All posts by jitu

কুমিল্লায় গায়ে হলুদের রাতে প্রেমিকার আত্মহত্যা, খবর পেয়ে প্রেমিকের বিষপান

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লায় গায়ে হলুদের রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন শারমিন আক্তার (২৩) নামের এক তরুণী। শুক্রবার (৫ মে) ভোর ৪টায় নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় নিজ বাসায় গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

প্রেমিকার আত্মহত্যার খবর শুনে সকালে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান তার সাবেক প্রেমিক রনি। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নিহত শারমিন আক্তারের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা সদর উপজেলার কাকিয়ারচর এলাকায়। তারা নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় ভাড়া থাকেন।

প্রেমিক রনি কুমিল্লা সদর উপজেলার পালপাড়া এলাকার মৃত তাজুরুল ইসলামে ছেলে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ সনজুর মোর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় শারমিনের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলছিল। হলুদের অনুষ্ঠানে হঠাৎ প্রেমিক রনি তার দলবল নিয়ে এসে হাজির হন। এসময় তিনি শারমিনকে বিয়ে না করার জন্য আকুতি মিনতি জানিয়ে কান্নাকাটি শুরু করেন। হলুদের অনুষ্ঠানে হঠাৎ প্রেমিকের উপস্থিতি এবং বিয়ে না করার আকুতি শোনার পর বিমর্ষ ছিলেন শাারমিন। পরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজের শয়ন কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।

নিহত শারমিনের ভাবি হাসনাত জাহান ভূঁইয়া প্রীতি জানান, ২০২০ সালের শেষের দিকে বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল এলাকার আসাদুজ্জামান অনিল নামের এক যুবকের সঙ্গে শারমিনের বিয়ে ঠিক হয়। তার ভাই যুক্তরাষ্ট্রে থাকায় ২০২৩ সালের ৫ মে বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

তিনি বলেন, শারমিন হলুদ অনুষ্ঠানের পর পোশাক পরিবর্তনের জন্য নিজের রুমে গিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

এ বিষয়ে প্রেমিক রনির মা বলেন, ‘শারমিন আমাদের পুত্রবধূ। কোর্ট ম্যারিজ করে তারা বিয়ে করেছে। কিন্তু আমাদের পরিবারের অবস্থা ভালো না হওয়ায় বউমার পরিবার আমাদের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে রাজি হয়নি। তারা ডিভোর্স ছাড়াই বউমাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পুত্রবধূ দুইমাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমার ছেলেও সকালে বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আমরা এর ন্যায্য বিচার চাই।’

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ সনজুর মোর্শেদ বলেন, ঠিক কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত নই। আমরা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

চাঁদপুরে ৩০ মণ পাঙাশের পোনা জব্দ

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

চাঁদপুর সদর উপজেলার আনন্দবাজার ও লালপুরের মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা, ১ হাজার ২০০ কেজি (৩০ মণ) পাঙাশ মাছের পোনা ও তিনটি মাছ ধরার ফাঁদ (চাঁই) জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোস্ট গার্ড ঢাকা জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকি গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার খন্দকার মুনিফ তকি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ঢাকা জোনের অধীনে বিসিজি স্টেশন চাঁদপুর ও চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য বিভাগ লেফটেন্যান্ট মাশহাদ উদ্দিন নাহিয়ানের নেতৃত্বে আনন্দবাজার ও লালপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোটসহ আনুমানিক ১ হাজার ২০০ কেজি পাঙাশের পোনা ও ৩টি পাঙাশ মাছের পোনা ধরার ফাঁদ (চাই) জব্দ করা হয়।

কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পাঙাশের পোনা ধরার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা নদীর পাড়ে নৌকা রেখে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানান কোস্ট গার্ডের এই কর্মকর্তা। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. তানজিমুল ইসলাম ও কান্ট্রি ফিশিং বোর্ড মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম মল্লিক। পরবর্তীতে মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জব্দ করা পাঙাশের পোনা স্থানীয় এতিমখানা ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয় এবং চাঁইগুলো আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়।

দেবিদ্বার সুবিল ইউপি ৬নং ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগের অফিস উদ্বোধন

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে দলীয় কার্যালয়ের শুভ উদ্বোধন করেন কুমিল্লা ৪ দেবিদ্বার আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল এমপি।

শনিবার (৬ মে) সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে ফিতা কেটে দলীয় অফিস উদ্বোধন শেষে দোয়া মোনাজাত করেন।

৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এর সভাপতি হাজী মোহাম্মদ আক্কাস আলী, সভাপতিত্বে এবং সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃআমির হোসেন আমু সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোস্তফা কামাল চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান হাজী আবুল কাশেম ওমানী, কুমিল্লা জেলা পরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সভানেএী শিরিন সুলতানা, উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি

আব্দুল মান্নান মোল্লা, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগ নেতা প্রভাষক সাইফুল ইসলাম শামীম, ৪নং সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি
মোঃ রমিজ উদ্দিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েল সহ আরো অনেকে প্রমূখ।

অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন মেসি, যা বললেন পিএসজিকে

 

স্পোর্টস ডেস্কঃ

সৌদি আরব সফরে গেছেন আর্জেন্টাইন সুপার স্টার লিওনেল মেসি। অনুমতি না নেওয়ায় নিজ ক্লাব পিএসজিতে দুই সপ্তাহের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন তিনি। প্যারিসের ক্লাবটির সমর্থকরা বিক্ষোভও করেছেন তার বিরুদ্ধে। কেউ কেউ তার এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন। ফলে প্যারিসের জায়ান্ট ক্লাবটির সঙ্গে মেসির সম্পর্ক এখন শীতল।

গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, মেসির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়াবে না পিএসজি। নিষেধাজ্ঞা পেয়ে মেসিও আর থাকবেন না প্যারিসের জায়ান্ট ক্লাবটিতে। সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন বিশ্বকাপজয়ী এ মেগাস্টার। এ তো কিছু হয়ে গেলেও চুপ ছিলেন মেসি। অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন তিনি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে চাইলেন ক্ষমাও।

অনুতপ্ত মেসি এক ভিডিওবার্তায় বলেন, প্রথমত আমি আমার ক্লাব ও সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি সত্যিই ভেবেছিলাম, ম্যাচশেষে আমরা একদিন ছুটি পাব; যেমনটি সবসময়ই হয়ে থাকে। আমার সৌদি আরব সফর আগেই ঠিক করা ছিল। সফর বাতিল করার কোনো উপায় ছিল না। এর আগে অবশ্য একবার বাতিল করতে হয়। আমি যা করেছি তার জন্য আরও একবার ক্ষমা চাই। ক্লাব কী করতে চায় সেই অপেক্ষায় আছি।

Leo Messi statement ??? #Messi

“I thought we were going to have a day off after the game as always. I had this trip organized and I couldn’t cancel it. I had already canceled it before…”.

“I apologize to my teammates and I’m waiting for what the club wants to do with me”. pic.twitter.com/GBuarEgwSl

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১৯ বস্তা টাকা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ঐতিহাসিক মসজিদটির নাম পাগলা মসজিদ। কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এ মসজিদে আটটি লোহার দানবাক্স আছে। প্রতি তিন মাস পর পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবার রমজানের কারণে চার মাস পর দানবাক্সগুলো খোলা হয়েছে।

শনিবার (৬ মে) সকালে আট দানবাক্স থেকে ১৯ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। মিলেছে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও। এখন চলছে গণনার কাজ।

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এটিএম ফরহাদ চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ৭ জানুয়ারি ৩ মাস ১ দিন পর দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ২০টি বস্তায় তখন রেকর্ড ৪ কোটি ১৮ লাখ ১৬ হাজার ৭৪৪ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গিয়েছিল।

মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮টার দিকে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি দান দানবাক্স খোলা হয়েছে। দান বাক্সগুলো খুলে ১৯টি বস্তায় ভরে টাকাগুলো মসজিদের দোতলায় আনা হয়েছে গণনার জন্য। এখন চলছে টাকা গণনার কাজ।

টাকা গণনার কাজে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মহুয়া মমতাজ, সিনিয়র সহাকরী কমিশনার শেখ জাবের আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার মোছা. নাবিলা ফেরদৌস, সাদিয়া আফরীন তারিন, মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান ও রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রফিকুল ইসলাম, সিবিএ নেতা মো. আনোয়ার পারভেজসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং মসজিদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।

মসজিদের খতিব, এলাকাবাসী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকজন সূত্রে জানা যায়, এ মসজিদে মানত করলে মনের আশা পূর্ণ হয়। এমন ধারণা থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এ মসজিদে দান করে থাকেন।

জনশ্রুতি আছে, একসময় এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বাস ছিল কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদের মধ্যবর্তী স্থানে জেগে ওঠা উঁচু টিলাকৃতির স্থানটিতে। মুসলিম-হিন্দু নির্বিশেষে সব ধর্মের লোকজনের যাতায়াত ছিল ওই সাধকের আস্তানায়। পাগল সাধকের দেহাবসানের পর তার উপাসনালয়টিকে কামেল পাগল পীরের মসজিদ হিসেবে ব্যবহার শুরু করে এলাকাবাসী।

কিন্তু ওই সাধকের দেহাবসানের পর থেকে আশ্চর্যজনকভাবে এলাকা এমনকি দেশের দূর-দূরান্তের লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। মানত কিংবা দান খয়রাত করলে মনোবাসনা পূরণ হয় এমন বিশ্বাস থেকে বিভিন্ন বয়সের হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের নারী-পুরুষ মানত নিয়ে আসেন এ মসজিদে। তারা নগদ টাকা-পয়সা, স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি এমনকি বৈদেশিক মুদ্রাও দান করেন।

বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ মসজিদে মানত নিয়ে আসা বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষের ঢল নামে। আগতদের মধ্যে মুসলিমদের অধিকাংশই জুমার নামাজ আদায় করেন মসজিদে। আর এ ইতিহাস প্রায় আড়াইশ বছরেরও অধিক সময়ের বলে জানা যায়।

বর্তমানে কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে মাত্র ১০ শতাংশ জমির ওপর মসজিদটি গড়ে উঠলেও বর্তমানে মসজিদ কমপ্লেক্সটি ৩ একর ৮৮ শতাংশ জায়গা আছে। এ মসজিদের পরিধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে এর খ্যাতি ও ঐতিহাসিক মূল্য।

এরই মধ্যে দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স নামকরণ করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদের আয় থেকে বিভিন্ন সেবামূলক খাতে অর্থ সাহায্য করা হয়।

মসজিদের দান থেকে পাওয়া এসব অর্থ সংশ্লিষ্ট মসজিদসহ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও এতিমখানার পাশাপাশি বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়। এছাড়া করোনাকালে রোগীদের সেবায় নিয়োজিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবককেও অনুদান দেওয়া হয়েছিল এ দানের টাকা থেকে।

পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানিয়েছে, ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। যার নামকরণ হবে ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’। এটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। সেখানে ৬০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

১০ দিনে তিন খুন, হঠাৎ করেই অস্থিতিশীল দাউদকান্দি

 

জাকির হোসেন হাজারীঃ

হঠাৎ করেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা। ১০ দিনের ব্যবধানে উপজেলার পৃথক স্থানে ৩টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যে উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের খোশকান্দি গ্রামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিন ইউনিয়নের বাসরা গ্রামে বরখাস্তকৃত পুলিশ কনস্টেবলের বাড়িতে হামলা করে কুপিয়ে হত্যা এবং গৌরীপুর বাজারে বোরকা পরা দুবৃত্তের গুলিতে নিহত হন স্থানীয় যুবলীগ নেতা। এসব হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করেছে। একের পর এক হত্যার ঘটনায় উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর নিহত জামাল ও বাধনের নামে ৭/৮টি করে মামলা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের খোশকান্দি গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রেজাউল (২৯) নামে এক যুবককে পিটিয়ে আহত করে পাশের বাড়ির লোকজন। আহত অবস্থায় দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গৌরীপুরে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রেজাউল ওই গ্রামের সাইজুদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছেন।

এর রেশ কাটতে না কাটতেই বাড়িতে হামলা করে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বাধন নামে বরখাস্তকৃত এক পুলিশ কনস্টেবলকে। গত ২৩ এপ্রিল অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের পরদিন ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের বাশরা গ্রামে এ হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটে। ওইদিন সকালে বাশরা গ্রামের নুরু মিয়ার বাড়িতে হামলা করে বাধন ও তার লোকজন। হামলায় ওই বাড়ির ছেলে হাছান আহত হয়। এই ঘটনার জেরে বেলা সাড়ে ১১টায় এলাকার লোকজন বাধনের বাড়িতে হামলা করে। হামলাকারীরা তার ঘরের দরজা জানালা ভেঙে তার ঘরে প্রবেশ করে। রামদা লাঠিসোটা দেখে ভয়ে বাধন বাচার জন্য পাশের রফিকুল ইসলামের দালানের একটি রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। হামলাকারীর দল রুমের দরজা ভেঙে বাধনকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দালানের প্রধান ফটকের সামনে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে তাকে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ আহত বাধন ও তার মা এবং ভাই সুমনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গৌরীপুরে নিয়ে গেলে আশংকাজনক অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। সেখানে নেয়ার পর বাধন মারা যায়।

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল এবং বাধনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের ৭টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত বাধনের মা রোকেয়া বেগম ৬৯ জনের নাম উল্লেখ কওে অজ্ঞাত ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মামলার আসামি বাশরা গ্রামের জোহর আলীর ছেলে জসিম মির্জা, বাদশা মিয়ার ছেলে আব্দুল বাতেন ও মৃত আবুল কালামের ছেলে ইব্রাহিম ওরফে গেনাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। তাদেরকে আদালতে পাঠানোর পর পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত মঙ্গলবার (২ মে) ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এরপর ৩০ এপ্রিল রাত পৌনে ৮ টায় গৌরীপুর বাজারে বোরকা পরা তিন দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক জামাল হোসেন (৪০)। আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে যুবলীগ নেতা জামাল হোসেনের সাথে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল এলাকার একাধিক গ্রুপের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত জিয়ারকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেনের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে জামালের উত্থান ঘটে। গৌরীপুর বাজারের নিয়ন্ত্রণ ছিল নিহত মনির চেয়ারম্যানের হাতে। তিনি মারা যাওয়ার পর তার অনুসারীরা দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। এক গ্রুপ অপর গ্রুপকে প্রতিহত করতে নানা কৌশলে মরিয়া হয়ে ওঠে। জামাল এবং তার ভাই কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এসব বিষয়গুলো খতিয়ে দেখলে হত্যাকান্ডের নেপথ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করছে এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের ধারণা দুটি গ্রুপের চলমান বিভেদ এবং আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এদিকে কিছুদিন পূর্র্বে গৌরীপুর বাজারে জামাল এবং তার ভাই কামাল মাদক সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ করছে এমন দাবি করে তাদেরকে গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করেছিল স্থানীয় একটি গ্রুপ। মানববন্ধনে তাদের প্রতিহতের ঘোষণা দেওয়া হয়। তাদের এই দ্বন্দ্ব খতিয়ে দেখলে হত্যাকান্ডের নেপথ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তা ছাড়া তিতাসের চলমান রাজনৈতিক বিরোধও এই হত্যাকান্ডের কারণ হতে পারে বলে স্থানীয়রা জানান। জামাল হত্যার দু’দিন পর তার স্ত্রী পপি আক্তার ৯ জনের নাম উল্লোখ করে এবং অজ্ঞাত ৮জনের নামে মামলা করেছেন।

এসব হত্যাকান্ডের ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পুলিশ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে বাশরা গ্রামের বাধন খুনের মামলায় ৩ জন ও খোসকান্দি গ্রামের রেজাউল খুনের মামলায় ২ জন রয়েছেন। পাঁচ দিনেও যুবলীগ নেতা জামাল হত্যা মামলার কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে হঠাৎ করেই একের পর এক হত্যাকান্ডে বর্তমানে এই উপজেলাটি কিছুটা অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। দশ দিনের ব্যবধানে উপজেলায় ৩টি খুনের ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আলমগীর ভূঞা জানান, প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে দাউদকান্দিতে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত মোট ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর জামাল হত্যার ঘটনা নিয়ে পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডিসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সবগুলো টিম কাজ করছে।

তিনি বলেন, মামলাগুলোর বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিরপরাধ কেউ যেন মামলায় জড়িয়ে না যান সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব হত্যার ঘটনায় মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নামাজের কাতারে দাঁড়ানো নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে জুমার নামাজের কাতারে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সিজল মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৫ মে) জুমার নামাজের সময় পৌর এলাকার আলমনগরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সিজল মিয়া ওই এলাকার মৃত মমতাজ মিয়ার ছেলে।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুদ্দিন আনোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, একই এলাকার শাহ আলম ও সিজল মিয়ার মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল। আজ জুমার নামাজের সময় কাতারে দাঁড়ানো নিয়ে উভয়ের কথা-কাটাকাটি হয়। নামাজ শেষে মসজিদের বাইরে এসে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন এতে জড়িয়ে পড়েন। এসময় কিল-ঘুসিতে সিজল মিয়া নিহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো যাবে।

কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ১০ মাস পর মর্গে থাকা অশনাক্ত ৮ মরদেহ দাফন

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ১০ মাস পার হলেও হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকা আট মরদেহ নিতে কেউ আবেদন করেননি। একই সঙ্গে পরিচয় শনাক্তের যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও তাঁদের পরিচয় মেলেনি। ফলে গত ২০ এপ্রিল আদালতের অনুমতি নিয়ে নগরীর বাইশ মহল্লা কবরস্থানে মরদেহগুলো দাফন করেছে নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমেদ।

জানা গেছে, গত বছরের ৪ জুন রাতে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে নিহত ৫১ জনের মরদেহ উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সেখানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২৯টি মরদেহ নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে মর্গে থাকা ২২টি মরদেহের বেশির ভাগই দগ্ধ হয়ে যাওয়ায় চেহারা বিকৃত হওয়ায় তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তাঁদের স্বজনেরা কোনোভাবেই মরদেহগুলো শনাক্ত করতে পারেননি।

পরে গত বছরের ৭ জুন এসব মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য স্বজনদের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি। এতে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হওয়া ২২টি মরদেহ ফিরে পেতে ডিএনএ নমুনা দেন ৩৫ জন। নমুনা সংগ্রহের এক মাস পর আটটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত শেষে তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাকি থাকে আরও ১৪ জনের মরদেহ। পরবর্তীকালে গত বছরের অক্টোবরে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্তের পর আরও ছয় মরদেহ তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানান, বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় করা মামলা ও মর্গে থাকা মরদেহের পরিচয় শনাক্তের কাজ তদারকি করেন তৎকালীন সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক। তিনি মামলার তদন্তকাজ এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে পুড়ে অঙ্গার হওয়া পরিচয়বিহীন ২২ মরদেহের মধ্যে ১৪টি মরদেহ পরিচয় শনাক্ত করে তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে গত বছরের ২৯ অক্টোবর তিনি সীতাকুণ্ড থানা থেকে অন্যত্র বদলি হলে মামলাটি নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমেদ বলেন, মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর তাঁরা মর্গে পড়ে থাকা আটটি মরদেহের পরিচয় শনাক্তে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালান। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মর্গে পড়ে থাকা মরদেহগুলো ফিরে পেতে কোনো স্বজনেরা যোগাযোগ করেননি। সেই সঙ্গে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহসহ যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও মরদেহের পরিচয় শনাক্তে ব্যর্থ হন তাঁরা। পরে বেওয়ারিশ মরদেহগুলো দাফন করতে আদালতের শরণাপন্ন হন। এতে আদালত অনুমতি দিলে গত ২০ এপ্রিল চট্টগ্রাম নগরীর বাইশ মহল্লা মসজিদে দাফন করা হয়।

ওসি আরও বলেন, আদালতের অনুমতি নিয়ে বেওয়ারিশ মরদেহগুলো তাঁরা কবর দিয়েছেন এবং সেই স্থানটিকে চিহ্নিত করে রেখেছেন। তবে কোনো স্বজন যদি মরদেহ ফিরে পাওয়াà¦