All posts by jitu

ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের দুই হোটেলকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে হোটেল ও রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আমতলী বিশ্বরোড ও বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে আদর্শ সদর উপজেলার আমতলী বিশ্বরোড এলাকায় অতিরিক্ত দামে খাদ্যপণ্য বিক্রি এবং তারিখবিহীন রসমালাই ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বিক্রির অপরাধে কাকলি হোটেল অ্যান্ড সুইটসকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রসমালাই, মিষ্টি ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী তৈরি ও বিক্রির অপরাধে মাতৃভান্ডার সুইটস লিমিটেডকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান দুটিকে এ জরিমানা করা হয়। অভিযানে মোট ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া। কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি দল অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুমিল্লার দুর্গাপুরে ওয়ারিশ সনদে পিতৃপরিচয় বদলের অভিযোগ, টার্গেট সেকান্দর আলীর সম্পত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুরে মৃত এক ব্যক্তির সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে একের পর এক নথি সামনে আসছে। পুরোনো ওয়ারিশ সনদে যে ব্যক্তিদের নাম নেই, পরবর্তী সময়ে তাঁদেরই ওয়ারিশ হিসেবে দেখিয়ে নতুন সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের পিতার নাম ও জন্মতারিখ নিয়েও বিভিন্ন সময়ের ভোটার তালিকা, কাবিননামা ও অন্যান্য নথিতে অসঙ্গতি থাকার দাবি করেছেন সম্পত্তির দাবিদার নূরুল আমিন ভূঁইয়া।

অভিযোগকারীর দাবি, এর আগে একই দাবির ভিত্তিতে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার সম্পত্তির একটি অংশের নামজারি করে ১৫৮১ নম্বর খারিজি খতিয়ান সৃষ্টি করা হয়েছিল। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), কুমিল্লার আদালতে করা নামজারি আপিলের পর ওই খারিজি খতিয়ান বাতিল হয়। সেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরও ২০২৬ সালে একই ব্যক্তিকে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার ছেলে দেখিয়ে নতুন ওয়ারিশ সনদ দেওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠেছে—পুরোনো সিদ্ধান্ত ও নথি যাচাই না করেই কি নতুন সনদ দেওয়া হয়েছে?

ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার ছেলে মো. নূরুল আমিন ভূঁইয়া। তাঁর অভিযোগ, সম্পত্তির মালিকানা দাবি করার উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীর আলমকে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার ছেলে এবং জমিলা খাতুনকে তাঁর স্ত্রী হিসেবে দেখিয়ে নতুন ওয়ারিশ সনদ নেওয়া হয়েছে।

নূরুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, তাঁর বাবা মরহুম হাজী সেকান্দর আলী ভূঁইয়া ১৯৯৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর স্ত্রী রাহেলা খাতুন, দুই ছেলে হাজী আব্দুল বারী ভূঁইয়া ও নূরুল আমিন ভূঁইয়া এবং চার মেয়ে ছিলেন। সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর পর কোনো পর্যায়েই জমিলা খাতুন নামে কোন দ্বিতীয় কোন স্ত্রী ছিলেন না এবং দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিবারের ওয়ারিশ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলো না।

নূরুল আমিনের দাবি, দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সময়ের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার প্রকৃত ওয়ারিশদের নামে একাধিক ওয়ারিশ সনদ দেওয়া হয়। ১৯৯৮ সালের ১৪ মার্চ, ২০১১ সালের ২১ জুন এবং ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির সনদগুলোর কোথাও জমিলা খাতুনকে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার স্ত্রী কিংবা জাহাঙ্গীর আলমকে তাঁর ছেলে হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

এরপর ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারিও একই ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার ওয়ারিশদের নামে আরেকটি সনদ দেওয়া হয়। ওই সনদের নম্বর ২০২২১৯১৬৭৯৪০০০৮০৪। সেখানেও নূরুল আমিনসহ আগের ওয়ারিশদের নাম রয়েছে।

কিন্তু ২০২৬ সালের ১৭ মে দেওয়া নতুন ওয়ারিশ সনদে দৃশ্যপট বদলে যায়। ২৪১৯১৬৭৯৪১৭০০৪৩৯৮ নম্বরের ওই সনদে জমিলা খাতুনকে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার স্ত্রী এবং জাহাঙ্গীর আলমকে তাঁর ছেলে হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নূরুল আমিনের অভিযোগ, জাহাঙ্গীর আলম ও জমিলা খাতুনকে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার স্ত্রী ও ছেলে দেখিয়ে এর আগেও একটি ভূয়া ওয়ারিশ সনদ নেওয়া হয়েছিল। ওই সনদের ভিত্তিতে সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার সম্পত্তির একটি অংশের জন্য ১৫৮১ নম্বর খারিজি খতিয়ান সৃষ্টি করা হয়।

এর বিরুদ্ধে নূরুল আমিন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), কুমিল্লার আদালতে ২৯৮/১৬-১৭ নম্বর নামজারি আপিল মামলা করেন। তাঁর আবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট নথি ও কাগজপত্র পর্যালোচনার পর ২০১৮ সালের ১ জুলাই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আদেশ দেন এবং ১৫৮১ নম্বর খারিজি খতিয়ান বাতিল করা হয়।

নূরুল আমিনের দাবি, ওই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জমিলা খাতুন ও জাহাঙ্গীর আলমের সেকান্দর আলী ভূঁইয়ার স্ত্রী ও ছেলে হিসেবে দাবি করার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

তবে ২০২৬ সালে আবারও একই পরিচয়ে ওয়ারিশ সনদ দেওয়ায় আগের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে নতুন সনদের সামঞ্জস্য নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ভোটার তালিকায় বদলে গেছে পিতার নাম?

অনুসন্ধানের দাবি তুলে নূরুল আমিন আরও কিছু নথির কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ১৯৯৫ সালের ভোটার তালিকায় জাহাঙ্গীর আলমের পিতার নাম হাজী সেকান্দর আলী ভূঁইয়া লেখেন, পরবর্ত্তীতে তা আইনগত ভিত্তি না পাওয়ায় ২০০০সালের ভোটার তালিকায় (ভোটার নং ২০০) জাহাঙ্গীর আলমের পিতার নাম ‘একরাম আলী’ হিসেবে লিখেন। পরবর্তী সময়ে আবারো প্রতারনার জন্য সর্বশেষ স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ডে তাঁর পিতার নাম হাজী সেকান্দর আলী ভূঁইয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তার মা জমিলা খাতুনের আইডিতে তার স্বামী একরামুল হক রয়েছে।

নূরুল আমিন বলেন, ১৯৯৫ সালের ভোটার তালিকায় জাহাঙ্গীর আলমের বয়স ২৩ বছর দেখানো হয়েছিল। অন্যদিকে পরবর্তী সময়ের ভোটার তালিকায় তাঁর জন্মতারিখ হিসেবে ১ জানুয়ারি ১৯৭১ উল্লেখ করা হয়। এসব তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি তাঁর।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭৫ সালের ভোটার তালিকায় জমিলা খাতুনের আরেক ছেলে মো. সেলিমের জন্মতারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৫ এবং জাহাঙ্গীর আলমের জন্মতারিখ অন্য একটি নথিতে ১ জানুয়ারি ১৯৭৫ হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই মায়ের ক্ষেত্রে জন্মতারিখের এমন ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে এসব তথ্যের সত্যতা এবং বিভিন্ন নথিতে একই ব্যক্তির জন্মতারিখ বা পিতার নাম পরিবর্তনের কারণের বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

নূরুল আমিন আরও দাবি করেন, জমিলা খাতুন অতীতে সেকান্দর আলী ভূঁইয়াকে স্বামী দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তদন্ত শেষে ওই মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি খারিজ হয়।

জাহাঙ্গীর আলমের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে নূরুল আমিন ১৯৮৮ সালের ১ নভেম্বরের একটি কাবিননামার তথ্যও সামনে এনেছেন। তাঁর দাবি, ওই কাবিননামায় জাহাঙ্গীর আলমের বয়স ২৪ বছর উল্লেখ রয়েছে।

নূরুল আমিনের বক্তব্য, কাবিননামায় উল্লেখিত বয়সের সঙ্গে পরবর্তী ভোটার তালিকা ও অন্যান্য নথিতে থাকা জন্মতারিখের হিসাব মিলিয়ে দেখলে অসঙ্গতি পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ‘একই ব্যক্তির পিতার নাম, জন্মতারিখ ও বয়স বিভিন্ন নথিতে ভিন্ন হলে বিষয়টি সাধারণ ভুল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কোন নথিটি সঠিক, কোনটি পরে তৈরি বা সংশোধিত হয়েছে—প্রশাসনের উচিত তা তদন্ত করে বের করা।’

অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম এর সাথে একাধিকবার মুটোফোনসহ বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ২ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোনিয়া আক্তার বলেন, ‘আগের মামলার বিষয়ে আমার জানা ছিল না। জাহাঙ্গীর আলম আমাকে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের কপি দেখিয়েছেন। সেগুলো অনুযায়ী আমি ওয়ারিশ সনদ দিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে ভুয়া প্রমাণিত হলে সনদটি বাতিল করা হবে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ইউএনও এর দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ভূমি মসাশিয়াত আক্তার বলেন, ‘দুর্গাপুরে ভুয়া ওয়ারিশ সনদের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমার কার্যালয় থেকে লোক পাঠিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নূরুল আমিনের মূল প্রশ্ন হলো—১৯৯৮, ২০১১, ২০১৭ ও ২০২২ সালের ওয়ারিশ সনদে যাঁদের নাম ছিল না, ২০২৬ সালের সনদে তাঁদের নাম কীভাবে এলো; ২০১৮ সালের প্রশাসনিক আদেশে বাতিল হওয়া খারিজি খতিয়ানের সঙ্গে নতুন ওয়ারিশ সনদের সম্পর্ক কী; এবং বিভিন্ন সময়ের ভোটার তালিকা, কাবিননামা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথিতে থাকা পরিচয়গত তথ্যের মধ্যে জালিয়াতি ও অনিয়ম হয়েছে ।

তিনি দাবী করেন, এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে পুরোনো ওয়ারিশ সনদ, ১৯৬৯ সালের মামলার সম্পূর্ণ নথি, ২০১৮ সালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর আদেশ, সংশ্লিষ্ট খারিজি খতিয়ান, ভোটার তালিকা এবং ২০২৬ সালের নতুন ওয়ারিশ সনদ সরেজমিনে ও নথিভিত্তিকভাবে যাচাই হলে।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং”রতন গ্রুপের” আনিকসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লা নগরীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে আলোচিত ‘রতন গ্রুপের’ আনিসুর রহমান ওরফে আনিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯) ‘রতন গ্রুপের’ সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত। গ্রুপটির প্রধান রতন আত্মগোপনে থাকায় আনিকই এর বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানায়, কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা, সংঘবদ্ধভাবে ঘোরাফেরা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা রয়েছে এমন স্থানগুলোতে নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে আনিকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারদের মধ্যে অনিককে রতন গ্রুপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রতন আত্মগোপনে থাকায় গ্রুপটির কার্যক্রম পরিচালনায় আনিকের ভূমিকা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের তৎপরতা ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা হয়, সেসব এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, কুমিল্লা নগরীতে কিশোর গ্যাং, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং উঠতি বয়সী অপরাধীদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, আটক ২৫৪

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার ১৮টি থানা এলাকায় আবারও কিশোর গ্যাংবিরোধী একযোগে অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকৃতদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।

জানা গেছে, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে কিশোর গ্যাং বিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় পুলিশ ও ডিবি পুলিশ একযোগে অভিযান পরিচালনা করে।

পুলিশ জানায়, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে চালানো অভিযানে আটক করা হয় মোট ৩৭ জনকে। তাদের মধ্যে কিশোর গ্যাং ‘রতন গ্রুপে’ সরাসরি জড়িত ৪ জন সদস্য রয়েছেন।

কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ প্রতিটি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কিশোর বয়সী বখাটেদের আটক করা হয়। অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃকতার অভিযোগে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে ১৭৩ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বাকিদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

কুমিল্লায় সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনে আরা বকুল গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ নেত্রী অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বকুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার রাত ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার একটি দল নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় হোসনে আরা বকুলের নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি সরকারবিরোধী আন্দোলন ও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ রবিবার তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হবে।

কুমিল্লায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

কুমিল্লায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধন

 

হাবিবুর রহমান মুন্নাঃ

‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ বাস্তবায়ন উপলক্ষে কুমিল্লায় সচেতনতামূলক র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কামরুজ্জামান চৌধুরী।

এ সময় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিজ্ রোজী আকতার, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

‘কেউ চাঁদা চাইলে থানায় সোপর্দ করবেন, রাস্তার কাজে যেন অনিয়ম না হয়- ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

‘কেউ চাঁদা চাইলে থানায় সোপর্দ করবেন, রাস্তার কাজে যেন অনিয়ম না হয়- ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ

 

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগরঃ

‘মুরাদনগরের কাউকে চাঁদা দিতে হবে না, কাউকে কোনো ঘুষ দিতে হবে না। যদি কেউ চাঁদা চায়, ঘুষ চায়, থানায় সোপর্দ করবেন। আর না হয় আমাকে জানাবেন। রাস্তার কাজে যেন অনিয়ম না হয়।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মুরাদনগর টু রামচন্দ্রপুর, বাঞ্ছারামপুর সড়কের মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর অংশের সড়ক ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালী প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপি।

তিনি আরও বলেন, আমি চাই দুর্নীতিমুক্ত, অন্যায় ও মাদকমুক্ত মুরাদনগর গড়তে। আমি চাই এমন একটি মুরাদনগর, যে মুরাদনগর সাধারণ ও গরিব মানুষ সবার মুরাদনগর হবে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা।

উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য মোল্লা গোলাম মহিউদ্দিন, বিএনপি নেতা শরীফ আহমেদ মীর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া, সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশা, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খায়রুল হাছান প্রমুখ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, সদস্য সোহেল আহমেদ বাবু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী রকিবুল হক শিপন, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি নায়েব আলী, বিএনপি নেতা মো. মাহমুদ, মারফত আলী, ওমর ফারুক সোহাগ, মো. আলী, ইকবাল হোসেন, ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বাঙ্গরায় একাধিক মামলার আসামি, আন্তঃজেলা চোর চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

বাঙ্গরায় একাধিক মামলার আসামি, আন্তঃজেলা চোর চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

 

​মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগরঃ

কুমিল্লার মুরাদনগরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার আসামি আন্তঃজেলা চোর চক্রের সক্রিয় ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে বাঙ্গরা বাজার থানাধীন পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কোরবানপুর গ্ৰামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো: মতিন মিয়া (৩৫) ও ব্রাহ্মণপাড়া থানার মাধবপুর গ্রামের মৃত আবি মিয়ার ছেলে মো. আক্তার (৩২)।

​পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র কোরবানপুর ও এর আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসার পাশাপাশি আন্তঃজেলা চুরির সাথে জড়িত ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করে। আটক মতিন মিয়ার বিরুদ্ধে বাঙ্গরা বাজার থানায় মাদক ও চুরিসহ ৭টি মামলা রয়েছে এবং আক্তার এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরির ৪টি মামলা রয়েছে। আটক দুইজন কে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার দুপুরে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শফিউল আলম জানান, মাদকের বিস্তার রোধ এবং চুরি-ছিনতাইসহ সকল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে এ গ্রেপ্তার করা হয়।

​এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক ও অপরাধ নির্মূলে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বুড়িচংয়ের ময়নামতি পাহাড়ে ধর্ষণের শিকার ১৩ বছরের কিশোরী

বুড়িচংয়ের ময়নামতি পাহাড়ে ধর্ষণের শিকার ১৩ বছরের কিশোরী

 

মুহাম্মদ রকিবুল হাসান রনি:

ঢাকা থেকে কুমিল্লায় এসেছিল ১৩ বছরের এক কিশোরী। কিন্তু প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে এসে শেষ পর্যন্ত তাকে নির্জন পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত তরুণ রাজীব আহমেদ (২০) এখনো পলাতক।

শুক্রবার রাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি পাহাড়ের পাদদেশের নির্জন একটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ভোররাতে ময়নামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে দেবপুর ফাঁড়ির পুলিশ।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে রাজীব আহমেদের সঙ্গে ওই কিশোরীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার রাজীবের খালাতো বোনের বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার কথা বলে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় আসে সে। রাত ৯টার পর কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বাস থেকে নামলে রাজীবের সঙ্গে তার দেখা হয়।

পরে তারা একটি হোটেলে খাবার খায়। রাত ১টার দিকে রাজীব তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে ময়নামতি সরকারি প্রাথমিক বিদà§