Tag Archives: ঝুলন্ত

মুরাদনগরে একই রশিতে ঝুলন্ত মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

মুরাদনগরে একই রশিতে ঝুলন্ত মা-ছেলের মরদেহ উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার:

মুরাদনগর উপজেলায় একই রশিতে ঝুলন্ত মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করছে পুলিশ। শনিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে বাঙ্গরা বাজার থানার নবিয়াবাদ গ্রাম থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, তাদের হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

নিহতরা হলো নবিয়াবাদ গ্রামের প্রবাসী আ. মতিনের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (২৬) ও তার ছেলে আব্দুল্লাহ (৩)।

রাবেয়ার বাবা ইদ্রিস মিয়া জানান, ‘আমার মেয়ের পা দুটো মাটিতে লাগে আছে। ফাঁসির চিত্র দেখে স্পষ্ট যে মা-ছেলেকে মেরে রশিতে ঝুলিয়ে রেখে গেছে। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করতে যাচ্ছি।’

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, রাবেয়ার স্বামী সৌদি আরব থাকেন। বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে রাবেয়ার সম্পর্ক ভালোই ছিল।

বাঙ্গরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান জানান, সকালে মা ও ছেলেকে বসতঘরের আড়ার মধ্যে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

তিনি আরো জানান, এটা হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ‘চিরকুট’ লিখে গৃহবধূর আত্মহত্যা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছেন তানিয়া আক্তার তানজিনা (২০) নামে এক গৃহবধূ। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে পৌরসভার দক্ষিণ শাকতলী গ্রামে বসতঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে তাকে ঝুলন্ত দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা।

তানজিনা দক্ষিণ শাকতলী গ্রামের দিনমজুর আব্দুল কাদেরের মেয়ে। ৪ বছর আগে নাওগোদা গ্রামের শহীদের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সোহাগের সঙ্গে বিয়ে হয় তার। জান্নাতুল ফেরদৌস নামে দেড়বছরের একটি মেয়ে রয়েছে তানজিনার।

চিরকুটে তানজিনা লিখেন, ‘আমি মরে গেলে আমার মরার পিছনে কেউ দায়ী নয়। আমি স্বেচ্ছায় আমার জীবন দিয়েছি। আমাকে মাটি দিবে চট্টগ্রামের বাড়িতে। আমাকে বাড়িতে মাটি দিবেন না। আমি মরার পরে কেউ কান্না করবেন না। আমি মরার পর চারজন মাটি দিবে। তারা হলো শহরের মানুষ। মাটি দিবে হৃদয়, আকরাম, রাজু ভাই, রকি ভাই। এ চারজন আমাকে মাটি দেবে। আর এছাড়া কেউ আমাকে মাটি দিবেন না। আর আমাকে পালকি করে নিয়ে যাবে, প্রথম মাটি দিবে আমার বাবা। বাবার টাকায় কাফন কিনে আমাকে মাটি দিবে। আমি মরে গেলে আমাকে কেউ ফিরে পাবে না। ইতি- তানজিনা।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বামীসহ তানজিনা চট্টগ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত শুক্রবার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে তিনি বাবার বাড়ি কুমিল্লায় চলে আসেন। আসার পর থেকে স্বামী যোগাযোগ না করায় অভিমানে ঘরের সিলিংয়ের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

তানজিনার মা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে তার স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। তাকে সবসময় মারধর ও গালমন্দ করতো তার স্বামী সোহাগ।’

নাঙ্গলকোট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম সিকদার বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।