All posts by jitu

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ আর নয়

বিশেষ প্রতিনিধি:

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কেবল অতীতের একটি ঘটনা নয়। এটি জাতির পরিচয়, চেতনা ও রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক, ব্যাখ্যা কিংবা রাজনৈতিক অবস্থান আজও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সংসদ, রাজনৈতিক সমাবেশ, টেলিভিশন বিতর্ক থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই ১৯৭১-এর ইতিহাস নতুন করে আলোচিত হচ্ছে। স্বাধীনতার বহু বছর পরে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের কাছেও এটি আর শুধু একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় নয়; বরং সত্য, স্মৃতি ও জাতীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।

এমন বাস্তবতায় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নির্ভুল ও যাচাইকৃত তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটি কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, বরং জাতির ইতিহাসকে নির্ভুলভাবে সংরক্ষণের একটি প্রচেষ্টা। সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর প্রকৃত শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিতর্কিত হয়েছে। তাই প্রকৃত অবদান রাখা ব্যক্তিদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে একটি গ্রহণযোগ্য তালিকা তৈরির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

যে কোনো রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া। কিন্তু ইতিহাস যখন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়, তখন সত্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এ উদ্যোগের তাৎপর্য বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আরও গভীর।
সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের ১৯৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, জামায়াত বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেনি; বরং স্বাধীনতা অর্জনের পদ্ধতি নিয়ে তাদের আপত্তি ছিল। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অবিভক্ত পাকিস্তান ধরে রাখার প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবস্থানের সঙ্গে মিল ছিল।

ডা. শফিকুর রহমান নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য বলেও উল্লেখ করেন। একইভাবে চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির বিল্লাল হোসেন মিয়াজীও দাবি করেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক ছিলেন। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে মূল্যায়ন করা এক বিষয়, কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান নির্ধারিত হয় তার প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, কর্মকাণ্ড ও ঐতিহাসিক ভূমিকার মাধ্যমে।

এ কারণেই সমালোচকদের বক্তব্য, জামায়াতে ইসলামী এখনো ১৯৭১ সালে তাদের রাজনৈতিক অবস্থানের বিষয়ে স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ জবাবদিহি করেনি। ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত তথ্য অনুযায়ী, দলটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আলশামসের মতো বাহিনীর সঙ্গে দলটির বহু নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এসব সহযোগী বাহিনীর বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যা, সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের তৎকালীন শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ কয়েকজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। এসব রায় ব্যক্তিগত অপরাধের বিচার হলেও, ১৯৭১ সালে দলটির নেতৃত্বের একটি অংশের ভূমিকা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক মূল্যায়নকে আরও জোরালো করেছে।

সম্প্রতি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ পাসের মাধ্যমে সংসদ আবারও তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম পার্টি, রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটিকে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে আইনি স্বীকৃতি বহাল রেখেছে। জামায়াতে ইসলামী এ বিধানের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতা, যেমন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমদ, অভিযোগ করেছেন যে স্বাধীনতাবিরোধী অতীত থাকা সত্ত্বেও জামায়াত নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে।

গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক দল পরিবর্তিত হতে পারে, তাদের আদর্শেরও রূপান্তর ঘটতে পারে। তবে সেই পরিবর্তনের পূর্বশর্ত হলো অতীত সম্পর্কে সততা ও জবাবদিহি। ইতিহাসকে অস্বীকার বা নতুনভাবে সাজিয়ে কোনো জাতি দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী হতে পারে না। অতীতের ভুল স্বীকার করা মানেই স্থায়ী শাস্তি নয়; বরং তা ইতিহাসের নথিভুক্ত সত্যকে সম্মান জানানোর একটি উপায়।

এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তরুণ প্রজন্মের জন্য। আজকের অধিকাংশ ভোটার মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেননি। তারা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক দলগুলোকে বর্তমান নীতি, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করবেন। তবে একই সঙ্গে একটি দলের অতীত এবং সেই অতীত সম্পর্কে তাদের অবস্থান জানা গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্যও প্রয়োজনীয়। কারণ, যে দল নিজের প্রতিষ্ঠিত ইতিহাস নিয়েই স্পষ্ট অবস্থান নিতে পারে না, তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

এ কারণেই শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন কেবল প্রশাসনিক কাজ নয়; এটি জাতীয় ইতিহাস সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এমন একটি তালিকা ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ কমাবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক বয়ানের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক ইতিহাস জানার সুযোগ দেবে।

স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করা প্রজন্ম ধীরে ধীরে বিদায় নিচ্ছে। ফলে ১৯৭১ সালের সত্য ও স্মৃতি সংরক্ষণের দায়িত্ব এখন ক্রমেই নতুন প্রজন্মের কাঁধে এসে পড়ছে। বাংলাদেশ গণতন্ত্র, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও জাতীয় পুনর্মিলনের পথে এগোতে পারে, কিন্তু সেই যাত্রা কখনোই ঐতিহাসিক সত্য বিসর্জন দিয়ে হওয়া উচিত নয়। আর যতদিন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী তাদের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে আত্মসমালোচনা না করবে, ততদিন পর্যন্ত অনেক বাংলাদেশির মনে দলটির প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের প্রশ্ন থেকেই যাবে।

কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যা মামলার বিচার শুরু আগামী ১৬ আগস্ট

কুবি প্রতিনিধি:

প্রায় ১০ মাস পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার রিনথী (২৩) হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত)-এর ৯(২) ধারার পাশাপাশি দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০২ (হত্যা) ও ৩৮০ (চুরি) ধারায় অভিযোগ এনে দাখিল করা এ চার্জশিট গ্রহণের পর আগামী ১৬ আগস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে বলে জানা গেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরীফ ইবনে আলম তদন্ত শেষে গত ১৪ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে এটি গ্রহণ করেন।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, সুমাইয়ার মৃত্যু শ্বাসরোধে (ম্যানুয়াল স্ট্র্যাঙ্গুলেশন) হত্যার ফলে হয়েছে। এছাড়া তার ওপর জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের আলামত পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত, রাসায়নিক ও অণুজীব পরীক্ষাসহ সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সুমাইয়া আক্তার রিনথী (২৩) ও তার মা তাহমিনা বেগম ফাতেমা (৫২)-এর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার দিনই অভিযান চালিয়ে পুলিশ মো. মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশের তদন্ত ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ঝাড়ফুঁকের সূত্রে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারক হোসেনের পরিচয় হয়। ঘটনার আগে প্রায় এক মাস ধরে তিনি নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। স্বীকারোক্তিতে তিনি জানান, ঝাড়ফুঁকের সময় সুমাইয়াকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি দেখে ফেলায় প্রথমে সুমাইয়ার মা তাহমিনা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে সুমাইয়াকে পুনরায় ধর্ষণের পর হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর বাসা থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ নিয়ে পালিয়ে যান।

অভিযুক্ত মো. মোবারক হোসেন (২৯) কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের মৃত আবদুল জলিলের ছেলে। তিনি কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় বসবাস করতেন। পেশায় ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজির কাজ করার পাশাপাশি বাবুস সালাম জামে মসজিদের খাদেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

চার্জশিট দাখিলে বিলম্বের কারণ জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শরীফ ইবনে আলম বলেন, “এটি একটি হত্যা মামলা এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। এ ধরনের মামলায় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে চার্জশিট দাখিল করার কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। তদন্তের সব ধাপ, প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পরই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে।”

নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন বলেন, “মামলাটির অভিযোগপত্র নির্ধারিত সময়ের আগেই দাখিল করা হয়েছিল। আদালত তা পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তের ধাপ পেরিয়ে বিচারপর্বে প্রবেশ করেছে। আগামী ১৬ আগস্ট মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে আগামী চার মাসের মধ্যে, অর্থাৎ চলতি বছরের শেষ নাগাদ মামলাটির চূড়ান্ত রায় বা নিষ্পত্তি সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।”

চার্জশিট গ্রহণ এবং বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ায় তার সহপাঠীরা কিছুটা আশা বাদী হয়েছেন বিচারের। লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান শাহিন বলেন, “প্রায় ১০ মাস পর হলেও চার্জশিট গ্রহণ এবং সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ হওয়ায় আমরা কিছুটা আশাবাদী। সুমাইয়া আমাদের সহপাঠী ছিল। আমরা চাই, বিচার যেন দ্রুত শেষ হয় এবং অপরাধী সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।”

একই বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ লিওন বলেন, “সুমাইয়ার নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে নাড়িয়ে দিয়েছিল। এতদিন পর মামলাটি বিচারিক পর্যায়ে যাওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। তবে শুধু বিচার শুরু হলেই হবে না, দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।”

জুলাই-আগষ্ট গণ অভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে চৌদ্দগ্রামে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

জুলাই-আগষ্ট গণ অভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়ন জামায়াতের ইসলামী যুব বিভাগের উদ্যোগে ইউনিয়নের ২৪টি গ্রাম থেকে বাঁচাইকৃত খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মুন্সিরহাট উচ্চ বিদ্যাল মাঠে খেলায় প্রতিদ্বন্দিতা করে মুন্সিরহাট এলিভেন স্টার-০২ বনাম মুন্সিরহাট ওয়ারিয়ার্স-০২ খেলায় ড্র হয়। ট্রাই ব্রেকারে মুন্সিরহাট এলিভেন স্টার-২ ও মুন্সিরহাট ওয়ারিয়ার্স-৩ গোলে করে চ্যাম্পিয়ন হয় মুন্সিরহাট ওয়ারিয়ার্স।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী বেলাল হোসাইন।

শুক্রবার(১৭ জুলাই) এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুন্সিরহাট ইউনিয়ন জামায়াতের ইসলামী যুব বিভাগের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন শামীমের সভাপতিত্বে বক্তব্যে রাখেন উপজেলা জামায়াতের ইসলামী যুব বিভাগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, ৭নং ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাহফুজুর রহমান স্বপন, নগদ হাট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইস্রাফিল হোসাইন,
জামায়াত নেতা ইয়াছিন সরকার, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাছিম মিয়াজী।

যুব বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মীর শাহেদের পরিচালনা আরও উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন, শুভপুর ইউনিয়ন যুব বিভাগের সভাপতি আরিফুর রহমান, মুন্সিরহাট ইউনিয়ন যুব বিভাগের সাধারণ সম্পাদক ইস্রাফিল হোসাইন, সহ-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সাইফুদ্দীন, অর্থ সম্পাদক কামরুল হাসান, টিম সদস্য মোশাররফ হোসাইন, যুব নেতা হাফেজ মুর্তজা ও মিজান ভূঁইয়াসহ ইউনিয়ন যুব বিভাগের নেতৃবৃন্দ।

যে প্রেক্ষাপটে এক সময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত থাকার বিষয়টি বলেছিলেন পুলিশ সুপার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান ছাত্রদলের স্থানীয় এক নেতাকে বলেছেন, আপনার বহু আগে আমি ঢাকায় ছাত্রদল করে আসছি।

গতকাল ১৬ জুলাই জাতীয় জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন ।

আলোচনা সভা চলাকালে কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফখরুল ইসলাম মিঠু পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি কুমিল্লা আসার পরে ফ্যাসিস্টরা কুমিল্লা চলে এসেছে । আপনি তাদের গ্রেপ্তার করছেন না । এমনকি আমরা যখন আপনাদেরকে তথ্য দেই তখন আপনারা গ্রেফতারও করেন না ।

ছাত্রদল নেতার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান বলেন, একটা বাহিনীর সম্পর্কে আপনি এভাবে কথা বলতে পারেন না । এটা পলিটিক্স মঞ্চ না। আপনার বহু আগে আমি ছাত্রদল করে আসছি ঢাকায় । আপনি যখন একটা মিটিংয়ে কথা বলবেন তখন তথ্য নিয়ে কথা বলবেন ।

পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান বলেন, যাকে আপনাদের পছন্দ হয় না তাদেরকেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দিচ্ছেন ‌।
৫ ই আগস্টের পরে দেশে কোন পুলিশ ছিল না । এই পুলিশ ঘুরিয়ে দাঁড়িয়েছে । এখনো ফ্যাসিস্টের লোকজন তো আছেই পুলিশে । গত ১৭ বছর বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট গুলোকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে । সরকারকে সময় দিতে হবে। ইতিমধ্যেই হাসিনার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালসহ পুলিশের হাবিবের ফাঁসির রায় হয়েছে । একটু অপেক্ষা করেন । আমি নিজেই অনেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়ে এসেছি ঢাকায় ।

জুলাই শহীদ দিবসের আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম প্রমূখ।

এ বিষয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুজ্জামান দৈনিক আগামীর সময়কে জানান, বিগত ১৭-১৮ মাসে যেসব মামলা হয়েছে, সেসব মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে আমরা একটা বিষয় প্রাধান্য দিচ্ছি, অযথা কোন অসহায় মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়। কিছু মিডিয়ায় আমার বক্তব্যের পুরো অংশটি বাদ দিয়ে খন্ডিত বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পুলিশ জনগণের সেবক। তাই জনগণের কল্যাণে আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে।

লাকসামে নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্ব বিকাশে আলোচনা সভা

লাকসাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসামে নারীর ক্ষমতায়ন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় লাকসামের কুমিল্লা রেস্তোরাঁয় মাল্টি-স্টেকহোল্ডার ইনিশিয়েটিভ ফর পিস অ্যান্ড স্ট্যাবিলিটি (এমআইপিএস)-এর উদ্যোগে ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও নেতৃত্বের বিকাশ’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, টেকসই শান্তি ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনে নারীর কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, নেতৃত্ব বিকাশ এবং পারস্পরিক সহনশীলতা ও শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

নারী শান্তি সহায়কদের প্ল্যাটফর্ম (ওয়েভ), লাকসাম, কুমিল্লার আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পিএফজি অ্যাম্বাসেডর নাজনিন আক্তার নিপা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়েভ কোঅর্ডিনেটর নাজমুন নাহার নূপুর।

সভায় নারী উদ্যোক্তা নুসরাত নবী মুনাসহ নারী শান্তি সহায়ক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লায় প্রায় ৩৪ লাখ টাকার অবৈধ ভারতীয় শাড়ী আটক

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় শাড়ী আটক করেছে বিজিবি(১০)।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম আমানগন্ডা বিওপি সদস্যরা আটক করেছে। এ সময় চোরাকাবারীরা পালিয়ে যায়।

আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে বিজিবি।

বিজিবি জানায়, কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর আমানগন্ডা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

উক্ত অভিযানে সীমান্তের ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সোনাপুর নামক স্থান হতে বিজিবি টহল দল কর্তৃক মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করে। যার আনুমানিক মূল্য- ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

উল্লেখ্য, জব্দকৃত মালামালসমূহ বিধি মোতাবেক কাস্টমস এ জমা করা হবে।

কুমিল্লায় নিখোঁজের দুই দিন পর খালে মিলল শিশুর মরদেহ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদর উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর একটি খাল থেকে সাজ্জাদ হোসেন (৫) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামের একটি খাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সাজ্জাদ ওই গ্রামের সানজু মিয়ার ছেলে।

স্বজনরা জানায়, বুধবার বিকাল থেকে সাজ্জাদ নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশের খালে সাজ্জাদের মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা শাকিলা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার বিকালে সাজ্জাদের মা দোকানে গেলে শিশুটি খেলতে খেলতে বাড়ির পাশের খালে পড়ে যায়। পরে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যার্তদের পাশে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

মেহেদী হাসান ইমন, নোবিপ্রবি:

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অফলাইন ও অনলাইনে দুই দিনব্যাপী তহবিল সংগ্রহ করে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়। ওই অর্থ দিয়ে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী সম্বলিত ত্রাণ প্যাকেট প্রস্তুত করে দুর্গত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের দুটি স্বেচ্ছাসেবী দল দিনব্যাপী ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল আলু, পেঁয়াজ, আটা, মুড়ি, চিড়া, চিনি, সয়াবিন তেল, বিস্কুট, ওরস্যালাইন (ওআরএস) এবং প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ওষুধ।

স্বেচ্ছাসেবীরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে সাতকানিয়া উপজেলার রামপুর, ভূতপাড়া ও তেমুহনী এবং বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা, বাঁশখালা ও ছাপাছড়ি এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেন। দিনব্যাপী কার্যক্রম শেষে বুধবার রাতে তারা নিরাপদে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন।

ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জাহেদ নাঈম বলেন, “দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে আমরা একটি ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করি। প্রথম দুই দিনের মধ্যেই প্রায় দেড় লাখ টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হই। এ অর্থ দিয়ে পেঁয়াজ, আটা, চিনি, চিড়া, আলু, বিস্কুট ও অন্যান্য শুকনো খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্যাজনিত ও পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ওষুধও সরবরাহ করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ কার্যক্রমের মাধ্যমে বাঁশখালী, সাতকানিয়ার কয়েকটি ইউনিয়ন ও আনোয়ারা অঞ্চল কভার করা হয়েছে। প্রায় ৩০০টি পরিবারের কাছে এসব সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরেছি। যারা সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।”

ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুসাইবা চৌধুরী বলেন, “নোবিপ্রবির শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ক্লাব ও প্রশাসনের সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া মাত্র দেড় দিনে এত বড় তহবিল সংগ্রহ সম্ভব হতো না। আমরা এমন সব এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যেখানে এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছায়নি এবং বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ছিল সবচেয়ে বেশি।”
তিনি জানান, আনোয়ারা, বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় গিয়ে তারা ত্রাণ বিতরণ করেন। কোথাও পানি নেমে গেলেও পুরো এলাকা কাদায় ডুবে ছিল, আবার কোথাও জলাবদ্ধতা এখনো কাটেনি। সাতকানিয়ার তেমুহনী এলাকায় নৌকায় করে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হয়েছে। শিশুদের জন্য জ্বরের ওষুধসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করতে পেরে তারা বিশেষভাবে আনন্দিত।

স্বেচ্ছাসেবক আজীজ মোহাম্মদ রিজান বলেন, “‘বন্যার্তদের পাশে নোবিপ্রবিয়ান’ ব্যানারে ২০২৪ সালের নোয়াখালীর বন্যাতেও আমরা কাজ করেছি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবারও একই প্ল্যাটফর্ম থেকে সফলভাবে বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে পেরেছি। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা আমাদের এ উদ্যোগকে সফল করেছে।”
স্বেচ্ছাসেবী শেখ আবরার নাসিফ বলেন, “বন্যার পানি নেমে গেলেও মানুষের দুর্ভোগ এখনো শেষ হয়নি। অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনেও সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

শিক্ষার্থীদের এ মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে। আয়োজকদের আশা, ভবিষ্যতেও এমন স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আরও অনুপ্রাণিত করবে।

কুমিল্লায় হাম উপসর্গে ৬ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত খাদিজা নামে ছয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মিয়া মঞ্জুর আহমেদ।

তিনি জানায়, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বাসিন্দা রাব্বি মিয়া গত ১৪ জুলাই মধ্যরাতে হামের উপসর্গ নিয়ে তার ছয় মাস বয়সী মেয়ে খাদিজাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুলাই সকালে শিশুটি মারা যায়। শিশুটির মৃত্যুকে আপাতত হাম সন্দেহজনক হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর এটি নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু কিনা, তা জানা যাবে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ২০ জন সন্দেহজনক এবং ১২ জনের হাম পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসা শেষে ১৭ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

চলতি বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৯৫৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৪০ জনের হাম পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। এ সময়ে হাম সন্দেহে ১২ জন এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।

বুড়িচংয়ে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মো. তারা মিয়া (৪১) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বুড়িচং পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আরাগ রোড এলাকার নিপা স্টিল দোকানের সামনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এএসআই মো. মামুন হোসাইনসহ পুলিশের একটি টহল দল নিয়মিত মোবাইল টহল ও জরুরি দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় তথ্য আসে, কয়েকজন মাদক কারবারি ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে আরাগ রোডের নিপা স্টিল দোকানের সামনে অবস্থান করছে। বিষয়টি বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হলে তাঁর নির্দেশে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে মো. তারা মিয়াকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তার দেহ তল্লাশি করে ১৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

আটক তারা মিয়া উপজেলা সদরের পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া অন্যান্য সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বুড়িচং উপজেলাকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।”