সাম্প্রতিক বন্যায় ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষীপুর জেলার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেখ হাসিনাসহ তাঁর বিনা ভোটের চেয়ারম্যানরা বন্যার্ত মানুষের সেবা না করে পালিয়ে গেছে।

,

কুমিল্লা থেকে অপহৃত মা ও শিশুকে কক্সবাজারে উদ্ধার
কুমিল্লা থেকে অপহরণের তিন দিন পর কক্সবাজার শহরের সৈকতপাড়া এলাকা থেকে অপহৃত মা ও শিশুকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১৫।
শনিবার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে অপহরণের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধারকৃতরা হলেন- কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার আশোকতলা এলাকার বক্সবাড়ির তানভীরের স্ত্রী আরিফা আক্তার (২৫) এবং তার তিন বছরের শিশু তানিশা ইসলাম আনহা।
রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল অ্যান্ড মিডিয়া) মো. আবুল কালাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, গত ২৮ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে কুমিল্লা পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড মোড় এলাকা থেকে নিখোঁজ হন আরিফা আক্তার ও তার শিশু সন্তান। ভিকটিমের পরিবার সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায়।
নিখোঁজের তথ্য পেয়ে র্যাব-১৫ গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৩১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার সৈকতপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফা আক্তার ও তার শিশুকে উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফা জানান, অজ্ঞাত অপহরণকারী চক্রের হাতে তিনি অপহৃত হন। পরে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ভিকটিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান র্যাব-১৫ এর এই কর্মকর্তা।
দেশে ডায়মন্ডের খনি নেই, আমদানিও হয় না, তবুও থেমে নেই ডায়মন্ডের বেচাকেনা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য উপকমিটির সদস্য এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র হত্যা মামলার আসামি দিলীপ কুমার আগরওয়ালা চোরাই পথে আনা ভেজাল ডায়মন্ডের ব্যবসা করছেন গত দেড় দশক ধরে।
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেড নামে দিলীপ আগরওয়ালার ২৮টি শোরুম রয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে। এসব শো-রুমে দিনে বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার ডায়মন্ড। কোথা থেকে কীভাবে ডায়মন্ড আসছে জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেননি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের বিক্রয়কর্মীরা।
এনবিআর সূত্র জানায়, ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডায়মন্ড ও ডায়মন্ডের গহনা আমদানি হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার। এর পর দেশে ডায়মন্ডের আমদানি আর হয়নি বললেই চলে। এর বাইরে শিল্প খাতে ব্যবহারের জন্য ২০১৯ ও ২০২০ সালে তিনটি চালান ছাড়া কোনো জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড আমদানি করেনি।
২০২১ সালে অমসৃণ ডায়মন্ড আমদানি করে একমাত্র কাটিং ও পলিশিং কারখানা বেঙ্গল ডায়মন্ড লিমিটেড। কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড আমদানি করে ছোট একটি চালান। ২০২২ সালে দুটি প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড আমদানি করে। শিল্পে ব্যবহারের জন্য বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ আমদানি করে একটি চালান। সাড়ে ৫ হাজার ডলার ঘোষণায় আরেকটি চালান আমদানি করে ঢাকার জুয়েলারি হাউস। অর্থাৎ চার বছরে গড়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকার ডায়মন্ড আমদানি হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, আমদানি না হলেও দেশে ডায়মন্ডের বাজার দিন দিন বড় হয়েছে। ডায়মন্ডের গহনা বিক্রির শতাধিক দোকান রয়েছে। এ ছাড়াও কিছু কিছু সোনার দোকানেও ডায়মন্ডের গহনা বিক্রি হয়। এসব দোকানে বছরে কত টাকার ডায়মন্ডের গহনা বেচাকেনা হয়, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই সরকারের কাছে।
দেশের ডায়মন্ডের বাজার নিয়ে সমীক্ষা করা একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে, ডায়মন্ডের গহনা বেচাকেনা হয় বছরে ১৮ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার। গড় বাজার হিসাব করা হলে বছরে তা প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার। ব্যাগেজ রুলের আওতায় বিদেশ থেকে ডায়মন্ড আমদানির সুযোগ নেই।
তাহলে দেশের বাজারে বেচাকেনা হওয়া এত ডায়মন্ড কোথা থেকে কীভাবে আসছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আমদানির তথ্যমতে, গত ২০ বছরে যত ডায়মন্ড আমদানি হয়েছে, তার অধিকাংশই ভারত থেকে। ভারতের গুজরাটের সুরাটে বিশ্বের ৬৫ শতাংশের বেশি ডায়মন্ড কাটিং ও পলিশিং করা হয়। খুব সহজে বহন করা যায় বলে দেশটি থেকে অবৈধভাবে ডায়মন্ড আসছে, জানান ব্যবসায়ীরা।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচারের সময় কয়েক বছরে কয়েকটি চালান জব্দ করেছেন। ২০২১ সালে সাতক্ষীরা সীমান্তে পৌনে ২ কোটি টাকার ১৪৪টি ডায়মন্ডের গহনা জব্দ করে বিজিবি। ২০১৮ সালে ৭০ লাখ টাকার ডায়মন্ডের গহনা জব্দ করা হয়।
অবৈধ পথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব ডায়মন্ড দেশে আনছিলেন দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। বন্ড সুবিধা ছাড়া অমসৃণ ডায়মন্ড আমদানিতে কর ৮৯ শতাংশ। মসৃণ ডায়মন্ড আমদানিতে কর ১৫১ শতাংশ। এই শুল্ক কর ফাঁকি দিতেই মূলত ডায়মন্ড অবৈধ পথে আনা হচ্ছে। গত ২০ বছরে এই মূল্যবান রত্ন আমদানিতে সরকার নামমাত্র রাজস্ব পেয়েছে।
ডায়মন্ডের বাজারে আরেকটি রহস্যজনক আচরণ হলো দেশের বাজারে দাম। এক ক্যারেট (০.২ গ্রাম) ডায়মন্ডের দাম ৭৯ হাজার টাকা। আর সবচেয়ে কম অর্থাৎ শূন্য দশমিক ১০ ক্যারেট ডায়মন্ডের দাম ৭ হাজার ৯১৪ টাকা। বাংলাদেশে নাকফুলসহ ডায়মন্ডের অলংকার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকার নিচে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, হীরার ক্ষুদ্র টুকরা ব্যবহার করা হলেও এত কম দামে ডায়মন্ডের গহনা পাওয়ার কথা নয়। এগুলো আসলে উন্নতমানের কাচের টুকরা। আমদানি না হলেও বছরে এখন গড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার ডায়মন্ডের গহনা বিক্রি হচ্ছে দেশে।
ডায়মন্ডের গহনা তৈরি করতে স্বর্ণ ব্যবহৃত হয়। মূল্যবান এই রত্ন বসানো হয় স্বর্ণের ওপর। স্বর্ণ আমদানির জট খুলেছে আগেই। সোনার অলংকারের দক্ষ কারিগরও রয়েছে দেশে। এখন ডায়মন্ড রপ্তানির বৈশ্বিক এই বড় বাজার ধরা গেলে বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় আসবে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। এ জন্য নীতিসহায়তা বাড়ানোর পাশাপাশি অবৈধ পথে ডায়মন্ড আমদানি বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১০০ গ্রাম পর্যন্ত গহনা আনার সুযোগ নিয়ে ডায়মন্ডের ব্যবসায়ীরা আরও বেশি ওজনের ডায়মন্ডের গহনা নিয়ে আসছে ভারত ও দুবাই থেকে। যদিও ৯০ শতাংশের বেশি ডায়মন্ডের গহনা ভারত থেকে আসছে চোরাই পথে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের উচিত এসব কীভাবে আমদানি হচ্ছে, তার কাগজপত্র চেক করা। তাহলেই তো বেরিয়ে আসবে আসল রহস্য।
অজু করতে গিয়ে মা দেখলেন পুকুরে ভাসছে মেয়ের নিথর দেহ
লক্ষ্মীপুরের সমসেরাবাদ এলাকার মাতাব্বর বাড়িতে একটি পুকুরের পানিতে ডুবে দুই বছরের এক শিশু, আরিবা জান্নাত, মারা গেছে। শনিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। জান্নাতের মা বিউটি আক্তার পুকুরে অজু করতে গিয়ে তার সন্তানের মরদেহ পানিতে ভাসতে দেখেন।
মৃত জান্নাত আবুল কাশেমের ছোট মেয়ে। তার মৃত্যুতে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জান্নাতের চাচা আরিফ হোসেন বলেন, “আছরের নামাজের সময় জান্নাতের মা বিউটি আক্তার এবং চাচী স্বর্ণা আক্তার অজু করতে পুকুরে যান। সেই সময় তারা পুকুরে জান্নাতের মরদেহ ভাসতে দেখেন। ধারণা করা হচ্ছে, সবার অগোচরে জান্নাত পুকুরে পড়ে যায় এবং তার মৃত্যু হয়।”
জান্নাতের মরদেহ এশার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
বাপ দাদার ভিটে মাটির কোন চিহ্নই নেই, সবই গিলে খাইছে গোমতী
জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:
ভারতের উজান থেকে আসা পানির স্রোতে গোমতী নদীর তীরবর্তী কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গ্রামগুলোতে ধীরে ধীরে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিনে অন্তত ৪০টি পরিবারের বসত ভিটা গোমতী নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঝুঁকিতে আছে আরও অর্ধশত পরিবার। ভাঙন ঠেকানোর জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
জানা গেছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের গোমতী নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। তীরবর্তী বসতীরা বাঁশ, গাছের ডালা ফেলে কিছুটা রক্ষা হলেও এবার গত কয়েকদিনের বন্যার পানির স্রোতে গ্রামের অন্তত ৪০টি ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভয়ে অনেকেই ঘরের আসবাবপত্র সরিয়ে নিয়েছেন। কেউ আবার আস্ত টিনের ঘরই সরিয়ে নিচ্ছেন অন্যত্র।
আজ শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ নারান্দিয়া গ্রামের পশ্চিম পাড়া বিল্লাল মিয়ার ভিটিপাকা ঘরটি কোন রকমে খুলে রক্ষা করলেও ভিটি এবং জমি রক্ষা করতে পারেননি। একই গ্রামের আব্দুস সালাম, আবুল হাসেম, বাদশা মিয়া, সাগর, মান্নান ও মনোয়ারার পরিবারের।