,

চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিসে ১ বছরে দলিল মিলছেনা ৭-৮বছরেও

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
September 9, 2026
news-image

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবীশদের (মুহুরী) তীব্র সংকটে দলিল রেজিস্ট্রির ৭-৮ বছরেও মিলছেনা মুল দলিল। অথচ রেজিস্ট্রি আইনে ১-২ বছরের মধ্যে দলিলের মুলকপি পাওয়ার অধিকার দলিল গ্রহীতাদের। এছাড়াও রেজিস্ট্রি দলিলের সার্টিফাইড কপি বা নকল প্রাপ্তিতে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের।

চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, অত্র অফিসে অন্তত ৪০-৫০জন নকশনবীশ থাকার কথা। কিন্তু কাগজে কলমে রয়েছে মাত্র ১৮জন। এদের মধ্যেও ৪ জনের পদোন্নতী হওয়ায় বর্তমানে এই অফিসে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৪ জন নকলনবীশ। নকলনবীশ সংকটে বর্তমানে এই অফিসটিতে ২০১৭ সালের ৫০০০ পর্যন্ত বালাম তল্লাশ/প্রতিবেদন চলমান রয়েছে। ফলে ২০১৭ সালের ৫০০০ থেকে ২০২৬ সালের গত আগষ্ট মাস পর্যন্ত দলিলের মুলকপি সংগ্রহ করতে পারছেন না সেবাগ্রহীতারা। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকিং ঋনের ক্ষেত্রে ২০১৭ সালের পরবর্তী সময়ের নির্দায়ী সনদপত্র (এনওসি) পাওয়াও সম্ভব হচ্ছেনা। ফলে ঋণ প্রাপ্তিতে তাদেরকে নানাহ ভোগান্তি পোহাতে হয়।

একই উপজেলার গুনবতী সাব রেজিস্ট্রি অফিস সূত্রে জানা যায়, এই অফিসে ১০-১২জন নকলনবীশ থাকার কথা কিন্তু রয়েছে মাত্র ৫জন। বালাম তল্লাশ চলমান রয়েছে ২০১৯ সালের ১৫০০ দলিল পর্যন্ত।

আব্দুল হক নামে এক সেবাগ্রহীতা জানান, ২০১৮ সালের শুরুতে চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিসে একটি সাফকবলা দলিল রেজিস্ট্রি করি কিন্তু এখনো মুল দলিল পাইনি।

রফিউদ্দিন নামে অপর সেবাগ্রহীতা জানান, ২০১৭ সালের শেষের দিকে দলিল রেজিস্ট্রি করি। এতবছর দলিলের রিসিট সংগ্রহে রাখতে পারি নাই। এখন রিসিট ব্যতিত মুল দলিল পাওয়া যাবে কিনা টেনশনে রয়েছি।

চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লিখক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, অত্র অফিসের অনেক নকলনবীশের বালাম লিখতে আগ্রহ নাই। নগদ টাকার প্রত্যাশায় তারা দলিলের নকল লিখার প্রতিযোগীতায় ব্যস্থ। ফলে ১-২ বছরে দলিলের মূলকপি পাওয়ার কথা থাকলেও এই অফিসে ৮-৯ বছরেও দলিলের মূলকপি পাচ্ছেনা সাধারন মানুষ। এই পরিস্থিতিতে সাধারন মানুষের নানান প্রশ্নের এবং চাপের সম্মুখিন হতে হয় দলিল লিখকদের।

চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিস দলিল লিখক সমিতির সভাপতি শাহনেওয়াজ শাহিন জানান, ২০১৬ সাল থেকে চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিসে নকলনবীশ নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। নতুন নকলনবীশ নিয়োগ দিলে দলিল প্রাপ্তির জটিলতা দুর হবে।

চৌদ্দগ্রাম সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রেজিস্ট্রার মামুনুল ইসলাম জানান, নকলনবীশ সংকট চৌদ্দগ্রামের ন্যায় সারাদেশেই রয়েছে। বিগত বহু বছর নতুন নকলনবীশ নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। নকলনবীশ সংকটের বিষয়ে ইতোপূর্বে একাধিকবার উর্ধ্বতন মহলে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন নকলনবীশ নিয়োগ পেলে এই সংকট কেটে যাবে।