গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহতের স্ত্রী ও ছেলেকে হেফাজতে নিয়েছে।

রোববার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের গজারিয়া পূর্বপাড়া ভূঁইয়া বাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শুক্কুর আলীর বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। তিনি গজারিয়া গ্রামে জায়গা কিনে বাড়ি করে বসবাস করে আসছেন। তাদের ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, স্ত্রী খোদেজা আক্তার শিল্পীর সঙ্গে প্রায়ই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শুক্কুর আলীর ঝগড়া ও মারামারি হতো। রোববার দুপুরে হঠাৎ করে তাদের ঘর থেকে চিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তাদের শৌচাগারে শুক্কুরের গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। এসময় শিল্পী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খবর দেয়। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সেইসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিল্পী ও ছেলে শাহিনকে থানায় নেওয়া হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাহাব উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি শুক্কুরের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে আছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারলাম, স্বামী-স্ত্রী নাকি প্রায়ই ঝগড়া করতো। শুক্কুরের মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তার স্ত্রী শিল্পী জানায়, শেভ করতে গিয়ে ব্লেডে গলা কেটে শুক্কুর আলীর মৃত্যু হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শুক্কুর আলীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও ছেলেকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড।

শিক্ষার হার বৃদ্ধি করে বেকারত্ব দূরীকরণ করাই আমার লক্ষ্যই- কাউন্সিলর প্রার্থী তাহমিনা আক্তার

বিশেষ প্রতিবেদন:
শিক্ষার হার বৃদ্ধি করে বেকারত্ব দূরীকরণ, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, যানজট নিরসন, মশার উপদ্রব হ্রাসকরণ, নারীদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে আমি কাজ করবো। দৈনিক আজকের কুমিল্লা’র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে ১৯,২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থী তাহমিনা আক্তার লিন্ডা (চশমা) এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু।

(শিক্ষাজীবন: তাহমিনা আক্তার লিন্ডা ২০০৬ সালে আওয়ার লেডি অব ফাতেমা হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে ফার্মেসি বিষয়ে  স্নাতক পাশ করেন। পরে লন্ডনে যান । সেখানে ফার্মেসিতে মাস্টার্স পাশ করেন।)

সাক্ষাৎকারটি দৈনিক আজকের কুমিল্লার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।

প্রশ্ন: লন্ডনে ছিলেন অনেক বছর। দেশে ফিরলেন । দেশে ফিরেছেন মাতৃভূমির টানে নাকি নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ? আর আপনি কেন নির্বাচন করতে চান ?
তাহমিনা আক্তার লিন্ডা: মাতৃভূমির প্রতি সবারই ভালবাসা কাজ করে। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। বিদেশে পড়ালেখা করে দেশে ফিরেছি একটা উদ্দেশ্য নিয়ে। সেইটা হল- মানবিক কর্মকান্ডে নিজেকে উৎসর্গ করা, দেশের মানুষের জন্য ইতিবাচক কিছু করার জন্য। অসহায় মানুষের জন্য মঙ্গলকর কিছু করার মধ্যে আনন্দ ও আত্মতৃপ্তি দুটোই রয়েছে। আমি তা বেশ উপভোগ করি। দেশি ফিরেছি মাতৃভূমির টানে, দেশের মানুষের জন্য কিছু করার উদ্দেশ্য নিয়ে। দেশে ফিরে চেষ্টা করেছি মানুষের জন্য কিছু করতে। আর নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি, কারণ জনপ্রতিনিধি হতে পারলে মানুষের সেবা করার সুযোগটা বেশি থাকে। জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পায়। মূলত জনসেবা করার জন্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা।

প্রশ্ন: আপনার সংরক্ষিত তিন ওয়ার্ডে মাদক, ছিনতাই-চাদাঁবাজি, ভঙ্গুর ড্রেনেজসহ নানা সমস্যা বিরাজমান। নির্বাচিত হলে এগুলোর সমাধান কিভাবে করবেন ? কোন কাজটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করবেন ?
তাহমিনা আক্তার লিন্ডা: দেখেন বেশিরভাগ সমস্যার মূলে রয়েছে অভাব-অনটন, নিম্à