Tag Archives: সরাইল উপজেলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: অতর্কিত গুলিতে নিরপরাধ যুবকের মৃত্যু

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ফয়সাল (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার রাতে উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ফয়সাল কুট্টাপাড়া এলাকার মো. রাকিব মিয়ার ছেলে। পরিবারের দাবি, পুলিশের গুলিতে ফয়সাল নিহত হয়েছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে মোটরসাইকেলের সঙ্গে রিক্সার ধাক্কা লাগা নিয়ে কালিকচ্ছ ইউনিয়নের ধরন্তী গ্রামের ইকবাল চৌকিদারের ছেলে আকাশের সঙ্গে একই ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের সুমনের বাকবিতণ্ডা হয়। এরই জের ধরে আকাশের লোকজন শুক্রবার দুপুরে সুমনের ওপর হামলা করে। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যায় কালিকচ্ছ বাজারে ইকবাল চৌকিদারের গোষ্ঠী ও সূর্যকান্দি গ্রামের দুলালের গোষ্ঠীর লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়।

নিহতের পরিবারের দাবি, ফয়সাল পড়াশোনার ফাঁকে তার মামা ওসমান হারুনীর রড-সিমেন্টের দোকানে কাজ করত। সংঘর্ষের সময় আতংকিত হয়ে দোকান বন্ধ করার সময় পুলিশ অতর্কিতভাবে নিরপরাধ ফয়সালকে গুলি করে। এতে সে নিহত হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হোসেন রেজা বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সংঘর্ষের সময় ককটেলের স্প্রিন্টারের আঘাতে ফয়সালের মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ৪-৫ জনকে আটকসহ ১০টি অবিষ্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইটবোঝাই ট্রাক্টর চাপায় ২ জনের মৃ’ত্যু

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় ইটবোঝাই ট্রাক্টর চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকসহ ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর-শাহজাদাপুর আঞ্চলিক সড়কের যাদবপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, অটোরিকশাচালক আল আমিন (১৪) উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের আলমগীর মিয়ার ছেলে ও যাত্রী আপন চন্দ্র দাস (১৪) ধীতপুর গ্রামের ওমেলেশ চন্দ্র দাসের ছেলে।

জানা গেছে, দুপুরে একটি ইটবোঝাই ট্রাক্টর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে আল আমিন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আপন চন্দ্র দাসকে আহত অবস্থায় সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ২ জন নিহত হয়েছেন। তবে এখনো মামলা হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ৪র্থ শ্রেণির এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগে এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছে।

বুড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মুহিদ মিয়া (৪৫) একই বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক মুহিদ মিয়া নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বুড্ডা (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের মৃত রিহান উদ্দিনের ছেলে।

ধর্ষণের অভিযোগে বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রীর মামা মো. রহিম আলী বাদী হয়ে সরাইল থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।

মামলার এজাহারে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীর বাবা-মা প্রবাসে থাকেন। প্রতিদিনের মতো গত বুধবার সকালে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে যায়। ওই দিন ছিল প্রচুর বৃষ্টি। বিকাল সাড়ে ৩টায় বিদ্যালয় ছুটি হয়। কিন্তু শিক্ষক মুহিদ মিয়া কৌশলে ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে বাকি সবাইকে বাড়ি যেতে বলে। ওই শিক্ষার্থীও স্যারের কথামতো বিদ্যালয়ে ঝাড়ু দেওয়ার কাজ শুরু করে।

এদিকে বাইরে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। তখন শিক্ষক মুহিদ মিয়া দরজা বন্ধ করে শিশু শিক্ষার্থীর ধর্ষণের জন্য উদ্যত হয়। শিশু শিক্ষার্থী তখন চিৎকার শুরু করে। শিক্ষক মুহিদ মিয়া ছুরি বের করে শিশু শিক্ষার্থীকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

তখন ভয়ে ওই শিক্ষার্থীর চিৎকার বন্ধ করে। সেই সুযোগে শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে চলে যায়। পরে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি গিয়ে কেঁদে কেঁদে তার নানার কাছে ঘটনা খুলে বলে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষক মুহিদ মিয়ার মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইল দুটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপার সরাইল উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, বিষয়টি শুনেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিধি মোতাবেক আইনত ব্যবস্থা নেব।

সরাইল থানার ওসি মো. আসলাম হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মেয়ের মামা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। আমরা আসামিকে ধরার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

সরাইলে শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১৫

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় মহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলা সদরে এই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতীয় দিবসে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসেন সরাইল বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টার ও আক্তার হোসেনের নেতৃত্বাধীন পদ বঞ্চিত বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।

এছাড়া উপজেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসেন। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ঘটে। পরে দেশীয় অস্ত্র বল্লম-টেঁটা নিয়ে শহীদ মিনার এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা।

পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশসহ দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু বলেন, ‘আমরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে তাদের দেয়া সময়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ফুল নিয়ে শহীদ মিনারে প্রবেশ করব, এমন সময় আনোয়ার হোসেন মাস্টারের সমর্থক যুবদল নেতা মুন্না, ছাত্রদল নেতা জব্বার ও জামালের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। আমাদের লোকজন তাদের প্রতিহত করতে গেলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুরো ঘটনা শহীদ মিনারে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা এবং সাংবাদিকরা দেখেছেন।’

বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন মাস্টার বলেন, ‘আমি শহীদ মিনারে যাইনি। আগেই আমি সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি শহীদ মিনারে আমার না যাওয়ার বিষয়টি। মুন্নার বাড়ির কাছে শহীদ মিনার। মনে হয় তপুকে দেখে মুন্না উত্তেজিত হয়ে এমনটি করতে পারে। মুন্না আমার কথা শোনে না। আমি এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।’

সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন বলেন, ‘সংঘর্ষে ঘটনায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন খন্দকার ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দিলীপ কুমার নাথসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
সূত্র-জা:নি

সরাইল প্রেসক্লাবের আয়োজনে ভাষা আন্দোলন শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ

অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল প্রেসক্লাবের আয়োজনে ভাষা আন্দোলন শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বিকালে সরাইল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভাষা আন্দোলন শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৯৪৭ সালের ২১ ডিসেম্বর সরাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে ভাষা আন্দোলনের ডাক দেয়। এই দিবসটিকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে সরাইল প্রেসক্লাবের সদস্যরা এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রেসক্লাবের সভাপতি আইয়ুব খানের সভাপতিত্বে ও সাহিত্য সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক সাংসদ এডঃ জিয়াউল হক মৃধা, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সদস্য সচিব শাহজাহান আলম সাজু, সরাইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোকেয়া বেগম, সরাইল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মৃধা আহমাদুল কামাল, সরাইল মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বদর উদ্দিন। মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক শাহ মোঃ মোতাসিম বিল্লাহ, সরাইল প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ঠাকুর, ত্রিতাল সংগীত নিকেতনের অধ্যক্ষ সঞ্জীব কুমার দেব নাথ, আবৃত্তি সমম্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মনির হোসেন, সরাইল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ কামরুজ্জামান ইউসুফ প্রমুখ, আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাবের সদ্য নির্বাচিত সম্পাদক মাহবুব খান বাবুল।

এসময় বক্তারা বলেন, ১৯৪৭ সালে তমুজউদ্দিন মজলিস ও মুসলিম ছাত্রলীগের যুক্ত কমিটির আহবানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে ঢাকায় বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালের ২১ ডিসেম্বর সরাইলের তৎকালীন প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতারা রাষ্ট্র ভাষাকে বাংলা করার দাবি করেন। ১৯৪৮ সালের ৫ জানুয়ারি ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা খবরটি প্রকাশ করে।

আজ ৭৩ বছর পরেও আমরা অনেকেই বিষয়টি জানিনা। নতুন প্রজন্মকে বিষয়টি জানানোর জন্য সরাইল প্রেসক্লাব বিগত বছর ধরে দিবসটি পালন করে আসছে। এমন একটা মহৎ কাজের জন্য সরাইল প্রেসক্লাবের সকলকে ধন্যবাদ জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-নাসিরনগর সড়কে বাড়ছে ডাকাতি

 

সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধিঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-নাসিরনগর লাখাই আঞ্চলিক সড়কে যাত্রীবাহী অটোরিকশায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দিবাগত রাতে সড়কের বড্ডাপাড়া (হেলিপ্যাড) এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।

দুলাল মিয়া (৩২) নামের এক যাত্রীকে মারধর করে নগদ টাকা মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়েছে ডাকাতরা। এ সড়কে চলাচলকারী যাত্রীরা জানায়, গত কয়েকদিন ধরে এ সড়কের বড্ডা পাড়া ব্রীজ থেকে শুরু হয়ে সরাইল কলেজের মোড় পর্যন্ত সম্প্রতি রাতের বেলায় ডাকাতি বেড়ে গেছে।

ডাকাতের কবলে পড়া দুলাল মিয়া জানান, গভীর রাতে চিকিৎসা শেষে স্ত্রী পারভিনকে (২৭) নিয়ে জেলা সদর হাসপাতাল থেকে নিজ বাড়ি কালিকচ্ছ মনিরবাগের উদ্যেশ্যে রওনা দেন। বিশ্বরোড মোড় থেকে ব্যটারি চালিত অটোরিকশা নিয়ে কালিকচ্ছ যাচ্ছিলেন। রাত ১২টার দিকে বড্ডাপাড়া হেলিপ্যাড বরাবর স্থানে গামছা দিয়ে মুখ বাঁধা ৪ জন লোক তাদের অটোরিকশাটি গতিরোধ করে। তাদেরকে মারধর করে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তাদের কাছে থাকা নগদ ২৯ হাজার ৭৩০ টাকা ও তিনটি মুঠোফোন সেট ছিনিয়ে নেয় ডাকাতদল।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এম এম নাজমুল আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ কোন অভিযোগও করেনি। খুঁজ খবর নিয়ে দেখছি।

উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর নোয়াগাঁও পূর্বপাড়ার মো. মুর্তুজ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী (৪০) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ির উদ্যেশ্যে বিশ্বরোড থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ওঠেন। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তাকে বহনকারী অটোরিকশাটি খাদ্য গুদামের বরাবর আসামাত্র ৮-১০ জনের মুখোশধারী এক দল ডাকাত গাছ ফেলে আটকে দেয়। দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোহাম্মদ আলীর মুঠোফোন নিয়ে নেয়। সাথে থাকা ৩ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয়। এর আগে গত ২৮ নভেম্বর একই জায়গায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহআলম মিয়া (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে বহনকারী সিএনজিকে আটক করে সংঘবদ্ধ এক দল ডাকাত।

সরাইল উপজেলার অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে প্রত্যাহার

 

সরাইল সংবাদদাতাঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাপন চক্রবর্ত্তীকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বাপন চক্রবর্ত্তী এসআই আবু ইউছুফের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , গত বুধবার রাত ১০টার দিকে অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ উপজেলার পাকশিমুল বাজার থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি গুলি ও চারটি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করে। গুলি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের বিষয়টি অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানায়নি। এ ঘটনার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমান গতকাল রাতে অরুয়াইল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব থেকে বাপন চক্রবর্ত্তীকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

বাপন চক্রবর্ত্তী শুক্রবার বিকেলে বলেন, ‘গুলি ও ইয়াবা পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে ফাঁড়ির হাবিলদার সাহাব উদ্দিন বুধবার রাতে উদ্ধার করেছেন। কিন্তু সাহাব উদ্দিন গতকাল দুপুরের পর বিষয়টি আমাকে জানান। ফলে আমি বিষয়টি আমার কর্তৃপক্ষকে যথাসময়ে জানাতে পারিনি।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) আনিছুর রহমান বলেন , বিষয়টি প্রত্যাহার নয়। তবে বাপন চক্রবর্তীকে সাময়িক সময়ের জন্য সরাইল থানায় সংযুক্ত করে তাঁর জায়গায় অন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চা খেতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত রিকশাচালক

 

সরাইল সংবাদদাতাঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শেরপুরে বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় মিলন মিয়া (৪০) নামে এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর মাজার গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিলন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া উত্তর পৈরতলা কাউসার মিয়ার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করতেন। তিনি সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের আঁখিতারা গ্রামের মৃত ভোলা মিয়ার ছেলে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মিলন মিয়া সকালে বাড়ি থেকে রিকশা নিয়ে শেরপুর মাজার গেটের সামনে চা খেতে যায়। রাস্তার পশ্চিম পাশে দাঁড়িয়ে চা খাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক রিকশাসহ তাঁকে ধাক্কা দেয়। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা গাড়িটি আটক করে পুলিশকে খবর দেয় ।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও তার সহকারী পালিয়ে গেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ঘর নির্মাণে চাঁদা না দেয়ায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বাড়ির রাস্তা নিয়ে দ্বন্দ্ব ও ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে ১০ হাজার টাকা চাঁদা না দেয়ায় এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিবেশি মানিক মিয়া (৩৫)। শুক্রবার (২০ নভেম্বর) দুপুরে গুরুতর আহতাবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে আবেদা খানম (৭০) নামের ওই বৃদ্ধা মারা যান।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের কাকরিয়া মনিরামপুর গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত আবেদা ওই গ্রামের আহম্মদ আলীর স্ত্রী।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, ঘর নির্মাণ করার সময় প্রতিবেশি মানিক মিয়া (৩৫) ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং রাস্তার কথা বলে ঘরের পাশ থেকে কিছু জায়গা ছাড়তে বলে। এতে রাজি না হওয়ায় প্রতিবেশি মানিক মিয়া ও তার লোকজন দ্বীন ফুল ইসলামের উপর হামলা করে।

এসময় মা আবেদা খানম ছেলেকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাদের গুরুতর আহত করে। গুরুতর অবস্থায় তাদের জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে আবেদা খানমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

সরাইল থাà