All posts by jitu

অস্ত্র ব্যবসা নিয়ে কথা বলতে রাশিয়া যাবেন কিম জং

অস্ত্র ব্যবসা নিয়ে কথা বলতে রাশিয়া যাবেন কিম জং

ডেস্ক রিপোর্ট:

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন চলতি মাসে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে রাশিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের সমর্থনে মস্কোকে উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র সরবরাহের সম্ভাবনা নিয়ে দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে এই বৈঠক কোথায় হবে সেটা নিয়ে নিশ্চিত কোনও তথ্য জানা যায়নি। খবর বিবিসির।

এই খবর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যম ফলাও করে প্রচার করলেও কোনও প্রতিবেদনেই তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর কোরিয়া বা রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একটি সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কিম জং উন সম্ভবত সাঁজোয়া ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারেন। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে অস্ত্র সমঝোতা ‌এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তথ্য পেয়েছেন তারা।

এরপরই রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি সামনে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সেরগেই শোইগু সম্প্রতি উত্তর কোরিয়া সফরের সময় পিয়ংইয়ংকে রাশিয়ার কাছে গোলাবারুদ বিক্রি করার বিষয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন।

সভায় প্রদর্শন করা অস্ত্রের মধ্যে ‘হাসং’ নামের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) অন্তর্ভুক্ত ছিল। কোভিড মহামারির পর সে সময়ই প্রথমবারের মতো বিদেশি অতিথিদের জন্য নিজ দেশের দ্বার উন্মুক্ত করেন কিম জং উন।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এবং কিম জং উন তখন থেকেই তাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে চিঠিপত্র আদান-প্রদান করছেন। জন কিরবি বলেন, আমরা উত্তর কোরিয়াকে রাশিয়ার সাথে অস্ত্র আলোচনা বন্ধ করার এবং পিয়ংইয়ং রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি না করার ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহ করলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কিম জং উন এবং পুতিনের মধ্যে বৈঠকটি রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে ভ্লাদিভোস্টক শহরে হতে পারে।

নিউইয়র্ক টাইমসের কূটনৈতিক সংবাদদাতা এডওয়ার্ড ওং বিবিসি নিউজ চ্যানেলকে জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল গত মাসের শেষের দিকে ভ্লাদিভোস্টক এবং মস্কোতে ভ্রমণ করেছে।

ওই প্রতিনিধি দলের মধ্যে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছিলেন যারা উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতার ভ্রমণ ও অন্যান্য প্রটোকলের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে। এই বিষয়টি কিম জং উনের ভ্লাদিভোস্টক শহরে সফরের বিষয়ে শক্তিশালী ইঙ্গিত দেয়।

তিনি আরও জানান, উত্তর কোরিয়া তাদের কৃত্রিম উপগ্রহ এবং পারমাণবিক শক্তি চালিত সাবমেরিন কর্মসূচির জন্য মস্কোর কাছ থেকে উন্নত প্রযুক্তির সহায়তা চাইছে। এছাড়াও উত্তর কোরিয়া বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর মধ্যে একটি। দেশটি প্রায়ই ব্যাপক খাদ্যাভাবের মধ্য দিয়ে যায় এবং তারা রাশিয়ার কাছ থেকে খাদ্য সহায়তাও চাইছে।

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও রাশিয়াকে ইউক্রেনের যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছিল। তবে সেটি অস্বীকার করেছে পিয়ংইয়ং এবং মস্কো।

২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জন এভারার্ড। তিনি বিবিসিকে জানায়, সম্ভাব্য সফরের বিষয়ে এতো প্রচার প্রচারণা হওয়া একটি বিষয় ইঙ্গিত করে যে, এখন এই সফর হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

কিম জং উন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে খুব উদ্বিগ্ন। তিনি তার গতিবিধি গোপন রাখার বিষয়ে বেশ সচেষ্ট। যদি এটা জানাজানি হয়ে যায় যে, তিনি প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে ভ্লাদিভোস্টকে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাহলে তিনি সম্ভবত পুরো পরিকল্পনাই বাতিল করে দেবেন।

জন এভারার্ড জানান, পিয়ংইয়ং জানে যে মস্কো যুদ্ধাস্ত্রের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছে যে দাম চাইবে তা পাবে। এই দাম চোখে ধাঁ ধাঁ লাগিয়ে দিতে পারে। উত্তর কোরিয়ার কাছে অস্ত্রের মজুদ থাকলেও তারা খুবই দারিদ্র্যপীড়িত অবস্থায় আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

২০১৯ সালে দুই নেতার শেষবার বৈঠক হয়েছিল যখন কিম ট্রেনে করে ভ্লাদিভোস্টকে এসেছিলেন। কর্মকর্তারা তাকে তাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী রুটি ও লবণ দিয়ে স্বাগত জানিয়েছিল। বৈঠকের পর পুতিন জানায়, কিম তার পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সরে আসতে চাইলে তাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

এই বৈঠকের অন্তত কয়েক মাস আগে ভিয়েতনামে কিম এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে কোরীয় উপদ্বীপে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে একটি শীর্ষ বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু সে বৈঠকে তখন তেমন কোনও অগ্রগতি হয়নি।

নির্বাচন প্রতিহত করার ক্ষমতা বিএনপির নেই : তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

নির্বাচন প্রতিহত করার ক্ষমতা বিএনপির নেই : তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

আগামী নির্বাচন প্রতিহত করার ক্ষমতা বিএনপির নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আগামী নির্বাচনে যদি বিএনপি-জামায়াত ২০১৪ সালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে তাহলে সরকার কীভাবে মোকাবিলা করবে- জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী জানান, ‘নির্বাচন প্রতিহত করার সেই ক্ষমতা বিএনপির নেই। ২০১৪ সালে আমরা তাদেরকে মোকাবিলা করেছি। সেই পরিস্থিতি বিএনপি কখনোই তৈরি করতে পারবে না।’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানায়, ‘বিএনপির প্রচেষ্টা আছে আবার একই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার। কিন্তু তারা ১৪ সাল কিংবা ১৫ সালেও যে আগুন-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে, এটি তাদের এখন করতে বাংলাদেশের মানুষ দেবে না এবং আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনগণের সঙ্গে থাকবে।’

নির্বাচনে অবশ্যই সব রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করুক আমরা সেটি চাই- এমন মন্তব্য করে সরকারের এ মন্ত্রী জানান, ‘গণতন্ত্রে জনগণের অংশগ্রহণই হচ্ছে মুখ্য। ’৭০ সালে নির্বাচন হয়েছিল। মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে তখন স্লোগান দেওয়া হয়েছিল যে, ভোটের বাক্সে লাথি মারো এবং বাংলাদেশ স্বাধীন কর। ’৭০ সালের নির্বাচন না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। অনেক রাজনৈতিক দল সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি, কিন্তু জনগণ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং দেশ স্বাধীন হয়েছে।’

গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল ও তাদের মিত্ররা অংশগ্রহণ করেনি। ৫০ শতাংশেরও বেশি ভোট কালেকশন হয়েছে। আমরা চাই অবশ্যই বিএনপিসহ সবাই অংশগ্রহণ করুক, কিন্তু সেখানে জনগণের অংশগ্রহণই হচ্ছে মুখ্য, বলেন হাছান মাহমুদ।

নির্বাচনে যদি বিএনপি না আসে ভোটার উপস্থিতির ক্ষেত্রে কোনো শঙ্কা আছে কি না- জানতে চাইলে ড. হাছান জানায়, ‘বিএনপি আসবে, সেটি আমরা মনে করি। গণতন্ত্রকে সংহত করার জন্য দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির নির্বাচনে আসা উচিত বলে আমি মনে করি। যদি নাও আসে জনগণ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করবে।’

নির্বাচনে বিএনপি না এলেও অন্যান্য অনেক রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে বলেও মনে করেন তথ্যমন্ত্রী।

ইনজুরিতে পড়ে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেছেন শান্ত

ইনজুরিতে পড়ে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেছেন শান্ত

ডেস্ক রিপোর্ট:

আফগানিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপে টিকে থাকার ম্যাচে ৮৯ রানের জয়ে নেট রান রেটের হিসেবে সুপার ফোরে খেলা নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। তবে সুপার ফোরের লড়াইয়ের আগে বড় দুঃসংবাদই পেল বাংলাদেশ।

আফগানদের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান নাজমুল হোসেন শান্ত হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়ে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেছেন। মঙ্গলবার বিসিবি থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পরে শান্ত নিজেও ফেসবুকে এক বার্তায় বিষয়টি জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের টপ অর্ডারে নির্ভরতার প্রতীক শান্ত। এশিয়া কাপে লঙ্কানদের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচেও দলের বাকিদের ব্যর্থতার ভিড়ে একাই লড়েছিলেন টাইগার এই ব্যাটার। করেছিলেন ৮৯ রান। আর সবশেষ আফগানদের বিপক্ষে করেছেন ১০৫ বলে ১০৪ রান। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকও তিনি। তবে এর মধ্যেই আপাতত থামতে হচ্ছে এই রানমেশিনকে।

গত রোববার লাহোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেই ব্যাটিংয়ের সময় বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তি অনুভব করেন শান্ত। পরের দিন এমআরআই করানো হয়।

দুই সেঞ্চুরিয়ান শান্ত-মিরাজে খাদের কিনারা থেকে সুপার ফোরে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ফিজিও বায়জেদুল ইসলাম খান নাজমুল শান্তর চোট নিয়ে জানান, ‘ব্যাটিংয়ের সময় সে হ্যামস্ট্রিংয়ে ব্যথা অনুভবের কথা জানিয়েছে। ফিল্ডিংও করতে পারেনি। এমআরআই স্ক্যান করে দেখা গেছে তার মাংসপেশি ছিঁড়ে গেছে। সতর্কতা হিসেবে সে এই টুর্নামেন্টে (এশিয়া কাপ) আর খেলবে না এবং সেরে ওঠার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেশে ফিরবে এরপর বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেবে।’

চলতি বছরে বাংলাদেশের সব ফরম্যাট মিলিয়ে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক শান্তকে ঘিরে সুপার ফোরেও প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু আপাতত তাকে ছাড়াই পরিকল্পনা সারতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। এদিকে, সোমবার রাতে পাকিস্তানে উড়ে গেছেন জ্বর থেকে সেরে ওঠা লিটন দাস। শান্ত ছিটকে পড়ায় দলে যুক্ত হবেন তিনি।

কুমিল্লায় পৃথক দুটি অভিযানে গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

কুমিল্লায় পৃথক দুটি অভিযানে গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা পৃথক দুটি অভিযানে ১০২ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ও কোতোয়ালি থানার পুলিশ সদর উপজেলার জালুয়াপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গাঁজা উদ্ধার করে।

মাদক উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ খন্দকার আশফাকুজ্জামান।

গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলেন কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের দক্ষিণ তেতাভূমি গ্রামের জুনু মিয়ার ছেলে মো: স্বপন মিয়া (১৯) এবং কোতোয়ালি থানার সুবর্ণপুর গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে তারেকুল ইসলাম তুহিন (২০)।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম এস আই নাসিম উল হক ইমরানের নেতৃত্বে অভিযানে ব্রাহ্মণপাড়া থানার বাগরা নোয়াপাড়া এলাকার শশীদল-নয়নপুরগামী সড়কের শাহজাহান মিয়ার বাড়ীর সামনে থেকে ৫২ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে।

অন্যদিকে কোতোয়ালি থানার এস আই শেখ মফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে কুমিল্লা সদর উপজেলার পাচথুবি ইউনিয়নের ঝালুয়াপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৫০ কেজি, ৬ বোতল বিদেশী মদসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে।

এই বিষয়ে কুমিল্লা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপরাধ খন্দকার আশফাকুজ্জামান দুইটি পৃথক অভিযানে ১০২ কেজি গাঁজাসহ ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে পূর্বের মাদক মামলা রয়েছে। এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে আসামীদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মেসিসহ পিএসজিতে যেন জাহান্নামে ছিলাম: নেইমার

মেসিসহ পিএসজিতে যেন জাহান্নামে ছিলাম: নেইমার

ডেস্ক রিপোর্ট:

নিজে পিএসজি কাটিয়েছেন ৬টি মৌসুম। মেসি যাওয়ার পর দুই মৌসুমই শেষ। আর তিনি সেখানে থাকতে চাননি। নেইমারের একার সমস্যা হলে না হয় দোষ দেয়া যেতো ব্রাজিলিয়ান এই ফুটবলারকেই। কিন্তু যেখানে মেসিও অসন্তুষ্ট ছিলেন পিএসজি ক্লাব নিয়ে, তখন শুধু ফুটবলারদের দোষ দেয়াটা হবে বোকামি। নিশ্চয়ই তারা ক্লাবে ছিলেন সবচেয়ে বেশি সমস্যার মধ্যে।

অবশেষে এ নিয়ে মুখ খুললেন সদ্য পিএসজি ছেড়ে সৌদি ক্লাব আল হিলালে যোগ দেয়া ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার ডি সিলভা জুনিয়র। জানালেন পিএসজিতে কেমন ছিলেন তিনি নিজে এবং মেসি! এক সাক্ষাৎকারে নেইমার সরাসরি বলে দিলেন, ‘পিএসজিতে মেসিসহ আমরা ছিলাম যেন এক জাহান্নামের মধ্যে।’

এই মৌসুমেই মেসি এবং নেইমার- দু’জনই পিএসজি ছেড়েছেন। শুধু পিএসজিই নয়, দু’জনই ইউরোপিয়ান ফুটবল ছেড়ে দিয়েছেন। মেসি যোগ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মিয়ামিতে। আর নেইমার যোগ দিয়েছেন সৌদি ক্লাব আল হিলালে। মেসি ছিলেন ফ্রি এজেন্ট। আর নেইমারকে আল হিলাল কিনেছে ৯০ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফি’তে।

ব্রাজিলিয়ান টিভি ও’গ্লোবোর বিশেষ অনুষ্ঠান ‘এস্পোর্টে এস্পেটাকুলার’-এ হাজির হয়ে নানা প্রশ্নের জবাব দেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, ক্লাব সতীর্থ এবং বন্ধু লিওনেল মেসি যখন কাতার বিশ্বকাপের শিরোপাটা হাতে তুলে নিয়েছিলেন, তখন নেইমারের কেমন অনুভূতি হচ্ছিলো?

নেইমার বলেন, ‘আমি তার ওই বছরের অর্জনের জন্য (বিশ্বকাপসহ অন্যসব কিছু) খুবই খুশি। তবে একই সময়ে তার জন্য আমার দুঃখও হচ্ছিলো। কারণ, তিনি যেন মূদ্রার দুই পিঠেই অবস্থান করছিলেন। আর্জেন্টিনা দলে যেন তিনি ছিলেন একটি স্বর্গের মধ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনার হয়ে সব কিছুই জয় করেছেন। কিন্তু জাতীয় দল ছেড়ে যেই না প্যারিসে এসেছেন, অমনি যেন সেখানে তিনি জাহান্নামে প্রবেশ করছিলেন। আমরা যেন জাহান্নামে বসবাস করছিলাম, তিনি এবং আমি- দু’জনই।’

মেসি এবং নেইমার- দুইজনই এর আগে একই সঙ্গে খেলেছেন বার্সেলোনায়। পিএসজিতে এসেও খেললেন একই সঙ্গে। দু’জনই পিএসজির হয়ে লিগ শিরোপা জয় করেছেন। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে ব্যর্থ হয়েছেন।

২০২১ সালে পিএসজিতে এসে যোগ দেয়ার পর এখানে মেসি নিজেকে সেভাবে খাপ খাওয়াতে পারেননি। গত জুনে বিষয়টা স্বীকারও করেছেন যে, পিএসজির গুরুত্বপূর্ণ সমর্থকদের মধ্যে তাকে নিয়ে ভাঙন তৈরি হয়েছে।

মেসি-নেইমার, দু’জনই যখনই পিএসজির জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছেন তখনই সমর্থকরা দুয়ো ধ্বনি দিয়েছে। বিশেষ করে গত দুই বছর পিএসজি যখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে, তখনই তাদের দুয়ো ধ্বনি দেয়া এবং বিদ্রুপ করা বেড়ে গিয়েছিলো।

পিএসজির হয়ে গত মৌসুমে সব মিলিয়ে মেসি মোট ২১টি গোল করেছেন এবং ২০টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। পিএসজির হয়ে সর্বশেষ প্যারিসে যখন খেলতে নেমিছিলেন, তখন সেখানকার সমর্থকরা বেশি টার্গেট করেছিলেন মেসিকে এবং সারাক্ষণই দুয়ো ধ্বনি দেয়া, বিদ্রুপ করে গেছেন।

নেইমার বিশ্বাস করেন, তিনি এবং মেসি যে ধরনের সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন পিএসজিতে, তা ছিল একেবারেই অযাচিত। তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ যেন সেখানে আমরা কিছুই নই। অথচ, সেখানে আমরা গিয়েছিলাম নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিতে এবং সেভাবে চেষ্টাও করেছি। চ্যাম্পিয়ন হতে চেয়েছি। চেষ্টা করেছি ইতিহাস রচনা করতে।’

‘এ কারণেই আমরা একই সঙ্গে খেলা শুরু করেছিলাম। আমরা সেখানে গিয়েছিলাম, চেষ্টা করেছি ইতিহাস তৈরি করতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা পারিনি।’

বরুড়ায় সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন: সেবা পেলেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ

বরুড়ায় সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন: সেবা পেলেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের অন্তর্ভুক্ত ৩১ ফিল্ড এম্বুলেন্সের উদ্যোগে প্রায় দেড় হাজার স্থানীয় অসহায় ও দুস্থ মানুষকে ফ্রি স্বাস্থ্য সেবা ও বিনামূল্য ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে ।

মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯ টা থেকে এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন শুরু হয়।

বরুড়ায় সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন: সেবা পেলেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ

সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশক্রমে এবং কুমিল্লা সেনানিবাসের জিওসি এবং এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোঃ মাইনুর রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বহিরাঙ্গণ অনুশীলনের অংশ হিসেবে বরুড়ার ভৈষখলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সারাদিন ব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন চলছে।

৩১ ফিল্ড এম্বুলেন্সের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আব্দুল্লাহ মেহেদী এবং তার অধিনস্থ সুদক্ষ এবং অভিজ্ঞ সকল মেডিকেল টিম এর পরিচালনায় এখানে আনুমানিক দেড় হাজার রোগীর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে।

বরুড়ায় সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন: সেবা পেলেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ

৩১ ফিল্ড এম্বুলেন্সের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আব্দুল্লাহ মেহেদী জানান, এখানে আসা বেশিরভাগই মেডিসিন রোগী, চর্ম রোগী ও অর্থপেডিক ও ডায়াবেটিকস রোগে আক্রান্ত। কিছু শিশু রোগীও আমরা পেয়েছি। আমরা অতীতে সম্পাদিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে অবগত হয়ে এসব রোগের পর্যাপ্ত মেডিসিনও নিয়ে আসছি, যা রোগীদের মাঝে সরবরাহ করছি। গ্রাম বাংলার দুঃস্থ অসহায় পীড়িত মানুষের দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করে তাদেরকে পীড়ামুক্ত সুস্থ্য সবল এবং সক্ষম নাগরিক হতে পুনর্বাসনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে জাতির উন্নয়নে সক্রিয় অংশগ্রহণে, সহযোগিতা করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।

বরুড়ায় সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন: সেবা পেলেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ

এ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইনে চিকিৎসা সেবায় আরো অংশগ্রহণ করেছেন ৩১ ফিল্ড এম্বুলেন্সের উপ-অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ খালিদ মাহমুদ, ক্যাপ্টেন তানহিয়াত এবং ক্যাপ্টেন খাদিজা।

বরুড়ায় সেনাবাহিনীর ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইন: সেবা পেলেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ

উক্ত মেডিকেল ক্যাম্পেইনে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা প্রদানের জন্য লেঃ কর্নেল আব্দুল্লাহ মেহেদী বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

কুমিল্লায় হলুদের অনুষ্ঠান থেকে ফিল্মি স্টাইলে তরুণীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ফিল্মি স্টাইলে হামলা চালিয়ে গায়েহলুদের অনুষ্ঠান থেকে নিপা আক্তার (১৮) নামে এক নববধূকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তরুণীর বাবা বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের চাটিতলা গ্রামের আব্দুল কাইয়ুমের মেয়ে নিপা আক্তারের সঙ্গে গত ২৪ আগস্ট কোট এফিডেভিটের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী মনোহরগঞ্জ উপজেলার কাঠনী পাড়া বরল্লা গ্রামের সাইদুল হকের ছেলে বদিউল আলমের বিয়ে হয়। বর ও কনে পক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে কনেকে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) রাতে কনের গায়েহলুদের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলাকালে একই গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী জুনায়েদ, আদ্রা উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মিলন মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ আকিল, ছাত্রলীগ নেতা মনসুর, জিসানের নেতৃত্বে প্রায় ৭০/৮০ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে নববধূ নিপা আক্তারকে তুলে নিয়ে যায়। এসময় তারা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায়। তাদের হামলায় নিপা আক্তারের মা নয়ন বেগমসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

এ বিষয়ে নববধূর বাবা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমার মেয়েকে তুলে নেওয়ার আধাঘণ্টা আগে খবর পেয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানিয়েছি আমাকে সহায়তা করার জন্য। কিন্তু পুলিশ কোনো সহযোগিতাই করেনি। পরবর্তী সময়ে ৯৯৯-এ একাধিকবার ফোন করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। সন্ত্রাসীরা ফিল্মি স্টাইলে আমার বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ বাড়িতে হাজির হয়। এরপর থেকে একাধিকবার থানায় গিয়েও মামলা নেয়নি পুলিশ। আজ ঘটনার তিনদিন পর থানায় মামলা নিয়েছে। কিন্তু আমার মেয়ের কোনো সন্ধান দিতে পারেনি তারা। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আটক করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি এবং আমার মেয়ের সন্ধান চাচ্ছি।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আদ্রা উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি মিলন মজুমদারসহ একাধিক জনকে ফোন দিলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে অভিযুক্ত আদ্রা উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ আকিল বলেন, আমার বিরুদ্ধে অনিত অভিযোগ সত্য নয়। আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। এ কারণে তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুবেল বলেন, ঢাকায় ছাত্রলীগের সমাবেশ নিয়ে আমি ব্যস্ত ছিলাম। এ বিষয়ে আমি অবগত নই। খবর নিচ্ছি। অভিযোগের সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, এ ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে থানা থেকে ফোর্স পাঠানো হয়। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। আপহৃত মেয়েটিকে উদ্ধারের জন্য এবং অভিযুক্তদের আটক করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।

সূত্র- জাগো নিউজ