All posts by jitu

১৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণের প্রতিবাদে কুবিতে বিক্ষোভ মিছিল

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

গাজীপুরে ১৩ বছরের শিশুকে অপহরণ করে ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীরা সকল নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও ধর্ষকের শাস্তির দাবি জানান।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) জুম্মা’র নামাজের পরে বিক্ষোভ মিছিলটি কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্ত্বরে এসে শেষ হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা “ধর্ষকের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না”, “আমার বোন ধর্ষিত কেনো, ইন্টারিম জবাব চাই”, “ধর্ষকের মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, দিতে হবে, “ধর্ষকের বিরুদ্ধে, আগুন জ্বালো একসাথে; ধর্ষকের কালো হাত, ভোঙে দাও গুড়িয়ে দাও; ধর্ষকের ঠিকানা, এই বাংলায় হবেনা; ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই” এমন নানা স্লোগান দেন।

ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম বলেন, একজন মুসলিম পর্দানশীন নারীকে যখন ধর্ষণ করা হয় তখন সুশীল সমাজেরা একটি ফেসবুক পোস্ট পর্যন্ত করেন না। ১৩ বছরের একটি শিশুকে অপহরণ করে টানা তিন দিন ধরে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে। আমরা সেই ধর্ষকদের ফাঁসির দাবি জানাই।

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী কায়েসুর রহমান বলেন, অপরাধীর কোনো ধর্ম হয় না। ধর্ষকদের শাস্তির দাবিতে আমরা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই আন্দোলন করবো। দেশের প্রতিটি নারীর সাথে হওয়া অন্যায়ের বিচার করতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মুসলিম হিজাবী নারীর সাথে অন্যায় হলে চুপ থেকে শুধু সিলেক্টিভ আন্দোলন করা যাবে না। সবার জন্যই ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে। গাজীপুরের শিশুটিকে যে বা যারা ধর্ষণ করেছে আমরা তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ট্রেনে কাটা পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দরুইন এলাকায় দ্বিখণ্ডিত লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৫-৪০ বছর বয়সি ওই যুবকের লাশ রেললাইনের ওপর পড়ে ছিল। তবে স্থানীয় কেউ তাৎক্ষণিকভাবে চিনতে পারেনি। কোন ট্রেনের নিচে কাটা পড়েছে সেটিও বলতে পারেনি।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস. এম. শফিকুল ইসলাম জানায়, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়।

কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী নাসরুল্লাহর শতকোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ অবৈধভাবে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের (ডিপিএইচই) বদলি, পদোন্নতি ও প্রকল্পে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে এসব অর্থ উপার্জন করেছেন তিনি। তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট, স্ত্রী, শাশুড়ি, দুই শ্যালক ও বড় ভাইয়ের ব্যাংক স্টেটমেন্ট বিশ্লেষণ করে ঠিকাদারদের সঙ্গে তার অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের ভয়াবহ তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া তার বিশ্বস্ত ঠিকাদারদের অ্যাকাউন্ট চেক করেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। নাসরুল্লাহ অবশ্য কাছে দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের টাকা দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকায় পাঁচ তলা বিলাস বহুল ভবন ও পূর্বাচলে ১০ কোটি টাকার প্লট কিনেছেন। এ ছাড়া কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে তার বড় ভাই মোহাম্মদ শহিদুল্লাহর নামে ৫০ একর জমি এবং ৮০ লাখ টাকায় দুটি প্রিমিও গাড়িও কিনেছেন তিনি। একটি গাড়ি নিজে ব্যবহার করেন (ঢাকা মেট্রো-গ-২০-৮৫১৩) অন্যটি ব্যবহার করেন তার স্ত্রী সুরাইয়া সানজিদা চৌধুরী। দুর্নীতির টাকার বেশিরভাগই কানাডাতে পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কানাডাতে নিজ নামে বাড়ি ও সম্পদ করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক এই নির্বাহী প্রকৌশলী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুরে আট মাস এবং লক্ষ্মীপুরে এক বছর তিন মাস দায়িত্ব পালন শেষে ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলামের উন্নয়ন সমন্বয়ক ও ডিপিএইচইর ঠিকাদার মো. কামাল হোসেনকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে কুমিল্লা জেলায় বদলি হন মো. নাসরুল্লাহ। বদলির পর কামালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সখ্য গড়ে ওঠে তার। এরপর তাকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কামাল ও সাবেক মন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়ায় ডিপিএইচই কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতিসহ সবকিছুর নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন এই দুজন। হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশ ছেড়ে দুবাই পালিয়েছেন কামাল হোসেন। আর এখন কুমিল্লা ছেড়ে কক্সবাজার জেলায় বদলি হওয়ার জন্য তদবির শুরু করেছেন মো. নাসরুল্লাহ। কিন্তু কক্সবাজার জেলায় বদলি না দিয়ে তাকে ফেনীতে বদলি করতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ডিপিএইচই। এই বদলিকে প্রমোশন বদলি হিসেবে দেখছেন ডিপিএইচইয়ের কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, নাসরুল্লাহ বিগত সরকারের মন্ত্রী তাজুল ইসলামের বিশ্বস্ত লোক ছিলেন। এ কারণে ওই সময় তাকে এক দিনের নোটিসে কুমিল্লায় বদলি করে আনা হয়েছিল। কুমিল্লা তাজুল ইসলামের জেলা হওয়ায় সেখানের সব কাজে প্রভাব বিস্তার করতেন তার উন্নয়ন সহকারী মো. কামাল হোসেন। এমনকি তাদের প্রভাবের কাছে অসহায় ছিলেন প্রধান প্রকৌশলীরাও। ডিপিএইচইয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলীদের অনেকের অনিয়মের হাতিয়ার এই নাসরুল্লাহ। তাই তাকে নিরাপত্তা দিতে না পারলে প্রধানরাও ফেঁসে যেতে পারেন। এ কারণে তাকে কুমিল্লা থেকে সরিয়ে তার বাড়ির কাছের জেলা ফেনীতে বদলি করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে মো. নাসরুল্লাহর মূল বেতন প্রায় ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সরকারি চাকরির সময় থেকে এ পর্যন্ত তার মোট বৈধ আয় প্রায় ২০ লাখ টাকা। কিন্তু কুমিল্লা জেলায় বদলির পর পাঁচ শতাধিক টেন্ডারের মাধ্যমে শতকোটি টাকার বেশি কমিশন বাণিজ্য করেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী। ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ঠিকাদারদের সঙ্গে নাসরুল্লাহর ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের বেশ কয়েকটি ব্যাংক স্টেটমেন্ট আসে সময়ের আলোর হাতে। এতে দেখা যায়, গত ২০২২ সালের বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজের ও শ্বশুরালয়ের লোকজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার ওপরে ঘুষ লেনদেন করেছেন।

যার কিছু চিত্র তুলে ধরা হলো : ২০২২ সালের ২৬ জুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনের প্রিমিয়ার ব্যাংক, কুমিল্লা ব্রাঞ্চ (অ্যাকাউন্ট-০১৩৭১১১০০০০০৪২৮) থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাসরুল্লাহর নিজ অ্যাকাউন্টে (০২১১১১০০০৫৮০৯ ইউনিয়ন ব্যাংক, আগ্রাবাদ ব্রাঞ্চ, চট্টগ্রাম) ২ লাখ টাকা আরটিজিএসের মাধ্যমে ট্রান্সফর করা হয়। ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর তার শাশুড়ি মোসা. রেহানা আক্তার চৌধুরীর (০২১১১০০০৯৮৬১, ইউনিয়ন ব্যাংক, আগ্রাবাদ ব্রাঞ্চ) অ্যাকাউন্টে আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শম্পা এন্টারপ্রাইজের এনআরবিসি ব্যাংক কুমিল্লা ময়নামতি ব্রাঞ্চ (অ্যাকাউন্ট-০১৩৪৩৩৩৪৫৫) থেকে ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আরটিজিএসের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

২০২২ সালের ২৪ মার্চ তার স্ত্রী মোসা. সুরাইয়া সানজিদা চৌধুরীর (অ্যাকাউন্ট নম্বর: ০১৮০৩১০০৩২২৩৮) মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, জুবলি ব্রাঞ্চ, চট্টগ্রাম শাখায় আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স শামীম ট্রেডার্সের দিদার ই আলমের ফরিদগঞ্জের এনআরবিসি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (৫০১৭৩১১০০০০৩৭১০) থেকে ২ লাখ ৫০ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে।

২০২২ সালের ১৯ মে মেসার্স শামীম ট্রেডার্সের দিদার ই আলমের এনআরবিসি ব্যাংক ফরিদগঞ্জের সাব ব্রাঞ্চের অ্যাকাউন্ট (৫০১৭৩১১০০০০৩৭১০) থেকে তার শ্যালক মো. শাহিনুর জামান চৌধুরীর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নিউ আদর কসমেটিকসের (অ্যাকাউন্ট- ১৫৮৩৩০০০৬১৬, ব্যাংক এশিয়া, চাক্তাই ব্রাঞ্চ) অ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে। একই তারিখে একই ব্রাঞ্চে মো. শাহিনুর জামান চৌধুরীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট (১৫৮৩৪০০০১০৪) দিদার ই আলমের ফরিদগঞ্জ এনআরবিসি ব্যাংক থেকে আরও ৫০ লাখ টাকা লেনদেন করা হয়।

২০২২ সালের ২৬ জুন নাসরুল্লাহর আরেক শ্যালক মইনুল আরেফিন চৌধুরীর (অ্যাকাউন্ট ০২১১১১০০১১৮২৮, ইউনিয়ন ব্যাংক, আগ্রাবাদ ব্রাঞ্চ) মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রুদ্র কনস্ট্রাকশনের অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ৫ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছে।

২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনের প্রিমিয়ার ব্যাংক কুমিল্লা ব্রাঞ্চ থেকে (অ্যাকাউন্ট ০১৩৭১১১০০০০০৪২৮) তার বড় ভাই মো. শহিদুল্লাহর (১১৩১০০১২৬৩৭০৯, ন্যাশনাল ব্যাংক, বরুড়া ব্রাঞ্চ, কুমিল্লা) অ্যাকাউন্টে ১২ লাখ টাকা পাঠানো হয়। একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর বড় ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে আরও ২ লাখ টাকা পাঠানো হয়েছিল মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনে প্রিমিয়ার ব্যাংকে কুমিল্লা ব্রাঞ্চ থেকে। একই বছরের ১৬ মে মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনের অ্যাকাউন্ট থেকে আরও ১ লাখ টাকা পাঠানো হয় নাসরুল্লাহর বড় ভাই শহিদুল্লাহর অ্যাকাউন্টে।

পরিবারের বাইরেও নিজস্ব ঠিকাদারের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে নাসরুল্লাহ বিরুদ্ধে। তার সময়ে সবচেয়ে বেশি কাজ ও অর্থনৈতিক লেনদেন হয়েছে মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনের সঙ্গে। এই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক মো, শাহ মজিবের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সময় লেনদেন করেছেন। শাহ মজিবের অ্যাকাউন্টটে (০১৩৭১১১০০০০০৪২৮, প্রিমিয়ার ব্যাংক, কুমিল্লা ব্রাঞ্চ) ঘুষ নিয়ে পরে তিনি সেই টাকা ক্যাশ করেন এবং বিভিন্ন স্থানে পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২২ সালের ৩ জুলাই মাসে লক্ষ্মীপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সোহরাব ইসলামের এনআরবিসি ব্যাংক চন্দ্রগঞ্জ ব্রাঞ্চ, লক্ষ্মীপুর, (অ্যাকাউন্ট নং ৫০৬০৩৩৩০০০০০৫৭৮) থেকে মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা লেনদেন করা হয়েছে। যা পরে নাসরুল্লাহ ক্যাশ তুলে তার শ্যালক ও শ্যালকের প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা রাখেন বলে জানা যায়।

এ ছাড়া মো. আনিসুর রহমান, ইসলামী ব্যাংক, চন্দ্রগঞ্জ ব্রাঞ্চ, লক্ষ্মীপুর, অ্যাকাউন্ট নং ২০৫০৩৩৫০২০১৯১৩১১৪ মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২৩ লাখ টাকা; মেসার্স রহমান এন্টারপ্রাইজ, ন্যাশনাল ব্যাংক, নারায়ণগঞ্জ ব্রাঞ্চ থেকে (অ্যাকাউন্ট নং ১০১০০০০৬৪২৯০৫) ২০২২ সালের ১৩ এপ্রিল প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা; মেসার্স সোহরাব ইসলাম, এনআরবিসি ব্যাংক, চন্দ্রগঞ্জ ব্রাঞ্চ, লক্ষ্মীপুর, অ্যাকাউন্ট নং ৫০৬০৩৩৩০০০০০৫৭৮ থেকে ২০২২ সালের ৩ জুলাই ১০ লাখ টাকা; ৩ অক্টোবর প্রায় ৫ লাখ টাকা, ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তারিখে ৮ লাখ টাকা, ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ১০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সিমেক ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড, যমুনা ব্যাংক, মালিবাগ ব্রাঞ্চ (অ্যাকাউন্ট নং ১০০১০০১৩৮৯৬৫৭) থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৭ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই টাকা দিয়ে তিনি ঢাকায় ফ্ল্যাট বুকিং দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ তুলে ধরে দুদক ও স্থানীয় সরকারের উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি। তাতে বলা হয়েছে নাসরুল্লার বাবা একজন কৃষক এবং মা গৃহিণী ছিলেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছাড়া বাকি দুই ভাই বেকার। তিনি নবম গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও সাবেক মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে পঞ্চম গ্রেডে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে জনস্বাস্থ্যে চাকরি করছেন।

কুমিল্লা জেলার ২০২১-২২ অর্থবছরে পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ প্রকল্পের একটি কাজে (দরপত্র আইডি-৭০৮৬৪২) কার্যাদেশ প্রদানের চার দিনের মাথায় কোনোরূপ কাজ সম্পাদন না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনের নামে চূড়ান্ত বিল প্রদান করে সরকারের সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই প্রকল্পের আওতায় আরও চারটি প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং সেগুলো থেকে সিএস বাবদ তিনি নিজ, প্রকল্প পরিচালক, প্রধান প্রকৌশলী, সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে ১০ পার্সেন্ট অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর কুমিল্লা জেলায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পে প্রায় ৫ হাজার নলকূপ বরাদ্দ হয়েছে। ওই বরাদ্দের প্রেক্ষিতে ৩১টি প্যাকেজ দরপত্র আহ্বান করা হয়। এসব দরপত্রের ওপেনিং শিটে দেখা যায়, মেসার্স কামাল এন্টারপ্রাইজ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ অফিসিয়াল প্রাক্কলন প্রদান করে পয়সাসহ হিসাব করে হুবহু ১০ পার্সেন্ট লেসে (নিম্ন দরে) প্রদান করিয়ে ২৫টি কাজ নিম্ন দরদাতা হিসেবে পাইয়ে দেন। জানা যায় তিনি ঠিকাদারকে টাকার বিনিময়ে প্রাক্কলন দিয়েছেন। তা ছাড়াও ওই ঠিকাদারের ২৫টি কাজের মধ্যে ১৬টিতে (৫০ কোটি টাকার) পাশ করে নোয়া (নটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড) দেওয়া হয়েছে। কামাল এন্টারপ্রাইজের নামের কাজগুলো নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাসরুল্লাহ ওয়ার্ক অর্ডারের চার পার্সেন্ট কমিশনে ৩ কোটি ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করেছেন।

কুমিল্লা জেলায় জানুয়ারি ২০২২ সালে সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ১৭টি রুরাল পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিমের দরপত্র করা হয়েছে। এই কাজের জন্য ঠিকাদারের কাছ থেকে ১০ পার্সেন্ট (১.৫০ কোটি) টাকার বিনিময়ে ৫টি প্যাকেজে ১৫ কোটি টাকার ১০ পার্সেন্ট এ্যভাবে (বাড়তি) কার্যাদেশ প্রদান করেন। এ ছাড়া ২টি প্যাকেজে ৬ কোটি টাকার ১০ পার্সেন্ট এ্যভাবে কার্যাদেশ প্রদান করেন। কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম, কাজের মূল রেট বিক্রি, বদলি, পদোন্নতি ও কমিশন বাণিজ্যেরও বিস্তারিত অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বলেন, এরা কেউ আমার ঠিকাদার না। এগুলো আমার কোনো বিষয় না, আমার জানারও বিষয় না। যে টাকা দিয়েছে আর যাকে দিয়েছে তাকে জিজ্ঞাসা করেন। এগুলো দুই-আড়াই বছর আগের তথ্য। দুদকসহ বিভিন্ন জায়গায় দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়ে কথা বলতে ভালো লাগে না।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রুদ্র কনস্ট্রাকশনের অ্যাকাউন্ট থেকে তার নিজ অ্যাকাউন্টে টাকা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, আমি ওমরাহ করতে গেছিলাম। তখন অফিস থেকে আমার অ্যাকাউন্টে একটা টাকা পাঠাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু টাকা পাঠাতে পারিনি। তাই তার (রুদ্র কনস্ট্রাকশন) অ্যাকাউন্ট থেকে আমার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল। টাকা পাঠানোর চার অ্যাকাউন্টের মধ্যে মোসা. রেহানা আক্তার চৌধুরীকে শাশুড়ি ও মোসা. সুরাইয়া সানজিদা চৌধুরীকে স্ত্রী বলে স্বীকার করলেও মো. শাহিনুর জামান চৌধুরীর ও তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান আদর কসমেটিকস এবং মইনুল আরেফিন চৌধুরীকে তিনি চেনেন না বলে জানান।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ জানান, কাজের মাধ্যমে কমিশন বাণিজ্য করার কোনো সুযোগ নেই। আর এই বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তা হলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানান, এলজিডি প্রতিষ্ঠানটি আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত। এই দুর্নীতির মূল ভূমিকা পালন করেন প্রকৌশলীরা। এ ছাড়া এখানে প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও রাজনীতিবিদরা মিলে ত্রিমুখী দুর্নীতি করেন। এখানে প্রকৌশলী আমলারা মূখ্য ভূমিকায় থাকেন। যথাযথ প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এখানে প্রকৌশলীরা এককভাবে কিছু করেন না। যারা এই যোগসাজশের মধ্যে আছেন তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

সূত্র: সময়ের আলো

ব্রাহ্মণপাড়া ওশান হাই স্কুল উপ-অঞ্চলে হ্যান্ডবল প্রতিযোগীতায় চ্যাম্পিয়ন

‎মোঃ বাছির উদ্দিন, ব্রাহ্মণপাড়া:

‎৫২ তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ‎কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধি (ব্রাহ্মণপাড়া ওশান হাই স্কুল) হ্যান্ডবল (বালক) প্রতিযোগিতায় উপ-অঞ্চল পর্যায়ে ফাইনালে চাঁদপুর জেলাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

(১৬ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার বিকালে ফাইনালে চাঁদপুর জেলাকে হারিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া ওশান হাই স্কুল চ্যাম্পিয়ন হয়।

চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় ব্রাহ্মণপাড়া ওশান হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ হুমায়ন কবির খেলোয়ার, কোচ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে শেষ হলো স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশীপ

স্পোর্টস রিপোর্টার:

এক জাকজমকপুর্ণ আয়োজনে ৫ম জাতীয় স্কোয়াশ চ্যাম্পিয়নশীপ ২০২৫-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির জুলকান ইনডোর এরিনার স্কোয়াশ কোর্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এবারের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন মেয়েদের শাখায় অনুর্ধ ১৩ গ্রুপে আরিকা সুলতানা, অনুর্ধ ১৫ গ্রুপে মায়ানুর, উন্মুক্ত মহিলা গ্রুপে চাঁদনী সরকার, ছেলেদের শাখায় অনুর্ধ ১৩ গ্রুপে শাহরিয়ার নাফিজ, অনুর্ধ ১৫ গ্রুপে মেহেদি হাসান, পুরুষ উন্মুক্ত গ্রুপের শাহাদাৎ হোসেন, মেম্বার গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন চট্রগ্রাম ক্লাবের ফজলে ওয়ালি ও বিশেষ পুরস্কার দেয়া হয় ঢাকা স্কোয়াশ একাডেমির জিহাদকে। বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলেদেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মাহবুব-উল-আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় স্পোর্টস কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্কোয়াশ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জি এম কামরুল ইসলাম, এসপিপি (অব)-সহ নির্বাহী কমিটির সদস্যগন, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির পরিচালক মেজর (অবঃ) মোহসিনুল করিম-সহ উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রাক্তন ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং অভিভাবকবৃন্দ।

চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতা শুরু হয় ১৩ অক্টোবর। যা উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া।

প্রধান অতিথি বলেন যে বসুন্ধরা গ্রুপ নিজস্ব কর্মকান্ডের পাশাপাশি খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড-এ পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে অন্যান্য খেলারমত আগামী দিনগুলোতে তারা স্কোয়াশ খেলার পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করবে। ফেডারেশনের সাধারন সম্পাদক বলেন, সম্পদের সল্পতা ও নিজস্ব কোর্ট না থাকাসহ হাজার চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতার মধ্যে গত পাঁচ বছর একটি পরিকল্পনার আওতায় আমরা স্কোয়াশ খেলাকে একটা পর্যায়ে আনতে পেরেছি। এ ভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে বাংলাদেশ স্কোয়াশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক ভালো করতে পারবে। তিনি আরো বলেন যে পরবর্তী এসএ গেইমসে আমাদের লক্ষ্য মানসম্মত দল প্রেরণ এবং পদক জয় করা।

কুমিল্লায় খায়রুন্নেসা-ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতালের উদ্বোধন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় নবনির্মিত খায়রুন্নেসা-ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতালের উদ্বোধন উপলক্ষে কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে হাসপাতাল ভবনের হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডা. মো. আতাউর রহমান জসিম, খায়রুন্নেসা-ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান।

সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক একে আজাদ খান, মহাসচিব মোহাম্মদ সাঈফ উদ্দিন,এনএইচএনের বোর্ড অব অ্যাডভাইজার্স সৈয়দ রেজওয়ান কবিরসহ অনেকে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন বলেন,
“কুমিল্লার মানুষ যেন ঘরোয়া পরিবেশে উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে পারে—সে লক্ষ্যেই খায়রুন্নেসা-ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও নন-কমিউনিকেবল ডিজিজের চিকিৎসায় এই হাসপাতালটি কুমিল্লা অঞ্চলে একটি অনন্য ভূমিকা রাখবে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের পাশে থেকে মানবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।”

সভায় বক্তারা বলেন, কুমিল্লা অঞ্চলে একটি আধুনিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে খায়রুন্নেসা-ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এখানে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, শিশু ও নারী রোগসহ সাধারণ চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি থাকবে ল্যাব, ফার্মেসি ও ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা।

সভা শেষে অতিথি ও সাংবাদিকরা হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন এবং নতুন এই স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগের সাফল্য কামনা করেন।

সদর দক্ষিণে দিনের বেলায় ঘর থেকে নগদ অর্থ, স্বর্ণসহ ৩০ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি

সালাহ উদ্দিন সোহেলঃ

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার আলেকদিয়া গ্রামের মজুমদার বাড়ির ব্যাবসায়ী হাবিবুর রহমান মজুমদার (রতন কাজীর) বসতঘরে দিনের বেলায় দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যবসায়ী।

অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়,গত ১৪ অক্টোবর মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে হাবিবুর রহমান মজুমদার (রতন কাজী) ও তার পরিবার ব্যাক্তিগত কাজে বাজারে যায়।বাজারের প্রযোজনীয় কাজ শেষে দুপুর ২টার দিকে বাড়িতে এসে দেখেন তার ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। এসময় চোর চক্র ঘরের আলমারী ভেঙে নগদ ৫ লক্ষ টাকা ১১ ভরি স্বর্ণালংকারসহ সিসিটিভি ক্যামেরার হার্ডডিস্কসহ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

সদর দক্ষিণ মডেল থানায় জানানো হলে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

চুরির এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান মজুমদার( রতন কাজী) বাদী হয়ে ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

হোমনায় নারী এনজিও কর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

রাসেল আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনায় মাহমুদা আক্তার (৩০) নামের এক নারী এনজিও কর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে হোমনা থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর বাজারে এনজিও প্রতিষ্ঠান ‘পদক্ষেপ’ অফিস ভবনের তৃতীয় তলার একটি রুম থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

মাহমুদা আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কুটি কসবা উপজেলার লেশিয়ারা গ্রামের আবদুল আজিজ মোল্লার মেয়ে। তিনি রামকৃষ্ণপুর বাজারে পদক্ষেপ নামে একটি এনজিওর কর্মী ছিলেন।
এনজিও ম্যানেজার কামরুজ্জামান জানান, মাহমুদা আক্তার কাজ শেষে তৃতীয় তলায় তার রুমে যান। সকালে তিনি অফিসে না আসায় অন্য কর্মীরা তাকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে আমরা ভবনের মালিককে খবর দিই। তিনি এসে রুমের দরজা ভেঙ্গে রুমে প্রবেশ করলে ফ্যানের সঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায়। তখন পুলিশে খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আমরা নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুমিল্লা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে।

দেবিদ্বারে শতভাগ পাশ করা কলেজে এবার পাশের হার ৫৩.৪

দেবিদ্বার প্রতিনিধি:

দি রয়েল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ। কুমিল্লার দেবিদ্বারের একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এবার এইচএসসিতে এই কলেজে ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। যা কলেজটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এমন ভরাডুবি হয়নি।

এবছর কলেজটিতে পাশের হার ৫৩.৪। অথচ ২০২৪ সালে পাশের হার ছিল ৯৯.৩। আগের বছর ২০২৩ সালে পাশ ছিল শতভাগ। এছাড়াও এবছর ২৩০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১২২। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩জন।

কলেজটিতে এমন ফলাফল বিপর্যয়ের কারণে উপজেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে কলেজের শিক্ষার মান নিয়ে। এমন ফলাফলের কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এ কলেজে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দাদের দাবি, এ কলেজে ফলাফল বিপর্যয়ের একটি বড় কারন কলেজের পরিচালনা পরিষদ ও শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ তোফায়েল হায়দারকে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর মব সৃষ্টি করে কলেজ থেকে বের করে দেয় শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের একাংশ। এসব বিশৃঙ্খলাসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ভেঙে পড়ে কলেজের শিক্ষার মান। যে কারণে এ বছরে ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। কিন্তু কলেজটি দেবিদ্বারসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলায় শিক্ষার্থীদের কাছে ভালো ফলাফলের জন্য পরিচিত ছিল।

নাম না প্রকাশের শর্তে কলেজের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, ইতিহাস ও সংস্কৃতি থেকে পাশ সামিয়া আক্তার নামে এক শিক্ষিকা বর্তমানে এ কলেজের বাংলা প্রভাষক। ম্যানেজমেন্ট থেকে আসা আব্দুল হালিম ক্লাস করায় ফিনান্স, ব্যাংকিং ও বীমা। এছাড়াও কাজী মহিউদ্দিন হাসান নামে একজন বুয়েট পড়ুয়া এ কলেজ ক্লাস নেন কেমিস্ট্রি। তবে তিনি সব সময় ব্যস্ত থাকেন প্রাইভেট নিয়ে।

কলেজ থেকে বের করে দেওয়া দুজন শিক্ষক বলেন, আমরা কলেজটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ছিলাম। কিন্তু কলেজের বর্তমান পরিচালনা পরিষদ আমাদের একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে কলেজ থেকে বের করে দেয়। এ কলেজে যে কেমিস্ট্রি পড়ায় তার সার্টিফিকেট আছে কি না সন্দেহ আছে। শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে একাধিকবার জানিয়েছেন এ বিষয়ে। আমাদেরকে কলেজে নেওয়ার কথা থাকলেও, তারা নিচ্ছে না। ব্যস্ততা দেখায়।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজুল হাসান সরকার বলেন, দেবিদ্বারের মধ্যে আমরা তৃতীয় হয়েছি। পরীক্ষার হলগুলোতে খুব কড়াকড়ি অবস্থান ছিল।

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমি দেবিদ্বারে নতুন যোগদান করেছি। আসলে কি কারনে এ কলেজের এমন ফলাফল, বিষয়টি আমার জানা নেই। তাদের সাথে বসে খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি দেখতে হবে।

কুমিল্লায় ৪৪ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১১, সিপিসি-২ এর পৃথক দুটি অভিযানে ৪৪ দশমিক ৫ কেজি গাঁজা ও ৫০ বোতল স্কাফ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলার কোতোয়ালী মডেল থানাধীন জগন্নাথপুর এলাকায় র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ৩৫ কেজি গাঁজা ও একটি প্রাইভেটকারসহ তিনজন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়া পৃথক অপর অভিযানে সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন নোয়াগাঁও এলাকা থেকে ৯ দশমিক ৫ কেজি গাঁজা ও ৫০ বোতল স্কাফ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন কোতোয়ালী মডেল থানার শারিফপুর গ্রামের মো. রশিদের ছেলে মো. আরিফ (২৮), ফেনী জেলার থানা সদর লালপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. রনি (২৮) এবং কোতোয়ালী মডেল থানার পাথুলিয়া গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে মো. ইমান হোসেন (৫৯)।

র‌্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে প্রাইভেটকারের মাধ্যমে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিল।

র‌্যাব-১১ এর মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিক অংশ হিসেবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।