,

সুমাইয়া ও তাঁর মা হত্যার এক বছর, বিচারপ্রক্রিয়াতে ধীরগতি

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
September 7, 2026
news-image

কুবি প্রতিনিধি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আফরিন রিনথী (২৩) ও তাঁর মা তাহমিনা বেগম (৫২) হত্যার এক বছর পূর্ণ হলেও এখনো শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। আসামি গ্রেপ্তার ও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরও মামলাটি এগোচ্ছে ধীরগতিতে। এরই মধ্যে পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে।

গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কালিয়াজুড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সুমাইয়া ও তাঁর মা তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর বিষয়টি জানাজানি হলে ওই দিনই অভিযুক্ত মোবারক হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাতে জানা যায়, ঝাড়ফুঁকের সূত্রে সুমাইয়ার পরিবারের সঙ্গে মোবারকের পরিচয় হয়। ঘটনার আগে প্রায় এক মাস ধরে তিনি ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। স্বীকারোক্তিতে তিনি জানান, সুমাইয়াকে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার সময় ধর্ষণের চেষ্টা করেন। বিষয়টি তাঁর মা দেখে ফেলায় প্রথমে তাহমিনা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে সুমাইয়াকেও হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন সুমাইয়ার পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার শেষ না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

সুমাইয়ার সহপাঠী মেহেদি হাসান শাহিন বলেন, ‘আমাদের বান্ধবী সুমাইয়া ধর্ষণ ও হত্যার এক বছর হলেও এখনো মামলার কোনো দৃশ্যমান ফলাফল দেখা যায়নি। আমরা আশা করি, ধর্ষক যেন কোনোভাবেই ছাড় না পায়।’

আরেক সহপাঠী মুনিয়া আফরোজ বলেন, ‘পুরো একটা বছর শেষ হয়ে গেছে, সুমাইয়া ও তাঁর মায়ের হত্যাকাণ্ডের। আদালতে তারিখের পর তারিখ পিছিয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো রায় আমরা পাইনি। ভবিষ্যতে পাব কি না, তা নিয়েও সন্দিহান। তবুও আমরা বিচার বিভাগের ওপর ভরসা রাখতে চাই। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানাই।’

সুমাইয়ার সহপাঠী হুমাইরা তাসনিম প্রমি বলেন, ‘আমরা প্রতিশোধ চাই না, কারও বিরুদ্ধে অন্যায় কিছু চাই না। আমরা শুধু চাই এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য সামনে আসুক এবং যারা দায়ী, তাদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।’

সুমাইয়ার বড় ভাই মো. আল আমিনও দ্রুত বিচার পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত চারজন সাক্ষী দিয়েছেন। পরবর্তী তারিখ আগামী মাসের ১৭ তারিখ। পরে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব।’

নিহত পরিবারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল হোসাইন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাঁচজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনটি শুনানি হয়েছে। আরও চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ বাকি রয়েছে। আগামী মাসের ১৭ তারিখ মামলার শুনানি রয়েছে। আশা করছি, এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম খুব দ্রুত শেষ হবে।’
চাইলে এটিকে প্রথম আলোর মতো আরও ঝরঝরে ও অনুসন্ধানধর্মী সংবাদভাষায়, তবে তথ্য অপরিবর্তিত রেখে, আরেকটু শক্তিশালী করে দিতে পারি।