Tag Archives: প্রধানমন্ত্রী

'বঙ্গবন্ধু পরিষদ' কুমিল্লা জেলা কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মবার্ষিকী পালিত

‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ কুমিল্লা জেলা কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মবার্ষিকী পালিত

স্টাফ রিপোর্টার:

‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ কুমিল্লা জেলা কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মবার্ষিকী পালিত ও ‘বঙ্গবন্ধু পরিষদ’ কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের পরিচিতি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (১৪ অক্টোবর) ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়ছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দ অতিথিদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেটের আঘাতে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দ কেক কাটা হয়।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ, কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক ড. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক ডাঃ নজরুল ইসলাম।

জেলা কমিটির সদস্য সচিব প্রফেসর ড. দুলাল চন্দ্র নন্দী এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রবন্ধ পাঠ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড.জি. এম মনিরুজ্জামান, বক্তব্য রাখেন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. আসাদুজ্জামান, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান, প্রফেসর মোঃ রুহুল আমিন ভূঁইয়া, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডাঃ আতাউর রহমান জসিম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোঃ শফিউল্লাহ, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের কুমিল্লা জেলার সভাপতি, অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি কুমিল্লা জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম, সাংবাদিক হাবিবুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাইনুল হাসান, সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ নাসিমা আক্তার পুতুল, উপাধ্যক্ষ মোস্তাক আহমদ ও জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান বিউটি আক্তার সহ জেলা কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা। যতো দিন বাংলাদেশ থাকবে, ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর নাম ততো দিন স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। জাতির জনকের নামের সংগঠনের কুমিল্লা জেলা কমিটি অনুমোদন দেয়ায় কমিটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা কমিটির সকল সদস্য বৃন্দ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিকে আবারও ক্ষমতায় বসিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রেখে বাঙালি জাতিকে বিশ্বের দরবারে সমৃদ্ধশালী করবে।

কাওলায় আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কাওলায় আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট:

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন উপলক্ষে রাজধানীতে ক্ষমতাসীনদের জনসমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শনিবার বেলা সোয়া ৩টায় তিনি জনসমাবেশস্থলে পৌঁছান। এসময় নেতাকর্মীরা তাকে স্লোগানে স্লোগানে স্বাগত জানালে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জবাব দেন।

এ জনসভা গত শনিবার হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তারিখ পরিবর্তন হয়। ফলে আজ কাওলায় হচ্ছে সমাবেশ।

এ উপলক্ষে এরই মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন শাখা ও ইউনিট থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন কাওলা মাঠে। দুই ঘণ্টা আগেই জনসভার মাঠ লোকে লোকারণ্য। রোদের মধ্যে আশপাশের এলাকায় গাছের ছায়াও অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা।

বিশেষ করে, ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থীদের শোডাউন চোখে পড়েছে। প্রত্যেকেই তার অনুসারীদের টি-শার্ট ও ক্যাপ, ব্যানার ফেস্টুনসহ নানা সাজে সাজিয়ে মিছিল নিয়ে এসেছেন। সভাস্থলে প্রার্থীদের ছবি হাতে সমর্থন জানান দিতে দেখা গেছে।

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে পণ্য ও সেবার জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ অপরিহার্য: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে সবার জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে পণ্য ও সেবার জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা অপরিহার্য। ডিজিটাল প্রযুক্তি এখানে প্রণিধানযোগ্য।

আগামীকাল ‘বিশ্ব মান দিবস’ উপলক্ষে আজ শুক্রবার এক বাণীতে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশের জাতীয় মান সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উদ্যোগে ১৪ অক্টোবর ২০২৩ ‘বিশ্ব মান দিবস’ পালিত হতে যাচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এবারের বিশ্ব মান দিবসে গত বছরের প্রতিপাদ্য ‘সমন্বিত উদ্যোগে টেকসই উন্নত বিশ্ব-বিনির্মাণে মান’ বহাল রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির প্রেক্ষাপটে প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আমি মনে করি।

তিনি জানায়, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা বিনির্মাণ। আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

জাতির পিতার নেতৃত্ব ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৭৪ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস ইনস্টিটিউশন (বিডিএসআই), আইএসওর এবং ১৯৭৫ সালে কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশনের (সিএসি) সদস্যপদ লাভ করে।

পরবর্তীকালে বিএসটিআই আরো ৪টি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা- ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব ওয়েট অ্যান্ড মেজারস (বিআইপিএম), ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব লিগ্যাল মেট্রোলজি (ওআইএমএল) ও এশিয়া প্যাসিফিক মেট্রোলজি প্রোগ্রাম (এপিএমপি) এবং মান সংক্রান্ত সার্কভুক্ত আঞ্চলিক সংস্থা-সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্গানাইজেশনের (এসএআরএসও) সদস্যপদ অর্জন করে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের জন্য মানসম্মত খাদ্য ও পণ্য সরবরাহে বদ্ধপরিকর। মুক্ত বাজার অর্থনীতির যুগে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই।

শিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে পরিবেশবান্ধব ও রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি টেকসই শিল্পসমৃদ্ধ দেশে রূপান্তর করতে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তথা জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানান।

তিনি বিশ্ব মান দিবস-২০২৩ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

ভোটের আগে ষড়যন্ত্র নিয়ে উদ্বেগের কোনো কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রী

ভোটের আগে ষড়যন্ত্র নিয়ে উদ্বেগের কোনো কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভোটের আগে ষড়যন্ত্র নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশবাসী সব সময় তার দলের পাশে আছে। তাই আগামী সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।

প্রধানমন্ত্রী বুধবার সকালে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা জানান, সামনে নির্বাচন। আগামী নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ জনগণ তাদের ম্যান্ডেট নিয়ে সব সময় আমাদের পাশে আছে।

বারবার তার প্রাণনাশের চেষ্টা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুলেট ও বোমার মুখোমুখি হয়ে আমরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ প্রত্যেক ব্যক্তিকে একটি কাজ দিয়েছেন এবং কাজটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে রক্ষা করবেন।

তিনি আরও বলেন, আমাকে রক্ষা করতে উপরে আল্লাহ্ আছেন আর মাঠে আমার দলের নেতাকর্মীরা আছেন। যখনই আমার ওপর কোন হামলা হয়, আমার দলের লোকেরা সব সময় আমাকে রক্ষা করে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২২ জন নেতাকর্মী নিহত হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, দলের লোকেরা তাদের জীবনের বিনিময়ে মানব-ঢাল বানিয়ে তার প্রাণ রক্ষা করেছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি-এটাই বড় কথা।

প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় ঢাকা-ভাঙ্গা রেল সংযোগের উদ্বোধন ও ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ড. কাজী আবু ইউসুফ স্টেডিয়ামে এক মহাসমাবেশে ভাষণ দেওয়ার পর টুঙ্গিপাড়া পৌঁছান।

আজ বিকালে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

দুর্নীতি করতে আসিনি, মানুষের সেবা করতে এসেছি: প্রধানমন্ত্রী

দুর্নীতি করতে আসিনি, মানুষের সেবা করতে এসেছি: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ব্যাংকের টাকা বন্ধ করে দুর্নাম দিতে চেয়েছিল যে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলাম দুর্নীতি করতে আসিনি, মানুষের সেবা করতে এসেছি। শেখ মুজিবের মেয়ে দুর্নীতি করে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, শেখ মুজিবের মেয়ে দুর্নীতি করতে পারে না। বিএনপি মনে করেছিল পদ্মা সেতু করতে পারবে না। কিন্তু আমরা করে দেখিয়েছি। পদ্মা সেতু আমরা নিজেদের অর্থায়নে করতে পেরেছি। যার ফলে আমরা বাংলাদেশের মানুষ, যাদের কথা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না।

মঙ্গলবার পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঢাকা-ভাঙ্গা অংশের উদ্বোধন শেষে ভাঙ্গায় আওয়ামী লীগের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বলেই দেশের উন্নয়ন হয়েছে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের জন্য কাজ করে, দেশের কল্যাণে কাজ করে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করছি। দেশকে আমরা আরও উন্নত করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে ফরিদপুরে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে। এছাড়া ফরিদপুরের প্রতিটি উপজেলায় কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। ফরিদপুর পুরনো শহর, কিন্তু সবসময় অবহেলিত ছিল। আমরা সরকারে এসে উন্নয়ন করেছি। ফরিদপুরের মেডিকেল কলেজকে সম্প্রসারিত ও সেবার আধুনিকায়ন আমরাই করেছি।

তিনি বলেন, আজ আপনাদের সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন। এই মোবাইল ফোন আপনাদের কে দিয়েছে? আওয়ামী লীগ সরকার দিয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ করার জন্য ২০০১ সালে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে বন্ধ করে দেয়। আসলে ধ্বংস করাই তাদের চরিত্র। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে আবার উদ্যোগ নেই। অনেকে বলেছিল এটা সম্ভব না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফরিদপুর, শরীয়তপুরসহ আশেপাশের এলাকা নদীভাঙন থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা যে বিদ্যুৎ দিয়েছি, এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে অনেক টাকা খরচ হয়। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবেন। পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হবেন। সেই সঙ্গে আমাদের দেশের মানুষের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, আমরা আজকে বয়স্ক ভাতা দিচ্ছি, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তাদের ভাতা দিচ্ছি, মাতৃত্বকালীন ভাতা দিচ্ছি… যে মা বাচ্চাকে দুধ খাওয়ায়, কর্মজীবী মহিলা, তাদের ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা দিচ্ছি। আমরা সবার জন্য যারা ভূমিহীন, তাদের বিনা পয়সায় ঘর করে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটি মানুষও আর ভূমিহীন, গৃহহীন থাকবে না।

আমরা এগিয়ে যাই, বিএনপি থাক ধ্বংস নিয়ে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আমরা এগিয়ে যাই, বিএনপি থাক ধ্বংস নিয়ে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট:

দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) মাওয়া প্রান্তে পদ্মা রেল সেতু উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে এ সমালোচনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে জানান, আমাদের লক্ষ্য দেশকে আরও উন্নত করা। এ জন্য নানা উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আর বিএনপি ধ্বংস নিয়েই আছে। তারা রেল উপড়ে ফেলা, বাসে আগুন, মানুষের জান-মাল ধ্বংস করেছে। তারা এই ধ্বংসের মধ্যেই থাকবে। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাবো।

সরকার প্রধান জানায়, পদ্মা সেতু নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে। একজন ব্যক্তি, একটা ব্যাংকের এমডি থাকতে পারবে না, বলেছিলাম। যদিও তিনি জগৎ বিখ্যাত। তার কারণে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করবে না বলেছিল বিশ্বব্যাংক। বলেছিলাম, নিজের অর্থায়নে পদ্মা সেতু করবো, করেছি।

তিনি জানান, মাঝে মাঝে দুঃসময় আসে। বিশ্বব্যাপী দুঃসময়, আমাদের কাছেও আসে। এ জন্য উৎপাদন বাড়াতে হবে। নিজের উৎপাদনে নিজেরা চলবো। জাতির পিতার বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে চলবে।

আওয়ামী লীগ সরকার আছে বলেই এদেশে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় দাবি করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আজকে যারা ভোটের কথা বলে, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের ধোয়া তুলে প্রতিদিন আমাদের হটায়। তারা কখনও অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় না। কারণ তাদের প্রতিষ্ঠা হয়েছে একটা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাত থেকে। যে কারণে তারা ভোট চুরি ছাড়া কোনোদিন ক্ষমতায় আসে নাই। যে কারণে ২০০৮ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ৩০০ সিটে পেয়েছে মাত্র ২৯টা সিট। তারপর থেকে তারা নির্বাচন বয়কট, নির্বাচন নিয়ে খেলা শুরু করেছে। অগ্নিসন্ত্রাস, মানুষ হত্যা, মানুষের জীবন নিয়ে খেলা এই ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে মেতে আছে। বাঙালি জাতিকে আহ্বান করবো, তাদের ভাগ্য নিয়ে যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে। আমরা ৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন করবো।

এ সময় অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আনতে প্রধানমন্ত্রী আবারও আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে একটি মানুষও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ৮ লাখ ৪০ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীনকে ভূমি ও গৃহ দিয়েছি। মডেল মসজিদ করে দিয়েছি সব জেলা উপজেলায়।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য দেশকে আরও উন্নত করা। ছাত্রছাত্রীদের বিনামূল্যে বই দিচ্ছি। আড়াই কোটি শিক্ষার্থী বৃত্তি-উপবৃত্তি পাচ্ছে। যাতে দেশটা এগিয়ে যায়। ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি, এখন আমাদের লক্ষ্য, স্মার্ট বাংলাদেশ। প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছি। ল্যাব করে দিয়ে কম্পিউটার শিক্ষা দিচ্ছি। লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং কর্মসূচির মাধ্যমে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে প্রশিক্ষিত করছি। তারা ইউনিয়নে বসে দেশ বিদেশের কাজ করে উপার্জন করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, রেলের সার্বিক উন্নয়নে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আমরা সাড়ে ১৪ বছরে ৮৭৩ কিলোমিটার নতুন রেল লাইন নির্মাণ করেছি। ২৮০ কিলোমিটার মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করা হয়েছে। ১৩৯১ কিলোমিটার লাইন পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। এক হাজার ৩৭টি নতুন রেল সেতু নির্মাণ ও ৭৯৪টি রেল সেতু পুনর্নির্মাণ করেছি। ১৪৬টি নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ ও ২৩৭টি স্টেশন ভবন পুনর্নির্মাণ করেছি। অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্ব দিয়েছি। আশা করি, ৩ থেকে ৪ বছরেরর মধ্যে বাংলাদেশে রেল যোগাযোগ আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, ২১ বছর পর আমরা সরকার গঠন করি। তখন থেকেই জনগণের সেবা শুরু করি। এর আগের ২৯ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা কেনো মানুষের জন্য কিছু করতে পারেনি? আসলে তারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করে না। তারা চায় না, স্বাধীন দেশটি এগিয়ে যাক।

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি, সেনাপ্রধান এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, চীনের রাষ্ট্রদূত ও রেল সচিব হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের নেতাসহ সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

অবশেষে বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা রেল সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে ডিজিটাল সুইচ টিপে তিনি উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করেন।

এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় তিনি মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্তের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পৌঁছান। এর আগের সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সড়ক পথে মাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

পদ্মা সেতুতে রেল চলাচল উদ্বোধন হওয়ায় এ অঞ্চলে যোগাযোগের নবদিগন্ত উন্মোচিত হলো। এ উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে।

উদ্বোধনের পর মাওয়া স্টেশন থেকে একটি বিশেষ ট্রেনে ফরিদপুরের ভাঙ্গা স্টেশনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এতে শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রীপরিষদ সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের যাত্রী হওয়ার কথা রয়েছে। চীন থেকে আমদানি করা ১৪টি কোচ দিয়ে ট্রেনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত একাধিকবার যাত্রী ও মালবাহী ট্রেনের ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে মাওয়া থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা পর্যন্ত অন্তত ৬ বার ১০ কোচের একটি ট্রেনের ট্রায়াল হয়েছে। সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো হয়েছে এই রুটে। প্রধানমন্ত্রী ভাঙ্গা রেলওয়ে জংশনে নেমে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ডা. কাজী ইউসুফ স্টেডিয়ামে এক জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।

এদিকে নতুন রেলপথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘিরে মাওয়া ও ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন, স্টেশন চত্বর ও লাইনের দু’পাশ রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। যে ট্রেনটিতে প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিবৃন্দ চড়বেন, সেটিরও সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে গত কয়েকদিন আগেই। ব্রডগেজ ট্রেনটি ১০টি কোচ নিয়ে মাওয়া থেকে ভাঙ্গা যাবে। প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিবৃন্দের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্রেনটির দুপাশে দুটি ইঞ্জিন এবং মাঝখানে দুটি পাওয়ারকার যুক্ত থাকবে।

আমরা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে অঙ্গীকারাবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

আমরা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে অঙ্গীকারাবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সোমবার সাক্ষাৎ করেছেন সফররত সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়ক স্টেট মিনিস্টার ডায়না জান্স।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সরকার প্রধানকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমকে জানায়, আগামী সাধারণ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।

সুইডেনও চায় বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক, সুইডিশ স্টেট মিনিস্টার এ কথা উল্লেখ করেছেন বলে করিম জানিয়েছেন।

বৈঠকে উভয় নেতা বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে চমৎকার সম্পর্কের জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ এবং যুদ্ধ বন্ধের মধ্য দিয়ে বাঁচানো অর্থ মানবজাতির কল্যাণে ব্যয় করতে হবে। খাদ্যশস্য পরিবহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত নয়। যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে মূল্যস্ফীতি, দ্রব্যমূল্য এবং পণ্য পরিবহণ খরচ বেড়েছে।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশে কোনো খাদ্য সংকট নেই। কারণ কৃষিবিদরা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন। তার সরকার সারা দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে। প্রধানমন্ত্রী সুইডিশ বিনিয়োগের জন্য একটি জমির প্রস্তাবও দিয়েছেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুইডিশ স্টেট মিনিস্টার ১০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, তার সরকার রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন চায়।

সরকারপ্রধান জানায়, দুর্ভাগ্যবশত উন্নত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় যথেষ্ট কাজ করছে না।

সুইডেনের স্টেট মিনিস্টার আরও জানান, গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন এবং বাংলাদেশে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্দ্রা বার্গ ভন লিন্ডে উপস্থিত ছিলেন।

শত্রু দেশের বাইরে থেকে আসতে হয় না: প্রধানমন্ত্রী

শত্রু দেশের বাইরে থেকে আসতে হয় না: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের শত্রু দেশের বাইরে থেকে আসতে হয় না, দেশের ভেতরেই শত্রু আছে। মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী বা ৭৫-এর খুনিরা বাংলাদেশকে কখনো এগিয়ে নিয়ে যেতে দেবে না। তাদের বাধা অতিক্রম করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি এবং এগিয়ে যাব।

রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিসিএস কর্মকর্তাদের ৭৫তম বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্সের সনদ বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাঁচটি প্রকল্প/কর্মসূচির আওতায় নির্মিত ভবন ও জিইএমএস সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, আমার চাওয়া এবং স্বপ্ন একটাই যা আমার বাবা এ দেশের মানুষকে নিয়ে দেখেছিলেন। আমার লক্ষ্য হলো মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং তাদের জীবনমান উন্নত করা। আজ পর্যন্ত যতটুকু করতে পেরেছি, ভবিষ্যতের জন্য যেন সেটি স্থায়ী হয়ে চলমান থাকে এটিই আমার চাওয়া।

তিনি বলেন, আজ বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে আমরা কিছু সমস্যায় আছি। রিজার্ভ নিয়ে অনেকে কথা বলে… আমি বলছি রিজার্ভ নিয়ে অতটা চিন্তার কিছু নেই। আমার গোলায় যতক্ষণ খাবার আছে, ততক্ষণ আমরা চিন্তা করব না।

দেশের প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ফসল ফলাব এবং নিজের খাবার নিজেরা খাব। আমরা না হয় কেনাকাটা বা খরচ একটু কমই করব। নিজ দেশের মর্যাদা নিয়ে আমাদের চলতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, তারা (কৃষক) রোদে পুড়ে এবং বৃষ্টিতে ভিজে মাঠে কাজ করে যে অর্থ উপার্জন করে, সেই উপার্জনের টাকা দিয়ে আমাদের সবার সবকিছু চলে। এ কথা আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। সবসময় মাথায় রাখতে হবে যে, খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টের ফসলটাই আমরা ভোগ করি।

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার কারিগর নবীন বিসিএস কর্মকর্তারা

নবীন অফিসারদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশের মূল কারিগর এবং সৈনিক হবেন আজকের কর্মকর্তারা। তখন তো আর আমরা থাকব না। কিন্তু দেশটা যেন এগিয়ে যায়। আমি শুধু সেটিই চাই।

তিনি বলেন, আমাদের টেনিউর (সরকারের মেয়াদ) শেষ। তারপর আবার নির্বাচন হবে, জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয় তাহলে ক্ষমতায় আসব, নইলে ঠিক আছে… তাছাড়া বয়স হয়ে গেছে।

উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমাদের অর্থনীতি কিছুটা চাপে আছে। এজন্য আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে।

এসময় সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারী ১৯টি ক্যাডার সার্ভিসের ৬০২ জনের মধ্যে ৩০ জনের হাতে মেধা সনদ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তিনজনের হাতে মর্যাদা পদক তুলে দেন তিনি।

ছয় মাসব্যাপী অনুষ্ঠিত ৭৫তম বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্সে শীর্ষস্থান অর্জন করে রেক্টর’স পদক লাভ করেন তাহসিন বিনতে আনিস।

অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীও বক্তব্য রাখেন।

৭৫তম বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্সের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করেন বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) রেক্টর মো. আশরাফ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে ৭৫তম বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স এবং প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর দুটি আলাদা ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

প্রকল্পগুলো হচ্ছে— সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা সিস্টেম (গভর্নমেন্ট এমপ্লয়মেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম-জিইএমএস), ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, নবনির্মিত টাঙ্গাইল সার্কিট হাউজ, নবনির্মিত কুমিল্লা সার্কিট হাউজ ও বিপিএটিসির ১৫ তলা আধুনিক ডরমিটরি ভবন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে বেশি আতঙ্কে প্রধানমন্ত্রী: ফখরুল

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে বেশি আতঙ্কে প্রধানমন্ত্রী: ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতিতে সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে। সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক শেখ হাসিনার চোখেমুখে। উন্মাদ হয়ে গেছেন তারা। এরা এখন লুটের টাকা কীভাবে রক্ষা করবে তা নিয়ে চিন্তায় আছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কেউ নাকি বলেনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা। এটা বলতে হবে কেন? সবার ভূমিকা দেখে বোঝেন না। কি বলছে সবাই। আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষক কর্মচারী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষাব্যবস্থার খারাপ অবস্থার কথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, শিক্ষাকে বাঁচাতে সরকারের পরিবর্তন করতে হবে। টাকা ও দলীয় বিবেচনা ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ হয় না। এ খাত পঙ্গু করে দেশকে নতজানু করে রাখতে চায়। পাঠ্যক্রমে শিক্ষা নেই।

শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার লোকজন নানা অপকর্মে জড়িত। তার অনুসারীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুট করছে। শিক্ষিকা এবং ছাত্রীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করছে। এমনকি এ মন্ত্রীর লোকজন আজ বালু খেয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে।

ফখরুল বলেন, অনেক অন্যায় করেছেন। অনেক হত্যা, নির্যাতন চালিয়েছেন। দেশের অর্থনীতিকে ফোকলা বানিয়ে ফেলেছেন। কেড়ে নিয়েছেন মানুষের সব অধিকার। তাই দেশ রক্ষায় এ সরকারকে সরাতে হবে। সরকারকে সরাতে যা যা করার সবই করতে হবে। বিদায় হতেই হবে। জবাবদিহি করতেই হবে।

তিনি বলেন, বেগম জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা পর্যন্ত করতে দিচ্ছে না। গণমাধ্যমকে তাদের কথা অনুযায়ী চলতে হয়। অদৃশ্য শক্তি সরকারকে টিকিয়ে রাখতে পারে না।

খালেদা জিয়ার বয়স নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, একজন প্রধানমন্ত্রীর ভাষা এত নিকৃষ্ট হতে পারে? একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অযাচিত মন্তব্য করতে আপনার মুখে বাধে না? আসলে এ দলের মধ্যে কোনো শিষ্টাচার নেই। এরা কাউকে সম্মান দিতে জানে না।

আজ সারাদেশে আওয়াজ ওঠেছে, এ সরকারকে বিদায় করো। তাদের রাজনৈতিক সময় শেষ হয়ে গেছে। এখনো সময় আছে মানে মানে কেটে পড়ো। মানুষ ও দেশকে রেহাই দাও।

শিক্ষক সমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, যে যাই বলুক বিএনপি তার মতো করেই অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বিদায় করবে। সরকারের ফাঁদে তারা এখন পর্যন্ত পা দেয়নি। সামনেও দেবে না।

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ প্রমুখ।