Tag Archives: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সম্পত্তির জেরে পিতাকে নির্যাতন

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায়

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বন্যায় রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বন্যায় রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বন্যায় রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার পানি নেমে গেলেও রেখে গেছে ক্ষতের চিহ্ন। ২০টি সড়কের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। অনেক স্থানে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায়

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন সড়কে একাধিক স্থানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পিচ ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে ৫-১০ ফুট সমপরিমাণ মাটি সরে গেছে। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শশীদল পাঁচ পীরের মাজার হয়ে নাগাইশ হয়ে বড়ধুশিয়া পাকা সড়ক। এ রাস্তায় প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়েছে। চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় স্থানীয়রা পড়েছেন মহাদুর্ভোগে। অসুস্থ, শিক্ষার্থী ও শিশুদের যাতায়াত ভোগান্তি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। উক্ত সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় নাগাইশ এলাকার প্রফেসর বজলুর রহমান, ডাক্তার সোহেল রানা,গাজী রুবেলসহ এলাকার যুব সমাজ বাঁশ কেটে রাস্তা ইট ও শুকি ফেলে প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা চলাচলের উপযোগী করতে দেখা গেছে।

শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, আমার ইউনিয়নে রাস্তাগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া উপজেলা সদরের যাওয়ার একমাত্র সড়কটি বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে। আমার শশীদল ইউনিয়নের এ সমস্ত সড়ক মেরামত করে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করতে প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি টাকা খরচ হবে বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে এলজিইডির ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবদুর রহিম বলেন, বন্যায় শশীদল ইউনিয়নের প্রায় ২০ টি কাঁচা-পাকা সড়কের ৬০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কগুলো মেরামত না করলে ছোট বড় গাড়ি চলাচলে ব্যহত হবে। এ নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় একই দিনে দুটি অবিস্ফোরিত আর্টিলারি শেল উদ্ধার

 

ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় একই দিনে দুটি অবিস্ফোরিত আর্টিলারি শেল (বুম্ব) উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার উপজলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড (সাহেবাবাদ) গ্রামের বন্যা পুকুর ও ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের দীর্ঘভূমি বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন খাল থেকে এ আর্টিলারি শেল দুটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব বুমা একই দিন সন্যায় খোলা মাঠে নিয়ে পৃথকভাবে ধ্বংস করা হয়।

থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাহেবাবাদ গ্রামের বন্যা পুকুরে ওই এলাকার ইউসুফ (৩৪) নামের এক ব্যাক্তি বুধবার বিকেলে গোসল করার সময় কাদা মাটির ভিতর শক্ত কিছু অনুভব করে। এসময় সে ওই বস্তুটি মাটির উপরে তুলে নিয়ে আসেন। আর্টিলারি শেল (বুম্ব) টি মূল্যবান কোন গুপ্তধন মনে করে বাড়িতে নিয়া যায় এবং তার মা কে ডেকে এটি মায়ের হাতে দেয়। আর্টিলারি শেলটি দেখে তার মা তাকে বলেন এটা বোম্ব। আমরা যুদ্ধের সময় এগুলা দেখেছি। তখন ইউসুফ আর্টিলারি শেলটি রশি দিয়ে বেঁধে বাড়ির পার্শ্বে ডোবার মধ্যে ফেলে রাখেন ও পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ও বোমাটি নজরে রেখে পুলিশ পাহারা দেন। এছাড়া পুলিশের কাউন্টার টেরিজম বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেন।

খবর পেয়ে একইদিন সন্ধ্যায় উপপরিদর্শক (এস.আই) গোলাম মূর্তজা (বিপিএম) এর নেতৃত্বে পুলিশের কাউন্টার টেরিজম বোম ডিসপোজাল ইউনিটের একটি দল অবিস্ফোরিত আর্টিলারি শেলটি ডোবা থেকে উদ্ধার করে খোলা মাঠে নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করেন।

অপরদিকে উপজেলা সদরের দীর্ঘভূমি বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পার্শে খালের মধ্যে মো. খোকন মিয়া নামের এক ব্যাক্তি একইদিন রাতের বেলায় মাছ শিকার করেন। এক পর্যায়ে কাদা মাটির ভিতর শক্ত কিছু অনুভব করেন ও সেটি মাটির উপরে তুলে নিয়ে আসেন। আর্টিলারি শেলটি অনেকে দেখতে পেয়ে তাকে বলেন এটা বোমা জাতীয় কোন কিছু হবে। আমরা এগুলো যুদ্ধের সময় দেখেছি। তখন বিষয়টি স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ওই দিন রাতেই থানা পুলিশ ও পুলিশের কাউন্টার টেরিজম বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটন্থালে পৌছে অবিস্ফোরিত আর্টিলারি শেলটি উদ্ধার করেন। পরে তারা এটি খোলা মাঠে নিয়ে বিস্ফোরন ঘটিয়ে ধ্বংস করেন।

এসময় ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ একরামুল হক, উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্য সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোঃ হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, সাহেবাবাদ গ্রামের বন্যা পুকুরে ওই এলাকার ইউসুফ নামের এক ব্যাক্তি গোসল করার সময় কাদা মাটির ভিতরে পাওয়া আর্টিলারি শেল পেয়ে মূল্যবান গুপ্তধন মনে করে বাড়িতে নিয়ে মায়ের হাতে দেয়। এটি দেখে তার মা তাকে বলেন এটি বোম্ব বললে ইউসুফ তখন আর্টিলারি শেলটি রশি দিয়ে বেঁধে বাড়ির পার্শ্বে ডোবার মধ্যে ফেলে রেখে পুলিশকে খবর দেয়।

এছাড়া, উপজেলা সদরের দীর্ঘভূমি বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের উত্তর পার্শে খালের মধ্যে মো. খোকন মিয়া নামের এক ব্যাক্তি একইদিন রাতের বেলায় মাছ শিকার করতে গিয়ে কাদা মাটির ভেতর থেকে অপর আরেকটি আর্টিলারি শেল পান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে একইদিন সন্ধ্যায় পুলিশের কাউন্টার টেরিজম বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সহযোগিতায় অবিস্ফোরিত আর্টিলারি শেল দুটি উদ্ধার করে খোলা মাঠে নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সম্পত্তির জেরে পিতাকে নির্যাতন, গ্রেফতার ছেলে

 

মোঃ উজ্জ্বল হোসেন বিল্লালঃ

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় সম্পত্তির জের ধরে পিতাকে নির্যাতন ও মারধরের ঘটনায় ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নির্যাতনকারী আব্দুল মান্নানকে (৩০) গ্রেফতার করে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের নাগাইশ গ্রামে সম্পত্তির জের ধরে আবদুল জলিল মিয়া (৭৫) নামে এক বাবাকে নির্যাতন করেন তার ছেলে আব্দুল মান্নান। বাবাকে নির্যাতনের ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহুর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়।ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মান্নান তার বাবাকে বাসের একটি লাঠি দিয়ে মারধর করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সস্পত্তির জের ধরে গত কয়েক দিন ধরে বাবা ছেলের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এক পর্যায়ে ছেলে তার বৃদ্ধ বাবাকে জমি লিখে দিতে বলে। জমি লিখে না দেওয়ায় জোড় পূর্বক জমি লিখে নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাকে লাঠি দিয়ে বেধরক মারধর করে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, আবদুল জলিলের এক ছেলে নাঈম আহমেদ বাদী হয়ে ভাইয়ের বিরুদ্ধে বাবাকে মারধরের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আমরা তাকে স্থানীয় একটি বাড়ি থেকে পলাতক অবস্থায় গ্রেফতার করি। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।