All posts by jitu

চান্দিনায় নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিললো প্রতিবন্ধী শিশুর মরদেহ

চান্দিনায় নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিললো প্রতিবন্ধী শিশুর মরদেহ

 

চান্দিনা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চান্দিনায় নিখোঁজের পরদিন বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মরদেহ মিললো পুকুরে। শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার জয়দেবপুর গ্রাম থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে স্বজনরা।

বাকপ্রতিবন্ধী ওই শিশুর নাম সালমান আহমেদ আদনান (০৮)। সে নেত্রকোনা জেলার বারহাট্রা উপজেলার দেবীপুর গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে। মায়ের চাকুরীর সুবাদে তারা চান্দিনা উপজেলার জয়দেবপুর গ্রামে বসবাস করতো।

নিহতের মা ডালিয়া খানম ও পিতা আবদুস সালাম জানান, প্রতিদিনের ন্যায় সে বাড়ির আশপাশে খেলাধুলা করে। শুক্রবার সকাল ৮ টার পর বাসা থেকে বের হয় এরপর থেকেই আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার সন্ধান চেয়ে বিভিন্ন স্থানে মাইকিংও করার পাশাপাশি সন্ধ্যায় চান্দিনা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরদিন শনিবার সকালে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে তার মামা ভাসমান লাশ দেখতে পায়। পরে লাশ উদ্ধার করে আমরা থানায় খবর দেই।

চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.শাহাবুদ্দিন খান জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পুকুরটি প্রচুর কচুরিপানা থাকায় এবং পুকুরের পানি ব্যবহার অনুপযোগি হওয়ায় মানুষের যাতায়াত কম। পরিবারের পক্ষ থেকে পানিতে ডুবে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে।

মুরাদনগরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

মুরাদনগরে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

 

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগরঃ

কুমিল্লার মুরাদনগরে রাসেল মিয়া (৩৪) নামের এক মাদক কারবারিকে নিজ দোকান থেকে ১৯৭ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়ন এর জাহাপুর বাজারের মা-বাবার দোয়া রাইছ মিল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারি রাসেল জেলার তিতাস উপজেলার উত্তর মানিকনগর গ্রামের মৃত. আলী আহাম্মদের ছেলে।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে মুরাদনগর থানার এস আই মোরশেদ আলম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স জাহাপুর বাজারের মা-বাবার দোয়া রাইস মিলে তল্লাশি চালিয়ে ১৯৭ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি রাসেলকে গ্রেফতার করেন।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল বারী ইবনে জলিল জানান, গ্রেফতারকৃত রাসেলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে শনিবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কোনো অপপ্রচারে কান দেবেন না: প্রধানমন্ত্রী

কোনো অপপ্রচারে কান দেবেন না: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে বিদেশ থেকেও যদি কোনো প্রচেষ্টা নেওয়া হয়, দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বলেন, দেশবাসী ভোট দিলে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু বিদেশ থেকেও নির্বাচন বানচালের কোনো পদক্ষেপ জনগণ মেনে নেবে না।

সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, কোনো অপপ্রচারে কান দেবেন না।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা লেখক মো. নজরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানায়, তার দল সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করে। নির্বাচন বানচালের কোনো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে যারা উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশের জনগণ তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।

নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি আশা করেন, বিরোধী দলসহ নির্বাচন বানচালের প্রচেষ্টাকারীদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

শেখ হাসিনা জানায়, আগামী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এটা ভালো হবে। কারণ, বিএনপি জোট ২০১৩-১৪ সালের মতো নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে কোনো অগ্নিসংযোগ করতে পারবে না।

সরকার প্রধান আশা প্রকাশ করেন, যে দেশ ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তারা উভয় পক্ষ থেকে বা নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি বিবেচনা করবে।

তিনি জানান, ‘শুধু মাত্র আওয়ামী লীগকে টার্গেট করলে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ কারো শক্তির ওপর নির্ভর করে ক্ষমতায় আসেনি। আমি জনগণের শক্তি এবং তাদের ভোটে ক্ষমতায় এসেছি। কে নিষেধাজ্ঞা দেবে বা দেবে না তা নিয়ে ভয়ের কিছু নেই।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে কেউ ক্ষমতায় আসতে চাইলে তাদের সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।

যারা বিশৃঙ্খলা বা দেশের সংবিধান লঙ্ঘনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে চায় তাদের ব্যাপারে তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করেন।

তিনি জানায়, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের কোনো সুযোগ নেই।

সরকার প্রধান আরও বলেন, কিছু লোক আছে যারা দেশের কল্যাণ চায় না। প্রবাসীরা সচেতন থাকলে এই স্বার্থান্বেষী মহল সফল হতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী এ লক্ষ্যে অপপ্রচারকে অস্বীকার করে যথাযথ উপায়ে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্র: বাসস

কুমিল্লায় নিখোঁজের ১০ দিন পর ইটভাটায় মিলল যুবকের লাশ

কুমিল্লায় নিখোঁজের ১০ দিন পর ইটভাটায় মিলল যুবকের লাশ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় নিখোঁজের ১০ দিন পর ইব্রাহিম নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার নেয়াপাড়া হার্ট ফাউন্ডেশনের পেছনে এমরান ব্রিকস ফিল্ডের পাশ থেকে ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত ইব্রাহিম (২৪) আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের সাতরা পশ্চিমপাড়া এলাকার রুবেল মিয়ার ছেলে।

নিহতের স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে একই এলাকার শাকিল, মাসুম ও রানার সঙ্গে মাছ ধরতে বাড়ি থেকে বের হন তার স্বামী। রাতে বাড়ি ফিরে না আসায় বিভিন্ন স্থানে তাকে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান মেলেনি। ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেন। শুক্রবার বিকালে নেয়াপাড়া এমরান ব্রিকস ফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় অজ্ঞাত মরদেহ পাওয়ার খবরে সেখানে ছুটে যান। পরে স্বামীর জামাকাপড় দেখে মরদেহ শনাক্ত করেন।

তিনি আরও জানায়, বেশ কিছু দিন ধরে এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে ইব্রাহিমের বিরোধ চলছিল। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন পরিবারের সদস্যরা।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আহমেদ সনজুর মোর্শেদ জানান, এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

ডেস্ক রিপোর্ট:

মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নে ৩০ কোটি ডলার বা প্রায় ৩ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। ‘ই-লার্নিং অ্যাক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি ইডুকেশন (এলএআইএসই) অপারেশন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এ সংক্রান্ত ঋণটি অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটির বোর্ড।

শনিবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক বলেন, বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরে শিক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লিঙ্গ সমতা অর্জনকারী প্রথম কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে ছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার উপর গভীরভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অনেক দরিদ্র মেয়েকে স্কুল ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছে করোনা।

বিশ্বব্যাংক শেখার ফলাফল এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করে শেখার ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধার করতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে থাকবে; যাতে শিক্ষার্থীরা সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন এবং সমাজে সংগ্রামের জন্য প্রয়োাজনীয় দক্ষতা নিয়ে স্নাতক হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মাধ্যমিক শিক্ষায় লার্নিং অ্যাক্সিলারেশন অপারেশন সরকারের মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রমকে সমর্থন করবে। শিক্ষাকে ত্বরান্বিত করার জন্য প্রোগ্রামটি ৬ এবং ৮ তম গ্রেডের জন্য গণিত, ইংরেজি এবং বাংলার মতো মূল বিষয়গুলোতে ফোকাস করবে । কারণ এগুলো ভবিষ্যত শিক্ষার ভিত্তি। এটির জন্য ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের গণিতে দক্ষতা বর্তমান ২৮ শতাংশ থেকে ৬৫ শতাংশে এবং বাংলায় ৬৬ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। ঝরে পড়ার হার কমাতে, প্রোগ্রামটি ৮ মিলিয়ন শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেওয়া হবে।

৫ হাজার প্রতিষ্ঠানে সক্রিয় যৌন হয়রানি ও প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে তা নিশ্চিত করা হবে। আরও প্রায় ৭ হাজার ২০০টি স্কুলে পড়ার দক্ষতা উন্নত করার জন্য প্রোগ্রাম থাকবে। ১৫ হাজার শিক্ষক তাদের শেখানোর দক্ষতা উন্নত করার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রোগ্রমটি মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিংকেও সহায়তা করবে এবং কমপক্ষে ৩০ শতাংশ লক্ষ্যযুক্ত বিদ্যালয়ে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সহায়তা করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালে শেখার ক্ষতি থেকে পুনরুদ্ধার করতে প্রোগ্রামটি নতুন অনুমোদিত পাঠ্যক্রমের ডিজিটাইজেশন করা হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে রোলআউটের পাশাপাশি শেখার পুনরুদ্ধারের জন্য অতিরিক্ত প্রতিকারমূলক ক্লাসগুলোকে সমর্থন করবে। এটি সরকারের মিশ্রিত শিক্ষার মাস্টারপ্ল্যানকেও সমর্থন করবে ক্লাসে এবং অনলাইনে। শিক্ষার সংমিশ্রণ এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে করা সংস্থানগুলি অফার করবে যাতে তারা তাদের নিজস্ব গতিতে শিখতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র এডুকেশন স্পেশালিস্ট এবং প্রকল্পের টিম লিডার টি এম আসাদুজ্জামান জানান, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে শিশুদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রাখার জন্য প্রোগ্রামটি উপবৃত্তি দেওয়ার বাইরেও অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেবে এবং যারা বাদ পড়েছেন তাদের পুনরায় ভর্তি হতে সাহায্য করবে। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের কারণে স্কুলগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হলেও মিশ্রিত শিক্ষা ট্র্যাকে শিখতে সাহায্য করবে। প্রোগ্রামটি জলবায়ু-স্মার্ট মানসিকতা এবং আচরণকে লালন-পালন করার জন্য পাঠ্যক্রমের মূলধারার জলবায়ু শিক্ষাকেও দেবে।

‘খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হবে’

‘খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হবে’

ডেস্ক রিপোর্ট:

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার দিতে বিএনপিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

শনিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে তার নির্বাচনি এলাকা আখাউড়া-কসবায় দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

আইনমন্ত্রী জানান, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার ব্যাপারে এখনো আমার কাছে কাগজপত্র আসেনি। তারা আবেদন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, তার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চাইতে পারে।

এ সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানায়, খালেদা জিয়া কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পরও দণ্ডাদেশ স্থগিত রেখে হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন। সেটিও কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদৌলতে, এটা একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতায়। আবেদন করলে পরে দেখা যাবে।

বিএনপির আন্দোলনের সমালোচনায় তিনি জানান, বিএনপি যদি আইন ভঙ্গ করে রাজপথ অবরোধ করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সকালে আন্তঃনগর মহানগর প্রভাতী এক্সপ্রেস ট্রেনযোগে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশনে পৌঁছান। পরে তিনি সড়কপথে তার নির্বাচনি এলাকা কসবা উপজেলায় যান। আনিসুল হক বিকালে আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে আন্তঃনগর মহানগর গোধূলি এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব গোলাম সারওয়ার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন, আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক তাকজিল খলিফা কাজল, পৌর যুবলীগের সভাপতি মনির খান, ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন বেগ শাপলু প্রমুখ।

একাদশে ভর্তির শেষ ধাপের ফল রাতে প্রকাশ

একাদশে ভর্তির শেষ ধাপের ফল রাতে প্রকাশ

ডেস্ক রিপোর্ট:

একাদশ শ্রেণির ভর্তিতে তৃতীয় বা শেষ ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে আজ শনিবার রাত ৮টায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর তৃতীয় ধাপে নিশ্চায়নের সুযোগ দেওয়া হবে।

ভর্তির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা এ ফল দেখতে পাবেন।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা থেকে এ ধাপে আবেদন শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা পর্যন্ত এ ধাপে আবেদনের সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা। শেষ ধাপে আবেদন জমা পড়েছে ৪ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৪টি। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক আবু তালেব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে, তৃতীয় ধাপে আবেদন-নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া শেষে আরেক ধাপে আবেদন নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ঢাকাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক আবু তালেব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ‘আমরা যে শিডিউল ঘোষণা দিয়েছিলাম, তাতে তিন ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করার কথা। এখন পর্যন্ত যত সংখ্যক আবেদন পেয়েছি, তা অন্য বারের তুলনায় খারাপ নয়। এ জন্য আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে কোনো আলাপ-আলোচনাও হয়নি। এবার সময়সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম।’

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্র জানান, দ্বিতীয় ধাপে আবেদন জমা পড়ে ২ লাখ ৯৪ হাজারের মতো। এর মধ্যে কলেজে মনোনয়ন পেয়েছেন ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৭০ জন। তাদের মধ্যে আবার নিশ্চায়ন (ভর্তি হবেন বলে নিশ্চায়তা) করেছেন ২ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষার্থী। এর আগে প্রথম ধাপে ১২ লাখ ৬১ হাজার শিক্ষার্থী কলেজ পেলেও নিশ্চায়ন করেন ১০ লাখ ২৬ হাজার জন।

ভর্তি কমিটি সংশ্লিষ্টরা জানায়, প্রথম দুই ধাপে কলেজ পেয়ে নিশ্চায়ন করেছেন ১২ লাখ ৪০ হাজার জন। চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেন প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ শিক্ষার্থী। তার মধ্যে কারিগরি বোর্ডের শিক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখের কিছু বেশি। বাকি সাড়ে ১৫ লাখ শিক্ষার্থীকে অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে একাদশে ভর্তি হওয়ার কথা। ফলে এখনো অসংখ্য শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে।

অন্যদিকে, আবেদন, ফল প্রকাশ ও নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণিতে চূড়ান্ত ভর্তি শুরু হবে, যা চলবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। চলতি বছর বিভিন্ন কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ভর্তির সর্বোচ্চ ফি ৮ হাজার ৫০০ টাকা। ভর্তি শেষে ক্লাস শুরু হবে ৮ অক্টোবর।

সাংবাদিক ইকবালকে আবারও ডেকেছে বিতর্কিত তদন্ত কমিটি

সাংবাদিক ইকবালকে আবারও ডেকেছে বিতর্কিত তদন্ত কমিটি

কুবি প্রতিনিধি:

সংবাদ প্রকাশের জেরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ক্যাম্পাস সাংবাদিক ইকবাল মনোয়ারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইকবালকে লিখিত বক্তব্যসহ কমিটির সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে।

তবে বিতর্কিত ওই কমিটির মাধ্যমে হয়রানি করার উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনবহির্ভূতভাবে ইকবালকে দেয়া সাময়িক বহিষ্কারাদেশের ওপর ইতোমধ্যে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

ওই সাময়িক বহিষ্কারাদেশের আগে উপাচার্যপন্থি যেসব শিক্ষকরা মানবন্ধন করে ইকবালের শাস্তি দাবি করেছিলেন, তাদের নিয়েই গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে ইকবালকে জানায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর লিখিত বক্তব্যসহ তদন্ত কমিটির সম্মুখে উপস্থিত হওয়ার জন্য ইকবালকে চিঠি দিয়েছে প্রশাসন। গত ২১ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আমিরুল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আবদুল মঈনের বক্তব্যকে ‘বিকৃত করে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তমূলক মিথ্যা তথ্য’ প্রচার করা হয়েছে।

এ প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার কারণ ও উদ্দেশ্য উদঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপাচার্যের বক্তব্য ‘বিকৃত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক মিথ্যা তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের’ বিষয়ে লিখিত বক্তব্যসহ হাজির হতে বলা হয়েছে ইকবালকে।

এর আগে এক চিঠিতে গত ১০ আগস্ট তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলেছিল প্রশাসন। তবে অভিযোগ, তদন্ত ও তদন্ত কার্যক্রমের বিষয়ে অবহতিকরণের জন্য গত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে চিঠি দেন ইকবাল। ওই চিঠিতে ইকবাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সুনির্দিষ্ট করে অবহিত না করেই তদন্ত কমিটি গঠন ও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, কে অভিযোগ দিয়েছে, কোন আইনে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে, অভিযোগের ভিত্তি কী, কাদেরকে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, কোথায় ও কোন গণামাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা জানেন না তিনি। বিষয়গুলো অবহিত করতে রেজিস্ট্রারকে অনুরোধ জানান ইকবাল। তবে রেজিস্ট্রার সেসব বিষয় অবহিত না করেই নতুন করে চিঠি দিয়ে ইকবালকে তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হতে বলেছেন।

এ বিষয়ে ইকবাল মনোয়ার বলেন, ‘অভিযোগ, অভিযোগকারী ও তদন্ত কমিটি সম্পর্কে আমাকে জানাতে লিখিত দিয়েছিলাম আমি। আমার চিঠির উত্তর না দিয়ে আবারও আমাকে তদন্ত কমিটির সামনে লিখিত বক্তব্যসহ উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। অথচ আমি জানিই না, কী ও কার অভিযোগের বিষয়ে আমি লিখিত দেব। প্রশাসন স্পষ্টতই আমাকে ফাঁসাতে প্রহসনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তদন্ত কার্যক্রমের আইনগত ভিত্তি জানতে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আমিরুল হক চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। এরপর খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত ওই চিঠির অনুলিপিতে তদন্ত কমিটির আহবায়ক হিসেবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এন. এম. রবিউল আউয়াল চৌধুরীর নাম উল্লেখ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে আছেন প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকীও।

উভয়ই গত ২ আগস্ট উপাচার্যের পক্ষে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ইকবালের শাস্তি দাবি করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাঁদের দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করায় তদন্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসাইন বলেন, ‘স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতি হলো স্বার্থসংশ্লিষ্ট কেউ তদন্ত প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হতে পারবেন না। তদন্ত কমিটির সদস্যরা যদি শাস্তি দাবি করে থাকেন, তাঁর মানে আগে থেকেই তিনি এ বিষয়ের সাথে যুক্ত আছেন। কাজেই তাঁর কাছ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত আশা করা যাবে না। কারণ, তিনি ইতিমধ্যে একটি পক্ষ অবলম্বন করে ফেলেছেন।’

গত ২ আগস্ট প্রক্টরিয়াল বডি ইকবালকে বহিষ্কার করতে সুপারিশ করে প্রতিবেদন তৈরি করে। সে প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ইকবালকে বহিষ্কার করে প্রশাসনের ‘উচ্চ পর্যায়ের সভা’। সে সভার প্রধান ছিলেন স্বয়ং উপাচার্য নিজে। উপাচার্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পরিচালিত কার্যক্রমে তিনি সভা প্রধান হওয়ায় ব্যক্তিক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইনে ‘উচ্চ পর্যায়ের সভা’ নামেও কোনো প্রশাসনিক কাঠামো নেই।

এদিকে প্রক্টরিয়াল বডির ওই প্রতিবেদন কী অভিযোগের ভিত্তিতে ও কোন আইনের আলোকে দেওয়া হয়েছিল তা সম্পর্কে ইতোপূর্বে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেননি প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী। সর্বশেষ গতকালও তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইকবালকে দেওয়া চিঠিতে বিষয়টিকে ইতোমধ্যে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিভ্রান্তিমূলক, মিথ্যা তথ্য’ বলে উল্লেখ করেছে প্রশাসন। প্রমাণ হওয়ার আগেই এমন বলা আইনসম্মত নয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (কুবিসাস) সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইউসুফ আকাশ বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ একটি আপেক্ষিক শব্দ।

কোনো সংবাদ কারও বিপক্ষে গেলে তিনি বিভিন্নভাবেই বিষয়টিকে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। প্রশাসন যে অভিযোগের কথা বলেছে, তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কিছুই বলেনি। তদন্ত কমিটি ও কার্যক্রম জানানো হয়নি। উপাচার্য যা বলেছেন, সাংবাদিক তা লিখেছেন। এখানে কোনো মিথ্যাচার হয়নি।

আহমেদ ইউসুফ আরও বলেন, ‘ইকবাল পেশাগত দায়িত্বে প্রতিবেদন লিখেছেন। তিনি শিক্ষার্থী হয়ে কাজ করেনি। এখানে পেশাগত পরিচয় ও একাডেমিক পরিচয় প্রশাসন গুলিয়ে ফেলেছে। এই বিষয়টি শুরু থেকেই আমরা বলে আসছি। কেউ সংবাদে সংক্ষুব্ধ হলে তার প্রতিকারের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন ও উপায় রয়েছে। সে দিক দিয়ে মোকাবেলা না করে অন্যায় ও সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে একজন সাংবাদিককে হয়রানি করা হচ্ছে।’

পেশাগত কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাস