All posts by jitu

তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে দেবিদ্বারে রোশন আলী মাস্টারের নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল

দেবিদ্বার প্রতিনিধি :

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা’কে স্বাগত জানিয়ে দেবিদ্বারে আনন্দ মিছিল করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ, ও অঙ্গসহযোগী সংগঠন।

বুধবার রাত ৮টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে মিছিল বের হয়। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কসহ দেবিদ্বারের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করেন তারা। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব রোশন আলী মাস্টার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এটিএম মেহেদী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব হুমায়ুন কবির চেয়ারম্যান, উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেনস, দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম শফিউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার আলম তুষার, মোস্তাফিজুর রহমান সরকার, প্রচার সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন ভুইয়া মানিক, দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য মোঃ সালাউদ্দিন আহাম্মেদ স্বপন প্রমুখ।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৭ জানুয়ারি: সিইসি

ডেস্ক রিপোর্ট:

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তারিখ অনুযায়ী, আগামী ৬/৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ২৬তম সভা শেষে ভোটের এ দিন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সভায় মনোনয়নপত্র দাখিল, বাছাই ও প্রত্যাহারের শেষ দিনও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল বিষয়ে বৈঠকে বসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিশন বৈঠক শেষে রাত ৭টার পর সরাসরি বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে তফসিল সংক্রান্ত ঘোষণা দেবেন সিইসি।

কমিশন বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার মো. আহসান হাবিব খান, রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর, মো. আনিছুর রহমান এবং ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

মা হচ্ছেন অভিনেত্রী ঈশানা খান

ডেস্ক রিপোর্ট:

মা হচ্ছেন ছোট পর্দার একসময়ের পরিচিত মুখ মডেল ও অভিনেত্রী ঈশানা খান। সুদূর অস্ট্রেলিয়া থেকে মা হওয়ার সুখবরটি জানিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই।

ঈশানা জানান, এখন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছেন তিনি। শিগগিরই তাদের ঘরে আসবে নতুন অতিথি। সকলের কাছে অনাগত সন্তানের জন্য দোয়াও চেয়েছেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমেও নিজের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার ছবি প্রকাশ করেছেন তিনি। যেখানে অভিনেত্রীর পরিবর্তনটাও ভক্তদের চোখে ধরা পড়েছে স্পষ্ট।

২০০৯ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুন্দরী প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছিলেন ইশানা। এরপর নিয়মিত তাকে দেখা গেছে টিভি পর্দায়। একের এক জনপ্রিয় সব নাটকে হাজির হয়েছেন। র‌্যাম্প মডেল হিসেবেও বেশ ভালো করেছেন।

এরপর ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সারিফ চৌধুরীকে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের পরপর সেখানেই স্বামীকে নিয়ে সংসার শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরেই এই দম্পতি থাকছেন অস্ট্রেলিয়াতে।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ‘চিরকুট’ লিখে গৃহবধূর আত্মহত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন তানিয়া আক্তার তানজিনা (২০) নামে এক গৃহবধূ। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার দক্ষিণ শাকতলী গ্রামে বসতঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে তাকে ঝুলন্ত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

তানজিনা দক্ষিণ শাকতলী গ্রামের দিনমজুর আব্দুল কাদেরের মেয়ে। ৪ বছর আগে নাওগোদা গ্রামের শহীদের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সোহাগের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। জান্নাতুল ফেরদৌস নামে দেড়বছরের একটি মেয়ে রয়েছে তানজিনার।

চিরকুটে তানজিনা লিখেন, ‘আমি মরে গেলে আমার মরার পিছনে কেউ দায়ী নয়। আমি স্বেচ্ছায় আমার জীবন দিয়েছি। আমাকে মাটি দিবে চট্টগ্রামের বাড়িতে। আমাকে বাড়িতে মাটি দিবেন না। আমি মরার পরে কেউ কান্না করবেন না। আমি মরার পর চারজন মাটি দিবে। তারা হলো শহরের মানুষ। মাটি দিবে হৃদয়, আকরাম, রাজু ভাই, রকি ভাই। এ চারজন আমাকে মাটি দেবে। আর এছাড়া কেউ আমাকে মাটি দিবেন না। আর আমাকে পালকি করে নিয়ে যাবে, প্রথম মাটি দিবে আমার বাবা। বাবার টাকায় কাফন কিনে আমাকে মাটি দিবে। আমি মরে গেলে আমাকে কেউ ফিরে পাবে না। ইতি- তানজিনা।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীসহ তানজিনা চট্টগ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত শুক্রবার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে তিনি বাবার বাড়ি কুমিল্লায় চলে আসেন। আসার পর থেকে স্বামী যোগাযোগ না করায় অভিমানে ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

তানজিনার মা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে তার স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। তাকে সবসময় মারধর ও গালমন্দ করতো তার স্বামী সোহাগ।’

নাঙ্গলকোট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম সিকদার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নোয়াখালীতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৬ ডাকাত গ্রেপ্তার

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ৬ সদস্যকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় দুটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, একটি অটোরিকশা, দুটি হাসুয়া, দুটি ক্রিজ, দুটি কোরা বাড়াল, একটি গ্রিল কাটার, একটিটি প্লাইরেঞ্জ, একটি টর্চলাইট উদ্ধার করা করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ডাকাত গিয়াস উদ্দিন,ইউসুফ ওরফে কালা, আজাদ, মনির হোসেন,সালাউদ্দিন,সফিক।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলের দিকে আসামিদের নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার জিরতলী ইউনিনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত কয়েকদিন ধরে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য কালা, আজাদ ও সালা উদ্দিনের নেতৃত্বে নতুন করে ডাকাতদল গঠন করে ডাকাতির চেষ্টা চালায়। পরে এই ডাকাত দলের ৯-১০ জন সদস্য উপজেলার জিরতলী ইউনিয়নে ডাকাতি করার পরিকল্পনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জিরতলী ইউনিয়নের অভিযান চালিয়ে ৪ জন ডাকাতকে বিল থেকে আটক করে পুলিশ। এ সময় একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে আরও এক ডাকাতকে আটক করা হয়। পরবতীর্তে তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক তার বাসা থেকে আরেকটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ডাকাতদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ডাকাতদলকে সহায়তাকারী সফিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ডাকাতদের আনা নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত একটি অটোরিকশা আটক করা হয়।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম জানায়, ডাকাত আজাদ, ইউসুফ, সালাউদ্দিন মিলে সিএনজি ভাড়া করে বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘুরে ঘুরে ডাকাতি করার জন্য পছন্দমত বাড়ি খুজতো এবং বিশদ তথ্য সংগ্রহ করত। জিরতলী বাজার এলাকায় তিনটি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি করতে গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতরা সেখানে একত্রিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

চৌদ্দগ্রামে কবুলিয়ত দলিল প্রাপ্তির ৮ বছর পরেও জমি পাননি ভূমিহীন বাচ্চু-জাকিয়া দম্পতি

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সরকার কর্তৃক ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত ৪ শতক জমিনের কবুলিয়ত দলিল (নং-৩০১৩/১৪-১৫) প্রাপ্তির দীর্ঘ ৮ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সুবিধাভোগি ভূমিহীন বাচ্চু কবিরাজ ও তার স্ত্রী জাকিয়া বেগম বুঝে পাননি তাদের জন্য বরাদ্দকৃত সে জায়গা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ইশানচন্দ্রনগর গ্রামে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত আবেদন করার ৯ মাস পরেও তিনি এখনো বুঝে পাননি বরাদ্দকৃত সে জায়গা। প্রতিকারের আশায় এখনো সরকারি বিভিন্ন দফতরের দ্বারে দ্বারে পাগলের মতই ছুটে বেড়াচ্ছেন তিনি। এ সংক্রান্ত নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে দায় এড়িয়ে নির্ভার রয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস।

ভূমি অফিসে দায়েরকৃত আবেদন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ইশানচন্দ্রনগর গ্রামের মৃত ছেলামত উল্লাহর ছেলে বাচ্চু মিয়া কবিরাজ ও তার স্ত্রী জাকিয়া বেগমের ভূমিহীন হিসেবে খাস জমি প্রাপ্তির লক্ষ্যে ২০১৪ সালে পৃথক দু’টি আবেদন করেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই-বাছাই শেষে ভূমিহীনদের চূড়ান্ত তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তি করে সংশ্লিষ্ট দফতর। পরে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে উল্লেখিত ভূমিহীন দম্পতিকে একই কবুলিয়ত দলিলের মাধ্যমে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের শুভপুর (বাবুচি) মৌজায় ১নং খাস খতিয়ানের ২৩নং দাগে ৪ শতক জমি বরাদ্দ দেয় কুমিল্লা ডিসি অফিস। যার দলিল নং ৩০১৩ ও বন্দোবস্ত কেস নং-২৪/২০১৪-২০১৫। আইনী প্রক্রিয়া ও দলিল সম্পাদক শেষে তৎকালীন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অন্যান্য সুবিধাভোগি ভূমিহীনদের পাশাপাশি বাচ্চু-জাকিয়া দম্পতির হাতে কবুলিয়ত দলিল ও সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলে দেন। দলিল বুঝিয়ে দিলেও বদলীজনিত কারণে তড়িগড়ি করে অন্য কর্মস্থলে চলে যাওয়ায় তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাদেরকে সরেজমিনে জায়গাটি বুঝিয়ে দিতে পারেননি। এরপর ভুক্তভোগি বাচ্চু মিয়া কবিরাজ উপজেলা ভূমি অফিসের বারান্দায় ঘুরে ঘুরে হয়রান হয়ে গেলেও অদ্যবদি তারা সে জমিটি বুঝে পাননি। বরাদ্দকৃত জমিটি বুঝে পেতে ভুক্তভোগি বাচ্চু কবিরাজ বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) তমালিকা পাল বরাবর গত ০৫.০২.২০২৩ ইং তারিখে একটি লিখিত আবেদন করেন। আবেদনের মেয়াদ ৯ মাস পার হলেও এবিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা ভূমি অফিস। একপর্যায়ে ভূক্তভোগি বাচ্চু কবিরাজ বিষয়টি ঘোলপাশা ইউপি চেয়ারম্যান এ কে খোকন সহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে জানালে তারা তাকে সাংবাদিকদের স্মরণাপন্ন হতে বলেন। পরে তিনি সকল ডকুমেন্ট সহ সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান। সাংবাদিকরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তমালিকা পালকে সরাসরি বিষয়টি জানালে তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন মর্মে তাদেরকে আশ^স্ত করেন।

ভুক্তভোগি বাচ্চু মিয়া কবিরাজ জানান, ‘আমি গরীব মানুষ। গাড়ীতে গাড়ীতে বনাজি ঔষধ বিক্রি করে সংসার চালাই। যাচাই-বাছাই শেষে ভূমিহীন হিসেবে সরকার আমার ও আমার স্ত্রীর নামে ঘোলপাশা ইউনিয়নের শুভপুর (বাবুচি) মৌজায় ৪ শতক জমি বরাদ্দ দেয়। দলিলপত্র বুঝে পেয়েছি ৮ বছর হলো। এখনো জায়গা বুঝে না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। ইউনিয়ন পরিষদ অফিস, ভূমি অফিস সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি। মেম্বার, চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়েছি। কার কাছে গেলে জমি বুঝে পাবো বুঝতে পারছিনা।’

এ বিষয়ে উল্লেখিত জমির বর্তমান ভোগদখলকারী ঘোলপাশা ইউনিয়নের বাবুচি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু মিয়া জানান, ‘দেশ স্বাধীনের পরে আনুমানিক ১৯৮০ সালের দিকে আমি এ জায়গা বন্দোবস্ত করে আনার পর এখন পর্যন্ত ভোগদখলে আছি। সরকার কাউকে নতুন করে এ জমি বরাদ্দ দিয়েছে কিনা আমি জানিনা। এ ব্যাপারে সরকার আমাকে কখনো কোনো নোটিশ দেয়নি।’

এ ব্যাপারে ঘোলপাশা ইউপি চেয়ারম্যান এ কে খোকন বলেন, ‘আমার কাছে এ বিষয়ে বাচ্চু কবিরাজ কোনো সহযোগিতা চায়নি। যেহেতু এটা সরকারী খাস খতিয়ানের জমি, উপজেলা ভূমি অফিস এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। সে চাইলে তাকে সহযোগিতা করা হবে।’

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তমালিকা পাল বলেন, ‘উনার সাথে আমি কথা বলেছি। উনি যে কবুলিয়তটা পেয়েছেন, প্রায় ১০ বছর হয়ে গেছে। অনেকদিন পূরনো তো। নথিটা রেকর্ডরুম থেকে বের করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন জানান, ‘ভুক্তভোগিকে বলেন সরাসরি গিয়ে এসিল্যান্ডকে জানাতে। তাহলে এসিল্যান্ড-নায়েব সহ গিয়ে জায়গাটি বুঝিয়ে দিবে।’

নোয়াখালীতে রহস্যজনক আগুনে পুড়ল ১৫০০ মুরগি

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় রহস্যজনক আগুনে ১ হাজার ৫০০ শ’ পোল্ট্রি মুরগিসহ একটি খামার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে এখনো অগ্নিকান্ডের কারণ জানাতে পারেনি সদর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তারা। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছে ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিক।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) ভোর রাতের দিকে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের নলপুর গ্রামে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো.আবদুল হালিম শাকিল বলেন, ভোর রাতের দিকে স্থানীয় লোকজন আবদুর রহীমের মুরগির খামারে আগুন জ্বলতে দেখে। সঙ্গে সঙ্গে তারা সদর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতিগ্রস্থ মালিকের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন এতে প্রায় ২ হাজার ৫শ’ পোল্ট্রি মুরগি আগুনে পুড়ে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে খামার মালিক আবদুর রহীমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নোয়াখালীর সহকারী পরিচালক ফরিদ আহমদ বলেন, আগুন লাগার কারণ এখনই বলা যাবে না। তদন্ত সাক্ষেপে তা বলা যাবে। ধারণা হচ্ছে ১ হাজার অধিক মরুগি আগুনে পুড়ে মারা গেছে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রা

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি বলেন, এ ঘটনায় কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করে নি। তবে খোঁজ খবর নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুতুল নিয়ে খেলতে গিয়ে সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নিহত নুসরাত জাহান নুবা (৩) উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের অনন্তপুর গ্রামের তুলা বাড়ির আবুধাবি প্রবাসী নুরুল ইসলাম রিয়াদের মেয়ে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে তাকে উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে, একই দিন বিকেল ৩টার দিকে একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের কামদেবপুর গ্রামের সিরাজ মেম্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

একলাশপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন জুয়েল জানায়, কিছু দিন আগে নুবা তার মায়ের সাথে একই ইউনিয়নের কামদেবপুর গ্রামে নানার বাড়িতে বেড়াতে যায়। গতকাল দুপুরের দিকে সে নানার বাড়িতে খাটে বসে পুতুল নিয়ে খেলতে ছিল। পুতুল খাট থেকে নিচে পড়ে গেলে পুতুল নেওয়ার সময় পায়ে বিষধর একটি সাপ কামড় দিয়ে চলে যায়। তার চিৎকারে পরিবারের লোকজন ছুটে আসেন। পরে তাকে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুবার মৃত্যু হয়।

বেগমগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী মো.হাসান কিবরিয়া বলেন, এ ধরনের কোনো সংবাদ আমরা পাইনি। নিহতের পরিবার পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেনি।

আন্দোলনের নামে কোনো নৈরাজ্য করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, পুলিশ তাই করবে। আন্দোলনের নামে কোনো নৈরাজ্য বা বিশৃঙ্খলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন হলে পুলিশ সে আন্দোলনে সহযোগিতা করবে।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) ইসি ভবনে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। এর আগে তফসিলের নিরাপত্তার বিষয়ে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মো. আহসান হাবিব খান, রাশেদা সুলতানা, মো. আলমগীর ও মো. আনিছুর রহমান, ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

বেলা ২টা ১৫ মিনিটে ইসি থেকে বের হন ডিএমপি কমিশনার। এর আগে দুপুর ১টা ৮ মিনিটে তিনি ইসি ভবনে প্রবেশ করেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, তফসিল ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখার জন্য ইসিতে এসেছি, নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন হলে পুলিশ সে আন্দোলনে সহযোগিতা করবে। আন্দোলনের নামে যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

সন্ধ্যা ৭টায় আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, বিকেল ৫টায় কমিশনের বৈঠক রয়েছে। বৈঠকের পর তফসিল ঘোষণা করবেন সিইসি। নির্বাচন হতে পারে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে।

নোয়াখালীতে পুলিশকে বন্দুক ঠেকিয়ে আসামি ছিনতাই

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে তিন পুলিশ সদস্যকে বন্দুক ঠেকিয়ে জিম্মি করে ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে ছিনিয়ে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুর গ্রামের আমিলার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ছিনিয়ে নেওয়া সন্ত্রাসীর নাম মো.শাকিল (২৪)। সে একই ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের আমিলার বাড়ির মোহাম্মাদ আলীর ছেলে এবং স্থানীয় শাকিল বাহিনীর প্রধান। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যা মামলা, ডাকাতির প্রস্তুতি ও হত্যা চেষ্টা সহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি শাকিলকে গ্রেপ্তার করতে উপজেলার আলাইয়ারপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানপুর গ্রামের আমিলার বাড়ি সামনে অভিযান চালায় বেগমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মোতালেব ও কনস্টেবল মনিরসহ তিন পুলিশ সদস্য। অভিযানে সন্ত্রাসী শাকিলকে তার বাড়ির সামনের সড়ক থেকে গ্রেপ্তার করতে ধাওয়া করে পুলিশ। একপর্যায়ে সে লাফ দিয়ে খালে পড়ে যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে ধাওয়া করে খাল থেকে আটক করে। তাকে আটকের পর সে শার্ট গায়ে দেওয়ার জন্য তালবাহানা করে। পরবর্তীতে তার পরিবার ও বাহিনীর সদস্যরা তাকে শার্ট দিতে এসে পুলিশ সদস্যদের জিম্মি করে বন্দুক ঠেকিয়ে তার হাত থেকে হ্যান্ডকাপ খুলে দিতে বাধ্য করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই সময় এসআই মোতালেব স্থানীয় চেয়ারম্যানকে ফোন করে চৌকিদার পাঠিয়ে সহযোগিতা চাইলে তিনি ঘটনাস্থলে চৌকিদার আনোয়ারসহ দুইজনকে পাঠান। সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মুখে পুলিশ হ্যান্ডকাপ খুলে আসামি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ওই সময় স্থানীয় চৌকাদার সহ পুলিশের সোর্সকে মারধর করে সন্ত্রাসীরা। ঘটনাস্থলে পুলিশের সোর্সকে সন্ত্রাসীরা গুলি করতে উদ্যত হলে সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ারুল ইসলাম অভিযোগ নাচক করে দিয়ে বলেন, ওয়ারেন্টের আসামি ধরতে গেলে সে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশকে জিম্মি করে কোনো ঘটনা ঘটেনি, পুলিশকে জিম্মি করলে হ্যান্ডকাপ নিয়ে যেত। শাকিলের বিরুদ্ধে হয়তো একাধিক মামলা থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।