All posts by jitu

কুমিল্লা-৬ সংসদীয় আসন: মনোনয়ন দৌড়ে বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী

♦ মনোনয়ন দৌড়ে বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী

♦ ইয়াছিন ঠেকাও মিশনে গোপনে জোটবদ্ধ একাধিক প্রার্থী

♦ ইয়াছিন মনোনয়ন পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন সাক্কু

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:

কুমিল্লা মহানগর, সদর, সদর দক্ষিণ ও ময়নামতি সেনানিবাস নিয়ে কুমিল্লা-৬ সংসদীয় আসন। এই আসন মূলত জেলার অক্সিজেন হিসেবে চিহিৃত।

মনোনয়ন দৌড়ে বিএনপি’র একাধিক প্রার্থী :
এই আসনে বিএনপি থেকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন, সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরী, বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, মহানগর বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশি। এছাড়া কুসিকের সাবেক মেয়র ও বিএনপি’র বহিস্কৃত নেতা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মনিরুল হক সাক্কুও দলে ফিরতে পারলে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। তবে মনোনয়ন নিয়ে মূল লড়াইটা হবে হাজী ইয়াছিন ও মনিরুল হক চৌধুরীর মধ্যে। তৃণমূল বিএনপি এমনই মনে করছেন।

ইয়াছিন ঠেকাও মিশনে গোপনে জোটবদ্ধ একাধিক প্রার্থী:
কুমিল্লা-৬ সংসদীয় আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি এখন দুইভাগে বিভক্ত। একদিকে হাজী ইয়াছিন, অপরদিকে বিএনপির বাকী সব। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, হাজী ইয়াছিনের মনোনয়ন ঠেকাতে উঠেপড়ে লেগেছে বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মী। বিগত দুটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কুর বিপরীতে আওয়ামী প্রার্থীর পাশাপাশি হাজী ইয়াছিনের শ্যালক স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার মেয়র পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ফলে বিএনপির ভোট দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যার ফলশ্রুতিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত ও তাহসিন বাহার সূচনা দুইবারে মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র সাক্কুর পরাজয়ের জন্য হাজী ইয়াছিন ও নিজাম উদ্দিন কায়সারকে দোষারূপ করা হয়।

সাক্কু গ্রুপের লোকজন জানান, যদি ওই সময় নিজাম উদ্দিন কায়সার নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতো তাহলে সাক্কু হয়তো মেয়র পদে জয়লাভ করতো। এরপরেই সাক্কু ও ইয়াছিন গ্রুপের মধ্যে বিশাল দূরত্ব সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একে অপরের গ্রুপের বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য প্রচার করা অব্যাহত রেখেছে। এদিকে নতুন করে আসন পুর্নবিন্যাস হওয়ার পর সদর দক্ষিণ উপজেলা কুমিল্লা সদরের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় মনিরুল হক চৌধুরী এই আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। মনোনয়ন প্রশ্নে তিনি কাউকে ছাড় দিবেন না বলে জানা গেছে।

এদিকে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়াও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া অনেক নেতাকর্মী কাউসার জামান বাপ্পির প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানান, কুমিল্লা সদরে অন্তত ৬ জন মনোনয়ন চাইবেন। হাজী ইয়াছিনকে ঠেকানোর জন্য আরো অনেকেই মনোনয়ন চাইতে পারেন। হাজী ইয়াছিন যাতে মনোনয়ন না পেতে পারেন সেজন্য সর্বোচ্চ তদবির চলছে বলে জানা গেছে। ইয়াছিন ছাড়া যেকোন ব্যক্তি পেলে একত্রে কাজ করবে, নতুবা স্বতন্ত্র প্রার্থীও দেখা যেতে পারে। সম্প্রতি মনিরুল হক সাক্কু দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে দেখা করে তার মতামত জানিয়েছেন। তিনি মহাসচিবকে জানিয়েছেন হয় তাকে অথবা মনিরুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দিতে হবে, তাহলেই সদর আসন বিএনপির হবে। হাজী ইয়াছিন দলীয় মনোনয়ন পেলে বিদ্রোহী প্রার্থীও নির্বাচনে থাকবে বলে জানান। সূত্র এমনই দাবি করছে।

এ বিষয়ে হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন জানান, দল নিয়মমাফিক মনোনয়ন দিবে বলে আমি আশা করি। মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দল কিছু ক্রাইটেরিয়া করেছে। যেমন- বিগত ১৫ বছর কারা দলের জন্য কাজ করেছে, দু:সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে কে ছিল? ৫ আগষ্ট এরপর যারা মনোনয়ন চাইছে, তাদের দুর্নাম রয়েছে কি না। আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, আমি দুই দুইবার নির্বাচন করেছি। আমি গত ১৭ বছরে প্রত্যেকটি নেতাকর্মীর পাশে ছিলাম । ৫ আগষ্টের পর কোন অন্যায়ে আমি জড়িত ছিলাম না। অতীতেও ছিলাম না।

বর্তমানে আমাদের সংসদীয় এলাকায় নতুন একটি উপজেলা যোগ হয়েছে। যেখানে ১ লাখ ৩০ হাজার ভোটার রয়েছে, আর আমাদের সদরে আছে ৫ লাখের উপর ভোটার। নতুন যেইটি যোগ হয়েছে, সেইটিও আমার পুরাতন এলাকা। ওইখানে আমার নিজের বাড়ি, আমার চৌদ্দগোষ্টির বাড়ি, ওইটা আমার জন্য নতুন না। আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি দল সকল ক্রাইটেরিয়া বিবেচনা করে মনোনয়নের বিষয়ে আমাকেই প্রাধান্য দিবে । আমি কারো ব্যক্তিগত শত্রু না। আমিও কাউকে শত্রুও মনে করি না। তাই কেউ আমাকে শত্রু ভাববে তাও বিশ্বাস করিনা।

মনিরুল হক সাক্কু জানান, আমি মাঠে আছি, আমি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। দল যদি মনে করে আমার প্রয়োজন আছে, তাহলে আমার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করবে। তখন আমি দলীয় মনোনয়ন চাইবো। আমি দলকে ভালোবাসি। যদি মনোনয়ন না পাই, তখন যেটা ভালো মনে হবে তখন তা করবো। দলের বাইরে সিদ্ধান্ত নিতে মন চায় না। কিন্তু যখন দেখি বিশ্বাসঘাতক, কাপুরুষরা বারবার সুবিধা নিচ্ছে, তখন খারাপ লাগে। শ্যালক দিয়ে দল চালালে তখন তো আর ভালো লাগেনা। তবে আমি সংসদ নির্বাচন করবো, তা নিশ্চিত।

এ বিষয়ে জানতে কাউসার জামান বাপ্পির মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ মোস্তাক মিয়া জানান, ৪৬ বছর ধরে আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। জেলা ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, জেলা বিএনপি, কেন্দ্রীয় বিএনপি সব জায়গাতেই রাজনীতি করেছি। এখনো দায়িত্ব পালন করছি। এত বছর রাজনীতি করার পর একটা সময় এসে সবার ইচ্ছে হয় নির্বাচন করার। আমিও নির্বাচন করতে চাই। আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো। দল যদি আমাকে বিবেচনা করেন তাহলে আমি নির্বাচন করবো। আর দল না চাইলে যেই মনোনয়ন পাবে, সবাই আমরা তার জন্য কাজ করবো। দিনশেষে দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

এ বিষয়ে জানতে মনিরুল হক চৌধুরীর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।

তবে মনিরুল হক সমর্থিত একজন নেতা জানান, জেলা ও মহানগর বিএনপির বৃহৎ অংশ মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে। আমরা নিশ্চিত তিনিই মনোনয়ন পাচ্ছেন। পারিবারিক রাজনীতি কেউ পচ্ছন্দ করে না। তাই মনিরুল হক চৌধুরীই এগিয়ে রয়েছেন।

বিগত সময়ে যারা বিজয়ী হয়েছেন:
স্বাধীনতা পরবর্তী প্রথম ও বিগত ৪ টি ভোটারবিহীন নির্বাচনে পতিত স্বৈরাচার আ’লীগের বাইরে কুমিল্লার এই আসনটি বিএনপি’র শক্ত ঘাটি। ’৭৯ এর সংসদ নির্বাচনে আসনটি বিএনপি’র কর্নেল (অবঃ) আকবর হোসেন বিজয়ী হয়েছিলেন। মাঝে ’৮৬,’৮৮ সালের নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টির আনসার আহমেদ পরবর্তী ’৯১, ’৯৬, ২০০১ সালে আবারো আকবর হোসেন,তারপর স্বৈরাচার হাসিনার বিগত সময়ে ২০০৮-২০২৪ পর্যন্ত ভোটারবিহীন নির্বাচনে আ’লীগের রাম রাজত্ব ছিল।

আসনের মোট ভোটার:
এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ১৯১ জন। যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯৯ জন , নারী ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭ জন । সিটি করপোরেশনে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৫৪ ভোটার ,সদর উপজেলায় ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৭ হাজার ৮১ জন এবং ময়নামতি সেনানিবাস এলাকার ভোটার সংখ্যা ৪ হাজার ৬৫৬ জন। এর মধ্যে সিটি এলাকায় ২ জন এবং সদর উপজেলা অংশে ৩ জন মোট ৫ জন হিজড়া ভোটার রয়েছে ।

বাজুসের নতুন সহ-সভাপতি মো.ইকবাল হোসেন চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের সহ- সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য আবাসন ব্যবসায়ী,নানা সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়া, জেসিএক্স ডেভেলপমেন্ট এর এমডি মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী ।

সোমবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর বাজুস কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এ সময় সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন কমিটি নির্বাচিত হয়েছে। মূলত আইনি বাধ্যবাধকতায় বিগত কমিটির কোনো সদস্য নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে ১ জন, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে ১ জন,সহ-সভাপতি পদে ৩ জন, কোষাধ্যক্ষ পদে ১ জন এবং পরিচালক পদে ২৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।

বাজুস নির্বাচন পরিচালনা পর্ষদ জানায়, উল্লিখিত পদগুলোর প্রার্থীদের মধ্যে কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় সংগঠনের বিধিমালা ২০২৫-এর ২৪(১) ধারা অনুসারে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা নির্বাচনের যোগ্য পদের সমান হওয়ায় মোট ৩৫ জন প্রার্থীকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাজুসের আগামী দুই মেয়াদের নতুন পরিচালনা পর্ষদ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হলো। নির্বাচিত কমিটি ২০২৫-২০২৭ মেয়াদে সংগঠনের নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ১৫ ডিসেম্বর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এরপরই নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করবে।

মো.ইকবাল হোসেন চৌধুরী আবাসন খাত নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন তিনি বর্তমানে এর মূল্যবৃদ্ধি, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থায় দিশেহারা ব্যবসায়ীদের কথা নিয়ে ও সোচ্চার থাকেন। তিনি আবাসন খাতের একজন অভিজ্ঞ উদ্যোক্তা, দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সাবেক পরিচালক।মনে করা হচ্ছে বাংলাদেশ জুয়েলারি এসোসিয়েশনেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্তে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি।

রবিবার (২ নভেম্বর) রাতে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

বিজিবি-৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কুমিল্লার আদর্শ সদর ও ব্রাহ্মণপাড়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত থেকে এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

তিনি জানায়, জব্দ করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৭৯ লাখ ৫২ হাজার টাকার মোবাইল ফোন ডিসপ্লে ও ২৫ লাখ ৪৮ হাজার টাকার বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁদপুরে জাতীয় রক্তদাতা দিবসে প্রভাতের ফ্রি ব্লাড গ্রুপ নির্ণয়

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুর:

সরকারি নিবন্ধনকৃত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রভাত যুব সমাজকল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে জাতীয় রক্তদাতা দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়। রবিবার (২ নভেম্বর) চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উক্ত ক্যাম্পিং অনুষ্ঠিত হয়।

প্রভাত যুব সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে দিবসটি উপলক্ষে এদিন প্রায় দুই শতাধিক কলেজ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে তাদের রক্তের গ্রুপ জানতে পারেন। হ্যাবিট্যাট ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট এর অর্থায়নে উক্ত ক্যাম্পিং এ স্বেচ্ছায় রক্তদানের উপর পরামর্শ দেয়া হয়। এতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন চাঁদপুর মুন হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স তাছলিমা আক্তার ও চাঁদপুর খিদমাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট সুমাইয়া আক্তার।

এসময় উপস্থিত ছিলেন হ্যাবিট্যাট ডেভেলপমেন্ট ট্রাস্ট এর সদস্য মোঃ হাসিবুর রহমান, প্রভাত যুব সমাজকল্যাণ সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম নোবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজদিদুর রহমান (সাজু), প্রচার সম্পাদক জেএম মাসুদ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রাহিম হোসেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আজিজ আরজু, সদস্য বোরহান উদ্দিন, আরাফাতুল ইসলাম রিফাত সহ বিভিন্ন সামাজিক নেতৃবৃন্দ।

কুমিল্লায় ২টি বিদেশি পিস্তল ও গাঁজা উদ্ধার করেছে বিজিবি

রকিবুল ইসলাম (ম্যাক রানা):

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় গাঁজার ব্যাগ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল দুটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বিজিবি। সোমবার ভোরে কুমিল্লা যশপুর বিওপির আওতাধীন ধনপুর এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সোমবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে ১০ বিজিবির সিওই লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর দক্ষিণ উপজেলার যশোর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা ভারতীয় সীমান্তবর্তী ধনপুর এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের খবর পেয়ে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া ব্যাগ তল্লাশি করে গাঁজার ভেতর থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

তিতাসে যৌথবাহিনীর অভিযানে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আটক, পিস্তলসহ ধারালো অস্ত্র উদ্ধার

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার তিতাসে যৌথবাহিনীর অভিযানে সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া আটক হয়েছেন।

রবিবার (২নভেম্বর) দিবাগত তিনটায় তিতাস থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে উপজেলা মজিদপুর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের জনৈক সাদেক মিয়ার বাড়ি থেকে আটক করে। ফারুক মিয়া মজিদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, গত ২৫ অক্টোবর শাহপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ এবং একজন গুলিবিদ্ধের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরদিন যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে চার নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ । গতকাল রবিবার রাতে একই গ্রামের জনৈক সাদেক ব্যাপারীর বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ফারুক মিয়াকে আটক করে যৌথবাহিনী। এসময় সাদেক ব্যাপারীর বাড়ীর আশপাশে তল্লাশী করে একটি পাইপগান ও চাইনিজ কুড়ালসহ সাতটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পার্শ্ববর্তী জজ মিয়ার বাড়ী থেকে একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও চার রাউন্ড সীসা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

তিতাস থানার ওসি খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, রবিবার রাতে যৌথবাহিনীর একটি দল শাহপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ফারুক মিয়াকে আটক করা হয়েছে। এসময় জনৈক সাদেক ব্যাপারী ও পার্শ্ববর্তী জজ মিয়ার বাড়ী তল্লাশী করে পাইপগান, পিস্তল, গুলি ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এঘটনায় পৃথক দুটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

টানা ৮ বার সেরা করদাতার খেতাব, সেরা করদাতার আড়ালে ছিলেন কর ফাঁকিবাজ

ডেস্ক রিপোর্ট:

সেরা ডাক্তাররা কর ফাঁকিতেও চ্যাম্পিয়ন এক মাসের বেশি সময় নিয়ে রাজধানীর দুজন শীর্ষ ডাক্তারকে নিয়ে সরকারি তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে অনুসন্ধান করেছে দেশের জাতীয় পত্রিকা কালের কণ্ঠ। তাঁদের মধ্যে একজন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত।

সেরা করদাতার আড়ালে কর ফাঁকি: স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত দেশের অন্যতম সেরা চিকিৎসকদের একজন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। নাক কান গলা বিভাগে পেশাগত দক্ষতা ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসকও ছিলেন তিনি। বড় অঙ্কের আয় থাকায় করও দিয়েছেন বেশি। টানা আটবার পেয়েছেন সেরা করদাতার খেতাব। তবে সেরা করদাতার আড়ালে তিনি ছিলেন একজন কর ফাঁকিবাজ। সম্প্রতি এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) অনুসন্ধানে তাঁর করনথিতে এফডিআরের তথ্য গোপনের চিত্র উঠে আসে। কর ফাঁকি প্রমাণিত হওয়ায় প্রাথমিকভাবে কর ফাঁকির এক কোটি ৭২ লাখ টাকা পরিশোধও করেন তিনি। এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে। বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছাড়া বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতা ও কারচুপির নির্বাচনে দুবার এমপি হয়েছিলেন প্রাণ গোপাল। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআরের সামনে চার লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আয়কর খাতের লক্ষ্য ধরা হয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়কর খাতেই ঘাটতির পরিমাণ ছয় হাজার ৫৪১ কোটি টাকা। এই ঘাটতির পেছনে অনেক কারণের মধ্যে বড় অঙ্কের কর ফাঁকি শীর্ষে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র গবেষণা সহযোগী তামীম আহমেদ বলেন, ‘শুধু টপ প্রফেশনের না, সাধারণ মানুষ হিসেবে সবারই কর দেওয়ার বিষয়ে দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। কর ব্যবস্থায় তদারকি দুর্বল থাকায় অনেকেই এই সুযোগটা নিচ্ছেন। যারা ফাইল দেখছেন ঘুরেফিরে বারবার একই ফাইল দেখছেন। এ ক্ষেত্রে একটা স্ট্রাকচার ফলো করলে কর ফাঁকি দেওয়ার চিন্তা কমে যেত। ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকৃত আয় কমিয়ে দেখানো একটি ফৌজদারি অপরাধ। এই দণ্ডবিধির আওতায় কিছু ব্যক্তিকে শাস্তি দিলে তা উদাহরণ হয়ে থাকত। ধরা খাওয়ার ভয়ে কেউ কর ফাঁকি দিত না।’

কুমিল্লার আলোচিত তুহিন হত্যা মামলায় একজন গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

রকিবুল ইসলাম (ম্যাক রানা):

কুমিল্লার আলোচিত তুহিন হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতির অংশ হিসেবে এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

রবিবার (২ নভেম্বর) ভোর ৪টার দিকে কোতোয়ালী থানার শিমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম শফিউল আলম মানিক (৪২), পিতা মৃত হাজী আবুল খায়ের ও মাতা লুৎফা বেগম। তিনি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ৫ নম্বর পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা।

গ্রেফতারের পর আজই মানিককে কুমিল্লার আমলী আদালত-২-এ হাজির করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মোলি-এর নিকট তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি মানিক ভিকটিম তুহিনকে নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তদন্তের স্বার্থে জবানবন্দিতে উঠে আসা তথ্যসমূহ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চৌদ্দগ্রামে কবি নজরুল ইসলাম সস্মাননা পেলেন দুই সাংবাদিক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সংবাদের প্রকাশের মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় কবি নজরুল ইসলাম সম্মাননা-২৫ পেলেন দুই সাংবাদিক।

এরমধ্যে অপরাধ অনুসন্ধান বিষয়ক সংবাদ প্রকাশে দৈনিক আজকের পত্রিকার মোঃ আকতারুজ্জামান ও প্রবাসীদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার মোঃ এমদাদ উল্যাহ।

রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের মাসকরায় মজুমদার পাবলিক লাইব্রেরির উদ্যোগে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

এ উপলক্ষে মজুমদার পাবলিক লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মুহাম্মদ মহী উদ্দিন মজুমদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ উল্যাহ, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল ইমন, আবদুর রহমান, নাজমুল হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ইয়াবাসহ আটককৃত আবদুর রহিম বহিষ্কার করেছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদল

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ২৬৬৪পিস ইয়াবাসহ আটক হওয়া যুবদল নেতা আবদুর রহিমকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত শনিবার (১ই নভেম্বর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা শাখার পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ আনোয়ারুল হক ও সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন শিবলুর সিদ্ধান্তে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোঃ গিয়াস উদ্দিনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়ন এর যুবদল কর্মী আবদুর রহিমকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের কোনো কর্মকাণ্ডে বা সাংগঠনিক দায়িত্বে তিনি ভবিষ্যতে অংশ নিতে পারবেন না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দলীয় আদর্শ ও নীতির পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বহিষ্কারের বিষয়টি স্বীকার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক শাহনেওয়াজ মজুমদার বলেন, আব্দুর রহিমকে কনকাপৈত ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক হিসেবে প্রচার করা হলেও তিনি মুলত: কনকাপৈত ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করেছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদল।

উল্লেখ্য আব্দুর রহিমকে গত বুধবার (২৯শে অক্টোবর) ভোররাতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর একটি টিম আটক করে। এসময় তার নিকট থেকে ২৬৬৪পিস ইয়াবা, ২টি মোবাইল, নগদ ২লক্ষ ২১ হাজার ৬’শত ২০ টাকা উদ্ধার করা হয়। আটককৃত আবদুর রহিম কনকাপৈত ইউনিয়নের করপাটি গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।