All posts by jitu

শহীদ মিনারের বেদিতে জুতা পায়ে এরা কারা? দেশীয় দুই ইলেকট্রনিক কোম্পানির বিরুদ্ধে ‘প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানোর উদ্দেশ্যে!

স্টাফ রিপোর্টার:

শহীদ মিনারের বেদিতে জুতা পায়ে এরা কারা? দেশীয় দুই ইলেকট্রনিক কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বা অপপ্রচারের অভিযোগ নামে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ২৫ নভেম্বর বেলা ১২টা থেকে ১টার মধ্যে একদল লোককে মূল বেদির ওপর জুতা পায়ে অবস্থান করতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দেকোশীয় দুই ইলেকট্রনিক ম্পানির বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা সেখানে জড়ো হয়েছিল, বেশীর ভাগ লোকজনকেই নেশা গ্রস্ত বা মাদক সেবী ভাড়াটে লোক মনে হচ্ছিল। একজন গণমাধ্যম কর্মী তাদের জুতা পায়ে বেদীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে এক সাংবাদিককে বাধা দেন, গালাগাল করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুললে তারা ওই সাংবাদিককে হুমকি প্রদান করেন এবং ভিডিও করা থেকে বিরত থাকতে চাপ দেন। শহীদ মিনারের মতো সংবেদনশীল স্থানে জুতা পায়ে ওঠার কারণ জানতে চাইলে ওই দলটি উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিভিন্ন দল বা সংগঠন প্রায়ই শহীদ মিনারে সমাবেশ, মানববন্ধন কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মসূচি করে থাকে,শহীদ মিনার প্রতিবাদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। তবে মূল বেদিতে জুতা পায়ে ওঠা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।এটা অপরাধ ও শহীদের অবমাননা।

তারা জানান, শহীদ মিনার শুধু একটি স্থাপনা নয়; ভাষা আন্দোলন ও আমাদের জাতিসত্তার প্রতীক। এখানে জুতা পায়ে ওঠা শুধু নিয়ম ভঙ্গ নয়-এটা অপমান। কর্তৃপক্ষের উচিত ঘটনাটির তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

বুড়িচংয়ে সীমান্ত থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্ট পাঁচ পিলার থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছেন বিজিবির সদস্যরা।

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সীমান্তের জামতলা-কালিকৃষ্ণনগর পাঁচ পিলার থেকে লাশটি উদ্ধার করে বিজিবি। পরে পুলিশে খবর দিলে তারা এসে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যায়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ওই ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যায়নি।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানায়, দুপুরে বিজিবির কাছ থেকে খবর পেয়ে অজ্ঞাতপরিচয় লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানায়, এই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৫০ হবে। দুই-তিনদিন ধরে এই ব্যক্তিকে ঘটনাস্থল এলাকায় ঘুরতে দেখেছেন। কিভাবে মারা গেছে কেউ বলতে পারেনি। লাশের গায়ে কোনো ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনি একজন ভবঘুরে।

শংকুচাই ক্যাম্পের বিওপির বিজিবি সুবেদার আব্দুর রাজ্জাক জানায়, পাঁচ পিলার একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বুড়িচং থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।

এ বিষয়ে ওসি শাহিনুল ইসলাম জানায়, আমরা বিজিবির কাছ থেকে একটা অজ্ঞাতপরিচয় লাশ পেয়েছি।

লাশটিকে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। লাশের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। লাশের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ জানতে মাঠে পিবিআই, পুলিশ ও বিজিবি কাজ করছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর সঠিক কারণ জানা যাবে।

কুমিল্লায় আনোয়ার হত্যা মামলায় ২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ৫ জনকে যাবজ্জীবন

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আনোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় দুইজনকে মৃত্যু দণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আরও পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক সাবরিনা নার্গিস এ রায় প্রদান করেন।

মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, চৌদ্দগ্রাম থানার দেড়কোটা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে জিয়া উল্লাহ ওরফে জিয়া ও একই গ্রামের ইয়াকুব মিয়ার ছেলে জুয়েল রানা ওরফে জুয়েল। এছাড়া যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- চৌদ্দগ্রামের দেড়কোটা গ্রামের ক্বারি ফজলুল হক, আজাদ রহমান, আবদুল কাদের, কবির আহমেদ ও ফেলনা গ্রামের সাদ্দাম হোসেন। রায় ঘোষণাকালে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি কবির আহমেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং অপর ছয় আসামি পলাতক রয়েছেন।

জানা যায়, ২০১৩ সালের ২২ এপ্রিল সন্ধ্যায় পূর্ব বিরোধের জের ধরে জিয়া উল্লাহ ওরফে জিয়া ও তার সহযোগীরা আনোয়ার হোসেনের দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে বাধা দিলে তারা আনোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে তাকে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার সৃত্যু হয়।

পরদিন ২৩ এপ্রিল এ ঘটনায় নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ২৬ আগস্ট জেলা ডিবির এসআই জিল্লুর রহমান আদালতের নির্দেশে ১৯ জনের বিরুদ্ধে পুনরায় চার্জশিট দাখিল করেন। এ মামলায় ২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক সাবরিনা নার্গিস দুইজনকে মৃত্যু দণ্ডাদেশ এবং অপর পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া মামলার চার্জশিটভুক্ত ১২ জন আসামিকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

লাকসামে রেললাইনের পাশ থেকে তরুণের লাশ উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

লাকসাম পৌরশহরের গন্ডামারা এলাকার জবাইখানা সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পাশ থেকে মঙ্গলবার লাকসাম রেলওয়ে থানা পুলিশ মহিউদ্দিন অন্তর(১৮) নামে এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে। উদ্ধার মরদেহটি উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের নুরুন্নবীর ছেলের বলে জানা যায়।

লাকসাম রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ওসি জসিম উদ্দিন মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করন।

রেলওয়ে থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন রেললাইনের পাশে এক তরুণের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পুলিশকে সংবাদ দেন।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই তরুণকে দুর্বৃত্তরা হত্যার পর রেললাইনের পাশে ফেলে গেছে।

নিহত অন্তরের মা মরিয়ম বেগম জানায়, তার স্বামী ছোট্ট অন্তরসহ দুই সন্তান রেখে তাকে ছেড়ে চলে যান। ওই সময় তিনি বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে ঝির কাজ করে দুই সন্তানকে লালন-পালন করেন।

একপর্যায়ে তিনিও অন্যত্র বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে তার ছয় বছরের একটি সন্তান রয়েছে। কয়েক বছর পর ওই স্বামীও মারা যান। এদিকে অন্তর বড় হতে থাকে। সে বাইরে বাইরে থাকে। মায়ের কাছে থাকে না। অনেকটা বাউন্ডুলে। জীবিকার সন্ধানে অন্যান্য তরুণদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থান থেকে স্ক্রাব সংগ্রহ করে বিক্রি করে।

তিনি আরো জানায়, রেললাইনের পাশে এক তরুণের মরদেহ পড়ে আছে শুনে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং তার ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেন।

তিনি তার ছেলের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

লাকসাম রেলওয়ে থানার (জিআরপি) ওসি জসিম উদ্দিন জানান, উদ্ধার মরদেহের মুখমণ্ডল, মাথাসহ শরীরে একাধিক স্থানে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাকসাম রেলওয়ে থানা সাধারণ ডায়েরি মূলে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মেঘনা সাব-রেজিস্টার অফিসে আবারও সাপের আতঙ্ক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা সাব-রেজিস্টার অস্থায়ী অফিসে আজ সকাল ৮টায় স্থানীয় সাপুড়েরা ২টি বড় বিষধর সাপ ও ১১টি সাপের বাচ্চা উদ্ধার করেছে। গত ৩ দিন ধরে সাপের উপস্থিতির কারণে দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

অফিসের পাশেই গরুর খামার, আশপাশে জলা ও ঝোপঝাড় থাকায় নিয়মিত সাপ ঢুকে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সেবা নিতে আসা মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন।

এলাকাবাসী দ্রুত অফিসটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। তবে মানিকার চর ইউনিয়নের বাসিন্দারা কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অফিসটি স্থানান্তরের স্বরযন্ত্র মনে করছেন। ২৩ সালের দিকে এ অফিস নিয়ে ঝাড়ু মিছিল করেছে মানিকার চর ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে নারী দর্শনার্থীর কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের আরপি চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনরত এক মহিলারক্ষীর সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এক নারী দর্শনার্থীর দেহ তল্লাশি করে গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্দেহভাজন ওই নারী কারাগারে বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন বলে জানা গেছে।

দেহ তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা উদ্ধার হওয়ার পর ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত অভিযুক্ত নারীকে ১৫ দিন বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা জরিমানা প্রদান করেন।

কারাগার সূত্র জানায়, কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধ দ্রব্য পাচার বা বহনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শৃঙ্খলা রক্ষা ও আইন প্রয়োগে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে এবং ভবিষ্যতেও কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

কারা কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরাপদ সমাজ গড়তে সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

হাজীগঞ্জে সড়কে বিচ্ছিন্ন হাত রেখে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয় কিশোর

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ কৈয়ারপুল নামক স্থানে ঘটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রিহান খাঁন নামে এক কিশোরের বাম হাত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকালে চাঁদপুরের বহরিয়া এলাকার হোসেন খানের ছেলে সিএনজি যোগে যাওয়ার পথে হাত বাহিরে রাখলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, এদিন শিশুটি তার দাদি মমিনা খাতুনের সাথে সিএনজিচালিত একটি স্কুটারযোগে চাঁদপুর থেকে হাজীগঞ্জের দিকে আসছিলেন। পথে কৈয়ারপুল এলাকায় অজ্ঞাত গাড়ি চাপায় শিশুটির বাম হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে সড়কে পড়ে যায়। তাৎক্ষণিক বিচ্ছিন্ন হাতের দিকে না তাকিয়ে দাদী শিশুটিকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় এক যুবক ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ কৈয়ারপুল এলাকা থেকে শিশুটির বিচ্ছিন্ন হাত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান বলেন, শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। যাতে করে তার বিচ্ছিন্ন হাতটি জোড়া দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এসময় তিনি শিশুটি আশঙ্কামুক্ত বলে জানান।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুক জানান, বিচ্ছিন্ন হাত উদ্ধারের খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তথ্য নেই। পরে ঘটনাস্থল থেকে হাতটি উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, শিশুটির পরিবারের সিদ্ধান্তমতে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঢাকায় সমাবেশ ও মানববন্ধন

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে ‘কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা (সিজেএফডি)’।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র সভাপতি সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম. মোশাররফ হোসাইনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ইকবাল হোসেন মজুমদার, বৃহত্তর কুমিল্লা বনশ্রী-আফতাবনগর সমিতির সভাপতি এনামুল হক বাবলু, নাঙ্গলকোট উন্নয়ন ঐক্য ফোরামের সভাপতি মাইনুল হক বাবলু, ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন—সিজেএফডি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুর রহমান খোকন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডিইউজে’র যুগ্ম-সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার, সহ-সভাপতি এম এস দোহা, ডিইউজে’র অর্থ সম্পাদক খন্দকার আলমগীর হোসেন, ডিআরইউ’র সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক মঈনুল আহসান, সিজেএফডি’র যুগ্ম-সম্পাদক সালাহ উদ্দিন জসিম, অর্থ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন দরবেশ, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম, সাবেক অর্থ সম্পাদক সায়ীদ আবদুল মালিক, জনকল্যাণ সম্পাদক জহির আলম সিকদার, প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক এ এফ এম রাসেল পাটোয়ারী, তথ্য-প্রযুক্তি সম্পাদক আহমেদ আজম ও নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ মাসুদ এবং হালিম মোহাম্মদ, নার্গিস জুঁই, ড. শাহজাহান মজুমদার, মাহবুব মোর্শেদ, রানা চৌধুরী, শাহজালাল উজ্জল, গোলাম মোস্তফা রবি, ইমাম হোসেন ইমন, নুরুল ইসলাম খান মামুন, মঈন উদ্দিন শাহীন, আকাশ খান এবং মেরি আক্তার।

এছাড়াও সমাবেশে কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র সদস্য, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

চান্দিনায় ছিনতাইকারী সন্দেহে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চান্দিনায় ছিনতাইকারী সন্দেহে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে মো. মুছা নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে রোববার (২৩ নভেম্বর) মধ্যরাতে উপজেলার বরকরই ইউনিয়নের চাঁদসার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. মুছা (২৬) একই ইউনিয়নের কাদুটি গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদসার গ্রামের ময়নাল হোসেন কাদুটি বাজারে মোবাইল ফোনের ব্যবসা করেন। প্রায় ১০/১২ দিন আগে ময়নাল বাজার থেকে বাড়ি যাওয়ার সময় পথিমধ্যে ছিনতাইকারীরা আক্রমণ করে নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা ও কয়েকটি মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। ওই ঘটনায় ময়নাল মুছাকে সন্দেহ করে। মুছাও ৮/১০দিন বাড়িতে না থাকায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। রোববার রাতে মুছা বাড়িতে আসলে তার বাড়ির লোকজন ময়নালকে খবর দেয়। রাত অনুমান সাড়ে ১২টায় ময়নাল, তোফাজ্জলসহ আরও কয়েকজন এসে মুছাকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।

ব্যবসায়ী ময়নাল হোসেনের চাচাতো ভাই ইউপি সদস্য সামির হোসেন বলেন, গত ১০/১২ দিন আগে ময়নালকে রাতের অন্ধকারে আটক করে সংঘবদ্ধ একটি ছিনতাইকারী চক্র। এ সময় ময়নালকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে তার নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

মুছাকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, এ সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। শুনেছি মুছার বাড়ির লোকজনই ময়নালদের ফোন করে খবর দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে।

চান্দিনা থানার ওসি জাবেদ উল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে প্রাথমিকভাবে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আটকদের নাম ও পরিচয় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চৌদ্দগ্রামে স্মার্টফোন ফেরত দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন অটোরিকশা চালক শাহাদাত

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গাড়িতে পাওয়া স্মার্টফোন প্রকৃত মালিককে ফেরত দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন অটোরিকশা চালক মোহাম্মদ শাহাদাত হাসান শরীফ। সোমবার স্মার্টফোন ফেয়ার দেয়ার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম।

জানা গেছে, শাহাদাত হাসান শরীফ রোববার সকালে অটোরিকশা নিয়ে মরকটা রাস্তার মাথা থেকে কনকাপৈত বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা করে। পথিমধ্যে কয়েকজন যাত্রী তাঁর অটোরিকশায় উঠে। তারাশাইল বাজারে এক যাত্রী নেমে যাওয়ার পর অটোরিকশায় থাকা অন্য এক যাত্রী সিটে একটি স্মার্টফোন দেখতে পান। শাহাদাত ধারণা করেন, স্মার্টফোনটি গাড়ি থেকে নেমে যাওয়া ওই যাত্রীর। গাড়িতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে শুরু হয় আলোচনা। সবাই সিদ্ধান্ত নেয়, স্মার্টফোনটি কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে জমা দেওয়া হবে।

পরবর্তীতে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকৃত মালিককে স্মার্টফোনটি ফিরিয়ে দেয়া যাবে। স্মার্টফোনটি পুলিশের কাছে জমা দেয়ার কিছুক্ষণ পর কল আসে। কল রিসিভ করে পুলিশ পরিচয় জানতে চাইলে অপরপ্রান্তে থাকা ইব্রাহিম খলিল কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায় স্মার্টফোনটি তার। তিনি প্রবাসী এবং তারাশাইল বাজারে অটোরিকশা থেকে নামার সময় ভুলে সেটি রেখে নেমে যান।

এরপর কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই শাহজালাল তাকে উপস্থিত হওয়ার অনুরোধ জানান। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম স্মার্টফোনটি প্রকৃত মালিক ইব্রাহিম খলিলের হাতে ফিরিয়ে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এএসআই শাহজালাল, এএসআই মোজাম্মেল ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। স্মার্টফোন ফেরত দেয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাধ্যমে নেটিজেনদের প্রশংসায় ভাসছেন অটোরিকশা চালক শাহাদাত হোসেন।

স্মার্টফোনটি ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘অটোরিকশা থেকে নেমে ভাড়া দেওয়ার সময় স্মার্টফোনটি ভুলে রেখে যাই। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ফোন দিলে জানতে পারি মোবাইলটি পুলিশ ফাঁড়িতে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রথমে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি, তারপর চালক শাহাদাতসহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই’।

অটোরিকশা চালক দৌলতপুর গ্রামের শাহাদাত হোসেন শরীফ বলেন, ‘স্মার্টফোনটি আমার নয়, এটা অন্যের হক। এটি নিজের কাছে রাখলে পরকালে জবাবদিহি করতে হবে। বিবেকের তাড়নায় স্মার্টফোনটি ফেরত দিয়েছি’।

স্মার্টফোন হস্তান্তরকালে উপস্থিত চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এম এ আলম বলেন, ‘দরিদ্র মানুষগুলো এখনও সৎভাবে জীবনযাপন করে, শাহাদাতই এর প্রমাণ। দেশের বড় বড় পদে থাকা অনেক কর্মকর্তারও তার কাছ থেকে শেখার আছে। সমাজে শাহাদাতের মতো মানুষ থাকলে সমাজ আরও সুন্দর হবে’।

কনকাপৈত পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘অটোরিকশা চালক শাহাদাত হোসেন সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সমাজে নতুন করে আশার আলো জ¦ালিয়েছে। গাড়িতে পাওয়া একটি স্মার্টফোন মালিকের কাছে ফেরত দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন, মানুষ দরিদ্র হতে পারে, কিন্তু সততা কখনো দরিদ্র হয় না।