মেয়েটি বললো আমি প্রেগন্যান্ট
মোঃ আবদুর রহিম ঃ
বর্ষাকাল শুরু হয়নি। কিন্তু বর্ষার পানি মাঠে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এবার বৈশাখ মাসে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগাম বর্ষা হওয়ার আলামত। তাছাড়া এলাকাটি খুব নিম্নাঞ্চল। জ্যৈষ্ঠ মাসেই মাঠে নতুন পানি ঢুকতে শুরু করে। কৃষকের ধান কাটা প্রায় শেষ। কিছু উচু জমিতে এখনো আধা পাকা ধানা শোভা পাচ্ছে। দু-চারদিনের মধ্যে এই ধান কাটা যাবে। হাওরে নতুন পানি আসায় নতুন মাছও এসেছে সাথে। হাওরে আসা যাওয়ার রাস্তাটা এখনো ডুবেনি। রাস্তার দু-পাশে নতুন পানি। রাস্তার পাশে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছে জমিলা বেগম ও সালেহা খাতুন। গ্রামের গরীব মহিলারা এখানে মাছ ধরতে আসে। শহরে বড়শি দিয়ে মাছ ধরা বড়লোকের শখ বা বিলাসিতা। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। কৃষকরা বাড়ি ফিরতে শুরু করছে। পাখিরা ফিরছে তাদের আপন কুলায়। রশিদ মিয়া বাড়ি ফেরার পথে জমিলা বেগমকে শুধায়-‘কিগো জাহেরের মা, বাড়িত যাইবানা ‘হ যামু, একটু খাড়াও। আমরা দুইজনরে লইয়া যাও,’ বলে জমিলা। জমিলা ও সালেহা তাদের ছিপ, বাঁশের ডুলা হাতে নিয়ে রশিদ মিয়ার সাথে রওয়ানা দেয়। রশিদ মিয়া জমিলা বেগমকে জিজ্ঞেস করে- ‘কী মাছ পাইছো, আইজ?’
‘কয়টা টেংরা মাছ আর কয়টা বোয়ালের বাচ্চা’, উত্তর দেয় জমিলা। হাঁটতে হাঁটতে রশিদ মিয়া জমিলার সাথে পারিবারিক বিষয়ে কথা বলে।
‘তোমার মাইয়াডা বড় অইয়া গেছে। এইবার বিয়া শাদির ব্যবস্থা কর।’ জমিলা বলে, ‘কী কও রশিদ ভাই। আমার মাইয়া মাত্র আট কেলাসে পড়ে। এইডা কি বিয়ার বয়স?’
আরে গরীবের মাইয়ার এত লেহাপড়ার দরহার কী? তোমার মাইয়া কি চাকরি করব?’ বলে রশিদ মিয়া।
সালেহা খাতুন এবার কথায় যোগ দেয়।
‘আচ্ছা, রশিদ ভাই গরীবের মাইয়া লেহাপড়া করলে সমস্যা কী?’
‘সমস্যা অনেক। কত কিচ্ছা অইব। এই অল্প বয়সে মাইয়াডার ভালা সম্বন্ধ আইবো। বয়স বেশি অইলে ভালা পাত্র আইবোনা।’
রশিদ মিয়ার কথাগুলো জমিলার হৃদয়ে কাঁটার মত বিঁধে। চোখে মুখে উৎকন্ঠার ভাব নিয়ে বাড়ি ফিরে।
জমিলার মেয়ের নাম শিউলি। শিউলী ফুলের সৌন্দর্য গাছে থাকতে তেমন একটা চোখে পড়েনা। ঝড়ে পড়ার পর এর সৌন্দর্য পরিপূর্ণভাবে দৃশ্যমান হয়। এরপর শুকিয়ে একসময় বিবর্ণ হয়ে যায়। শিউলীদের সৌন্দর্য পূর্ণ বিকাশের পূর্বেই দৃষ্টিগোচর হয় কিন্তু এই সৌন্দর্য বিকাশেà