All posts by jitu

উত্তাল পাকিস্তান, দেশজুড়ে হরতালের ডাক: পেশোয়ারে নিহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর সভাপতি ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে দেশজুড়ে হরতালের ডাক দিয়েছেন তার দল। খাইবার পাখতুনখাওয়া, পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান এবং ইসলামাবাদে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যে পেশোয়ারে ৪ জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।

লেডি রিডিং হাসপাতালের (এলএইচআর) এক মুখপাত্র জিও নিউজকে বলেছেন, জরুরী বিভাগের ডাক্তাররা গুলিবিদ্ধ চারটি মৃতদেহ পেয়েছেন, এবং আরও ২৭ জন চিকিৎসাধীন আছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশে রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর সভাপতি ইমরান খানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশজুড়ে হরতালের ডাক দিয়েছেন তার দল।পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর সভাপতি ইমরান খানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশজুড়ে হরতালের ডাক দিয়েছেন তার দল।

জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে খাইবার পাখতুনখোয়া সেনাবাহিনী আহ্বান করেছে।

এর আগে পাঞ্জাব সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১০ কোম্পানি সেনা মোতায়েনের অনুমতি চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করলে তা অনুমোদন করা হয়।

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর সভাপতি ইমরান খানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশজুড়ে হরতালের ডাক দিয়েছেন তার দল।পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর সভাপতি ইমরান খানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে দেশজুড়ে হরতালের ডাক দিয়েছেন তার দল।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি পুনরুদ্ধারে সেনাবাহিনী জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি কাজ করবে। পিটিআই নেতা ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন দলটির নেতারা।

এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর সহিংসতার করা শত শত সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কেজিতে চিনির দাম ১৬ টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে সরকার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

বিশ্ব বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম ১৬ টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছে সরকার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে: পরিশোধিত খোলা চিনির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ১২০ টাকা, যা আগে ছিল ১০৪ টাকা। প্যাকেটজাত পরিশোধিত চিনির দাম কেজি প্রতি ১০৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২৫ টাকা করা হয়েছে।

বিশ্বে চিনির অন্যতম বৃহৎ উৎপাদক ভারতসহ অন্যান্য দেশে উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিশ্ব বাজারে উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে চিনি।

দেশের চিনির চাহিদার প্রায় পুরোটাই পূরণ হয় আমদানির মাধ্যমে। বিশ্ব বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে দেশের চিনি আমদানি ও শোধনকারীরা গত মাসেই চিনির দাম বাড়াতে চেয়েছিল।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বাণিজ্য ও ট্যারিফ কমিশন আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার দাম কমে যাওয়ার হিসাবে আমদানি ব্যয় বিশ্লেষণ করে।

ছদ্মবেশী রোগীর হাতে ভুয়া চিকিৎসক ধরা

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীতে রোগী সেজে এক ভুয়া চিকিৎসককে হাতেনাতে আটক করেছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত এম ইউ সবুজ (৪০)। আদালতের আদেশের পর সুধারাম থানা-পুলিশের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার (১০ মে) দুপুরে শহরের জহুরুল হক মিয়ার গ্যারেজ এলাকা থেকে ওই ভুয়া চিকিৎসককে আটক করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, শহরের জহুরুল হক মিয়ার গ্যারেজ এলাকায় এম ইউ সবুজ নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসক সেজে চেম্বার খুলে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। গোপন সূত্রে এ তথ্য পেয়ে আজ সকালে ইউএনও নিজাম উদ্দিন আহমেদ নিজেই ওই ব্যক্তির মুঠোফোনে যোগাযোগ করে সিরিয়াল দেওয়ার অনুরোধ করেন। তখন তাকে বলা হয়, ‘সিরিয়াল লাগবে না, ডাক্তার সাহেব চেম্বারে আছেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে দুপুর ১২টার দিকে ইউএনও নিজেই পুলিশ নিয়ে ওই ব্যক্তির চেম্বারে গিয়ে অভিযান চালান।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, অভিযানের সময় ওই ব্যক্তি নিজেকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিলেও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের কোনো সনদ তিনি দেখাতে পারেননি। ভুয়া চিকিৎসক সেজে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চান্দিনায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৮ ঘর পুড়ে ছাঁই

 

চান্দিনা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চান্দিনায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৮টি ঘর পুড়ে ভষ্মিভূত হয়েছে।

বুধবার (১০ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় চান্দিনা উপজেলার গল্লাই কংগাই দক্ষিণপাড়া গ্রামের ওই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

এতে ওই গ্রামের মতিন মাস্টার এর ছেলে জাকির হোসেন এর ১টি, তার ভাই জামাল হোসেন ২টি, মালেক মিয়ার ছেলে তাজুল ইসলাম এর দুইটি ও মিজানুর রহমান এর ৩টি ঘর পুড়ে যায়। এর মধ্যে ৫টি বসত ঘর।

একই বাড়ির বিল্লাল হোসেন জানান, প্রবাসী তাজুল ইসলাম এর বসত ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা একে একে পাশের ঘর গুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সবাই কৃষি কাজে ব্যস্ত থাকায় কোন ঘর থেকেই কোন প্রকার মালামাল বাহির করা সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করলেও ততক্ষণে ৮টি ঘর পুড়ে যায়। এতে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্রসহ অন্তত ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ছে বলে দাবী করেন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার।

চান্দিনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার অনয় কুমার ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাঁচথুবীতে ৯৬ কেজি গাঁজাসহ ১০ মামলার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদরের পাঁচথুবি এলাকা থেকে ৯৬ কেজি গাঁজাসহ  মাদক ব্যবসায়ী হানিফকে  (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার  (১০ মে)  রাত সোয়া ১২ টায় পাঁচথুবি সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেফতার হওয়া মো: হানিফ  সদরের ছাওয়ালপুর গ্রামের মো: মফিজুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ সূত্র জানায়,  কোতয়ালী মডেল থানায় কর্মরত এসআই শেখ মফিজুর রহমান,এসআই কিবরিয়া, সঙ্গীয় এএসআই শিমুল পারভেজ, এএসআই আরমান হোসাইন এবং ফোর্সসহ রাত সোয়া ১২ টার দিকে  পাঁচথুবি ইউপিস্থ ছাওয়ালপুর  মাজার সংলগ্ন কবরস্থানের পশ্চিম পাশে কালভার্টের নিচে  মোঃ হানিফ  বিক্রয়ের জন্য ৯৬ কেজি গাঁজা মজুদ করে গাড়ীর জন্য অপেক্ষাকালে অভিযান পরিচালনা করে বর্নিত আসামীর দখল হইতে ৯৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন।

আসামীর বিরুদ্ধে পূর্বের মাদক,অস্ত্র সহ সর্বমোট ১০ টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এই ঘটনায় আসামীর বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ মোকাবেলায় সরকার সবদিক থেকেই প্রস্তুত: দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’ ইস্যুতে সরকার সব দিক থেকেই প্রস্তুত। প্রতিবারের মতো ইনশাআল্লাহ, এবারও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা করতে পারব। সেনা ও নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড প্রস্তুত আছে।

বুধবার (১০ মে) বিকেলে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে একটি সভার শুরুতে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

তিনি জানান, এটা সুপার সাইক্লোন হবে, এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এটি ১৩ মে রাত থেকে ১৪ মে সকালের মধ্যে আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশের কক্সবাজারে এটি আঘাত হানতে পারে। বিশেষ করে সেন্ট মার্টিনের নিচু এলাকায় আঘাত হানতে পারে। রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার একটা আশঙ্কা আছে।

জামাল হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তল ও গুলিসহ বরকামতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সেক্রেটারি গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার গৌরিপুরে  যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত তিনটি  বিদেশী পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করেছে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ। কুমিল্লার দেবিদ্বারের বড়কামতা ইউনিয়ন ছাত্র্রলীগের সাধারণ সম্পাদক  মাজহারুল ইসলাম সৈকতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  তার বিরুদ্ধে চান্দিনা থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া মাজহারুল ইসলাম সৈকত  দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের নবিয়াবাদ গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে।  সে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ গ্রুপের অনুসারি বলে জানা গেছে।

বুধবার  (১০ মে) বেলা সাড়ে ১১টায়  সংবাদ সম্মেলনে অস্ত্র  উদ্ধার ও সৈকতের গ্রেফতার বিষয়ে তথ্যতুুলে ধরেন কুমিল্লা পুলিশ সুুপার আব্দুল মান্নান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান জানান, জামালকে খুন করতে যে অস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। একটি স্কুল ব্যাগের ভেতর থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে দুটি অত্যাধুনিক পিস্তল ও একটি অত্যাধুনিক রিভলবার রয়েছে। এ ছাড়া ২৪ রাউন্ড গুলি, নেকাব ও একটি জিন্স প্যান্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে  সৈকতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সৈকত স্বীকার করেছে, ঘটনার পর অস্ত্রগুলো তার কাছে রেখে যাওয়া হয়।

আবদুল মান্নান আরও বলেন, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার সৈকতকে রিমান্ডে নেয়ার জন্য আবেদন করা হবে। আশা করি, এ ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে।

গত ৩০ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারে তিনজন ব্যক্তি বোরকা পরে এসে জামাল হোসেনকে গুলি করে হত্যা করেন। নিহত জামাল হোসেন তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে। তিতাস উপজেলায় বাড়ি হলেও তিনি দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের পাশে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

সদর দক্ষিণের পেট্রোল পাম্পে কর্মচারীর হাতে কর্মচারী খুন

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী রাব্বি’র হাতে মারুফ (১৮) নামের আরেক কর্মচারী খুন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (১০ মে) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বেলতলী কৃষ্ণপুরস্থ অধ্যক্ষ কবির আহম্মেদের মালিকানাধীন এস.কে পেট্রোল পাম্পে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মারুফ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের বেলতলী বাজার সংলগ্ন ঘোষগাঁও গ্রামের মৃত হাফিজুল ইসলামের ছেলে।

ঘাতক রাব্বি একই উপজেলার বেলতলী বাজার সংলগ্ন কৃষ্ণপুর গ্রামের শাহজানের ছেলে। ঘটনার পর পরই পলাতক ঘাতক রাব্বি।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবাশীষ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার তদন্ত অনুসারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জামাল হত্যাকান্ডে বোরকা পরিহিত ৩ জনের মধ্যে একজনসহ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার গৌরীপুরে চাঞ্চল্যকর যুবলীগ নেতা জামাল হোসেন হত্যাকান্ডে বোরকা পরিহিত তিনজনের মধ্যে একজন হত্যাকারীসহ সর্বমোট দুইজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ , সিপিসি-২ সদস্যরা।

গ্রেফতার হওয়া দুইজন হলেন কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার চর চারুয়া গ্রামের মৃত. জাহেদ আলীর ছেলে মোঃ দেলোয়ার হোসেন @ দেলু (৩১) এবং তিতাস উপজেলার বড় গাজীপুর গ্রামের মো: ফজলুল হকের ছেলে মোঃ সাহিদুল ইসলাম @ সাদ্দাম মাস্টার (৩৩)। এর মধ্যে সাদ্দাম কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ দেলোয়ার হোসেন @ দেলু এর বিরুদ্ধে ২ টি হত্যা মামলা সহ মোট ০৬ টি মামলা রয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গত ৩০ এপ্রিল রাতে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দির গৌরীপুর পশ্চিম বাজার সংলগ্ন মসজিদের পাশে একটি দোকানের সামনে তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জামাল হোসেন (৪৫) এর উপর রাত ৮ টায় ৩ জন বোরকা পরিহিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী এলোপাথাড়িভাবে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে হত্যা করে। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ২ মে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ৯ জনের নাম উল্লেখসহ ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব-১১ গত ৬ মে ঢাকা ও চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ০৩, ০৪ ও ০৭ নং আসামীদেরকে গ্রেফতার করে দাউদকান্দি থানায় হস্তান্তর করে। এই হত্যাকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত বাকি আসামীদেরকে গ্রেফতারের নিমিত্তে র‌্যাব-১১ মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম চলমান রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ মে বিকালে ও রাতে পূর্বে গ্রেফতারকৃত আসামীদের নিকট হতে প্রাপ্ত তথ্য, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা জেলার যাত্রাবাড়ী এলাকা হতে এই হত্যাকান্ডে বোরকা পরিহিত তিনজন হত্যাকারীর একজন মোঃ দেলোয়ার হোসেন @ দেলু এবং তিতাস উপজেলার গাজীপুর এলাকা হতে এই হত্যাকান্ডে আসামীদের দেশের ভিতরে ও বাহিরে পলায়ন করার পথ তৈরীকারী মোঃ সাহিদুল ইসলাম @ সাদ্দাম মাস্টারকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামী দেলোয়ার হোসেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, গত ৩০ এপ্রিল বিকালে জিয়ারকান্দি এলাকায় অবস্থিত মাছের প্রজেক্টে (প্রজেক্টের মালিক আরিফ ও সুজন) কাজ করাকালীন আরিফ (জামাল হত্যা মামলার ২ নং এজাহারনামীয় আসামী) তাকে গৌরীপুর পাওয়ার হাউজে নিয়ে যায় এবং সেখানে যাওয়ার পর সে একটি কালো মাইক্রোবাস (ড্রাইভারসহ), আসামী মনির (এজাহারনামীয় ০৯ নং আসামী) ও শাহ আলী@ আল আমিনকে (পিতা-আবু মিয়া, সাং-জিয়ারকান্দি, গৌরীপুর) দেখতে পায়। পরবর্তীতে আরিফ দেলোয়ারকে বলে ‘আজ আমরা জামালকে হত্যা করব, জামাল পূর্বে আমার ও তোর অনেক ক্ষতি করেছে, বেচে থাকলে আমাদের আরো ক্ষতি করবে, আমাদের ভয়ের কিছু নেই, আমরা সম্পূর্ণ পরিকল্পনানুযায়ী কাজ করব এবং কাজ শেষে কিছু দিনের জন্য কুমিল্লার বাহিরে থাকবো। এছাড়া এ কাজ শেষে তোর ঋণ পরিশোধ ও পরিবার চালানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টাকা দেওয়া হবে’। গ্রেফতারকৃত আসামী দেলোয়ার টাকার প্রয়োজনে আরিফের কথায় প্রলোভিত হয়ে ও শত্রæতার নিষ্পত্তির নিমিত্তে সে জামালকে হত্যার জন্য রাজি হয়ে যায় এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়ার হাউজে অবস্থান করতে থাকে। আরিফ ও শাহ আলী গাড়ি থেকে নেমে মোবাইল ফোনে কয়েকজনকে ফোন দিয়ে নির্দেশনা প্রদান করে তবে এ ব্যাপারে আসামী দেলোয়ারকে তারা কিছুই বলে না। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আনুমানিক রাত সাড়ে ৭ টার দিকে আরিফ একজন সিএনজি চালককে ফোন দিয়ে পাওয়ার হাউজের সামনে নিয়ে আসে। এসময় আরিফ নিজে একটি পিস্তল নেয় এবং দেলোয়ার ও কালা মনিরকে একটি করে পিস্তল দেয়। পরবর্তীতে দেলোয়ার, আরিফ ও কালা মনির বোরকা পরে পিস্তলসহ সিএনজিতে উঠে গৌরীপুর বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা করে এবং তারা শিকদার মেডিকেলের পার্শ্ব রাস্তা (গৌরীপুর বড় মসজিদ রোড) দিয়ে কিছুদুর গিয়ে সিএনজি থেকে নেমে হাটা শুরু করে। পথিমধ্যে আরিফ কয়েকজনকে ফোন করে জামালের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় এবং প্রতিনিয়ত ফোনে তাদেরকে জামালের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে বলে। ঘটনাস্থলে আসার পর আসামীরা জামালকে দেখতে পায় এবং গুলি করে দ্রæত পালিয়ে যায়। পালানোর সময় আরিফের বোরকার মুখের আবরণ খুলে যায় এবং মনিরের হাত থেকে পিস্তল পড়ে যায়। পরবর্তীতে মনির পিস্তলটি কুড়িয়ে পালিয়ে যায়। তারা তাদের পরিহিত বোরকাগুলো খুলে বালির মাঠের একটি ঝোপের মধ্যে রেখে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক গৌরীপুর মা মটরস এন্ড সার্ভিসিং সেন্টার এর সামনে চলে যায় যেখানে শাহ আলী আগে থেকেই মাইক্রোবাস নিয়ে অপেক্ষা করছিল। পরবর্তীতে তারা গাড়ীতে করে চান্দিনায় চলে আসে। চান্দিনায় আসার পর আরিফ তার পূর্ব পরিচিত এক ব্যক্তির নিকট হত্যাকান্ডের ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র হস্তান্তর করে এবং ঐ ব্যক্তির ভাড়াকৃত মাইক্রোবাসে করে আরিফ, কালা মনির, দেলোয়ার ও শাহ আলী নোয়াখালী চলে যায়। গত ০১ মে তারিখ তারা ঐ ভাড়াকৃত মাইক্রোবাসে করে চান্দিনায় আসে এবং বিপদের আচ করতে পেরে পুনরায় নোয়াখালী চলে যায়। নোয়াখালীতে অবস্থানকালীন সময় গত ২ মে সকালে মনির তাকে জানায় আরিফ বিদেশ চলে গেছে। পরবর্তী দিন গত ০৩ মে গ্রেফতারকৃত আসামী সাদ্দাম একটি গাড়ি ভাড়া করে তিতাস থেকে নোয়াখালীতে আসে এবং কালা মনির, দেলোয়ার ও শাহ আলীকে নিয়ে ফেনীতে চলে যায়। শাহ আলীকে ফেনী থেকে ঢাকার একটি বাসে তুলে দিয়ে তারা নরসিংদীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। পথিমধ্যে সাদ্দাম হোমনায় নেমে যায় এবং দেলোয়ার ও মনির নরসিংদীতে দেলোয়ারের খালার বাসায় পৌছায়। গত ৪ মে ভাড়াকৃত গাড়ীতে করে দেলোয়ার ও মনির উত্তরায় চলে আসে। পরিকল্পনা মোতাবেক সাদ্দামের ভাড়া করা অন্য একটি গাড়ি আসামীদ্বয়কে উত্তরা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে নিয়ে আসে এবং সাদ্দামের ভাড়াকৃত চালক দেলোয়ারকে ৪০ হাজার টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে পূর্বে হতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে অবস্থানরত অন্য একটি গাড়িতে করে মনির চলে যায় ও দেলোয়ার সোনারগাঁওতে তার বোনের বাসায় রাত্রী যাপন করে। গত ৫ মে রাতে দেলোয়ার তার মায়ের সাথে দেখা করার জন্য কুমিল্লায় আসে এবং মায়ের সাথে দেখা শেষে পুনরায় ঢাকার সোনারগাঁওতে তার বোনের বাসায় প্রত্যাবর্তন করে। গত ৬ মে দেলোয়ার তার বোনের বাসা থেকে শনির আখড়ায় তার খালার বাসায় চলে যায় এবং ৯ মে বিকাল পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে। এর মধ্যে গত ৮ মে দেলোয়ার সাদ্দামকে টাকার জন্য ফোন দিলে সাদ্দাম দেলোয়ারকে বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে। নিজের পাসপোর্ট না থাকা ও পরিবারের ভরণপোষণের জন্য টাকার প্রয়োজনে দেলোয়ার সাদ্দামের নিকট ৩ লক্ষ টাকা দাবী করে। একই অবস্থানে বেশি দিন থাকলে গ্রেফতার হতে পারে এই ভয়ে সে ৯ তারিখ বিকালে তার খালার বাসা থেকে বের হয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবস্থায় করে। এসময় আমরা তাকে গ্রেফতার করি। পরবর্তীতে একই দিন রাতে দেলোয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সাদ্দামকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত অন্য আসামী সাদ্দাম জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, জামাল হত্যাকান্ডের ঘটনা সম্পর্কে সে অবগত ছিল না। হত্যাকান্ডের পর গত ১ মে শাকিল (এজাহারনামীয় ৬ নং আসামী) তাকে ফোন দিয়ে আসামীদেরকে পলায়নের ব্যাপারে সাহায্য চাইলে সে শাকিলকে সাহায্য করতে রাজী হয়। এরই প্রেকà