,

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন এখন ডাক্তার

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
November 26, 2019
news-image

 

সাকিব আল হেলালঃ

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লগ্নসার গ্রামের মোঃ শামছুল হক কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন। ২০০৮ সালে তিনি অবসরে যান।

এরপর নিজ এলাকা বরুড়া উপজেলার চন্ডিমূড়া বাজারে হক মেডিকেল নামে একটা ফার্মেসি খুলে বসেন। ফার্মেসি খুলে সেখানে তিনি নিয়মিত ডাক্তার সেজে আশেপাশের মানুষের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। নিজেকে পল্লী চিকিৎসক দাবী করে নিয়মিত মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। যদিও কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি শামছুল হক।

তার ফার্মেসিতে গিয়ে দেখা গেছে, যেকোনো রোগী দেখে পরীক্ষা নীরিক্ষা ছাড়াই প্রেসক্রিপশন লিখছেন এমবিবিএস ডাক্তারের মতো। সেই প্রেসক্রিপশনে এন্টিবায়োটিকসহ এখতিয়ার বহির্ভূত ঔষধও লিখছেন শামছুল হক। এ এলাকার অধিকাংশ মানুষ নিরক্ষর হওয়ায় বুঝছেন না শামছুল হকের ব্যবসার ফন্দি।

বিএমডিসি আইন ২০১০ অনুযায়ী এমবিবিএস পাশ ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার লিখতে না পারলেও, শামছুল হক তার পুরো ফার্মেসি জুড়ে নামের আগে ডাক্তার লিখে রঙ-বেরঙের ডিজাইন করে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, তার লিখিত একটি প্রেসক্রিপশন সাংবাদিকদের হাতে আসে। সেখানে তিনি নামের আগে ডাক্তার তো লিখেছেনই নামের ঠিক নিচেই লিখেছেন অবসরপ্রাপ্ত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যা দেখে সাধারণ মানুষেরা বুঝতেই পারছেন না তিনি ডাক্তার ছিলেন নাকি একজন পিয়নই ছিলেন কেবল।

একজন অবসরপ্রাপ্ত পিয়নের নামের আগে ডাক্তার এবং চিকিৎসা দেওয়ার বিধান আছে কিনা জানতে চাইলে শামছুল হক সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়ে বলেন, আমি আমার জায়গায় ঠিক আছি, আপনারা যা পারেন করেন”।

এই বিষয়ে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিবুর রহমান বলেন,আমরা তার সবকিছু যাচাই করে, তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব”।