মুরাদনগরে পাঁচ সন্তানের জননীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি গ্রেপ্তার
মাহবুব আলম আরিফ:
কুমিল্লার মুরাদনগরে পাঁচ সন্তানের জননী রাশিদা আক্তারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রহিম সরকারকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১।
রোববার সকালে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি কমান্ডার সিনিয়র এএসপি মোঃ খাইরুল হাসান। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানাধীন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুর রহিম সরকার বাঙ্গরা উপজেলার পূর্বধইর পশ্চিম ইউনিয়নের ইউপি সদস্য। তিনি মহেশপুর গ্রামের মৃত আব্দুল বাতেন সরকারের ছেলে।
পূর্ববিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ:
এসআরবি-১১-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, মহেশপুর গ্রামের খোরশেদ আলম ও ইউপি সদস্য রহিম সরকার সমর্থিত পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল রহিম সরকার সমর্থিত পক্ষের এক সদস্য মাওলা সরকারকে রাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের পর মামলার আসামি দেলোয়ার হোসেন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পলাতক ছিলেন। ঘটনার দিন গত ২৫ জুন সকালে দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রাশিদা বেগম মহেশপুর গ্রামে নিজের বাড়িতে আসেন। পরে বাড়িতে থাকা গৃহপালিত পশু পিকআপে করে নিয়ে যাওয়ার সময় রহিম সরকারের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করে। এতে রাশিদা বেগম গুরুতর আহত হন। এ সময় তার দুই মেয়ে মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদেরকেও মারধর করে আহত করা হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় রাশিদা বেগমকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মেয়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার:
এ ঘটনার পরদিন নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম সরকারকে প্রধান আসামি করে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এসআরবি-১১, সিপিসি-২-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল পদুয়ার বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রহিম সরকারকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার আসামিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাঙ্গরা বাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।