All posts by jitu

নির্বাচন নয়, বিএনপির মনোযোগ আন্দোলনেই

অনলাইন ডেস্ক:

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করলেও ভোট নিয়ে আপাতত ভাবছে না বিএনপি। দলটির সব মনোযোগ এখন আন্দোলনে। যদিও আন্দোলনের পাশাপাশি ভেতরে ভেতরে নির্বাচনী প্রস্তুতিও রয়েছে বিএনপির। দলটির সিদ্ধান্ত হচ্ছে, আন্দোলনে সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তারা।

আর সরকার যদি এই দাবি উপেক্ষা করে একতরফা নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়, বিএনপি তা প্রতিহত করবে এবং সেই নির্বাচনে অংশ নেবে না। তবে তপশিল ঘোষণা পর্যন্ত চলমান আন্দোলনকে টেনে নিয়ে যেতে চায় না দলটি। এর আগেই রাজপথে একদফা আন্দোলনের ফয়সালা করতে চান নীতিনির্ধারকরা।

বিএনপির দাবি, একদফার যুগপৎ আন্দোলনে সম্পৃক্ত কোনো দলই শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে ভোটে যাবে না। আর যেসব দল যুগপতে নেই, কিন্তু অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন চায় তারাও ওই নির্বাচন বর্জন করবে। দলটির নীতিনির্ধারকদের দাবি, বর্তমান বাস্তবতায় সরকারের পক্ষে কোনোভাবেই একতরফা নির্বাচন করা সম্ভব নয়। ফলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সরকারকে কোনো না কোনো বিকল্প পথ বেছে নিতেই হবে। বিএনপি এ-ও মনে করছে, নির্বাচন বা আন্দোলনের মাঠে এবার বিএনপিই সরকারের একমাত্র প্রতিপক্ষ নয়।

নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হোক, এটি যেমন দেশের সাধারণ মানুষ চায়। তেমনি গণতান্ত্রিক বিশ্বেরও চাওয়া এটি। এই ইস্যুতে সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে তারা। শিগগির এই চাপ আরও জোরালো হবে। বিশেষ করে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে অবস্থান নিয়েছে, সেটিতে আস্থার জায়গা পাচ্ছে বিএনপি। এ ইস্যুতে ভিসা নীতি ঘোষণাসহ মার্কিন তৎপরতা আশা জোগাচ্ছে তাদের।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তপশিল ঘোষণা দিল, আর নির্বাচন হয়ে গেল—ব্যাপারটা এত সহজ নয়। ‘একতরফা’ নির্বাচন এবার এত সহজ হবে না। মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। তারা এ দেশে আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন হতে দেবে না। তাই এবার জনগণ আর পিছপা হবে না। মুক্তিযুদ্ধের পরে এবার সবচেয়ে বড় যুদ্ধে তারা নেমেছে। এবার মানুষ জয়ী হবে। তিনি আরও বলেন, এই অনির্বাচিত সরকার ভয়ে জনগণের কাছে যেতে পারছে না। বিএনপির এক ভয়, নির্বাচনের আরেক ভয়। দুই ভয়ের মধ্যে তারা আছে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনিছুর রহমান গতকাল জানিয়েছেন, জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে তারিখ এখনো ঠিক হয়নি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে।

ভোট হবে ব্যালটে।’ উল্লেখ্য, সংবিধানে জাতীয় সংসদের মেয়াদপূর্তির আগের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা আছে। আগামী বছরের ২৯ জানুয়ারি চলতি একাদশ জাতীয় সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হবে। তার আগের ৯০ দিনের মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন করতে হবে। সে হিসাবে, ১ নভেম্বর থেকে ২৯ জানুয়ারির মধ্যে এই নির্বাচন করতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, ১৬ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির এবার আন্দোলনে জেতাটাই একমাত্র লক্ষ্য। কারণ, এবার বিএনপিকে ছাড়া সরকার যদি নির্বাচন করতে পারে, তাহলে দলটি অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে। এ বিষয়টি বিএনপির নেতৃত্বও বিবেচনায় নিচ্ছে বলে নেতাদের অনেকে বলছেন। তাই আগামী দিনে আন্দোলন সফল করাই বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ।

বিগত দুটি নির্বাচন শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে প্রতিহতের ডাক দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্বাচন ঠেকানো সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগ তখন বিজয়ী হয় এবং টানা দ্বিতীয় বারের মতো সরকার গঠন করে। ওই সময় নির্বাচন নিয়ে মধ্যস্থতা করতে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো ঢাকায় এসেছিলেন।

তার উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠকও হয়। বিএনপি নেতাদের দাবি, তখন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার নির্বাচনের পর দ্রুততম সময়ে আরেকটি নির্বাচন দেওয়ার কথা বলেছিল সরকার। কিন্তু পরে তারা কথা রাখেনি। এরপর দলীয় অবস্থান পরিবর্তন করে ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় বিএনপি। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আশায় প্রধানমন্ত্রীর ডাকা সংলাপেও গিয়েছিলেন বিএনপি নেতারা। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করে দলটি। মাত্র সাতটি আসনে বিজয়ী হয়। নির্বাচনের পর বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংলাপে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখেননি প্রধানমন্ত্রী।

সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বিএনপি। একদফা দাবিতে গত ১২ জুলাই থেকে আন্দোলন শুরু করেছে তারা, যেখানে প্রায় অর্ধশত দল সম্পৃক্ত। জানা গেছে, মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে একদফার আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি নিয়ে ফের মাঠে নামার চিন্তা রয়েছে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের। আর সেপ্টেম্বরের শেষদিকে গিয়ে আন্দোলন গতি লাভ করবে। ওই সময় ঢাকায় ফের মহাসমাবেশ, গণসমাবেশ বা বড় ধরনের কর্মসূচির চিন্তা রয়েছে হাইকমান্ডের।

এর মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের ‘শেষ ধাপ’ শুরু হবে। লক্ষ্য অর্জন পর্যন্ত সেই আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। জানা গেছে, সেই পর্যায়ে কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ ঢাকাকেন্দ্রিক। বিচারালয়ের সামনে অবস্থান ছাড়াও নির্বাচন কমিশন, গণভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়ের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঘেরাওয়ের কর্মসূচি আসবে। এর সঙ্গে টানা অবস্থান কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তাও রয়েছে বিএনপির হাইকমান্ডের।

রেললাইন অবরোধ: ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের রেল চলাচল বন্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট:

চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে রাজধানী মালিবাগ রেললাইন অবরোধ করেছেন রেলের অস্থায়ী শ্রমিকরা। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

রোববার (০৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মালিবাগ রেললাইন অবরোধ করেছেন রেলের অস্থায়ী শ্রমিকরা।

জানা গেছে, সরকারি গেজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে চাকরি স্থায়ীকরণে দাবিতে রেলপথ মন্ত্রী, রেলওয়ে সচিব ও রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার গিয়েও কোন সমাধান পাওয়া যায়নি। তাই অস্থায়ী শ্রমিকরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে।

হাজারো শ্রমিক রেলপথে অবস্থান নেওয়ায় মালিবাগ রেলগেটে আটকা পড়ে ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার ট্রেন ‘রংপুর এক্সপ্রেস’। যার কারণে ঢাকার সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ আপাতত বন্ধ।

তিন দফা দাবিতে পেট্রল পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ

অনলাইন ডেস্ক:

বিক্রির ওপর কমিশন বাড়ানোসহ তিন দফা দাবিতে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন। এর ফলে খুলনায় পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়।

বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, খুলনা বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন এবং পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ট্যাংকলরি শ্রমিক কল্যাণ সমিতি এ ধর্মঘট পালন করছে।

জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের তিন দফা দাবি হচ্ছে- জ্বালানি তেল পরিবহনকারী ট্যাংকলরির অর্থনৈতিক জীবনকাল ৫০ বছর করা, জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা, জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট বিধায় প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সুস্পষ্ট গেজেট প্রকাশ করা।

এদিকে জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের খবরে শনিবার (২ আগস্ট) রাতে তেলের পাম্পগুলোতে জ্বালানির জন্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট গাড়িগুলোকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির নেতা মো. মুরাদুজ্জামান মুরাদ গণমাধ্যমকে বলেন, জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর কমিশন বাড়ানোসহ তিন দফা দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। দাবিগুলো অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। দাবি পূরণে গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে সরকার দাবি পূরণ না করায় রোববার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এর আগে গত ২৩ আগস্ট খুলনার নিউমার্কেট এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর কমিশন বাড়ানোসহ তিন দফা দাবি পূরণে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীরা। দাবি পূরণের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ায় ৩১ আগস্ট বিকেলে খুলনার খালিশপুরে ট্যাংকলরি ভবনে সভা করে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের কয়েকটি সংগঠন ৩ সেপ্টেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালনের চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়।

প্লাস্টিক সার্জারির কারণে প্রাণ গেল অভিনেত্রী

প্লাস্টিক সার্জারির কারণে প্রাণ গেল অভিনেত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্লাস্টিক সার্জারির কারণে প্রাণ হারালেন আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় অভিনেত্রী, মডেল ও টিভি সঞ্চালক সিলভিনা লুনা। তার বয়স হয়েছিল ৪৩ বছর।

জানা যায়, ৭৯ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। সেখানে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার পরিবারের সম্মতিতেই তা খুলে দেওয়া হয়। খবর এনডিটিভি ও হোলা।

খবরে বলা হয়, ২০১১ সালে অভিনেত্রী হওয়ার আশায় প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছিলেন লুনা। তার জেরেই শরীরে নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। সবচেয়ে বেশি ছিল কিডনির সমস্যা। যা গত বছর থেকে চরম আকার ধারণ করে। তার দুটি কিডনিই হয়ে যায়। বেশ কিছুদিন ধরেই হাসপাতালে ছিলেন লুনা। তাকে কড়া পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন চিকিৎসকরা।

অভিনেত্রীকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু কোনো চেষ্টা সফল হয়নি। অবশেষে ৪৩ বছরের তারকাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কিন্তু তাতেও বিশেষ লাভ হচ্ছিল না। অভিনেত্রীর বাঁচার আর কোনো আশাই ছিল না। তাই পরিবারের সম্মতিতে তার লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে ফেলা হয়।

লুনার এই অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ তার অনুরাগীরা। আর্জেন্টিনার চলচ্চিত্র জগতের অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকে আবার লুনার প্লাস্টিক সার্জারি করা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা যায়, শুধু লুনা নন, ওই চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার জেরে অনেকেই ভুক্তভোগী হয়েছেন। একাধিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমন মানুষের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন লুনার অনুরাগীরা।

এক্স-রেতে নারীর পেটে মিলল ১৯০০ পিস ইয়াবা

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীতে এক নারীর পেট থেকে ১ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মা-ছেলেসহ তিনি আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়া পালুং পশ্চিম পাড়া গ্রামের রহিম উল্যার স্ত্রী সাবেকুন নাহার (৫১) তার ছেলে সৈয়দ হোসেন (২১) এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আশোকতলা এলাকার মো. রকি (২১)।

শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল হামিদ। এর আগে, একই দিন বিকেলে জেলা শহর মাইজদীর মা ও শিশু হাসপাতালে এক্স-রে করে পেট থেকে ইয়াবা গুলো জব্দ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে এক নারী তার ছেলে ইয়াবার চালান নিয়ে কুমিল্লা হয়ে নোয়াখালী আসবেন। এমন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে ফেনীর লালপোল এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসিয়ে একটি বাস থেকে সাবেকুন নাহার ও তার ছেলে সৈয়দ হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তাদের ভাষ্যমতে, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে আরেক মাদক কারবারি রকিকে আটক করা হয়।

ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মাদক কারবারি সাবেকুন নাহার স্বীকার করে তার পেটে ১ হাজার ৯০০টি ইয়াবা রয়েছে। পরে আটক তিনজনকে ঘটনাস্থল থেকে নোয়াখালী আনা হয়। এরপর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক্স-রে করে পেটে ইয়াবা রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। একপর্যায়ে ওষুধ সেবন করিয়ে নারীর পেট থেকে ইয়াবার ৩৮টি প্যাকেট বের করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ৫০টি ইয়াবা ছিল। সর্বমোট ১ হাজার ৯০০ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আরও জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সুধারাম থানায় এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ওই মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

কুমিল্লায় ৫১ কেজি গাঁজাসহ ২ জন আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার জগন্নাথপুর থেকে ৫১ কেজি গাঁজাসহ ২ জনকে আটক করেছে র‌্যাব-১১।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে জগন্নাথপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

আটককৃতরা হলেন, কুমিল্লার সংরাইশ গ্রামের মোঃ শামছুর ছেলে মোঃ রানা মিয়া (৩০) এবং গাজীপুর গ্রামের মৃত. জুলফু মিয়ার ছেলে মাহে আলম (৪২)।

রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লীডার এ কে এম মুনিরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাব জানায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল। উক্ত বিষয়ে কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, নৌকা সারাজীবন উজান ঠেলে ঠেলে এগিয়ে গেছে: শেখ হাসিনা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বিএনপিসহ বিরোধী দলের চলমান আন্দোলন এবং বাংলাদেশ ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ অবস্থানের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এই সমস্ত ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। নৌকা সারা জীবন উজান ঠেলে ঠেলে এগিয়ে গেছে।’

আজ শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প (কাওলা-ফার্মগেট) অংশের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাঝে মাঝে আন্দোলন-সংগ্রাম দেখে অনেকে একটু ঘাবড়ে যায়। তারপর নিষেধাজ্ঞা আসে। ভিসা নিষেধাজ্ঞা, ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার স্পষ্ট কথা। এই মাটি আমাদের। কাজেই ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। ভয়কে জয় করে বাংলাদেশের জনগণ তার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দেশ স্বাধীন করেছি জাতির পিতার নেতৃত্বে। বাংলাদেশের মানুষ জানে অধিকার আদায় করতে। তবে বাংলাদেশ তো ছয় ঋতুর দেশ। এ জন্য আমরা দেখি কখনো বর্ষা, কখনো ঝড়, কখনো জলোচ্ছ্বাস, কখনো রৌদ্রোজ্জ্বল। আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্নটা দেখে আমাদের অভিজ্ঞতা আছে।’

উপস্থিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে চাই—আমি কবির ভাষায় বলব, মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়/আড়ালে তার সূর্য হাসে/হারা শশীর হারা হাসি/অন্ধকারেই ফিরে আসে। মেঘের ঘনঘটা আমরা দেখি। তারপর ওই তো সূর্য ওঠে। কাজেই ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। ভয়কে জয় করে বাংলাদেশের জনগণ তার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নৌকা সারা জীবন উজান ঠেলে ঠেলে এগিয়ে গেছে। ঝড়ঝঞ্ঝা পাড়ি দিয়েই নৌকা আজকে তীরে ঠেকে জনগণের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। নৌকা মার্কা স্বাধীনতা দিয়েছে। নৌকা মার্কা অর্থনৈতিক উন্নতি দিয়েছে। নৌকা মার্কা ডিজিটাল বাংলাদেশ দিয়েছে। নৌকা মার্কাই স্মার্ট বাংলাদেশ আমাদের দেবে।’

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকেই নাকি গণতন্ত্র চোখে দেখে না। আর গণতন্ত্র উদ্ধার করবেন। যাদের জন্মই হচ্ছে অগণতান্ত্রিকভাবে, সংবিধান লঙ্ঘন করে, উচ্চ আদালত যাদের ক্ষমতা দখল অবৈধ ঘোষণা করেছে—তাদের হাতে গড়া দল কী গণতন্ত্র দেবে? তারা তো গণতন্ত্র দিতে জানে না। তারপরও তারা আন্দোলনের নামে অনেক সময় অনেক কথা বলে।’

সুধী সমাবেশে উপস্থিত সবার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে বলব আত্মবিশ্বাস রেখে জনগণের জন্য কাজ করলে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব। আমরা তা প্রমাণ করেছি। তার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার। অগ্নি-সন্ত্রাস, খুন, হত্যা অনেক কিছু আমরা দেখেছি। কিন্তু সেইগুলি উত্তরণ ঘটিয়ে বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ এগিয়ে যাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানি সরকারি চাকরিজীবীরা পেনশন পায়, সাধারণ মানুষ অবসর ভাতা পায় না। তারা যখন বয়স্ক হয়ে যাবে, কর্মক্ষমহীন হয়ে যাবে, তখন তারা যাতে পেনশন পায় সেই জন্য সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছি। ১৮ বছরের পর থেকে এ স্কিমে যোগ দিতে পারে, ৪০ বছর পরে থেকে সেই টাকা তুলতে পারবেন। ভবিষ্যৎ আর অন্ধকারে থাকবে না। শুধু বর্তমানের উন্নয়ন না, ভবিষ্যৎ যাতে আলোক উজ্জ্বল হয় তার জন্য পেনশন স্কিম চালু করে দিয়েছি। যা আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা ছিল। সেই ওয়াদা রক্ষা করতে পেরেছি।’

গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতায় দেশের এই উন্নয়ন উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের উন্নয়ন কেন হয়েছে। একটাই কারণ, ২০০৯ সাল থেকে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার আমরা নিশ্চিত করে জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে একটি গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার পরিবেশ রাখতে পেরেছি। তার কারণেই আজকে বাংলাদেশের উন্নয়ন।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রমুখ।

কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় আতশবাজীসহ ৬ চোরাকারবারি আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার শাসনগাছা থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় আতশবাজী ও অন্যান্য পণ্যসামগ্রীসহ ৬ জন চোরাকারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১ সেপ্টেম্বর রাতে শাসনগাছা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

উক্ত অভিযানে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৬ পিস ভারতীয় আতশজবাজী, ২০ হাজার পিস ভারতীয় পন্ডস পাউডার, ৮৬০ পিস ভারতীয় টুথপেস্ট, ১৫০ পিস ভারতীয় ফেইসওয়াশ ও ১৯২ পিস ভারতীয় তেলসহ তাদেরকে আটক করা হয়।

চোরাকারবারিরা হলেন, কুমিল্লার শাসনগাছার কবির হোসেনের ছেলে মোঃ রনি (২১), মোঃ আবুল হাশেমের ছেলে নিরব হাসান অপু (১৯), ইন্তাজ আলীর মেয়ে জেসমিন (৩০), আড়াইওড়া গ্রামের মৃত. জামাল হোসেনের ছেলে মোঃ নাইম (২০), মুড়াপাড়া গ্রামের মৃত, মোস্তানের ছেলে ছাইম হোসেন (২০) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রামের মোঃ শুকুর উদ্দীনের ছেলে মোঃ কবির (২৮)।

কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লীডার এ কে এম মুনিরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাব জানায়, তারা দীর্ঘদিন যাবত ভারত হতে আতশবাজীসহ বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় পণ্য-সামগ্রী বাংলাদেশে আনয়ন করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল। উক্ত বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নোয়াখালীতে বেপরোয়া গতির বাস চাপায় পথচারী নিহত