All posts by jitu

ঢাকা থেকে হারানোর ২ মাস পর কুমিল্লা থেকে উদ্ধার শিশু মতিউর

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ঢাকা থেকে হারিয়ে যাওয়ার ২ মাস পর ৮ বছরের শিশু মো. মতিউর রহমানকে তার বাবার কোলে তুলে দিলেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল।

পুলিশ জানায়, সোমবার বিকালে উপজেলার শশীদল রেলস্টেশন এলাকায় শিশু মতিউর রহমানকে একা একা রেলস্টেশনের এক কোণে বসে থাকতে দেখে কাছে গিয়ে তার তার পরিচয় জানতে চায় পুলিশ। শিশুটি তাদের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে চুপ থাকে। তখন পুলিশ মতিউরকে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় নিয়ে আসে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল শিশু মতিউরকে নিজের কাছে বসান এবং বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করেন। এ সময় তিনি এই শিশুটিকে বিভিন্ন উপহার দিয়ে তার কাছ থেকে তার বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা ও তার বাবার মোবাইল নাম্বার নেন। এ সময় শিশু মতিউর জানায়, সে বাসা থেকে বের হয়ে ট্রেনযোগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গুণবতী রেলস্টেশনে নামে। পরে চৌদ্দগ্রামের একটি গাড়ির গ্যারেজে সে এতদিন কাজ করে।

গ্যারেজ মালিক শিশু মতিউরকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে লেখাপড়া করার কথা বললে শিশুটি গত সোমবার বিকালে ট্রেনে করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল রেলস্টেশনে আসে।

পরবর্তীতে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ মতিউরের বাবার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সঠিকতা পায় ও তার ছেলে মতিউর রহমানকে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে।

খবর পেয়ে মতিউরের বাবা জোবায়ের হোসেন আকবর ঢাকার খিলগাঁও থানার সাধারণ ডায়েরির কপি সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণপাড়া থানা আসেন। পরে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল শিশুটির বাবা জোবায়ের হোসেনের কাছে তার ছেলে মহিউর রহমানকে হস্তান্তর করেন।

শিশু মতিউর রহমানের বাবা জোবায়ের হোসেন আকবর বলেন, আমরা স্থায়ীভাবে ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার ফুলবাগিছা গ্রামের বাসিন্দা। সপরিবারে জীবিকার জন্য ঢাকায় থাকেন। এখানে তিনি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রাইভেটকারের ড্রাইভার হিসেবে চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। জোবায়ের হোসেন আকবর তার ছেলে মতিউর রহমানকে লেখাপড়া শেখার জন্য খিলগাঁওয়ের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। তারপর থেকে প্রতিদিন মাদ্রাসায় যাতায়াত করত।

গত ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে মাদ্রাসা ছুটিতে গত ১২ এপ্রিল মতিউর পার্শ্ববর্তী বসবাসরত তার মামার বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে হারিয়ে যায়। তারপর থেকে আমরা তাকে বিভিন্ন দিকে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে খিলগাঁও থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করি। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় দুই মাস পর তাকে খুঁজে পাওয়া যায়।

বাড়তি দামে তেল, সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮০ টাকা

ডেস্ক রিপোর্টঃ

লিটারে ১০ টাকা কমিয়ে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৮৯ ও খোলা তেল ১৬৭ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে ৪ দিন পরও বাজারে এই দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটি মিলছে না। পাশাপাশি পাম তেলও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে ফের কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গে আদা, জিরা ও দারুচিনির দাম বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, নয়াবাজার ও মালিবাগ কাঁচাবাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

১১ জুন সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮৯ টাকা। পাশাপাশি প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন ১৬৭ ও পাম তেলের দাম ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৯-২০০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৭৬-১৮০ টাকা ও পাম তেল প্রতি লিটার ১৪৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৪, ১১ ও ৮ টাকা বেশি।

নয়াবাজারের মুদি বিক্রেতা মো. তুহিন বলেন, কোম্পানি থেকে নতুন দামের তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। আগের বাড়তি দরের তেল বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। মিল থেকে সরকার নির্ধারিত দামে তেল সরবরাহ করতে মনে হচ্ছে দেরি হবে। কারণ তারা সব সময় সুযোগ খোঁজে। অতি মুনাফা করে বাজারে পণ্য সরবরাহ করে। আর কয়েকদিন পর ঈদ। যে কারণে তারা মিল থেকে নতুন দামে তেল সরবরাহ করছে না।

অন্যদিকে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার পর থেকে রাজধানীর খুচরা বাজারে পণ্যটির দাম কমতে শুরু করে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে ফের কেজিপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম।

রাজধানীর খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা গত সপ্তাহেও ৭৫ টাকা ছিল। তবে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ দিন প্রতি কেজি আমদানি করা আদা ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়। যা ৭ দিন আগেও ৩০০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি জিরা ৮৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ৮৫০ টাকা। পাশাপাশি প্রতি কেজি দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ টাকা। যা ৫২০ টাকা ছিল।

কারওয়ানবাজারে পণ্য কিনতে আসা মো. জামিলুর রহমান বলেন, ‘পণ্যের দাম নিয়ে আমরা হতাশায় আছি। প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ে। সরকার কমালেও বাজারে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল। পাশাপাশি কুরবানির ঈদ ঘিরে মসলা পণ্যের দাম বাড়তি। বাজারে তদারকি সংস্থাগুলোর কোনো ভূমিকা নেই।’

কোম্পানীগঞ্জে আ’লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি হামলা, আহত বিএনপির ৪ নেতাকর্মী

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগ বিএনপি পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিএনপির ৪ নেতাকর্মীএবং স্বেচ্ছাসেবকলীগের এক নেতা আহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) বিকেলের দিকে উপজেলার হাসপাতাল গেইট ও বসুরহাট থানার সামনের সড়ক ও কলেজ গেইটে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান রিপন (৪৯) ও বসুরহাট পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক ওবায়দুল হক রাফেল (৩৮) ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন (৩৭)।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সাবেক এমপি হাসনা জসিম উদদীন মওদুদ অভিযোগ করে বলেন,বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার হাসপাতাল গেইটে বসুরহাট পৌরসভা যুবদলের আহ্বায়ক রাফেলের ওপর হামলা চালায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মিরা। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে তার মাথা পাটিয়ে দেয় যুবলীগ,ছাত্রলীগ,স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মিরা। পরে যুবদল নেতা রাফেল কে দেখতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে কোম্পানীগঞ্জ থানার সামনের সড়কে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান রিপনকে যুবলীগ,ছাত্রলীগ,স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতাকর্মিরা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হাসান রনি জানান,বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ওই সংঘর্ষের জের ধরে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের ওপর বিএনপির নেতাকর্মিরা হামলা চালায়। বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে বিএনপির নেতাকর্মিরা তাদের নেতাদের ওপর হামলা চালায়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.সাদেকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে বিএনপি ও যুবদলের নেতারা আহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মুরাদনগরে ১০ বছর ধরে সেতু আছে সংযোগ নেই, ভোগান্তিতে দুই গ্রামের মানুষ

 

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগরঃ

কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রায় ১০ বছর আগে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের বিএডিসির ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় একটি কেটেল ক্রসিং (সেতু) নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত সেতুতে সুফল পাচ্ছেন না শুশুন্ডা ও নয়াকান্দি গ্রামের মানুষ।

জানা যায়, উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের শুশুন্ডা গ্রামের সঙ্গে শুশুন্ডা নয়াকান্দি গ্রামের সংযোগ করতে দুই গ্রামের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের উপরে সেতুটি নির্মাণ করে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ। সেতুর দুই পাশে রয়েছে প্রচুর ফসলি জমি। ব্যক্তিগত স্বার্থে ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্মাণের পর থেকে সেতুর দুই পাশের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে নয়াকান্দি গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে।

শুশুন্ডা নয়াকান্দি গ্রামের কবির হাজী বলেন, দুই গ্রামের মানুষের চলাচল, জমি থেকে ফসল ও কৃষি যন্ত্রপাতি আনা নেয়ার জন্যই এই সেতুটি নির্মাণ করে দিয়েছিলো বিএডিসি। সেই সময় আমাদের গ্রামের কামাল সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের খুব কাছের লোক হওয়ায় সে তার জমির মাঝামাঝি সেতুটি নির্মাণ করান। তখন আমি সহ গ্রামের সবাই বাধা দিলেও কোন কাজ হয়নি। নির্মাণের পর থেকে এখন পর্যন্ত আমরা নানা উপায়ে সেতুর দুই পাশে মাটি ফেলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু কামাল তা হতে দিচ্ছে না, তার দাবি সেতুটি নাকি সরকার একক ভাবে তাকে ব্যবহার করতে দিয়েছে। ১০ বছর আগে সেতু পেয়েও আমাদের দুই গ্রামের মানুষের সেই সাঁকোতেই ভরসা করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে বহুবার মেম্বার চেয়ারম্যানদের কাছে গেলেও কোন সমাধান পাইনি এখনো।

অভিযুক্ত কামাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সেতুটি নির্মাণ করার সময় বাজেট সংকট ছিলো। তাই ঠিকাদার দুই পাশের মাটি দেননি। আর কেউ যদি মাটি ফেলে এটার উপর দিয়ে চলাচল করেন, তাতে আমার কোন বাধা নেই।

এ বিষয়ে ঠিকাদার আলীর সাথে মুঠোফোনে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

মুরাদনগর উপজেলা বিএডিসি কর্মকর্তা মোঃ কাউছার আল মামুন বলেন, কেউ যদি নিজস্ব স্বার্থে সেতু ব্যবহার করতে না দেয় তাহলে অবশ্যই সেটি অপরাধ। সেতু জনসাধারণের সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হয়। বিষয়টি আমার পুরোপুরি জানা নেই, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলাউদ্দীন ভূঞা জনী বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, ভুক্তভোগি কেউ একজন লিখিত অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সৌদি আরবে দুপুরে সূর্যের নিচে শ্রমিকদের কাজ করা নিষিদ্ধ ঘোষণা

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

সৌদি আরবে বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের জন্য দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সূর্যের নিচে কাজ করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। আল আরাবিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রীষ্মের মাসগুলোতে দিনের কিছু নির্দিষ্ট সময় এ নিয়ম মানা হবে।

সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এক বিবৃতি থেকে এ সিদ্ধান্ত জানা গেছে।

এতে বলা হয়েছে, ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সৌদি আরবে শ্রমিকরা দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কাজ করা থেকে বিরত থাকবেন।

বেসরকারি খাতে যারা কাজ করছেন তাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য রক্ষা, স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ প্রদান করতে সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্মচারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবসায়ীদের সিদ্ধান্তটি মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর ফলে উন্নতি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে নির্ধারিত নম্বর ১৯৯১১ বা মন্ত্রণালয়ের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। দেশটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সূর্যের নিচে শ্রমিকদের জন্য কাজ করা নিষিদ্ধ।

৩ বছর পর কসবা সীমান্তহাট চালুর উদ্যোগ, পর্যবেক্ষণে দুই দেশের প্রকৌশলী দল

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

৩ বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত হাট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) দুপুরে সংস্কার কাজের জন্য ভারত-বাংলাদেশের যৌথ প্রকৌশলী দল হাটটি পরিদর্শন করেছে।

এসময় বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের নেতৃত্বে ছিলেন কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সীমান্ত হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মো. আমিনুল এহসান খান। আর ভারতীয় তিন সদস্যের ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের নেতৃত্ব দেন অনুরাগ সেন।

এর আগে ২০২০ সালের মার্চ থেকে করোনা মহামারির কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য কসবা সীমান্ত হাটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় দুই দেশের হাট ব্যবস্থাপনা কমিটি। সম্প্রতি হাটটি খোলার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় হাটের ভেতরের কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন করতে দুদেশের ইঞ্জিনিয়ারিং টিম হাট পরিদর্শন করে।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আমিমুল এহসান খান জানান, সপ্তাহের মধ্যে হাটের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সংস্কারে প্রাক্কলন করা হবে। এরপর সংস্কার কাজ শেষ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে হাটটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য।

স্ত্রী ও শাশুড়িকে নিয়ে ১৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়েছেন পুলিশ পরিদর্শক, দুদকের মামলা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ফেনীর এক পুলিশ পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার এই মামলা করেন।

মামলায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী ও শাশুড়িকেও আসামি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম সৈয়দ আবদুল্লাহ। তিনি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। বর্তমানে তিনি ফেনী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের অপরাধ শাখার পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া তালুকপাড়া গ্রামে। মামলার অপর দুই আসামি হলেন- সৈয়দ আবদুল্লাহর স্ত্রী ফারহানা আক্তার এবং শাশুড়ি কারিমা খাতুন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সৈয়দ আবদুল্লাহ প্রতারণার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী ফারহানা আক্তারের নামে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করেন। যেগুলো ব্যবহার করে তিনি এক কোটি টাকা মূল্যের সঞ্চয়পত্র কেনেন। ফারহানা আক্তারের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫৪ টাকার আমানত গচ্ছিত রাখা এবং ৩১ লাখ টাকায় গাড়ি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া সৈয়দ আবদুল্লাহর নিজ নামে দুটি প্লট, ফারহানা আক্তারের নামে দুটি আবাসিক ফ্ল্যাট, একটি বাণিজ্যিক স্পেস কেনা হয়েছে। ফারহানা আক্তারের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা পরিশোধ করে তার মা কারিমা খাতুনের নামে আবাসিক ফ্ল্যাট কেনা হয়েছে। সব মিলিয়ে আসামিরা অবৈধভাবে ১৮ কোটি ১৫ লাখ ৬০ হাজার ২৮৬ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সৈয়দ আবদুল্লাহ সরকারি কর্মচারী হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার পদমর্যাদার অপব্যবহার করে ঘুস ও দুর্নীতির মাধ্যমে অসাধু উপায়ে অর্জিত টাকা নিজের নামে, স্ত্রী ফারহানা আক্তার ও শাশুড়ি কারিমা খাতুনের নামে করেছেন।

আদালতের আদেশে সৈয়দ আবদুল্লাহর অর্জিত স্থাবর সম্পদ ক্রোক এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় পিরোজপুর সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দ আবদুল্লাহ ১৯৯১ সালে উপপরিদর্শক হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি ২০০৭ সালে পরিদর্শক পদে পদোন্নতি পান। তিনি ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত মঠবাড়িয়া থানার ওসি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ব’স্ত্রহীন অবস্থায় নারী নিয়ে আ’লীগ নেতার মদ পানসহ আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান আশুতোষ বেপারীর (৪৬) আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও নিয়ে তোলপাড় চলছে। গত কয়েকদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতার ওই ভিডিও এবং স্থির চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আশুতোষ বেপারী উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওই ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের মৃত জগদ্বীশ বেপারীর ছেলে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ওই আওয়ামী লীগ নেতা একটি কক্ষে মদ পান করছেন। সেখানে থাকা এক নারীকে নিজ হাতে মদ খাইয়ে দিচ্ছেন তিনি। তারা দুজনেই বস্ত্রহীন অবস্থায়। পরে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়তে দেখা যায় তাকে। এছাড়া অন্য একটি ছবিতে একই কক্ষে অন্য এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায় তাকে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আশুতোষ বেপারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।

অভিযোগ রয়েছে, গত দুই বছর আগে জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার দৈহাড়ি গ্রামের এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছর ধরে ধর্ষণ করেন চেয়ারম্যান আশুতোষ বেপারী। পরে ওই তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক অস্বীকার করলে তাদের কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এসব বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, অবিবাহিত চেয়ারম্যান আশুতোষ বেপারী ইউনিয়ন পরিষদের উপরের একটি কক্ষ ও নিজ বাড়িতে নিয়মিত মদের আসর বসান। সেখানে বিভিন্ন নারীদেরে এনে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হন। ৭ বছর আগে স্থানীয় এক মুক্তিযোদ্ধার মেয়েকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ করেন আশুতোষ। পরে তাকে বিয়ে না করায় ওই মেয়ে আত্মহত্যা করেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন খান বলেন, আশুতোষ বেপারীর এমন মদ ও নারী কেলেঙ্কারি কাম্য নয়। তিনি আমার কমিটির সাধারণ সম্পাদক। বিষয়টি নিয়ে দারুণ লজ্জা বোধ করছি।

মোশারেফ হোসেন খান আরও বলেন, আশুতোষ ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে বসে মদ ও নারী ফেলি ঘটনা ঘটাতেন। এ নিয়ে তার বাবার সঙ্গে ঝামেলা চলছিল। আমি ও ওই ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি সুনীল হালদার ওই বাড়িতে গিয়ে তার বাবার সঙ্গে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলি। তখন তিনি এসব বাদ দিয়ে ২-৩ মাসের মধ্যে বিয়ে করবেন বলে অঙ্গীকার করেছিলেন।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কমিটির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক পরিচয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণকান্ত মজুমদার বলেন, আওয়ামী লীগের একজন নেতার এমন ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় নিজেকে লজ্জিত মনে হচ্ছে। এমন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাই।