All posts by jitu

গণতন্ত্রের গাড়ি সঠিক পথে, ফ্যাসিস্টের ষড়যন্ত্র রুখে দেশ ঘুরে দাঁড়াবে: রফিকুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার:

গণতন্ত্রের গাড়ি সঠিক পথে এগিয়ে চললেও দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে গুপ্ত ও ফ্যাসিস্ট শক্তির ষড়যন্ত্র এখনো বন্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব ও সম্মিলিত পেশাজীবী নেতা রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিচক্ষণতা ও দক্ষ নেতৃত্বে দেশ যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাতে দেশবিরোধী শক্তির সব কূটকৌশল রুখে দিয়ে বাংলাদেশ অচিরেই ঘুরে দাঁড়াবে।

শনিবার (২২ আগস্ট ) বিকেল ৪টায় কুমিল্লা নজরুল ইনস্টিটিউটে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট, কুমিল্লা জেলা কমিটি আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের উত্তরসূরি জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশ ও জাতির স্বার্থে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে শহীদ জিয়ার আদর্শে বিশ্বাসী জাতীয়তাবাদী চেতনার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রত্যয়ে কুমিল্লার সংস্কৃতিকর্মীরা জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে দেশের সংস্কৃতি ও জাতীয় মূল্যবোধ রক্ষায় সাংস্কৃতিক কর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট, কুমিল্লা জেলা কমিটির সভাপতি জামিল আহমেদ খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিনিধি সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ড. শাহ মো. সেলিম।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম,বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শেখ ফরিদ উদ্দিন, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল করিম মিঠু, ড. জে. এন. লিলি এবং জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
সভায় কুমিল্লার বিভিন্ন পর্যায়ের সংস্কৃতিকর্মী ও জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় কুমিল্লা জেলা শাখা জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট গঠিত হয়েছে জনাব জামিল আহমেদ খন্দকারকে আহ্বায়ক করে। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম মিলন, অধ্যক্ষ ইমদাদুল হক, নারী নেত্রী শাহানা হক ও এস এম মিজান। সদস্য সচিব মো. বোরহান উদ্দিন এবং সমন্বয়ক মো. নাছির উদ্দিন।

একই সঙ্গে কুমিল্লা মহানগর শাখা জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোট গঠিত হয়েছে ড. জে. এন. লিলিকে আহ্বায়ক করে। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. শাহাদাত হোসেন, প্রকৌশলী মোর্শেদ আলম, অ্যাডভোকেট মো. রেজাউল করিম মিঠু ও কোহিনুর আক্তার কাকলী। সদস্য সচিব মাহবুবুল আলম চপল এবং সমন্বয়ক শারমিন আক্তার প্রিয়া।

মুরাদনগরে আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদারি নিয়ে প্রশ্ন, জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার:

গত ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলটির স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতা-কর্মী আত্মগোপনে থাকলেও কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের এক নেতাকে প্রকাশ্যেই ঠিকাদারি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে, এমন অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য ও আছাদরগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং রাজপথের মিছিলেও আওয়ামীলীগের পক্ষে অংশ নিয়েছিলেন। তবে সরকার পতনের পরও তার ঠিকাদারি কার্যক্রমে কোনো ছেদ পড়েনি বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, আছাদরগর এলাকার করিম বর্তমানে একের পর এক রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ করছেন। এ অবস্থায় জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে তার কথিত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে তিনি এখনো সরকারি বা স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন উন্নয়নকাজের ঠিকাদারি করছেন, তা নিয়ে এলাকায় সমালোচনা ও ক্ষোভ রয়েছে।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বদিউল আলম মুন্সী। তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আব্দুল করিমের ঠিকাদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।

কালাডোমর এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জুলাই আন্দোলনের সময় যারা ছাত্রদের বিরুদ্ধে ছিলেন, তারা এখনো কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং ঠিকাদারি কাজ করছেন—এটি আমাদের কাছে বিস্ময়কর।”

স্থানীয়দের দাবি, আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও তাদের বিরোধিতা করার অভিযোগের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমানে কোন প্রক্রিয়ায় রাস্তা ও কালভার্টের কাজ পাচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার ঠিকাদারি কার্যক্রমের বৈধতা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ নিয়ে লাজৈর, দৈয়ারা, গ্রান্দ্রা, তেলুয়া মাইনকার একাধিক স্থানীয় পর্যায়ের বিএনপি ও এনসিপির নেতা কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, করিমকে অত্র ইউনিয়নের কিছু বিএনপির নেতা আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। আর এ কারনেই করিম একক প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক কাজ ঠিকাদারি করে যাচ্ছেন। তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন প্রশাসন যেন তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।

তবে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার মুঠোফোন নাম্বারে একাধিক কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও ) সাকিব হাছান খান (সহকারী কমিশনার ভূমি) বলেন, এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিলো না। আমরা যেহেতু জেনেছি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো যথাযথভাবে যাচাই না করে কীভাবে উন্নয়নকাজের ঠিকাদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকে? বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

কুমিল্লায় গৃহবধূ হত্যায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে এ মামলার অপর আসামি নিহতের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টায় কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ চতুর্থ আদালতের বিচারক মো. শামছুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিহত মরিয়ম বেগমের শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর মো. নিজাম উদ্দিন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়- ২০০৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের জেরে নাঙ্গলকোট উপজেলার ছফুয়া গ্রামের গৃহবধূ মরিয়ম বেগমকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় পরদিন নিহতের বাবা মো. সোলেমান বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিন, শ্বশুর আবদুল মমিন, দেবর নিজাম উদ্দিন ও শাশুড়ি ফাতেমা বেগমকে আসামি করা হয়।

মামলার তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলার নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।

রায়ে শ্বশুর আবদুল মমিন, শাশুড়ি ফাতেমা বেগম ও দেবর মো. নিজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই মামলায় মরিয়মের স্বামী আবদুল মতিনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মো. ইকরাম হোসেন এবং নিহতের স্বজনরা সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর এ রায়ের মাধ্যমে মরিয়মের হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রির নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশের সব জেলা ইউনিটের ডিলারদের নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) এর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন।

বর্তমান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সারের সংকটে বিএফএর করনীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে আগামীর সময়ের প্রতিবেদক কে বিএফএর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন জানান, বিসিআইসির সকল ডিলার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ জমা, সার উত্তোলন ও গুদামে মজুত নিশ্চিত এবং প্রকৃত কৃষকের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সারের আগমনি বার্তা জানানো, বিক্রয় রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি ঠেকাতে নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা লঙ্ঘন করলে ডিলারশিপ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে-বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিএফএ।

তিনি আরও বলেন, কোনো কুচক্রীমহল অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করে যেন তার দায় ডিলারদের ওপর চাপিয়ে দিতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় কৃষি অফিস ও প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখে সরকারি সকল নির্দেশনা মেনে নেয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সার ডিলার এসোসিয়েশনের সভাপতি মোশাররফ হোসেন।

বাংলাদেশে আরো ৪ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করা হবে: শিক্ষা মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে কারিগরী ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ এর বিকল্প নেই।

এ লক্ষ্যে সরকার দেশে আরো ৪ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করতে যাচ্ছে।

আজ ধানমন্ডির ড্যাফোডিল প্লাজা মিলনায়তনে ” এ ন্যাশনল ডায়ালগ অন টি ভি ই টি ফর এ স্কিল্ড এন্ড প্রোডাকটিভ বাংলাদেশ”” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমাদেরকে শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষা গ্রহণের ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। উন্নত বাংলাদেশ গড়তে কারিগরি শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানব সম্পদে পরিণত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এজন্য কারিগরি শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে আমরা কাজ করছি।

এ সময় তিনি আরো বলেন, সারা বিশ্বে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ব্যক্তিদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। প্রবাসী কর্মীরা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। তাদেরকে যদি আমরা দক্ষ করে বিদেশে পাঠাতে পারি তাহলে আমাদের অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে। এজন্য কারিগরি শিক্ষায় অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। ‌ এ লক্ষ্যে আমরা বাংলাদেশে আরো ৪ টি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন করতে যাচ্ছি।

এছাড়াও, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে আমরা একটি মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য আলাদা একটা প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মোঃ দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মোঃ সবুর খান অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সিসিএন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. মোঃ তরিকুল ইসলাম চৌধুরী স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

দাউদকান্দিতে বাস উল্টে ১৫ জন আহত, দীর্ঘ যানজট

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর পূর্ব পেন্নাই ইউটার্ন-সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিডিএম পরিবহনের একটি বাস সড়কের মাঝে উল্টে যায়। এতে বাসের কমপক্ষে ১৫ জন যাত্রী মারাত্মাকভাবে আহত হয়েছেন।

আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ দুর্ঘটনায় মহাসড়কের মালিখিল থেকে গৌরীপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সিডিএম পরিবহনের ওই বাসটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল। মহাসড়কের গৌরীপুর পূর্ব পেন্নাই ইউটার্ন এলাকায় পৌঁছালে চালকের অসচেতনতার কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের ওপর উল্টে যায়।

দুর্ঘটনার পর হাইওয়ে পুলিশ ও গৌরীপুর ফাঁড়ির পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে বাসের যাত্রী ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা আহতদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় আনুমানিক ১০/১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো যাত্রীর আশঙ্কাজনক অবস্থার খবর পাওয়া যায়নি। পরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

গৌরীপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় ১০/১৫ যাত্রী আহত হলেও কেউ নিহত হননি। দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে গৌরীপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

কুমিল্লায় ফিশারি থেকে নিখোঁজ বাকপ্রতিবন্ধী যুবকের লাশ উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে লালমাই উপজেলার চেঙ্গাহাটা বাজার সংলগ্ন একটি মাছের ফিশারি থেকে তনন হোসেন (২৬) নামের এক নিখোঁজ বাকপ্রতিবন্ধী যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (২৩ আগস্ট) সকালে স্থানীয় লোকজন ফিশারির পানিতে মরদেহটি ভেসে থাকতে দেখে লালমাই থানা পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

​নিহত তনন চাঁদপুর জেলার শাহারাস্তি উপজেলার নিজ মেহের দক্ষিণ গ্রামের খোকন মিয়া ও শাহীন বেগম দম্পতির ছেলে। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানা যায়।

​পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল থেকে তনন নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে শাহারাস্তি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতের ছবি দেখে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে তার পরিচয় শনাক্ত করেন।

​খবর পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মোস্তাইন বিল্লাহ ও লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

​এ-বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনোভাবে পানিতে পড়ে গিয়ে সাঁতার না জানার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় লালমাই থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

সৌদি আরব থেকে ফেরার প্রস্তুতিকালে কুমিল্লার প্রবাসীর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

সৌদি আরবের চাকরি শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মো. রাসেল মিয়া। স্ত্রী-সন্তানদের জন্য কেনাকাটাও শেষ করেছিলেন। তবে সেই মালপত্র গোছানোর সময় হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি। সহকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাসেল মিয়া কুমিল্লা সদর উপজেলার বানাশুয়া গ্রামের উত্তরপাড়ার মৃত সুন্দর আলীর ছেলে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। রাসেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানাশুয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল হাকিম।

স্বজনরা জানায়, রাসেল মিয়া ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কর্মরত ছিলেন। প্রায় সাত মাস আগে তিনি একবার দেশে এসেছিলেন। এবার স্ত্রী-সন্তানদের আগ্রহে আবারও দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

দেশে ফেরার আগে পরিবারের সদস্যদের পছন্দের বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনেছিলেন তিনি। শনিবার দুপুরে কেনাকাটা করা মালপত্র গোছানোর সময় হঠাৎ তার বুকে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পরে সহকর্মীরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রিয়জনদের জন্য কেনাকাটা শেষ হলেও সেই উপহার নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না রাসেলের। তার আকস্মিক মৃত্যুর খবরে কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

কুমিল্লায় ৯২ লাখ টাকার অবৈধ ভারতীয় শাড়ি-থ্রিপিস জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে যানবাহনসহ ৯২ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকার অবৈধ ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের শাড়ি ও থ্রিপিস জব্দ করেছে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি)।

আজ রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে কুমিল্লা সীমান্তবর্তী চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও সদর উপজেলা থেকে এসব মালামাল উদ্ধার করা হয়। রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বিজিবি।

বিজিবি জানিয়েছে, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আওতাধীন শিবেরবাজার বিওপি’র বিশেষ টহলদল এবং আদর্শ সদর উপজেলার আওতাধীন কটকবাজার পোস্টের বিশেষ টহল দল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে।

উক্ত অভিযানে সীমান্তের ৬ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চৌয়ারা বাজার এবং ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পালপাড়া নামক স্থানে বিজিবি টহল দল কর্তৃক মালিকবিহীন অবস্থায় যানবাহনসহ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, রেডবুল এবং মুভ মলম আটক করে। আটককৃত মালামালের সর্বমোট মূল্য ৯২ লাখ ৯০ হাজার ৫০০ টাকা। জব্দকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমসে জমা করা হয়েছে।

কুমিল্লায় ভারতীয় ৬টি মোটরসাইকেলসহ ৯ জন আটক

স্টাফ রিপোর্টার:

ভারত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা মোটরসাইকেল ও চোরাচালান চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন ৬টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভারত থেকে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল এনে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছেন। শুক্রবার দিবাগত রাতে ডিবির একটি দল কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতিতে সিলেট-কুমিল্লা মহাসড়কে ৯ জনকে আটক করেন।

পরে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলোর কাগজপত্র যাচাই করা হলে কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন বা মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে ভারত থেকে চোরাইপথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মোটরসাইকেল বাংলাদেশে আনার কথা স্বীকার করেছেন। পরে এসব মোটরসাইকেল কুমিল্লা, ফেনী, কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল বলেও তারা জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা ব্যক্তিরা হলেন— সিলেটের গোয়াইনঘাটের কামিম আহম্মদ (২৮), সিলেট কোতোয়ালির আ. করিম (৩০), সুনামগঞ্জ সদর এলাকার সাইদুল ইসলাম (২২), সিলেটের জালালাবাদের পাবেল আহম্মদ (২৬) ও হোসাইন (২৩), সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের রিপন চন্দ্র দাস (২৯), সিলেট কোতোয়ালির রাজু আহম্মদ (২৮), সুনামগঞ্জের ছাতকের আবিদুল ইসলাম (২৮) এবং সিলেটের গোয়াইনঘাটের কাওছার হোসেন (২৬)।

জব্দ করা মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে রয়েছে—রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি নীল-সাদা রঙের Yamaha R15, একটি কালো রঙের Yamaha MT15, দুটি সাদা ও কালো রঙের Yamaha R15, একটি কালো রঙের Yamaha MT15 এবং একটি নীল রঙের Yamaha R15।

কুমিল্লা ডিবি পুলিশের ওসি শাহ আলম শাহ জানান, এ ঘটনায় বুড়িচং থানায় মামলা হয়েছে ।