,

শেষ পর্যন্ত প্যারোলেই খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা ভাবছে বিএনপি

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
July 28, 2019
news-image

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কারাবন্দি দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতি ঘটায় শেষ পর্যন্ত প্যারোলেই মুক্তির কথা ভাবছে বিএনপি। এতদিন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে প্যারোলের বিষয়ে মতভেদ থাকলেও স্বাস্থ্যগত কারণে এখন গুরুত্ব দিয়েই এগোচ্ছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। খালেদা জিয়া এবং দলের নীতিনির্ধারকদের মতামতের ভিত্তিতে ঈদের আগেই প্যারোলের আবেদন করে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর চিন্তা করছেন পরিবারের সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে জোর আলোচনা উঠেছিল চলতি বছরের মার্চ মাসে। তখন অভিযোগ উঠেছিল- প্যারোলের লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে গোপন সমঝোতার অংশ হিসেবেই সংসদে যোগ দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে তখন বিএনপি বলেছিল- প্যারোল নয়, দলীয় প্রধানের নিঃশর্ত মুক্তিই চায় তারা। ওই ঘটনার ঠিক ৩ মাস পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত শুক্রবার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। এ নিয়ে তার পরিবার, দল এবং দেশের জনগণ উদ্বিগ্ন। তাই অবিলম্বে তার পছন্দ অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এরপরই প্যারোলের বিষয়টি ফের সামনে এসেছে।

সূত্র জানায়, গত ২০ জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে প্যারোল নিয়ে আলোচনা করেন তার পরিবারের সদস্যরা। তার সম্মতি নিয়েই সুচিকিৎসার বিষয়টি দলীয়ভাবে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাতে বলেন তারা।

সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তারেককে বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন- অসুস্থতার কারণে ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া। রাজনীতির ঊর্ধ্বে এই মুহূর্তে তার বেঁচে থাকাটা বেশি জরুরি। এরপর তারেক রহমানও প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন।

বিএনপির সিনিয়র নেতারা জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি সরকার নিয়ন্ত্রিত। সরকার না চাইলে আইনি প্রক্রিয়ায় তার মুক্তি সম্ভব নয়। তাই তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় প্যারোল ছাড়া এই মুহূর্তে দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই। দলের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করতে যে সময়ের প্রয়োজন সেই পর্যন্ত অপেক্ষা করাও ঠিক হবে না।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত হবে না। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এতটাই নাজুক যে, এই মুহূর্তে তার চিকিৎসা বেশি প্রয়োজন। তাছাড়া নানা কারণে দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক থাকায় সরকার তার মুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে যেতে পারে।

দলটির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রাজনৈতিক কারণেই তাকে জেলে নেয়া হয়েছে। তাই মুক্তির বিষয়টি সহজ নয়। এখন তার জীবন রক্ষার জন্য প্যারোলের কথা চিন্তা করলে তো দোষের কিছু না। খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে এবং খালেদা জিয়াকেও তা চাইতে হবে।

সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির দূরত্বের কারণ খালেদা জিয়ার প্যারোল। বিএনপির পক্ষ থেকে প্যারোলের বিষয়ে ড. কামাল হোসেনকে মধ্যস্থতা করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ড. কামাল এ প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করেছেন।

সূত্র জানায়, ড. কামাল হোসেন রাজি না হওয়ায় খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিষয়ে সরকারে সঙ্গে আলোচনা করছেন তার ভাই শামীম ইস্কান্দার। প্যারোলের জন্য খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা দেয়ার শর্ত দিয়েছে সরকার। শামীম ইস্কান্দার এই শর্তেও রাজি হয়েছেন। তবে প্যারোল আবেদন বিবেচনার আগেই সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা চায়।

আইনজ্ঞরা বলছেন, প্যারোল আবেদন দুইভাবে করা যেতে পারে। একটা হলো- খালেদা জিয়ার স্বজনরা স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারেন। মন্ত্রণালয় সেটা বিবেচনা করবে। আবার আদালতের মাধ্যমেও প্যারোলের আবেদন হতে পারে। খালেদা জিয়ার স্বজনরা আদালতে তার প্যারোলের আবেদন করতে পারেন। সেখানে যদি সরকার আপত্তি না জানায় এবং আদালত যদি বিবেচনা করে দেখে প্যারোল দেয়ার মতো যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে, তাহলে আদালত প্যারোল মঞ্জুর করতে পারেন।