All posts by jitu

বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিবেটিং সোসাইটির ১ম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ ঘোষণা সভাপতি মোঃ শরীফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শাহনূর কিবরিয়া সুজন

স্টাফ রিপোর্টার:

সুস্থ, শালীন, জ্ঞানভিত্তিক ও যুক্তিনির্ভর সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল জাতীয় পর্যায়ের বিতর্ক সংগঠন ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিবেটিং সোসাইটি (বিএনডিএস)’। শুক্রবার (০২ অক্টোবর) এক আড়ম্বরপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটির ১ম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ, পরিচালক পর্ষদ এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট বিতার্কিক ও সংগঠক মোঃ শরীফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন শাহনূর কিবরিয়া সুজন।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে রয়েছেন— শরীফ হোসেন, রিফাক আহম্মেদ, গোলাম কিবরিয়া, কাইয়ূম হোসেন, মোঃ ইস্রাফিল, মোঃ শরীফুল ইসলাম, আব্দুল কাইয়ূম (শিপন), আব্দুল কাদির (তারেক) এবং শাহনূর কিবরিয়া (সুজন)।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিতর্ক কেবল মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলা কিংবা কোনো ট্রফি অর্জনের প্রতিযোগিতা নয়; বিতর্ক হলো চিন্তার শৃঙ্খলা, ভিন্নমতকে শ্রদ্ধা জানানোর শিক্ষা এবং সত্য অনুসন্ধানের এক নিরন্তর অনুশীলন। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল—দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যুক্তির আলো ছড়িয়ে দিয়ে একটি যুক্তিবাদী নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলাই এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য।

নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী পরিষদে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আবদুল কাইয়ুম শিপন। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন আবদুল কাদের তারেক, ডাঃ আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ ও রিয়াজ হোসাইন। সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন নুসরাত জাহান নিশি। এছাড়া অর্থ সম্পাদক পদে ফারহান শরীফ, ক্লাব বিষয়ক সম্পাদক পদে জাফরিন তাসনীম, দপ্তর সম্পাদক পদে সাবিকুন্নাহার হাফসা, অনুষ্ঠান সম্পাদক পদে মাহিদয়াত মজুমদার জিবা, জনসংযোগ ও মিডিয়া সম্পাদক পদে মুনতাসীর মাহাদী এবং প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে মো: রিমন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

পাশাপাশি সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় ও বিতর্কের বিভিন্ন ধারার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী পরিচালক পর্ষদ ঘোষণা করা হয়। পর্ষদে অর্থ ও অডিট পরিচালক হিসেবে মোঃ কাইয়ূম হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক পরিচালক হিসেবে মতিউর রহমান সবুজ, আন্তর্জাতিক বিতর্ক পরিচালক হিসেবে আবু হানিফ (জুয়েল), মাদরাসা বিতর্ক পরিচালক হিসেবে হানিফ সিরাজী, মেডিকেল কলেজ বিতর্ক পরিচালক হিসেবে ডাঃ সিফাত সাহেল, স্কুল বিতর্ক পরিচালক হিসেবে আবু বকর সিদ্দিক আকাশ, কর্মশালা পরিচালক হিসেবে আনোয়ারুল আজিম, মিডিয়া পরিচালক হিসেবে বিল্লাল হোসেন রাজু এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক পরিচালক হিসেবে টি এম তানজিমুল হক মনোনীত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনডিএস-এর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে জানানো হয়, দেশব্যাপী বিতর্কচর্চার সম্প্রসারণ, বিতার্কিক ও বিচারকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজন, জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা পরিচালনা এবং বিতর্ক বিষয়ে গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রম পরিচালনা করবে সংগঠনটি। এছাড়া দেশের সকল বিতর্ক সংগঠনের যৌথ সহযোগিতায় একটি ইতিবাচক ও সুস্থ বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “ব্যক্তির চেয়ে সংগঠন এবং পদের চেয়ে দায়িত্বই হবে আমাদের প্রধান পরিচয়। বিতর্কের মঞ্চে কণ্ঠস্বর জোরালো হলেও যেন ভাষা মার্জিত থাকে এবং যুক্তির তীব্রতার মধ্যেও যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় থাকে—এমন একটি পরিবেশ আমরা দেশের বিতর্কাঙ্গনে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আগত বিতার্কিক, বিচারক, প্রশিক্ষক, শুভানুধ্যায়ী এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বসুন্ধরাবাসীর কল্যাণে নতুন অফিস, যুক্ত হচ্ছে আরও সেবা

স্টাফ রিপোর্টার:

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের জন্য সেবা কার্যক্রম আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নতুন কার্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যালয়টির উদ্বোধন করা হয়।

নতুন এ কার্যালয়ের মাধ্যমে সোসাইটির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতেই সোসাইটি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে অ্যাম্বুল্যান্স সেবা চালু করা হয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে বাসিন্দারা এ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে বাসিন্দাদের ওষুধ সংগ্রহ করতে সমস্যায় পড়তে হয়। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাসায় বাসায় জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ওষুধ দ্রুত পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহ থেকে এ সেবা কার্যকর হবে বলেও জানান তিনি।

সোসাইটির মহাসচিব ক্যাপ্টেন (অব.) শেখ এহসান রেজা বলেন, বসুন্ধরার বাসিন্দাদের কল্যাণ এবং তাদের জন্য সেবার মান উন্নত করাই বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। নতুন কার্যালয়ের মাধ্যমে সোসাইটির কর্মকাণ্ড আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, নতুন অফিস থেকে বাসিন্দাদের বিভিন্ন অভিযোগ ও সেবাসংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কল্যাণমুখী আবাসিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সোসাইটি কাজ করে যাবে। পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

শেখ এহসান রেজা জানান, বাসিন্দাদের জন্য অ্যাম্বুল্যান্স সেবার পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা জরুরি ওষুধ ডেলিভারি এবং ইউটিলিটি সেবার আওতায় প্লাম্বিং ও ইলেকট্রিশিয়ান সেবা চালু করা হয়েছে। এসব সেবা সহজে পাওয়ার জন্য একটি কল সেন্টারও চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে সোসাইটির সব সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বাসিন্দারা ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে সোসাইটির নির্বাহী সহসভাপতি কাজী দিদার আহম্মেদ, অর্থ সম্পাদক ইমরুল হাসানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সোসাইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন কার্যালয়কে কেন্দ্র করে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের সেবাদান কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত ও গতিশীল করা হবে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের বিভিন্ন অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমস্যার কার্যকর সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

দেবিদ্বারে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে চাচা-ভাতিজার হামলায় একজন নিহত

দেবিদ্বার প্রতিনিধি:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে চাচা-ভাতিজার হামলায় শফিকুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার বারুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শফিকুল ইসলাম বারুর গ্রামের মৃত মহাকাজীর ছেলে। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশ কাটাকে কেন্দ্র করে শফিকুল ইসলামের সঙ্গে নিশাত (২২) ও লিমন (৪০)-এর বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা দা ও ছুরি দিয়ে শফিকুল ইসলামকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযুক্ত নিশাত বারুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে এবং লিমন মৃত জয়নাল আবেদিনের ছেলে। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণে কুমিল্লার মহাসড়কজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ

হাবিবুর রহমান মুন্না:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী সফর উপলক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ১০৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তাকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে সড়কপথে ফেনীর উদ্দেশে রওনা হন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন স্থানে ঢোল-বাদ্য বাজিয়ে নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখা ও শুভেচ্ছা জানাতে সকাল ৯টা থেকেই মহাসড়কের উত্তর পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সারিবদ্ধভাবে অবস্থান নেন।

দাউদকান্দি এলাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সংগঠনের সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। সেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চান্দিনা এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আতিকুল ইসলাম শাওনের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন।

মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নিমসারের কলেজের পূর্বপ্রান্তেও স্থানীয় সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানানোর জন্য অবস্থান নেন।

এদিকে, নিমসার জুনাব আলী কলেজ গেট থেকে পশ্চিম দিকে মিল গেট পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মো. গোলাম সারোয়ারের পক্ষ থেকে বুড়িচংয়ের মোকাম ইউনিয়নের তিন সহস্রাধিক বিএনপি কর্মী-সমর্থক সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান। এ সময় তারা নিমসার জুনাব আলী কলেজ জাতীয়করণের দাবিও জানান।

পদুয়ার বাজার ও আলেখারচর এলাকায় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং কুমিল্লা মহানগর বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অবস্থান নেন। দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে মহাসড়কের আশপাশের এলাকা। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বেও বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন।

এদিকে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু ও সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মহাসড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানানোর প্রস্তুতি নেন।

এছাড়া সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম অংশেও চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোটের বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মহাসড়কের পাশে অবস্থান নেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশজুড়ে সকাল থেকেই তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

কুবির কর্মকর্তা খলিলের উপর সন্ত্রাসী হামলা, যুবলীগ নেতা শাহজালালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খলিলুর রহমানের উপর হামলা হয়েছে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ব্যাপারে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় কোটবাড়ি চাঙ্গিনী এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে শাহজালাল আলালকে অভিযুক্ত করে খলিলুর রহমান একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।

৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে ৮ টার দিকে কোটবাড়ি এলাকার চাঙ্গিনী দক্ষিণ মোড়ে হাফেজ মনির হোসেনের হার্ডওয়্যার দোকানে বসে থাকা অবস্থায় কোন উস্কানি ছাড়াই অতর্কিত হামলা চালায় শাহজালাল আলাল।

খলিলুর রহমান লিখিত অভিযোগে বলেন, আমাকে সন্ত্রাসী আলাল হার্ডওয়ার দোকান থেকে কোদালের ডাট নিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। তিনি জানান, এতে আমি হাঁটুতে প্রচন্ড ব্যাথা পাই। খলিলুর রহমান আরো জানান, আলাল গালিগালাজসহ কসম করে সেখানে চিৎকার দিয়ে বলেন আমি তোকে জানে মেরে ফেলবো। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, শাহজালাল আলাল একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও কুমিল্লার সন্ত্রাসীদের গডফাদার খ্যাত আজি আখম বাহাউদ্দিন বাহারের অন্যতম সহযোগী। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে পুলিশ গ্রেফতার করছে না এবং কোন পদক্ষেপও নিচ্ছে না।

কে এই শাহজালাল!
এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী তিনি। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বাহিনীর দুর্ধর্ষ ক্যাডার। কুমিল্লা মহানগরীর কোটবাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ বাহিনীর গ্যাং লিডার। সদরের সাবেক এমপি হাজী আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারসহ একই মামলায় তাকে আসামি করা হয়। ২৪ এর ৪ আগস্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আলেখারচর বিশ্বরোডে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে শাহজালাল আলালের নেতৃত্বে ককটেল ফাটিয়ে ত্রাসের সৃষ্টি করে এবং ব্যাপকগুলি বর্ষণ করে। হাজি বাহারের নির্দেশে শাহজালাল আলাল এ হামলা চলায়। এই ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানাধীন দায়েরকৃত মামলা নম্বর ৬৮২৪/ তারিখ ০৮/০৯/২০২৪। অত্র অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না অদৃশ্য কারণে।

লালমাইয়ে বিক্ষোভ মিছিল থেকে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার লালমাইয়ে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে বিএনপি নেতা মাওলানা জাকির হোসেনের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে এ ঘটনা ঘটে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রের দাবি, মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সমর্থিত বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি বাগমারা দক্ষিণ বাজারে পৌঁছালে মিছিল থেকে কয়েকজন যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালান। এতে চেয়ার, টেবিল, ব্যানার-পোস্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ আলী মীর পিন্টু অভিযোগ করেন, সিসিটিভি ফুটেজে হামলায় যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, বিএনপি কার্যালয়ের তালা ভেঙে কয়েকজন ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত এ বিষয়ে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে লালমাই বাজার এলাকার একটি খাবার হোটেলে মাওলানা জাকির হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আমড়াতলী ইউনিয়নে ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ, জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের ভুবনঘর আবুল হাসেম আব্বাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার সকালে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে ভুবনঘর গ্রামের সহস্রাধিক নারী-পুরুষ জড়ো হয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা আগের স্থানেই ভোটকেন্দ্র পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভুবনঘর আবুল হাসেম আব্বাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ভোটগ্রহণ হয়ে আসছে। ওই কেন্দ্রে এলাকার প্রায় ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার লোক ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসছেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সেখানে বিভিন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তাদের দাবি, আসন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রটি ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ভোটারদের দুর্ভোগ বাড়বে। বিশেষ করে বয়স্ক নারী-পুরুষসহ দূরের ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে।

স্থানীয়রা আরও বলেন, আবুল হাসেম আব্বাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত কক্ষ, বড় ভবন ও বিশাল মাঠ রয়েছে। সেখানে ভোটারদের দাঁড়ানো, ভোটগ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনের পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। বিপরীতে প্রস্তাবিত ভুবনঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জায়গা তুলনামূলক কম।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আমড়াতলী ইউনিয়নের মোতালেব,ফিরোজ,কামাল হোসেন মেম্বার,
মো: আবুল হোসেন, হাজী সফিক মেম্বার,মিনু বেগম,
মর্জিনা আক্তার,মো: ইয়াছিন,মো: দুলাল মিয়া,জলিল মিয়া,বাবুল মিয়া,আলম মিয়া,হানিফ হোসেন,আক্তার, মাহবুব মিয়া,মানিক মিয়া প্রমুখ।

মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিতে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের স্বার্থে ভুবনঘর আবুল হাসেম আবাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয়কে পুনরায় ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ফের রাতভর অভিযানে আটক ৩৭৯ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লা জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে রাতভর অভিযানে ৩৭৯ জনকে আটক করেছে থানা ও ডিবি পুলিশ।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটা হতে মধ্যরাত পর্যন্ত কিশোর গ্যাং বিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ১৮টি থানায় জেলা পুলিশের সকল ইউনিট এবং ডিবি পুলিশ একযোগে অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে কুমিল্লা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে এবং প্রত্যেকটি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে, যেখানে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে সেই সকল স্থানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

এই অভিযানে পুলিশ সুপারসহ পুলিশের সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশগ্রহণ করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) লুৎফর রহমান জানান, আটক হওয়া কিশোরদের অপরাধের সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। উঠতি বয়সি কিশোররা যেন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত হতে না পারে সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিতই এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোন নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয় এ বিষয়ে কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ রোধ করতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর।

কুমিল্লায় লিফটের নিচে রংমিস্ত্রির রক্তাক্ত মরদেহ, ৪৮ ঘন্টায়ও মামলা হয়নি,তিন লাখ টাকায় সমঝোতার চেষ্টা!

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা নগরীর হাউজিং এস্টেটের একটি ভবনের ক্যাপসুল লিফটের নিচ থেকে মো. কিরণ মিয়া (৪০) নামে এক রংমিস্ত্রির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর কপাল ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কীভাবে তিনি লিফটের নিচে গেলেন,এ নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য। হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় দুই দিন অতিবাহিত হতে যাচ্ছে, এখনো থানায় মামলা হয়নি।

বিভিন্ন সূত্রমতে, নিহতের পরিবার গরিব হওয়ায় একটি প্রভাবশালী মহল তিন লাখ টাকায় এই ঘটনাটিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। নিহতের পরিবারের দাবি, তাদের মামলা নেওয়া হচ্ছে না।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর কুমিল্লা হাউজিং এস্টেটের ১ নম্বর সেকশনের ‘জনতা ব্যাংক’ নামে পরিচিত একটি ভবন থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত কিরণ মিয়া নগরীর দ্বিতীয় মুরাদপুর এলাকার বাসিন্দা সুন্দর আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,সোমবার সকালে ওই ভবনে রংয়ের কাজ করতে যান কিরণ মিয়া। বেলা ১১টার দিকে নাশতা করার কথা বলে তিনি ভবন থেকে বের হন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

সন্ধ্যার দিকে কুমিল্লা সদর উপজেলা পরিষদের সামনে, কেটিসিসির বিপরীতে অবস্থিত ওই ভবনেও কিরণকে খোঁজা শুরু হয়। একপর্যায়ে ভবনের লিফট পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে লিফটের মেকানিক রেটজিটেক লিমিটেডের কর্মী রাজু ঘটনাস্থলে গিয়ে লিফট খুললে নিচে কিরণ মিয়ার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ঘটনার পর ভবনের দারোয়ান সেখান থেকে চলে গেছেন বলে স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন। তবে কেন তিনি চলে গেছেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘিরে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের পক্ষ থেকে আরও একটি অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁদের ভাষ্য, ভবনের মালিকের ছেলে সায়েমের কাছে পাওনা বেতনের টাকা চাইতে গিয়েছিলেন কিরণ মিয়া। এ সময় তাঁকে থাপ্পড় মারা হয় বলে অভিযোগ তাঁদের।

তবে এই অভিযোগের একাধিকবার মুঠোফোনে এ বিষয়ে সায়েমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভবনের এক বাসিন্দার অভিযোগ,ঘটনার পর ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বাসিন্দা বলেন, ঘটনার সময় বা তার আগে সিসিটিভি চালু ছিল কি না এবং কখন ক্যামেরা বন্ধ হয়েছে,তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে ক্যামেরা কেন বন্ধ ছিল, কখন বন্ধ করা হয়েছে কিংবা এর সঙ্গে কিরণ মিয়ার মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না,এ মুহূর্তে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, ভবনের মালিকের ছেলে শুভ অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘটনার পর তাঁর ভাই সায়েমকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার বিমানবন্দরের দিকে রওনা হন। তবে তাঁদের সঙ্গে কিরণ মিয়ার মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত পুলিশ এখনো জানায়নি।

রেটজিটেক লিমিটেডের কর্মী রাজু বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর তিনি ঘটনাস্থলে যান। তখন ভবনের লোকজন কিরণ মিয়াকে খুঁজছিলেন। লিফটের ভেতরে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, সেটিও দেখা হচ্ছিল। পরে লিফট খুলে নিচে মরদেহ পাওয়া যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা মকবুল বলেন, লিফটটি জেনারেটরের মাধ্যমে চলছিল। একপর্যায়ে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর প্রশ্ন, লিফট কীভাবে বন্ধ হলো এবং কিরণ মিয়া কীভাবে লিফটের নিচে গেলেন—তা তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, নিহত ব্যক্তি দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা দরকার।

ভবনের মালিক খোরশেদ আলম বলেন, আমরা সারাদিন খুঁজেও তাঁকে পাইনি। পরে ধারণা করি, তিনি হয়তো এখানে থাকতে পারেন। এরপর লিফটের নিচে খোঁজ করে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।”

ঘটনাস্থলে থাকা কোতোয়ালি মডেল থানার এএসআই শরীফ আহমেদ বলেন, “বাড়ির মালিক ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তখন সেখানে অনেক লোকজন জড়ো হয়েছিলেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।”

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “নিহতের কপাল ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এটা হত্যাকাণ্ড না। হয়তো লিফট থেকে পড়ে ব্যথা পেয়ে মারা গেছে। নিহতের পরিবার অপমৃত্যু মামলা করলে মামলা নিব।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে রাস্তার কাজ ধীরগতিতে, দুর্ভোগে ৪ হাজার মানুষ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে রাস্তার কাজ ধীরগতিতে, দুর্ভোগে ৪ হাজার মানুষ

 

রিয়াদ হোসাইনঃ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর থেকে খালপাড় হয়ে গজরাপাড়া পর্যন্ত সড়কটির নির্মাণকাজ চলছে ধীরগতিতে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজের ধীরগতিতে হতাশ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। বর্ষায় কাদাপানি আর খানাখন্দে ভরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত চার হাজার মানুষ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সড়কটির নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, যথাযথ তদারকির মাধ্যমে দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকেই এ এলাকার মানুষ একটি ভালো সড়কের জন্য অপেক্ষা করছেন। অবশেষে সড়কটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজের ধীরগতির কারণে তাঁদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হচ্ছে না। বর্ষার আগে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বালু ফেলে রাখায় চলাচলে আরও ভোগান্তি বেড়েছে। বৃষ্টিতে সড়কটি কাদায় একাকার হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া, কৃষকদের ফসল পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে রাস্তার কাজ ধীরগতিতে, দুর্ভোগে ৪ হাজার মানুষ

গজরাপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, ইসলামপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এ সড়ক। এর পাশে রয়েছে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান-মোস্তফা স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাসহ ৮ থেকে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছাড়াও ছোট-বড় ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও কৃষকেরা প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহার করেন।

গজরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মুমিন বলেন, রাস্তার দুরবস্থার কারণে এলাকার মানুষের সামাজিক জীবনেও প্রভাব পড়ছে। ভালো সড়ক না থাকায় অনেক সময় ছেলেমেয়েদের বিয়ের সম্বন্ধও ভেঙে যায়। অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তিনি সড়কটি সঠিকভাবে নির্মাণের দাবি জানান।

ইসলামপুর পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা শুকর আলম বলেন, “বর্ষা আসার আগমুহূর্তে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বালুর স্তূপ ফেলে রাখা হয়। এতে আমাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ বছর ধান কেটে বাড়িতে আনতেও অনেক কষ্ট হয়েছে। ট্রাক্টরে করে বালু ফেলে রাখায় মানুষের হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।”

খালপাড় এলাকার শাহজাহান সিরাজ ও নাজমা বেগম বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে অসুস্থ রোগী নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। বাজার থেকে সদাই নিয়ে বাড়ি ফেরাও কঠিন। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে রিকশাচালকেরা আসতে চান না। এলেও কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিতে হয়। আমরা দ্রুত রাস্তাটির নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় শিশু শিক্ষার্থী ইসরাফিল ইসলাম শান্ত জানায়, একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে কাদাপানি জমে যায়। তখন স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। কাদায় জামাকাপড় ও বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।

গজরাপাড়া উত্তরপাড়ার আমির হোসেন ও আব্দুল বাতেনসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে আমরা এই রাস্তার দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। কত নেতা এলেন, কত নেতা গেলেন, কিন্তু আমাদের রাস্তার দুর্ভোগের অবসান হলো না। এবার রাস্তার কাজ শুরু হলেও ধীরগতির কারণে আমরা হতাশ। সংসদ সদস্য আবুল কালাম ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকিতে দ্রুত এবং মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয় হকার অর্জুন ঘোষ বলেন, “আমরা চাল-ডাল চাই না, চাই একটি ভালো রাস্তা। রাস্তাটি নির্মাণ করা হলে আমাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারব। এতে আমাদের উপার্জন বাড়বে, পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারব।”

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান-মোস্তফা স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, “স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাস্তাটি পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি এলাকাবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর। কিন্তু কাজ শুরুর পর কিছুদিন যেতে না যেতেই ঠিকাদারের লোকজনকে আর দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এভাবে কাজ চলতে থাকলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।”

গজরাপাড়া এলাকার আমান উল্লাহ ও আবু আজম বলেন, “ঠিকাদার আসে, ঠিকাদার যায়, কিন্তু রাস্তাটির নির্মাণকাজ শেষ হয় না। আমরা চাই, সংসদ সদস্য আবুল কালাম ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তদারকিতে অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তাটির কাজ শেষ হোক। কোনোভাবেই যেন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা না হয়।”

এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেন বলেন, ইসলামপুর থেকে খালপাড় হয়ে গজরাপাড়া পর্যন্ত ১ হাজার ৬১৫ মিটার দীর্ঘ ও ১০ ফুট প্রশস্ত সড়কটি পাকা করতে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মদিনা কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বর্ষার কারণে কিছুদিন কাজ করার পর তা বন্ধ রাখতে হয়েছিল। তিনি বলেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপঠিকাদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “বর্ষার কারণে কাজ শুরু করেও বন্ধ রাখতে হয়েছিল। বর্তমানে আবার কাজ শুরু হয়েছে। এখন সাব-বেইজের কাজ চলছে। আশা করছি, আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী দিয়েই কাজ করছি।”

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এখন সড়কটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। এতে কয়েক হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।