All posts by jitu

কুমিল্লায় ফলের দোকানে ভোক্তা অভিযান, ৬ প্রতিষ্ঠানকে ২৪ হাজার টাকা জরিমানা

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লা নগরীতে ফলের বাজারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানে অভিযান চালিয়ে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৪ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে নগরীর কান্দিরপাড়, পুলিশ লাইনস ও ঝাউতলা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. কাউছার। এ সময় জেলা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা করে।

অভিযানে ফল, ডিম, সিলিন্ডার গ্যাসসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য ও বিক্রয় কার্যক্রম তদারকি করা হয়। এ সময় মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, অতিরিক্ত দামে ফল বিক্রি এবং ক্রয়ের ভাউচার দেখাতে না পারাসহ বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ছয়টি ফলের দোকানকে জরিমানা করা হয়।

জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মিজানের ফল দোকানকে ৫ হাজার, মায়ের দোয়া ফল বিতানকে ৫ হাজার, জাহির ফল দোকানকে ৩ হাজার, হোসেন ফল দোকানকে ৩ হাজার, গাজীপুর ফলের দোকানকে ৩ হাজার এবং মাইশা ফলের দোকানকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ জরিমানা করা হয়। সব মিলিয়ে ছয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে ২৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কুমিল্লায় কারিগরি শিক্ষা মেলা ও প্যানেল ডিসকাশন: ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমি লিংকেজ জোরদার করার তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেইনিং ইন্সটিটিউশন ফোরাম (টিভিইটি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার সমাপনী দিনে ‘কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, পেশাগত স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান সুযোগ বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল ডিসকাশন অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পুরোনো কারিকুলাম দিয়ে বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক জব মার্কেটে টিকে থাকা অসম্ভব। বেকারত্ব দূর করতে এবং যুবসমাজকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে অবিলম্বে শিক্ষাব্যবস্থায় ইন্ডাস্ট্রি একাডেমি লিংকেজ বা শিল্প সংযোগ জোরদার করার ওপর তারা জোরালো তাগিদ দেন।

প্যানেল ডিসকাশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন পিএসসি সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম, সাবেক সচিব ও ডেসকো চেয়ারম্যান ড. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া এবং ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট এর অধ্যক্ষ ড. প্রকৌশলী মো: শাখাওয়াত আলী। প্যানেল ডিসকাশনটি অত্যন্ত সফলভাবে মডারেট করেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোঃ তারিকুল ইসলাম চৌধুরী।

আলোচনায় ঢাকা টেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ ড. প্রকৌশলী মো. শাখাওয়াত আলী বলেন, বর্তমানের আধুনিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতে দ্রুত আউটডেটেড হয়ে যায়। তিন বছর আগের কারিকুলাম দিয়ে টেকনোলজির ইতিহাস শেখানো সম্ভব হলেও বর্তমান প্রযুক্তি শেখানো সম্ভব নয়। তাই শুধু সার্টিফিকেটমুখী শিক্ষা না বাড়িয়ে প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।
সাবেক সচিব ও ডেসকো চেয়ারম্যান ড. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণের চাহিদা নিরূপণ করতে হবে এবং বর্তমান প্রজন্মকে শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে। স্কিল মিসমেজের কারণে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্কিল বেইজড এডুকেশন মেথড তৈরি না করলে বেকারত্ব ও সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেন, কারিকুলাম তৈরির সময় একাডেমি ও ব্যবহারিক খাতের ব্যবধান ঘোচাতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) এ যুগে কারিকুলাম অবশ্যই প্রযুক্তিভিত্তিক করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে তিন দিন ক্লাস এবং বাকি তিন দিন ইন্ডাস্ট্রিতে হাতে-কলমে কাজের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব করেন, যাতে পড়াশোনা শেষ করার আগেই শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।

সমাপনী বক্তব্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানসিকতা পরিবর্তনের পাশাপাশি টেকনিক্যাল ও জেনারেল শিক্ষার সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রয়োজন। ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রির মধ্যকার বিদ্যমান ব্যবধান দূর করে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ বাড়াতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন যে, বেসরকারি চাকরিতে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি নয়, বরং প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

তিতাসে আওয়ামীলীগ নেতা সাইদুর রহমান গ্রেফতার

জাকির হোসেন হাজারী:

কুমিল্লার তিতাসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান ভুইঁয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার ( ৩সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে উপজেলার সদরের কড়িকান্দি গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৪ সালের ৪ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র -জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এজাহার নামীয় আসামি ছাইদুর রহমান । ওই মামলায় গ্রেফতার এড়াতে তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক বলেন,
বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে ছাত্র -জনতার উপর হামলা ঘটনায় তিতাস থানায় দায়ের কৃত মামলার এজাহার নামীয় আসামি ছাইদুর রহমান গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ রবিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।

বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে দক্ষতা থেকে কর্মসংস্থানের পথে গৌরীপুরের নারীরা

স্টাফ রিপোর্টার:

নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক সংকটে পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন মরিয়ম আক্তার রিয়ার। গৌরীপুরের স্থানীয় একটি মাদরাসায় আলিম পড়ছেন তিনি। বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। কৃষিকাজের সীমিত আয়ে সংসারের ব্যয় মেটানো যেখানে কঠিন, সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করে পরিবারকে সহযোগিতা করার ইচ্ছা থেকেই সেলাই শেখার উদ্যোগ নেন রিয়া।

তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নতুন সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে রিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি সেলাই মেশিন। এখন পড়াশোনার পাশাপাশি ঘরে বসে সেলাইয়ের কাজ করে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর। পরিবারের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎও গড়ে তুলতে পারবেন বলে আশাবাদী রিয়া।

রিয়ার মতো কাকলী রানী দাসের জীবনেও এই সেলাই মেশিন এসেছে নতুন আশার বার্তা নিয়ে। মা-বাবাকে হারিয়েছেন তিনি। পাঁচ ভাই-বোনের পরিবারে একজন ছাড়া বাকি সবাই বেকার। দীর্ঘদিন ধরে অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করে আসা কাকলীর জন্য ঘরে বসে কাজ করে আয় করার সুযোগটি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া সেলাই মেশিনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি।

মরিয়ম ও কাকলীর জীবনের গল্প আলাদা হলেও তাঁদের প্রত্যাশা এক—অভাবের কাছে পরাজিত না হয়ে নিজের শ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎকে বদলে দেওয়া। তিন মাসের প্রশিক্ষণের পর হাতে পাওয়া সেলাই মেশিন তাঁদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নতুন একটি দরজা খুলে দিয়েছে।

সম্প্রতি গৌরীপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জীবনসংগ্রামে এগিয়ে চলা ২০ জন অসচ্ছল নারীর হাতে সেলাই মেশিন ও একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। সেলিম আল রাজের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শংকর ঘোষ পিলু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক, বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ও শুভসংঘ প্রধান ইমদাদুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার, গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. হারুনুর রশিদ, গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলী আকবর আনিছ, গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি বেগ ফারুক আহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি কাজী আব্দুল্লাহ আল আমান, সাবেক আহ্বায়ক রইছ উদ্দিন, নান্দাইলের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান কামু, গৌরীপুর লেখক সংঘের সাধারণ সম্পাদক পলাশ আজহারসহ আরও অনেকে।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার উদ্যোগটি সময়োপযোগী। একটি সেলাই মেশিন একজন নারীর আত্মনির্ভরতার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে তাঁরা ঘরে বসে আয় করার সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবেন। নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার এ ধরনের উদ্যোগ সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার বলেন, অসচ্ছল নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়ার উদ্যোগটি মহৎ ও প্রশংসনীয়। একটি সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, এটি একজন নারীর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এবং পরিবারের পাশে থাকার সুযোগ তৈরি করে। প্রশিক্ষণের পর তাঁদের হাতে মেশিন তুলে দেওয়ায় উদ্যোগটি আরও অর্থবহ হয়েছে।

প্রধান অতিথি ইমদাদুল হক মিলন বলেন, দরিদ্র পরিবারের নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে শুধু সেলাই মেশিন দেওয়া নয়, এর মাধ্যমে তাঁদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পেলে একজন নারী যেমন নিজের পরিবারের জন্য আয় করতে পারেন, তেমনি সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বসুন্ধরা শুভসংঘ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং মানবিকতার শিক্ষা দেয়।

সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে মেশিন হাতে পাওয়া ২০ নারীর জন্য এ উদ্যোগ তাই কেবল একটি উপহার পাওয়ার ঘটনা নয়; বরং দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আয় করার এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে তোলার একটি নতুন সম্ভাবনার সূচনা।

সুপার সেল কার বাজারে নতুন গাড়ির সঙ্গে মিলছে রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়িও

স্টাফ রিপোর্টার:

ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া এবং গাড়ির বাজারে বাড়তি আগ্রহের কারণে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত ‘সুপার সেল কার বাজার’-এর সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে প্রতি শুক্রবারের এ আয়োজন চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত।

প্রতি শুক্রবার আইসিসিবিতে বসছে গাড়ি কেনাবেচার এ বিশেষ বাজার। টানা চার সপ্তাহের সাড়া পাওয়ার পর গতকাল শুক্রবার পঞ্চম সপ্তাহেও বসে ‘সুপার সেল কার বাজার’। এবার মেলায় নতুন সংযোজন হিসেবে যুক্ত হয়েছে এশিয়ান ইমপোর্ট’সের আমদানি করা নতুন গাড়ি। নতুন গাড়ির পাশাপাশি রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি নিয়েও ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়তে দেখা গেছে।

উইজার্ড শোবিজ ও আইসিসিবির যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া এ কার বাজার এতদিন প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলত। আয়োজকরা জানান, একই স্থানে নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি দেখা এবং কেনাবেচার সুযোগ থাকায় আয়োজনটি ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তাঁদের বাড়তি সাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাজারের সময় আরও এক ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

‘সুপার সেল কার বাজারে’ প্রবেশ করতেই দেখা যায় বিভিন্ন মডেল ও ব্র্যান্ডের সারি সারি গাড়ি। একদিকে রয়েছে নতুন গাড়ি, অন্যদিকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। আরেক অংশে রাখা হয়েছে ব্যবহৃত গাড়ি। এসব ব্যবহৃত গাড়ির অনেকগুলোই আগে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। পুরনো গাড়ি বিক্রি করে নতুন গাড়ি কেনার পরিকল্পনা থেকেই মালিকরা এসব গাড়ি বাজারে এনেছেন।

মাত্র ১২৭টি গাড়ি নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই বাজারে পঞ্চম সপ্তাহে গাড়ির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৬০টিতে। ফলে একই জায়গায় বিভিন্ন ধরনের গাড়ি দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা।

গতকাল বাজার ঘুরে দেখা যায়, কেউ নতুন গাড়ির খোঁজ করছেন, আবার কেউ ব্যবহৃত গাড়ি কেনার আগে এর বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করছেন। পছন্দের গাড়ি চূড়ান্ত করার আগে অনেক ক্রেতাকেই একাধিক গাড়ির মডেল, দাম, বৈশিষ্ট্য ও সুযোগ-সুবিধা তুলনা করতে দেখা যায়। এবারের আয়োজনে সাড়ে ছয় লাখ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা পর্যন্ত দামের গাড়ি রয়েছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন অফারও দিচ্ছেন বিক্রেতারা।

এশিয়ান ইমপোর্ট’সের কর্মকর্তারা জানান, ক্রেতাদের চাহিদা ও পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে এবার মেলায় নতুন ইভি কার যুক্ত করা হয়েছে। জাপানি ও চায়নিজ—দুই ধরনের ইভি কারের পাশাপাশি রিকন্ডিশন্ড গাড়িও পাওয়া যাচ্ছে।

আইসিসিবির ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান মোল্লা বলেন, গত চার সপ্তাহের সফল আয়োজনের পর এবার পঞ্চম সপ্তাহে চলছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। এরই মধ্যে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল ৩৫০টিরও বেশি গাড়ি মেলায় এসেছে। আগের চার সপ্তাহের তুলনায় এবার ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি ও আগ্রহ বেশি হওয়ায় মেলার সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

এক ছাদের নিচে নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি দেখার পাশাপাশি সরাসরি কেনাবেচার সুযোগ থাকায় ‘সুপার সেল কার বাজার’ ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য গাড়ি কেনাবেচার একটি বড় আয়োজন হিসেবে ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে।

মুরাদনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুর, ইউপি সদস্যসহ আহত ৬

মুরাদনগর প্রতিনিধি:

কুমিল্লার মুরাদনগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা, পাল্টা ধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় ইউপি সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও যুবদলের নেতাসহ অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামের সৌদিয়াপাড়া স্টেশন মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওমর আলী (৭০), ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো: জিয়াউর রহমান (৩৫), ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম (৩৭), কোরবানপুর গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে আমির হোসেন (৩৮), দানু মিয়ার ছেলে আল আমিন (৪৮) ও শাহ জাহানের ছেলে রুবেল (২৮)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কোরবানপুর গ্রামের ৩ ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার রাতে বাঙ্গরা বাজার থানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে জিয়াউর রহমান ও রেজাউল করিমকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ৩নং ওয়ার্ডের লোকজনের বিরুদ্ধে।
এর জের ধরে শনিবার সকালে জিয়াউর রহমান ও রেজাউল করিমের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কোরবানপুরের সৌদিয়াপাড়া স্টেশন মোড়ে হামলা চালায়। এ সময় আমির হোসেনের মুখে দা দিয়ে আঘাত করা হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে ইউপি সদস্য ওমর আলী ও আল আমিনকেও মারধর করা হয়। এ সময় হামলা করতে আসা রুবেল নামের এক যুবকও আহত হয়।
পরে ৩নং ওয়ার্ডের লোকজন পাল্টা ধাওয়া দিলে হামলাকারীরা সরে যায়। খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে হামলার কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রনি অভিযোগ করেন, জিয়াউর রহমান মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। শুক্রবার সন্ধ্যায় মাদক বিক্রির সময় স্থানীয় মাদকবিরোধী সংগঠনের লোকজন তাকে ও রেজাউল করিমকে মারধর করেন। এ সময় ৩নং ওয়ার্ডের দুই যুবক উপস্থিত থাকায় শনিবার সকালে জিয়াউর রহমান ও রেজাউল করিমের পক্ষের লোকজন হামলা চালায় বলে দাবি করেন তিনি। হামলায় বাড়িঘর ও দোকানপাট থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগও করেন রনি।

অন্যদিকে, জিয়াউর রহমান তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে রেজাউল করিমকে সঙ্গে নিয়ে থানায় যাওয়ার পথে ৩নং ওয়ার্ডের কয়েকজন উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন। রাতে থানার কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই বাঙ্গরা বাজার থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।

পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুকলাল দেবনাথ বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য আগামী মঙ্গলবার দুই পক্ষকে নিয়ে বসার কথা ছিল। এর মধ্যেই আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.কে.এম কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও কারিগরি শিক্ষায় দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: কৃষিমন্ত্রী হাজী ইয়াছিন

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কৃষিকাজে কোনো লজ্জা নেই। মাঠে যেতে হবে, নিজের ফসল নিজেকেই উৎপাদন করতে হবে। সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ ইয়াছিন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউশন ফোরাম (টিভিইটি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং উদ্ভাবন’ শীর্ষক সেমিনারে কৃষিমন্ত্রী বলেন, “আমরা গরুর দুধ খাই, মাংস খাই, তাহলে গরুর গোবর ফেলতে কিসের লজ্জা? কৃষিকাজকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের নিজেদের উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”

বাংলাদেশের কৃষি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম উর্বর অঞ্চল। এ দেশের মাটি, বাতাস, আলো ও বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ এবং মানুষের পরিশ্রম কৃষিকে এগিয়ে নেওয়ার বড় শক্তি। তবে ফসলে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় কৃষকদের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আগামীর প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে এবং নিজেদের সুস্থ রাখতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পৃথিবীতে খাদ্যের অভাব না থাকলেও নিরাপদ খাদ্যের (সেফ ফুড) বড় ঘাটতি রয়েছে। তাই কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা ও সরকারের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষিপণ্যকে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করবে—এমন স্বপ্ন দেখছে সরকার।

তিনি আরও বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো কাঁচা মরিচ, গাজর ও টমেটোর মতো কৃষিপণ্য আমদানি করতে হয়। তবে উৎপাদন বাড়াতে পারলে একসময় এসব পণ্য আর আমদানি করতে হবে না, বরং বাংলাদেশই রপ্তানি করতে পারবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছুটির দিনে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে সহযোগিতা করছে—এমন দৃশ্য তাঁকে আশাবাদী করেছে বলেও জানান কৃষিমন্ত্রী।

এর আগে মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন স্টল ও শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ঘুরে দেখেন কৃষিমন্ত্রী। এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন কুমিল্লা কৃষি ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ পরমানন্দ গোস্বামী।

এ ছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা টাউনহলের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল কবীর, কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিউল আলম রায়হান, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. জামাল নাছের, লিবারেল আর্টস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আলী হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

বুড়িচংয়ে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনে পুড়ল বসতঘর

মুহাম্মদ রকিবুল হাসান রনি:

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে গভীর রাতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট এই আগুনে ঘরের ভেতরের সমস্ত আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এতে আনুমানিক ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।

শুক্রবার রাত আনুমানিক ৩টায় উপজেলার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড আরাগ আনন্দপুর মধ্যপাড়া এলাকার জামাল মেম্বারের বাড়িতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘরটি ওই এলাকার বাসিন্দা এরশাদের।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গভীর রাতে হঠাৎ করেই বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘুমন্ত মানুষ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের শিখা দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। চিৎকার শুনে চারপাশের এলাকাবাসী দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে প্রতিবেশীদের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ততক্ষণে বসতঘরের সমস্ত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান।

কষ্টের উপার্জনে গড়া সম্পদ এক মুহূর্তেই হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত এরশাদ। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় সর্বস্ব হারিয়ে তিনি জানান, বিদ্যুৎ শর্ট সার্কিট থেকে আমার সম্পূর্ণ ঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন আমি একবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।

ঘটনার পর স্থানীয় প্রতিনিধিরা দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাছের মুন্সী বলেন, পৌরসভার স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এরশাদের ঘরে গতকাল রাতে বিদ্যুৎ শর্ট সার্কিট থেকে ভয়াবহ আগুন লাগে এবং বসতঘরটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যদি খবর পাওয়ার পর সঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাতে পারতেন, তবে হয়তো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কম হতো।

কুমিল্লায় দুই কিশোর গ্যাংয়ের ৪ শীর্ষ সদস্য গ্রেপ্তার

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে আলোচিত দুই গ্যাং ‘টিম RAW’ ও ‘Crime Setup’-এর চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার ও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ শনিবার জেলা পুলিশের এক প্রেস রিলিজ মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফর রহমান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, ‘টিম RAW’-এর সদস্য ইমরান হোসেন রতন (১৯) ও সাইফুল ইসলাম (২০) এবং ‘Crime Setup’-এর সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) ও রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’ (২৪)।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইমরান হোসেন রতনের বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে ৯টি এবং সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ১০টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, সাব্বির ও রবিউল ইসলাম নবীর বিরুদ্ধে পূর্বের একটি করে মামলা রয়েছে।

কুমিল্লা জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশনায় গত ১০ দিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে চলছে চিরুনি অভিযান।

পুলিশের দাবি, এ সময়ে সন্দেহভাজন দুই হাজারের বেশি কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আর অপরাধে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় অনেককে পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জেলা পুলিশের ভাষ্য, চলমান অভিযানের কারণে কিশোর গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতাদের অনেকে আত্মগোপনে চলে যায়। তবে অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দুই গ্যাংয়ের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী এবং কিশোরদের অপরাধে জড়িত করার সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো গ্যাং বা অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। কিশোর গ্যাং নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পাশাপাশি সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধু-বান্ধব ও কার্যকলাপের বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং লিডার রতনসহ আটক ৩৬৩

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে এবার পুলিশের জালে উঠেছে আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনসহ ৩৬৩ জন। গতকাল শুক্রবার মাগরিবের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া বিভাগের মুখপাত্র মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও উঠতি বয়সী বখাটেদের উৎপাতের অভিযোগ রয়েছে এমন বিভিন্ন স্থান চিহ্নিত করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে নগরী ও জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের পাশাপাশি গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অংশ নেয়। আটক ৩৬৩ জনের মধ্যে রতনও রয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ জেলার প্রতিটি থানার আওতাধীন যেসব এলাকায় কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে, সেসব স্থানকে অভিযানের আওতায় আনা হয়। অভিযানে ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।