,

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে টাকার বিনিময়ে বিনামূল্যের সরকারি বই !

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
January 30, 2019
news-image

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ
দাউদকান্দিতে বিনামূল্যের সরকারি পাঠ্য বই টাকার বিনিময়ে কিনছে নিবন্ধনহীন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো! নিবন্ধন না থাকায় অন্য প্রতিষ্ঠানের(নিবন্ধিত) নামে তালিকাভূক্তি হয়ে প্রতি সেট ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে তাদের। নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠান গুলো কোথায় বই পায় তা শিক্ষা অফিস জানে না।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের তথ্যানুযায়ী উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি, দাখিল মাদ্রাসাসহ প্রায়  ৫৫টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে নিবন্ধনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যার কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। ২০১৭ ও ২০১৮ সালের নতুন বা বন্ধ হয়ে যাওয়া নিবন্ধনহীন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যার কোনো তথ্যও তাদের কাছে নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রধান শিক্ষক জানান, নতুন বইয়ের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা তদন্ত করে বইয়ের চাহিদা নিয়ে যান। পরে বছর শেষে চাহিদা মোতাবেক বই পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে গেলে পরবর্তীতে তাদের ঘুষ বা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সুপারিশে বই পাওয়া যায়।

উপজেলার নিবন্ধনহীন কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, প্রতি বছরই নতুন পাঠ্যবই পেতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের টাকা দিতে হয়।

সেন্টমেরী হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, নিবন্ধন নিয়ে কোন বিদ্যালয় চালু হয় না, চালু হওয়ার পর বোর্ডেও নীতিমালা অনুযায়ী আগে পরে নিবন্ধিত হয়। যেহেতু আমরা নিবন্ধিত হয়নি তাই পাশের মালিগাঁও স্কুলের নামেই জেএসসি ও এসএসসি’র রেজিস্ট্রেশন করাই। এর জন্য অতিরিক্ত কিছু খরচ হয়।

মালিগাঁও হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিল্লাহ হোসেন অস্বীকার করে বলেন, সেন্টমেরী স্কুল গত কয়েক বছর আমার এখানে ৮ম এবং ৯ম শ্রেণির নিবন্ধন করলেও এবার আমার এখানে করেনি, তাই এবার আমার এখান থেকে বই নেয়ার প্রশ্নই উঠেনা।

রায়পুর কেসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোমেন ভূইয়া বলেন, দাউদকান্দিতে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো নিবন্ধনহীন কিন্ডার গার্ডেন গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নামে বই বরাদ্ধ না থাকলেও শিক্ষা অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা অথবা আমাদের কোন প্রতিষ্ঠান প্রধানের যোগসাজসে তারা বই পাচ্ছে। আর কাউকে ম্যানেজ করে কিছু নিতে হলে উপরি কিছু দিতে হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কানিজ আফরোজ বলেন, আমরা আলাদাভাবে নিবন্ধনহীন বিদ্যালয়গুলোর তালিকা করি না। নিবন্ধনহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ করা হয়েছে বিষয়টি জেনেছি। অবৈধভাবে কিভাবে তাদের কাছে বই গেল সেটা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।