All posts by jitu

চৌদ্দগ্রাম বাজারে যানজট ও অবৈধ দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের অভিযান

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে যানজট ও অবৈধ দখলমুক্ত করতে সোমবার উচ্ছেদ অভিযান করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ।

বাজারের সচেতন ব্যবসায়ী ও পথচারীদের অভিযোগে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরাতন সড়কে ফুটপাত ও সড়কের একাংশ দখল করে ব্যবসা করায় চৌদ্দগ্রাম বাজারে প্রতিদিনই যানজট লেগে থাকে। এতে দূরপাল্লার যানবাহনের যাত্রীদের ন্যায় স্থানীয় পথচারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। যেদিন প্রশাসনের অভিযান হয়, সেদিন কিছু সময়ের জন্য সব ঠিক থাকে।

পরবর্তীতে আবারও ফুটপাত ও মহাসড়ক দখল করে চলে ব্যবসা। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী সকলের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। মানুষের ভোগান্তি নিরসনে সোমবার পৌর প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন। অভিযানে সহযোগিতা করে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন ও মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের পৃথক টিম।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম বাজার ইজাদার দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারী দুলাল, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপি নেতা খোরশেদ আলম, জামায়াত নেতা কাজী এয়াছিন, জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, চৌদ্দগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক বেলাল হোসাইনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীবৃন্দ। অভিযানের সময় অবৈধ দখলকারীরা সরে যাওয়ার পর যানজটমুক্ত সড়ক দিয়ে নির্বিঘেœ চলাচল করে দূরপাল্লার যানবাহন।

সোমবার বিকেলে উচ্ছেদ অভিযান শেষে বাজারের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আজকে আমরা পূর্ব ওয়ার্নিং দিয়ে আসছি, তাই সবাই চলে গেছে। আগের হিষ্ট্রি অনুযায়ী আবার এসে দোকান বসার একটা প্রবণতা আছে। যদি আবার এসে মহাসড়কে বসে, তখন আমরা এসে মালপত্রসহ যা পাবো, সব নিয়ে যাবো। যে দোকানের সামনে বসবে, যে দোকান তাদের বিদ্যুৎ লাইন দিবে, সেই দোকানের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দিবো এবং ট্রেড লাইসেন্স বাতিল হবে। পরবর্তীতে মূল দোকানের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। মহাসড়কের উপর অবৈধভাবে বসার কোন সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত এ অভিযান চলবে। বাজারের পরিবেশ ভালো হলে, আপনাদের ব্যবসাও ভালো হবে।

দাউদকান্দিতে ডাকাতি মামলার দুই আসামিসহ গ্রেপ্তার ৪

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে একটি ডাকাতি মামলার দুই আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে একজন জিআর পরোয়ানাভুক্ত এবং একজন সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি রয়েছেন।

পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের নির্দেশনায় এসআই মিনহাজুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আজ সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে গৌরীপুর এলাকায় মোবাইল ডিউটির সময় ডাকাতি মামলার আসামি ইয়াসিন (১৯) ও রাসেলকে (৩০) গ্রেপ্তার করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রোববার (১২ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশেষ অভিযানের সময় এএসআই সেলিম সঙ্গীয় ফোর্সসহ জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. ফাহিম চৌধুরী ওরফে হৃদয়কে (২৪) গ্রেপ্তার করেন।

এছাড়া সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশেষ অভিযানে এএসআই শ্যামল শর্মা সঙ্গীয় ফোর্সসহ সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. শাকিলকে (২০) গ্রেপ্তার করেন।

ওসি জানায়, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পর তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বন্যায় ৭ জেলায় ৫৪ জনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে সাত জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। এছাড়াও এসব জেলায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সবমিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭টি জেলা বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির শিকার। বন্যাকবলিত এই জেলাগুলো হলো- খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলাগুলোর মোট ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া উপদ্রুত অঞ্চলগুলোর ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বন্যার পানিতে বর্তমানে দেশের মোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। সব মিলিয়ে এই ৭টি জেলায় বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জনে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৫৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরও ৩৯ জন মানুষ আহত হয়েছেন।

নিহত ও আহতদের জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, মৃত ৫৪ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়, সেখানে ৩১ জন মারা গেছেন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে আহত ৩৯ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে ২ জন এবং খাগড়াছড়িতে ১ জন রয়েছেন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও উপদ্রুত মানুষদের জরুরি আশ্রয় দেয়ার জন্য সরকারিভাবে মোট ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে এরইমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন বিপন্ন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

জলাবদ্ধতায় আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের নৌকা টেনে পার করালেন কুসিক প্রশাসক

ডেস্ক রিপোর্ট:

মাত্র তিন ঘণ্টার টানা ভারী বর্ষণে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষার সময় কেন্দ্রে পৌঁছাতে অনেক শিক্ষার্থীকে হাঁটুসমান পানি দিয়ে যেতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে চিত্রটি নজরে আসার পর ঘটনাস্থলে ছুটে যান কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। পরে নিজেই নৌকা টেনে জলাবদ্ধ এলাকা পার করে দেন পরীক্ষার্থীদের।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) টানা বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ সড়ক ও নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। নগরীর চর্থা এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে ও প্রাঙ্গণে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। ফলে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীদের পানি ডিঙিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে এ সময় চরম ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়।

শিক্ষার্থীদের এমন দুর্ভোগের খবর পেয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু সরেজমিনে ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে যান। পরিস্থিতি দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আশপাশের খাল ও পানি নিষ্কাশনের পথগুলো দ্রুত পরিষ্কার করতে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও পানি না কমায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করে আনতে সেখানে প্লাস্টিকের নৌকার ব্যবস্থা করা হয়। এ সময় প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু নিজেই নৌকার রশি ধরে টেনে শিক্ষার্থীদের জলাবদ্ধ স্থান পার করে দেন। প্রশাসকের এমন উদ্যোগে উপস্থিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা যায়।

এদিকে, কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের প্রধান কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনভর আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নগরীর জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি নিয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নগরীর কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। পানি দ্রুত সরিয়ে নিতে পরিচ্ছন্নতা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব খাল ও পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ রয়েছে, সেগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা নগরীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে সিটি কর্পোরেশন পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছে। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে আমরা গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। পর্যায়ক্রমে এর দৃশ্যমান সুফল নগরবাসী দেখতে পাবেন।

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির  আহ্বায়ক হলেন আবুল হাসেম চেয়ারম্যান

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির  ৮ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে দাউদকান্দির আবুল হাশেম চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক এবং ৭ জনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।

আজ সোমবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২২ সালের ২৯ মে অনুমোদনকৃত মো. আক্তারুজ্জামান সরকার এবং সদস্য সচিব এ এফ এম তারেক মুন্সীর নেতৃত্বে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির কমিটিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

নবগঠিত কমিটির সাত যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন -সৈয়দ তৌফিক আহমেদ মীর, আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, মো. মহিউদ্দিন, এডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম বাবু, ব্যারিস্টার রিজভী উল আহসান মুন্সী, ওসমান গণি ভূঁইয়া ও সুফিয়া খাতুন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এই কমিটিকে সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্যোগে রাজনীতি নয়, প্রয়োজন মানবতা

স্টাফ রিপোর্টার:

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবিক সংকটে পড়েছেন। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশকে আরও বড় ধরনের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।

এই দুর্যোগ শুধু মানুষের জীবন-জীবিকাকেই বিপন্ন করছে না, বরং ইতোমধ্যে চাপে থাকা জাতীয় অর্থনীতির ওপরও নতুন বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। ফলে সরকারের সামনে এখন একাধিক চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র পাঁচ মাস আগে। সাধারণত নতুন কোনো সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম কয়েক মাসকে তুলনামূলক স্বস্তির সময় হিসেবে ধরা হয়। এ সময় জনগণ সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে, বিরোধী দলও অনেক ক্ষেত্রে সংযম দেখায় এবং বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীও অপেক্ষার নীতি অনুসরণ করে। ফলে সরকার কিছুটা চাপমুক্ত পরিবেশে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ পায়।

কিন্তু বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ তৈরি হয়নি। শুরু থেকেই নানা সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। সরকারের দাবি অনুযায়ী, তারা এমন একটি অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দায়িত্ব নিয়েছে, যেখানে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ইতোমধ্যেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছিল।

সরকারের সমর্থকদের মতে, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অর্থনীতি পুনর্গঠনের পরিবর্তে শিল্প ও বেসরকারি খাত নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ করে দেয়, বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চিড় ধরে এবং কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়ে।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকার অর্থনীতি সচল করার উদ্যোগ নিলেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি তাদের সামনে নতুন বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশও এর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারেনি।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। ফলে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে আগে থেকেই দুর্বল অবস্থায় থাকা বেসরকারি শিল্প ও ব্যবসা খাত নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বাংলাদেশের রপ্তানি ও বৈদেশিক শ্রমবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় রপ্তানি কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম উৎসকে দুর্বল করেছে।

অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্রও উদ্বেগজনক। দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। ফলে ভোগব্যয় হ্রাস পাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং অনেক উদ্যোক্তা চলতি মূলধনের সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন, বিক্রি ও নতুন বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই চাপ স্পষ্ট।

রপ্তানি আয়েও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় কমেছে। তৈরি পোশাক খাতেও আয় হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে আমদানি কিছুটা বাড়লেও শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানির প্রবণতা কমেছে, যা উৎপাদন খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন সূচক ও বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধিও কমে এসেছে, বিপরীতে সরকারের ঋণনির্ভরতা বেড়েছে।

পুঁজিবাজারও এখনো প্রত্যাশিত গতি ফিরে পায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান আইপিওর মাধ্যমে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারছে না। অনেক তালিকাভুক্ত কোম্পানিও নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী নয়। অর্থনৈতিক চাপের কারণে তাদের আয় ও মুনাফা কমে যাওয়ায় সম্প্রসারণ পরিকল্পনাও সীমিত হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানে। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নতুন বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে শ্রমবাজারে বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রবেশ করলেও সেই তুলনায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। ফলে বেকারত্ব একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সংকটের পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।

এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার তাদের প্রথম বাজেট পাস করেছে। বাজেটে দুর্নীতি প্রতিরোধ, অর্থপাচার রোধ, অপচয় কমানো এবং অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থবছরের শুরুতেই দেশব্যাপী বন্যা পরিস্থিতি নতুন করে সব হিসাব-নিকাশ বদলে দিয়েছে।

বন্যার কারণে কৃষিজমি, ফসল, গবাদিপশু, মাছের খামার, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর খাদ্য মজুত ও জীবিকার উৎস ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে। ফলে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ইতোমধ্যে সংকটে থাকা অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে বলেই বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

এ অবস্থায় সরকারের সামনে এখন তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে উপস্থিত—অতীতের অর্থনৈতিক দুর্বলতা, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির অভিঘাত এবং বর্তমান বন্যাজনিত সংকট। এত বড় চ্যালেঞ্জ একা সরকারের পক্ষে মোকাবিলা করা কঠিন।

তাই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জাতীয় সংহতি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সরকার, বিরোধী দল, ব্যবসায়ী সমাজ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশের সক্ষম নাগরিকদের একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমকে সফল করতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।

সরকারের দায়িত্ব হবে এমন একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে বিভাজনের পরিবর্তে সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। একই সঙ্গে বন্যা-পরবর্তী খাদ্য, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও জীবিকা পুনর্গঠনের জন্য এখন থেকেই সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়।

বাংলাদেশ বহুবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কঠিন পরীক্ষা সফলভাবে মোকাবিলা করেছে। প্রতিবারই দেশের মানুষ অসাধারণ সহমর্মিতা, ত্যাগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংকট অতিক্রম করেছে। এবারও সেই ঐক্য ও মানবিক শক্তিই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। কারণ, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশই দুর্যোগ মোকাবিলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।

কুমিল্লা নগরীতে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পরীক্ষার্থীরা

ডেস্ক রিপোর্ট:

টানা বর্ষণে কুমিল্লা নগরীতে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী, বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি।

সোমবার (১৩ জুলাই) মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও কর্মজীবীরা।

এদিন সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগ ও রোগীদের শয্যার নিচেও পানি জমেছে। কুমিল্লার সিভিল সার্জন আলী নুর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, বাইরে থেকে অতিরিক্ত পানি হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করছে। বিকল্প ব্যবস্থায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা চালু রাখা হয়েছে। বৃষ্টি কমলে পানি নেমে যাবে।

নগরীর মনোহরপুর, মহিলা কলেজ রোড, বাগানবাড়ি, দক্ষিণ চর্থা, জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইন্স, রেসকোর্স, উত্তর রেসকোর্স, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুরসহ শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। এসব এলাকার অনেক বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়ে। কোথাও কোথাও ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী লিপি আক্তার বলেন, এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখা উচিত ছিল। বৃষ্টিতে ভিজেই পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে হচ্ছে।

এদিন অনেক পরীক্ষার্থী ভেজা কাপড়ে কেন্দ্রে পৌঁছান। অনেকে পানিতে ডুবে থাকা সড়কে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। বর্ষার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা গেছে।

এদিকে জলাবদ্ধতার সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া বেড়ে যায়। অনেক চালক দ্বিগুণ পর্যন্ত ভাড়া আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মহিলা কলেজ কেন্দ্রের ভেতরে শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য নৌকার ব্যবস্থাও করা হয়।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দিনভর আরও ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল বাসার জানায়, এ কেন্দ্রে ৮টি কলেজের ২ হাজার ১০০ পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। মাঠে পানি জমলেও কক্ষের ভেতরে পানি প্রবেশ করেনি। যারা পানির কারণে কিছুটা দেরিতে কেন্দ্রে এসেছে, তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়ার জন্য বোর্ড থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ জানান, বোর্ডের আওতাধীন ৬ জেলায় ভারি বর্ষণে বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে ও সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও পরীক্ষার কক্ষে পানি প্রবেশ করেনি। পানির কারণে যারা কিছুটা দেরিতে কেন্দ্রে পৌঁছেছে, তাদের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, কোনো পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা দিতে সমস্যা হবে না।

বুড়িচংয়ে ভাড়াবাসা থেকে পিকআপ চালকের মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী পলাতক

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকায় একটি ভাড়াবাসা থেকে মোহাম্মদ ইব্রাহিম (৩৫) নামে এক পিকআপ চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের অবস্থা ও ঘটনাস্থলের প্রাথমিক আলামত দেখে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগম পলাতক রয়েছেন।

আজ রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে নিমসার এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহেরের বাড়ির ভাড়াটিয়া লুৎফুর রহমানের ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইব্রাহিম একই এলাকার সরু হাজির বাড়ির ফরিদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একটি মিনি পিকআপের চালক ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও প্রায় ছয়-সাত মাস আগে ইব্রাহিম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগমকে নিয়ে নিমসারের ওই ভাড়াবাসায় বসবাস শুরু করেন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ-পোষণ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগে থাকত।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রোববার দুপুরে পাশের কক্ষের ভাড়াটিয়ারা তীব্র দুর্গন্ধ টের পেয়ে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানান। পরে তিনি দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে ফাঁড়ির ইনচার্জ সরজিৎ বড়ুয়া ও উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

এসআই মঞ্জুর রহমান জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিন থেকে চার দিন আগে ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহের বিভিন্ন অংশে পচন ধরেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। মরদেহের অবস্থা ও ঘটনাস্থলের প্রাথমিক আলামত দেখে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটির বিভিন্ন দিক তদন্ত করে দেখছে।

ব্রাহ্মণপাড়ায় পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারিসহ গ্রেপ্তার ২

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘটিত চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

আজ রোববার (১২ জুলাই) পৃথক দুটি অভিযানে দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ৭ নম্বর সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন এলাকার বারেশ্বর চৌমুহনী থেকে টাকইগামী তিন রাস্তার মোড়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারসহ মো. রবিউল হাছান ওরফে রবি (৩৭)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

অপরদিকে, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ৮ নম্বর মালাপাড়া ইউনিয়নের এম.ই. চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘটিত চুরির ঘটনায় তদন্ত ও অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে মো. আকরাম হোসেন (৪০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিদ্যালয়ের মূল ফটক ও অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চুরি করেন। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ জানায়, মাদক নির্মূল এবং অপরাধ দমনে তাদের বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

কুমিল্লায় ছাত্র দিয়ে এসএসসির খাতা মূল্যায়ন, শিক্ষক ও ছাত্র গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

শিক্ষার্থীকে দিয়ে পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগে কুমিল্লায় এক শিক্ষক ও তার এক ছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ রবিবার (১১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষক নিজে উত্তরপত্র না দেখে তার ছাত্রকে দিয়ে মূল্যায়নের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলাধীন আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) মো. বাচ্চু মিয়া ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র নিজে নিরীক্ষণ না করে তার ছাত্র মেহেদী হাসানকে দিয়ে মূল্যায়ন করিয়েছেন। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ামাত্র শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

নির্দেশনার পর, শনিবার (১১ জুলাই) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া ও ওই স্কুলের ছাত্র মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন। তাদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইন, ১৯৮০ এর ১০/১২/১৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে।

সে পরিপ্রেক্ষিতে রাতেই অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।