All posts by jitu

মুরাদনগরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুই মাদক কারবারি

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানায় অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৬টার দিকে বাঙ্গরা বাজার থানাধীন রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের খানেপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. মোতালেব হোসেন (৩৭)। তিনি রামচন্দ্রপুর আড়ালিয়াকান্দি এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে। অপরজন মো. জিলানী (২৬), রামচন্দ্রপুর খানেপাড়া এলাকার গনি মিয়ার ছেলে।

বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক উদ্ধার ও ওয়ারেন্ট তামিল কার্যক্রম চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মো. নাজিম উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মোতালেব হোসেন ও জিলানীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের রবিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

সদরঘাটে কুমিল্লাগামী ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুজনকে জীবিত উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় সুন্দরবন-১২ লঞ্চের ধাক্কায় কুমিল্লাগামী একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ দুজনসহ মোট ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম।

এর আগে, রোববার (১৯ জুলাই) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী সুন্দরবন-১২ লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যায়। খবর পেয়ে সদরঘাট নদী ফায়ার স্টেশনের একটি উদ্ধারকারী ইউনিট সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানায়, ট্রলারটিতে মোট ১০ জন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আটজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে আরও দুইজন নিখোঁজ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এ তথ্যের ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল নদীতে তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে।

তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান চলাকালে পরে জানা যায়, নিখোঁজ দুই ব্যক্তি দুর্ঘটনার পর সাঁতরে নদীর অপর পারে নিরাপদে উঠতে সক্ষম হন। তবে তাদের কাছে কোনো মোবাইল ফোন না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্য বা ট্রলারের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রথমদিকে তারা নিখোঁজ রয়েছেন বলেই ধারণা করা হয়।

আনোয়ারুল ইসলাম আরও জানায়, পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে তারা ট্রলারের মালিককে নিজেদের নিরাপদে থাকার বিষয়টি জানালে ট্রলারের মালিক দুইজনের নিরাপদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, অন্য কোনো নিখোঁজের অভিযোগ না থাকায় উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। পরে সদরঘাট নদী ফায়ার স্টেশনের উদ্ধারকারী ইউনিট স্টেশনে ফিরে যায়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ট্রলারটি কুমিল্লার উদ্দেশে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক সহযোগিতার ফলে ট্রলারের ১০ আরোহীই জীবিত উদ্ধার অথবা নিরাপদে ফিরে আসেন। এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্ত থেকে মাদক ও ভারতীয় পণ্য উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে মাদক ও ভারতীয় বিভিন্ন চোরাইপণ্য উদ্ধার করেছে বিজিবি।

রোববার (১৯ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা এবং কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া, বুড়িচং ও আদর্শ সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করে।

বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম জানায়, কসবা উপজেলার মনিয়ন্দ, খাদলা ও মাদলা সীমান্ত ফাঁড়ি এবং কুমিল্লার সালদানদী, শশীদল, শংকুচাইল ও বড়জ্বালা সীমান্ত ফাঁড়ির টহলদল স্ব-স্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় পৃথক পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ভারতীয় বাসমতি চাল, চকলেট, বাঁজি, ইজিবাইক, ফুচকা, মেহেদী, গরু, বেবি লোশন, মদ ও বিয়ার উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য ২৪ লাখ ৪৫ হাজার ২৮০ টাকা।

তিনি আরও জানায়, সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, পুশ-ইন, নারী-শিশু পাচার, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযানিক কার্যক্রম এবং গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২ মাদক কারবারি

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ইয়াবা বিক্রির সময় দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ তিন হাজার ১৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- রাজামেহার গ্রামের নুরু ডাক্তার বাড়ির জামাল হোসেনের ছেলে মো. ফয়েজ আহমেদ (৩০) এবং একই গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে ওমর ফারুক (২৮)।

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে নৈশ টহল চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের রাজামেহার হাফেজিয়া মাদরাসার পেছনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ইয়াবা বিক্রির সময় দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ১৫ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ৩ হাজার ১৬০ টাকা জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা পুলিশকে জানায়, তারা গত কয়েক মাস ধরে পার্শ্ববর্তী উখারী গ্রামের আন্তঃজেলা মাদক কারবারি মো. ইব্রাহিমের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে রাজামেহার হাফেজিয়া মাদরাসার পেছনে বিক্রি করে আসছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘গ্রেপ্তার দুজন এবং পলাতক মাদক কারবারি মো. ইব্রাহিমকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লা সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী অভিযানে একটি যানবাহনসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, ব্লাউজ ও ম্যাক্সি জব্দ করেছে (১০ বিজিবি)। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ গীতবাড়ি বিওপির একটি টহলদল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মনতলা এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় একটি যানবাহনসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, ব্লাউজ ও ম্যাক্সি জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ৭৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। উদ্ধার হওয়া মালামাল বিধি মোতাবেক কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে তাদের নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

মাদককারবারিদের ধাওয়া দিলেন কুমিল্লার এমপি

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে দলবদ্ধ হয়ে মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের জমায়েত হওয়ার গোপন খবরে তাদের ধাওয়া দেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসীম উদ্দিন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী আশাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, ভারত সীমান্তের কাছে আশাবাড়ি এলাকায় সড়কের ওপর প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা চলে। স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে তাতে মাদককারবারিরা তাদের ওপর চড়াও হন। এতে ভয়ে আর মুখ খোলেন না কেউ। ওই এলাকায় প্রকাশ্যে মাদকের কারবার যেন একটি চিরাচরিত ঘটনা হয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়দের মাধ্যমে গোপনে মাদক কারবারিদের জমায়েত হওয়ার খবর পান সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন। পরে তিনি তার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে তার সঙ্গে এক সহকারীকে নিয়ে আশাবাড়ি এলাকায় ছুটে যান লুঙ্গি পরেই।

এ সময় আশাবাড়ি সড়কের ওপর ৭-৮টি মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মাদক কারবারিদের জমায়েত দেখতে পান সংসদ সদস্য। পরে তাদের ধাওয়া দিলে হুমড়ি খেয়ে পালিয়ে যান তারা। ধাওয়া খেয়ে পালাতে গিয়ে একটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে যান মাদক কারবারিরা। পরে পুলিশকে ফোন করেন সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে সেই মোটরসাইকেলটি হস্তান্তর করেন তিনি। পুলিশ মোটরসাইকেল নিয়ে আসে থানায়। একইসময়ে আশাবাড়ি সড়কে সন্দেহজনক ঘোরাফেরা করায় নবীনগর উপজেলা থেকে আসা দুই যুবককে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংসদ সদস্য। এ দুই যুবকের সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেল এবং দুই যুববকেও পুলিশকে বুঝিয়েও দেন তিনি। পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই দুই যুবককে ছেড়ে দেয়।

অভিযানের পুরো ভিডিও সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন। মুহুর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য জসীম উদ্দিন জানান, আমার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়াকে মাদকমুক্ত করা। তারই অংশ হিসেবে আমি এলাকায় রাতবিরাতেও মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছি। আমার এলাকায় হয় মাদক কারবারিরা থাকবে, নতুবা আমি থাকবো। মাদকের বিরুদ্ধে আমার জিহাদ চলবে।

বিগত সময়ে দেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার- মনিরুল হক চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, বিগত আওয়ামী সরকারের সময় দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার। এ সেক্টরটি একবারে পঁচে গেছে। এখন শিক্ষাখাতকে বাঁচাতে হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী  তারেক রহমানের সরকার শিক্ষাখাতের আমূল পরিবর্তনের বিষয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে আদর্শ সদর উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমি এডুকেশন পলিসি কুমিল্লা কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করছি। এ কনসেপ্ট সরকারকে দিবো। এ নিয়ে আমি কুমিল্লায় শিক্ষক সমাবেশের আয়োজন করবো। এতে আপনারা প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রতিনিধিরাও অংশ নিবেন। শিক্ষক সমাবেশে শিক্ষা মন্ত্রী ও প্রাথমিক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকবে। ওখানে আপনারা সকল দাবি তুলে ধরবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের উপর অনেক অবিচার করেছে। তারা নানাভাবে বঞ্চনার শিকার। বর্তমান বিএনপি সরকার প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ে ভাবছে, তাদের সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, একজন শিক্ষক পারে ছাত্রকে পরিবর্তন করতে, সুপ্ত মেধাকে বিকশিত করতে। স্কুলে আমি অংকে ফেইল করতাম। আমার স্কুল জীবনে কোরবান আলী স্যার ছিলো। স্যারের নার্সিংয়ে আমি মেট্রিকে অংকে লেটার মার্কস পেয়েছি।

তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে আমি কথা বলেছি, নতুন ডিজি আমাকে জানিয়েছে শিগগিরই বদলির বিষয়টি লোকাল প্রশাসনের হাতে ছেড়ে দিবে।

মতবিনিময় সভায় জহুরেন্নেসা সকরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামশেদ আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন। উপস্থিত ছিলেন উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ সকল প্রাথমিকবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা।

রাত ১টার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে কুমিল্লাসহ ৮ অঞ্চলে

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশের আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে রাত ১টা মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) আবহাওয়া অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে আজ দিবাগত রাত ১টার মধ্যে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার (৫ দিন) আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে, উত্তর ওড়িশা ও তৎসংলগ্ন ঝাড়খণ্ড এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে লঘুচাপ আকারে বর্তমানে বিহার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি দুর্বল হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সঙ্গে মিলিত হতে পারে।

মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ওপর সক্রিয় এবং দেশের অন্যত্র এটি মোটামুটিভাবে সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

এর প্রভাবে আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের ভারি বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে রংপুর বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।

তবে এ সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ষষ্ঠ থেকে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পাবেন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা অনুদান, যেভাবে আবেদন

ডেস্ক রিপোর্ট:

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন চিকিৎসা অনুদান দেবে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

সম্প্রতি ট্রাস্টের উপবৃত্তি শাখা প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ৩১ আগস্ট রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

যেভাবে আবেদন করতে হবে
চিকিৎসা অনুদান পেতে শিক্ষার্থীকে এই লিংকে প্রবেশ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রমাণ হিসেবে জেলা সিভিল সার্জন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার প্রত্যয়নকৃত গুরুতর আহতের চিকিৎসা সনদ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সংক্রান্ত রিপোর্ট এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র আপলোড করতে হবে।

অনুদানের প্রাপ্তির সময়সীমা
ট্রাস্ট জানিয়েছে, আবেদন জমা দেওয়ার তিন থেকে চার মাসের মধ্যে নির্বাচিতদের ব্যাংক হিসাবে অনুদানের অর্থ পাঠানো হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমেও বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।

আবেদনের শর্তাবলি

দুর্ঘটনা ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সময়কাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অর্থবছর বা সর্বোচ্চ ১ বছরের ব্যবধানের মধ্যে হতে হবে। চিকিৎসা মেয়াদে একজন শিক্ষার্থী কেবল একবারই আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষার্থীকে পূর্বের শ্রেণিতে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। অথবা এসএসসি ও এইচএসসি (বা সমমান) পর্যায়ে জিপিএ ৫.০০-এর মধ্যে ন্যূনতম ৩.৫০ এবং স্নাতক পর্যায়ে জিপিএ ৪.০০-এর মধ্যে ৩.০০ প্রাপ্তির কপি আপলোড করতে হবে।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের বার্ষিক আয় ২ লাখ টাকার কম হতে হবে। তবে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সন্তানরা অফিস প্রধানের প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়ে আবেদন করতে পারবেন।
দুর্ঘটনার প্রমাণস্বরূপ জেলা পর্যায়ের সিভিল সার্জন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অথবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কর্তৃক ‘গুরুতর আহত’ মর্মে প্রত্যয়নকৃত চিকিৎসা সনদের স্পষ্ট কপি আপলোড করতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
অনলাইনে আবেদনের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র, জন্মনিবন্ধন সনদ, মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষার্থীর ছবি, স্বাক্ষর এবং শিক্ষার্থী বা তার মা-বাবার সচল অনলাইন ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হবে। ব্যাংক হিসাবের প্রমাণ হিসেবে চেকের পাতা বা ব্যাংক স্টেটমেন্টও আপলোড করতে হবে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নির্দেশনা
শিক্ষার্থী অথবা তার মা-বাবার নামের নিজস্ব অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পূর্ণাঙ্গ নম্বর ও সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। প্রমাণ হিসেবে চেকের পাতা বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট আপলোড করা বাধ্যতামূলক। তবে মা-বাবার অনুপস্থিতিতে বৈধ অভিভাবকের ব্যাংক হিসাব বিবেচনা করা হবে। অসম্পূর্ণ বা ভুল অ্যাকাউন্টের কারণে টাকা বাউন্সড (ফেরত) হলে ট্রাস্ট আর পুনরায় টাকা পাঠাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী আবেদনকালে তালিকায় নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম না পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ইআইআইএন নম্বর উল্লেখ করে ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে আবেদন পাঠাতে হবে। এই আবেদন ডাকযোগে অথবা ad.stipend@pmeat.gov.bd ই-মেইলে পাঠানো যাবে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ আর নয়

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কেবল অতীতের একটি ঘটনা নয়। এটি জাতির পরিচয়, চেতনা ও রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক, ব্যাখ্যা কিংবা রাজনৈতিক অবস্থান আজও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সংসদ, রাজনৈতিক সমাবেশ, টেলিভিশন বিতর্ক থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই ১৯৭১-এর ইতিহাস নতুন করে আলোচিত হচ্ছে। স্বাধীনতার বহু বছর পরে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের কাছেও এটি আর শুধু একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় নয়; বরং সত্য, স্মৃতি ও জাতীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।

এমন বাস্তবতায় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নির্ভুল ও যাচাইকৃত তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটি কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, বরং জাতির ইতিহাসকে নির্ভুলভাবে সংরক্ষণের একটি প্রচেষ্টা। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিতর্কিত হয়েছে। তাই প্রকৃত অবদান রাখা ব্যক্তিদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে একটি গ্রহণযোগ্য তালিকা তৈরির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

যে কোনো রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া। কিন্তু ইতিহাস যখন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়, তখন সত্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এ উদ্যোগের তাৎপর্য বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আরও গভীর।
সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেনি; বরং স্বাধীনতা অর্জনের পদ্ধতি নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অবিভক্ত পাকিস্তান ধরে রাখার প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থানের সঙ্গে মিল ছিল।

ডা. শফিকুর রহমান নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য বলেও উল্লেখ করেন। একইভাবে চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির বিল্লাল হোসেন মিয়াজীও দাবি করেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক ছিলেন। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে মূল্যায়ন করা এক বিষয়, কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান নির্ধারিত হয় তার প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, কর্মকাণ্ড ও ঐতিহাসিক ভূমিকার মাধ্যমে।

এ কারণেই সমালোচকদের বক্তব্য, জামায়াতে ইসলামী এখনো ১৯৭১ সালে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহি করেনি। ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত তথ্য অনুযায়ী, দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আলশামসের মতো বাহিনীর সঙ্গে দলটির বহু নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এসব সহযোগী বাহিনীর বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যা, সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের তৎকালীন শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ কয়েকজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। এসব রায় ব্যক্তিগত অপরাধের বিচার হলেও, ১৯৭১ সালে দলটির নেতৃত্বের একটি অংশের ভূমিকা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক মূল্যায়নকে আরও জোরালো করেছে।

সম্প্রতি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ পাসের মাধ্যমে সংসদ আবারও তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম পার্টি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটিকে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে আইনি স্বীকৃতি বহাল রেখেছে। জামায়াতে ইসলামী এ বিধানের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা, যেমন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমদ, অভিযোগ করেছেন যে স্বাধীনতাবিরোধী অতীত থাকা সত্ত্বেও জামায়াত নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।

গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক দল পরিবর্তিত হতে পারে, তাদের আদর্শেরও রূপান্তর ঘটতে পারে। তবে সেই পরিবর্তনের পূর্বশর্ত হলো অতীত সম্পর্কে সততা ও জবাবদিহি। ইতিহাসকে অস্বীকার বা নতুনভাবে সাজিয়ে কোনো জাতি দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী হতে পারে না। অতীতের ভুল স্বীকার করা মানেই স্থায়ী শাস্তি নয়; বরং তা ইতিহাসের নথিভুক্ত সত্যকে সম্মান জানানোর একটি উপায়।

এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তরুণ প্রজন্মের জন্য। আজকের অধিকাংশ ভোটার মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেননি। তারা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক দলগুলোকে বর্তমান নীতি, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবেন। তবে একই সঙ্গে একটি দলের অতীত এবং সেই অতীত সম্পর্কে তাদের অবস্থান জানা গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যও প্রয়োজনীয়। কারণ, যে দল নিজের প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস নিয়েই স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারে না, তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

এ কারণেই শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন কেবল প্রশাসনিক কাজ নয়; এটি জাতীয় ইতিহাস সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এমন একটি তালিকা ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ কমাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক বয়ানের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক ইতিহাস জানার সুযোগ দেবে।

স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করা প্রজন্ম ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে। ফলে ১৯৭১ সালের সত্য ও স্মৃতি সংরক্ষণের দায়িত্ব এখন ক্রমেই নতুন প্রজন্মের কাঁধে এসে পড়ছে। বাংলাদেশ গণতন্ত্র, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও জাতীয় পুনর্মিলনের পথে এগোতে পারে, কিন্তু সেই যাত্রা কখনোই ঐতিহাসিক সত্য বিসর্জন দিয়ে হওয়া উচিত নয়। আর যতদিন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী তাদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে আত্মসমালোচনা না করবে, ততদিন পর্যন্ত অনেক বাংলাদেশির মনে দলটির প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রশ্ন থেকেই যাবে।