All posts by jitu

কুমিল্লা নগরীতে ফের উচ্ছেদ অভিযান, পাঁচজনকে জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীতে জনসাধারণের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং সড়ক ও ফুটপাত হকার ও অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে আবারও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন।

আজ রোববার নগরীর রাজগঞ্জ, টমছমব্রিজ সড়ক এবং এর আশপাশের এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।

অভিযান চলাকালে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রাখা বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়। একই সঙ্গে আইন অমান্য করার দায়ে পাঁচজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নগরবাসীর চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং যানজট কমানোর লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। অবৈধভাবে সড়ক ও ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

অভিযান পরিচালনার সময় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

বুড়িচংয়ে ইয়াবা সেবনের সময় ৫ যুবক আটক, ৬ মাসের কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি কোল্ড স্টোরেজে ইয়াবা সেবনের সময় পাঁচ যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের দেবপুর এলাকার আল হেলাল কোল্ড স্টোরেজে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর হোসেন।

জানা যায়, কোল্ড স্টোরেজের ভেতরে কয়েকজন যুবক ইয়াবা সেবন ও বিক্রয় করছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুড়িচং থানার অধীন দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সুরজিৎ বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ৫১ পিস ইয়াবাসহ পাঁচ যুবককে আটক করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের শরিফপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো. রাকিব (২৮), সমেশপুর এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে মো. শাহিন (২৯), জালালপুর এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে সৈকত আহমদ ইমন (২৫), শরিফপুর গ্রামের জসীম উদ্দীনের ছেলে মেহেদী হাসান শান্ত (২৭) এবং জালালপুর এলাকার মো. মানিকের ছেলে মো. সোহেল রানা (২৮)।

পুলিশ জানায়, দণ্ডপ্রাপ্তদের রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর হোসেন জানায়, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ইয়াবা সেবনের আলামত ও ৫১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রত্যেককে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

বন্ধুমহল থেকে বিশ্ববাজারে ‘দেshe’-এর যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার ব্যস্ততার মাঝেও থেমে থাকেননি রুমাইয়া করিম রামিসা। ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) বিবিএ পড়ার পাশাপাশি নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন তিনি। নারীদের জুয়েলারি নিয়ে গড়ে তুলেছেন নিজের ব্র্যান্ড ‘দেshe’, যা ইতোমধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে গেছে পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ক্রেতাদের কাছে।

বন্ধুমহলে বরাবরই নান্দনিক রুচির জন্য পরিচিত ছিলেন রামিসা। সেই পরিচিতিই একসময় ব্যবসার অনুপ্রেরণায় পরিণত হয়। শুরুতে বিভিন্ন জায়গা থেকে জুয়েলারি সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। পরে নিজস্ব ডিজাইনের ধারণা নিয়ে কারিগরদের মাধ্যমে তৈরি করাতে শুরু করেন নতুন নতুন নকশার অলংকার। পেশাদার ডিজাইনার না হয়েও নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করেন আলাদা পরিচয়ের একটি ব্র্যান্ড।

রামিসা বলেন, “ছোটবেলা থেকেই ব্যবসা করার ইচ্ছা ছিল। প্রচলিত ৯টা-৫টার চাকরি কখনোই আমাকে টানেনি। সবসময় স্বপ্ন দেখতাম, একদিন নিজের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব, যেখানে নিজের পাশাপাশি অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারব। মূলত নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এবং অন্যদের পাশে থাকার ইচ্ছা থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার পথচলা শুরু।”

২০২০ সালে উদ্যোক্তা হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পথটা মোটেও সহজ ছিল না। বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে কাজ করেছেন, একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছেন, লোকসানও গুনেছেন। কিন্তু হাল ছাড়েননি। দীর্ঘ পাঁচ বছরের চেষ্টা, শেখা এবং অভিজ্ঞতার পর ২০২৫ সালে ‘দেshe’ ব্র্যান্ডকে একটি সফল অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তার ভাষায়, “এই যাত্রায় আমি বহুবার ব্যর্থ হয়েছি। অনেক পরীক্ষানিরীক্ষা করেছি, ক্ষতির মুখও দেখেছি। কিন্তু কখনো থেমে যাইনি। আমি বিশ্বাস করি, চেষ্টা চালিয়ে গেলে একদিন না একদিন সফলতা আসবেই। নিজের ওপর সেই বিশ্বাসই আমাকে এগিয়ে নিয়েছে।”

বর্তমানে ‘দেshe’-এর সংগ্রহে রয়েছে কাশ্মীরি চুড়ি, তুর্কিশ রিং, অ্যান্টি-টার্নিশ রিং, গ্লাস ঝুমকা, বিভিন্ন ধরনের বালা ও ফ্যাশন জুয়েলারি। প্রতিটি পণ্যের দাম ৩৫০ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

পণ্যের মান নিয়েও বেশ সচেতন এই তরুণ উদ্যোক্তা। রামিসা জানান, তাদের পেজে শতভাগ আসল ও মানসম্মত আমদানিকৃত পণ্য বিক্রি করা হয়। বাজারে একই ডিজাইনের নকল বা রিপ্লিকা পণ্য থাকলেও ক্রেতাদের শুরু থেকেই জানিয়ে দেওয়া হয় কোনটি স্থানীয় এবং কোনটি আমদানিকৃত। কোনো ত্রুটি বা সমস্যা দেখা দিলে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই পণ্য বদলে দেওয়ার সুবিধাও রয়েছে।

দেশের বাইরে প্রথম অর্ডার পাওয়ার অভিজ্ঞতা এখনো রোমাঞ্চ জাগায় তার মনে। রামিসা বলেন, “আমার প্রথম আন্তর্জাতিক অর্ডার আসে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান থেকে। ক্রেতা খুবই আন্তরিক ছিলেন। মূলত ইনস্টাগ্রামে একটি রিল ভাইরাল হওয়ার পর বিদেশ থেকে সাড়া পাওয়া শুরু হয়। আমি বাংলাদেশের জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী ‘মাওলা মেরে ঝুমকা’ নিয়ে কাজ করছিলাম। সেই রিল দেখেই প্রথম আন্তর্জাতিক অর্ডার আসে।

এরপর পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকেও অর্ডার পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন দেশে আমাদের ব্র্যান্ড পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য।”

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করতে গিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক শিপিং প্রক্রিয়া এখনো বেশ জটিল এবং ব্যয়বহুল। যদি এই লজিস্টিক সুবিধা আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আরও দ্রুত বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থার ব্র্যান্ড— রামিসা এই পথচলা প্রমাণ করে, ধৈর্য, সৃজনশীলতা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে ছোট্ট একটি অনলাইন উদ্যোগও একদিন বৈশ্বিক বাজারে নিজের জায়গা করে নিতে পারে।

ট্রেজারার নিয়োগে নোবিপ্রবির শিক্ষকদের উপেক্ষার অভিযোগ

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:

‎নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) পদে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনের নাম আলোচনায় আসার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে নোবিপ্রবির ট্রেজারার পদে নিয়োগের বিষয়ে সরকারের নীতিগত সম্মতি রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

‎গত ৭ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হানিফ মুরাদ লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ট্রেজারারের পদটি শূন্য হয়। এরপর থেকেই পদটি পূরণে নোবিপ্রবির বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের নাম সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

‎উল্লেখ্য, নোবিপ্রবির আগের দুইজন ট্রেজারারই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষক ছিলেন। ফলে এবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ কোনো শিক্ষককে এ দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে অনেকের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাইরে থেকে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ সেই প্রত্যাশায় ভাটা ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদকে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, ব্যবসায় প্রশাসন বিষয়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা এবং অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কারণে ট্রেজারার পদের জন্য তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টদের অনেকে মনে করেন।

‎বর্তমানে অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি নোবিপ্রবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সাংগঠনিক সম্পাদক। গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন সময় স্বীকৃতি ও গবেষণা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক প্রশাসন পরিচালনায় তাঁর বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত বলেও মত সংশ্লিষ্টদের।

‎এ ছাড়া আলোচনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ফিসারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স(ফিমস) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মহিনুজ্জামান, ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস(এমআইএস) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউল হক এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক রাকিব-উল ইসলাম।

‎অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং নোবিপ্রবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের অন্যতম সংগঠন ‘সাদা দল’-এর সাধারণ সম্পাদক। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং শিক্ষক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনিও আলোচনায় ছিলেন।

‎এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের একাংশ সোচ্চার হয়েছেন। তাদের মতে, দুই দশক পূর্ণ করা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও বারবার বাইরে থেকে শীর্ষ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নেতৃত্ব বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।
‎তাদের দাবি, নিজস্ব শিক্ষক প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয় এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় সহজ হয়। কিন্তু যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নিজস্ব শিক্ষকদের মূল্যায়ন না করায় শিক্ষক সমাজের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

‎এ ব্যাপারে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন সায়েন্সেস (আইআইএস)-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ইএসডিএম) বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সালাম এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স বিশ বছর। শিক্ষা ও গবেষণায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমসাময়িক অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগিয়ে। ইতোমধ্যেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় টাইমস হায়ার এডুকেশন এবং কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে ভালো অবস্থান তৈরি করছে। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রশাসনিক দক্ষতারও ছাপ রেখে চলেছেন। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অতীতের ট্রেজারার স্যাররা, যারা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নিয়োগ পেয়েছিলেন।”

‎তিনি আরও লেখেন, “বর্তমানেও ট্রেজারার হওয়ার যোগ্য অনেক অধ্যাপক এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছেন। তাই অতীতের ন্যায় এবারও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ট্রেজারার নিয়োগ হোক—এটাই বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের দাবি বলে আমি বিশ্বাস করি।”

‎ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট(টিএইচএম) বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জামশেদুল ইসলাম তার ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, “নিজেদের যোগ্য ও ত্যাগী শিক্ষকদের বাদ দিয়ে বাইরের কাউকে দায়িত্ব দিলে তা নোবিপ্রবির শিক্ষকদের জন্য অসম্মানের বিষয় হবে।”

‎তিনি আরও লেখেন, “নোবিপ্রবির বেশ কয়েকজন শিক্ষক জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন এবং সাদা দল, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম কিংবা উটাব (UTAB)-এর মতো সংগঠনে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা জরুরি। নোবিপ্রবির নিজস্ব যোগ্য ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ট্রেজারার নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।”

‎নোবিপ্রবি ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক নুর হোসেন বাবু তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “নোবিপ্রবির ট্রেজারার হওয়ার মতো এখনো দু’জন শিক্ষক আছেন যারা যোগ্য এবং ফ্যাসিস্ট নয় বরং বঞ্চিত এবং বিএনপির জন্য নিবেদিত। তাহলে তাদেরকে মূল্যায়ন না করে কেন ফ্যাসিবাদের দোসর ও লীগ নেতাদেরকে নিয়োগের চক্রান্ত চলছে? ছোট-বড় যারা অর্থ ও স্বার্থের কারণে এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন, তাদের সব অপকর্ম রেকর্ড হচ্ছে। সব ফাঁস হবে। সাবধান হয়ে যান।”

‎তিনি আরও লেখেন, “আমাদের জোর দাবি হচ্ছে নোবিপ্রবি থেকেই ট্রেজারার নিয়োগ দেওয়া হোক।”
‎অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “আজ দল সরকারে, কিন্তু মূল্যায়িত হচ্ছেন কারা? যদি সত্যি দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিরা উপেক্ষিত হন এবং তাঁদের জায়গা দখল করেন অতীতে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে থাকা বা বিতর্কিত ব্যক্তিরা—তবে তা দল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উদ্বেগের।”

‎তিনি আরও লেখেন, “যোগ্যতা, সততা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অবদান ও ত্যাগকে যথাযথ গুরুত্ব দিন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা দলকে আরও শক্তিশালী করবে।”

‎সব মিলিয়ে, ট্রেজারার নিয়োগকে ঘিরে নোবিপ্রবির নিজস্ব শিক্ষকদের মূল্যায়নের প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের প্রত্যাশা, এ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজস্ব যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

জুলাই আহত শহীদ অধিকার সংরক্ষণ সংস্থার উদ্যোগে জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

জুলাই আহত শহীদ অধিকার সংরক্ষণ সংস্থার উদ্যোগে জুলাই স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার (২৫ জুলাই) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মাঠে এই ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজিত এ ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেস দ্যা পিপলের সম্পাদক সাইফুর রহমান সাগর ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—
কুমিল্লা জুলাই আন্দোলনের সক্রিয় যোদ্ধা ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের কুমিল্লা মহানগরের সাবেক আহবায়ক আবু রায়হান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আহমেদ আবদুল্লাহ তারেক, মো রাহিম, মোঃ ইকবাল, মোহাম্মদ হাসান, সদর দক্ষিণ উপজেলা সংগঠক মো রাব্বি, জাহিদ হাসান, কুমিল্লা মহানগর ছাত্রশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব আরেফিন আলভিসহ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও জুলাই যোদ্ধারা।

টুর্নামেন্টে ইনসাফ মঞ্চ, জুলাই আহত শহীদ অধিকার সংরক্ষণ সংস্থা,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জুলাই রক্ষা আন্দোলন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কুমিল্লা জেলা,ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী সমাজ, কুমিল্লাসহ মোট ৬ টি টিম অংশগ্রহণ করে।

জীবনের লড়াইয়ে একটুকরো আশার আলো—শিক্ষিকা ইয়াসমিন আরার পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মারণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে কঠিন সময় পার করছেন রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ইয়াসমিন আরা। চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাওয়া এই শিক্ষিকার পাশে দাঁড়িয়েছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন।

মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে তার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ইয়াসমিন আরা শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের কাছে একজন অনুপ্রেরণাদায়ী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তবে হঠাৎ ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পর তার স্বাভাবিক জীবন থমকে যায়। ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যেতে গিয়ে পরিবারও আর্থিক সংকটে পড়ে।

ইয়াসমিন আরা বলেন, ‘আমার চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হয়েছে। একটি ইনজেকশনের দামই ছিল এক লাখ টাকা। আমার ক্যান্সার থার্ড স্টেজে ধরা পড়েছে এবং লিম্ফ নোডেও ছড়িয়ে গেছে। এ কারণে আমাকে ওরাল কেমোথেরাপি নিতে হচ্ছে।

এই ওষুধের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা খরচ করতে হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘শরীরটা খুব একটা ভালো চলছিল না, তার পরও আমি ক্লাস নিতে যেতাম। স্টুডেন্টরা আমার ক্লাস খুব পছন্দ করে। আমি চাই, শরীরটা আরেকটু ফিট হলে আবার যেন কাজে ফিরতে পারি। বসে থাকতে ভালো লাগে না।
শরীরটা সুস্থ হলে আমি আবার কিছু একটা করতে চাই।’

শিক্ষিকার এই সংকটের কথা জানতে পেরে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে তার পাশে দাঁড়ায় আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশনের চিফ কো-অর্ডিনেটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা তাকে আর্থিক সহযোগিতা করেছি এবং আশ্বস্ত করেছি যে এবিজি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন তার পাশে রয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে আমাদের চেয়ারম্যান যেভাবে হাত বাড়িয়েছেন, সমাজের সব বিত্তবান মানুষও যেন এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসেন—এটাই আমাদের আহ্বান।’

এই সহায়তা ইয়াসমিন আরার জন্য শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস ও আশারও উৎস হয়ে উঠেছে। ক্যান্সারকে জয় করে আবারও শ্রেণিকক্ষে ফিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ফেসবুক সাংবাদিকদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকরা বিভ্রান্তিতে পড়ছেন: চাঁদপুর জেলা প্রশাসক

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত চাঁদপুরের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য তিনদিনব্যাপী ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে প্রশিক্ষণের সমাপনী সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বলেন, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং মাধ্যমে আপনারা সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে পারবেন। চাঁদপুরে কিছুদিন আগে একটি গুজব ছড়িয়েছে লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আপনারা সাংবাদিকগণ সঠিক তথ্য দিয়ে নিউজ করে ফুটেজ প্রকাশ করেছেন যে চাঁদপুরে কোন লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটেনি। যখনি সত্য প্রকাশ করে নিউজ করা শুরু হলো, তখনই গুজব চাপা পড়ে গেছে। তিনি বলেন, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং এর প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সারা পৃথিবীতে এটা নিয়ে যুদ্ধ চলছে। বিশ্বকাপ পরবর্তী অনেক মিথ্যা বিভ্রান্তকর তথ্য ছড়াচ্ছিল, আসলে সবই ছিল গুজব। যারা প্রকৃত সাংবাদিক তারা ফেসবুক সাংবাদিকদের কারণে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আমরা, আপনাদের মাধ্যমে চাঁদপুরের অন্যান্য সাংবাদিকগনকে ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করব। আজকের কর্শশালার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি । আপনারা সবাই ভালো থাকবেন।

সমাপনী সেশনে সভাপতির বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী। তিনি বলেন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় পিআইবি কর্তৃক এখানে ৩৫জন পেশাদার সাংবাদিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। এ প্রশিক্ষণ আয়োজন করায় আমাদের এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক, চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা ছিল। আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তথ্য মন্ত্রণালয় ও পিআইবিকেও ধন্যবাদ জানাই। আমাদের প্রশিক্ষণে তারা আন্তরিকতা দেখিয়েছে। চাঁদপুর প্রেস ক্লাব যখনই প্রশিক্ষণের জন্য কোন আবেদন করে, পিআইবি আমাদের ডাকে সাড়া দেয়।

তিনি বলেন, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং প্রশিক্ষণে আমাদের সাংবাদিকতের মানউন্নয়ন হচ্ছে। এ প্রশিক্ষণ পেশাগত কাজে সহায়তা করবে এবং সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আমি সাংবাদিকগণকে ধন্যবাদ জানাই সুন্দরভাবে প্রশিক্ষণটি গ্রহন করায়। আগামীতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে আমাদের আরো মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এ প্রত্যাশা করছি। অনেকেই প্রশিক্ষণ গ্রহনের জন্য আবেদন করেছেন। আশা রাখছি জেলা প্রশাসক মহোদয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন।

প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফের সঞ্চালনায় তৃতীয় দিনের সমাপনী সেশন প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ও বক্তব্য রাখেন, পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন। তিনি ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ধারণা, প্রয়োজনীয়তা, ছবি-ভিডিও যাচাই এবং ফ্যাক্ট চেকিংয়ের ব্যবহারিক প্রয়োগ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন। কর্মশালায় পিআইবি টিমের সাথে ছিলেন পিআইবির হিসাবরক্ষক মো: মিজানুর রহমান সরকার, অফিস স্টাফ মো: কফিজুল হক।

প্রশিক্ষনে অংশগ্রহন করেন দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক এবং স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকগণ অংশগ্রহণ করেন। গত ২৩জুলাই চাঁদপুরের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য তিনদিনব্যাপী ‘এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়।

মেঘনায় ভাগ্নীকে বিয়ে করার অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় প্রথম স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে ভাগ্নীকে বিয়ে করার অভিযোগে এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার প্রথম স্ত্রী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের টিটিরচর গ্রামের আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে আরিফ প্রধান (৩৮)। তিনি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে থানা রোডসংলগ্ন ছোয়ানির মোড়ে গেলে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আরিফ প্রধানের প্রথম স্ত্রী ও দুই সন্তান থাকা অবস্থায় সম্পর্কে ভাগ্নী হওয়া প্রতিবেশী চাচাতো বোনের মেয়েকে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় তার প্রথম স্ত্রী মোসা. লিজা আক্তার কুমিল্লার আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

এ বিষয়ে মেঘনা থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রথম স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় আরিফ প্রধানের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।

কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে ৫১ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় ৫১ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত বিজিবি-৬০ ব্যাটালিয়নের অভিযানে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে– বাসমতি চাল, ফুসকা, চকলেট, গরু, পটকা, শাড়ি, তেল, ইমামী সেভেন অয়েল, ভ্যাসমল, স্কিন সাইন ক্রিম ও মোটর সাইকেল। এসব পণ্য সংশ্লিষ্ট কাস্টমসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছ।

সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মাদলা ও খাদলা এবং কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলার সালদানদী, শশীদল ও খাড়েরা এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পাচার হয়ে আসার সময় ৫১ লাখ ২৭ হাজার ৪০০ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

হোমনায় ড্রেজারের ড্রাম থেকে পানিতে পড়ে যুবকের মৃত্যু

রাসেলে আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনায় বালু উত্তোলনের অবৈধ একটি ড্রেজারের ড্রাম থেকে পুকুরে পড়ে ইমরান (২৬) নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের চম্পকনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমরান ওই গ্রামের মৃত জাকির হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ইমরান ড্রেজারের ড্রামের ওপর দুষ্টুমি করার সময় হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে পাশের পুকুরে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবারের দাবি, ইমরান মৃগী রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

হোমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি সত্য বলে মনে হচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

এ বিষয়ে হোমনা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ মোফাচ্ছের বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত। ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের আগে প্রচলিত আইন অনুযায়ী অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। উল্লিখিত বালু বা মাটি উত্তোলনকারীর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।