All posts by jitu

বুড়িচং সীমান্তে মাদক সেবনের সময় যুবদল নেতাসহ আটক ৬

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনের সময় যুবদল নেতাসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোববার রাতে বুড়িচং থানার ওসি লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ১ নম্বর কালীর বাজার (উত্তর) ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় অভিযান শেষে ফেরার পথে বুড়িচংয়ের বাকশিমুল রেলগেটে অবস্থান করছিল পুলিশ। এ সময় সীমান্ত এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মাদক সেবন করে বুড়িচংয়ের দিকে যাওয়ার সময় চালকসহ ছয়জনকে আটক করা হয়। তাদের সবাইকে মাতাল অবস্থায় পাওয়া যায়।

পরে বুড়িচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাবলিহা আনবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। আদালত তিনজনকে ১২ দিন এবং অপর তিনজনকে ৮ দিন করে কারাদণ্ড দেন।

আটককৃত অন্যরা হলেন- কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার মনশাসন এলাকার আব্দুল সেলিম ভূঁইয়ার ছেলে আরিফ হোসেন, আবুল কাশেমের ছেলে সুলাইমান, নুর ইসলামের ছেলে মনির হোসেন, আব্দুল খালেকের ছেলে রবিউল আলম ও সুরুজ মিয়ার ছেলে মোতালেব।

বুড়িচং থানার ওসি লুৎফর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকায় একটি অভিযান শেষে ফেরার পথে বাকশিমুল রেলগেটে অবস্থান করি। এ সময় সীমান্ত এলাকা থেকে সিএনজিতে করে মাদক সেবন করে বুড়িচংয়ের দিকে যাওয়ার সময় চালকসহ ছয়জনকে আটক করা হয়। তাদের সবাইকে মাতাল অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে বুড়িচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাবলিহা আনবার তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন।

কুমিল্লায় স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, স্বামী পলাতক

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার মুরাদনগরে পারিবারিক কলহের জেরে আর্জুনা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী জামাল শিকদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর থেকে জামাল শিকদার পলাতক রয়েছেন।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ১০ বছর আগে পার্শ্ববর্তী দেবীদ্বার উপজেলার রাজামেহের এলাকা থেকে এসে পাহাড়পুর গ্রামে বসতি গড়ে তোলেন জামাল শিকদার ও আর্জুনা বেগম। বর্তমানে জামাল শিকদার পাহাড়পুর এলাকার বিসমিল্লাহ ফিশারি প্রজেক্টে কর্মরত। তাদের সংসারে ১৪ বছর বয়সী একটি মেয়ে ও ১০ বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ১০ বছর বয়সী ছেলে ইয়াসিনের সামনেই ‘দা’ দিয়ে আর্জুনা বেগমকে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানান। ঘটনার পর জামাল শিকদার পালিয়ে যান।

পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুস ছামাদ মাঝি জানান, খবর পেয়ে তিনি ওই বাড়িতে গিয়ে ঘরের দরজার কাছে রক্তাক্ত অবস্থায় আর্জুনা বেগমকে পড়ে থাকতে দেখেন। মাকে কোপানোর সময় নিহতের ছেলে ইয়াসিন ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে তিনি জানান।

মুরাদনগর থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানায়, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী জামাল শিকদার পলাতক রয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লায় পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

কুমিল্লায় পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লায় পরকীয়ার জেরে হাসি বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে।

রবিবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া গ্রামে (দাইয়ার বাড়িতে) এই ঘটনা ঘটে।

নিহত হাসি বেগম ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোপালনগর গ্রামের মৃত. আবদুল খালেক ভূঁইয়ার মেয়ে।

এ ঘটনায় স্বামী মোসলেহ উদ্দিনকে (৪৫) আটক করেছে পুলিশ। সে ওই গ্রামের মৃত. রেনু মিয়ার ছেলে।

তিনি দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে কুয়েতে ছিলেন। ছয় মাস আগে দেশে আসেন। এই দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। তারা হলেন সাইমন হোসেন (১৯) ও খাদিজা আক্তার (১৬)। সাইমন ঢাকার মিরপুরে থেকে জাপানি ভাষা শিখছেন আর খাদিজা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

নিহতের পরিবারের দাবি, পরকীয়ার জের ও পারিবারিক কলহে প্রায়ই হাসি বেগমের ওপর নির্যাতন চালাতেন মোসলেহ উদ্দিন। ছেলে-মেয়ে ও প্রতিবেশীরা বাধা দিলেও তিনি শুনতেন না। এসব ঘটনায় কয়েক দফা বিচার-সালিস হয়েছে। ঘটনার দিন দুপুরে হাসি বেগমকে বেদম মারধর করে মোসলেহ উদ্দিন। মেয়ে খাদিজা আক্তার স্কুল থেকে এসে তার মাকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। পরে স্থানীয়রা হাসি বেগমকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত হাসি বেগমের মেয়ে খাদিজা আক্তার বলে, ‘আমার বাবা-মা প্রায়ই ঝগড়া করত। বাবা মাকে মারধর করতেন, আমরা বাধা দিলেও তিনি শুনতেন না। আজকে আমি স্কুল থেকে এসে দেখি মা ঘরে পড়ে আছেন। ঘরের আসবাবপত্র ওলটপালট হয়ে আছে। মায়ের ঠোঁট ও মুখে রক্তের দাগ। মা মারা যাওয়ার আগে আমাকে বলেছেন, আমারে খালি ঘরে পেয়ে তোর বাবা মারছে, আমি মরে গেলে তোর নানার বাড়িতে আমারে দাফন করবি। এরপর আর কিছু বলতে পারেনি।

হাসি বেগমের ছেলে সায়মন হোসেন বলে, ‘প্রতিবেশী কুলসুম বেগমের সঙ্গে আমার বাবার পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। এ নিয়ে ঘরে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। কুলসুম বেগম যা বলে আমার বাবা ঘরে এসে তা-ই করে। এই কুলসুম বেগমের সঙ্গে পরকীয়ার কারণে মা বাধা দেওয়ায় মাকে মারধর করছে। আমি ঢাকায় থাকি। দুপুরে মা আমাকে ফোন করে মারধরের কথা জানালে আমি আমার এক বন্ধুকে বাড়িতে পাঠাই, সে এসে আমাকে জানায়, মাকে নাকি হাসপাতালে নিয়ে গেছে। আমি আসতে আসতে আমার মা মারা যান।’

অভিযুক্ত স্বামী মোসলেহ উদ্দিন বলেন, ‘দুপুরে আমার গায়ের গেঞ্জি টেনে ছিঁড়ে ফেলায় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই একটা চড়-থাপ্পড় দিয়েছি এটা সত্য কিন্তু এই চড়-থাপ্পড়ে তো আমার স্ত্রী মারা যাওয়ার কথা না। আমার এই মারধরে যদি আমার স্ত্রী মারা যায় ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যদি এমন তথ্য আসে, তাহলে আমার যে শাস্তি হয় আমি মাথা পেতে নেব।’

পরকীয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘পুরো গ্রামে খবর নেন, আমার কারো সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক আছে কি না। আমি ছয় মাস আগে কুয়েত থেকে এসেছি। আমি ৩৩ বছর কুয়েতে ছিলাম। পরকীয়ার অভিযোগ মিথ্যা।’

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিক রিপোর্টে নিহত হাসি বেগমের চোখের কোনায় ও গায়ে কিছু মারধরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। নিহতের স্বামী মোসলেহ উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৬৫.৪২ শতাংশ, ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে মেয়েরা

স্টাফ রিপোর্টার:

এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। গড় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে তিনটি বিভাগেই ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা। এবার এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৯ হাজার ৮১৪ জন শিক্ষার্থী।

গত বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৯০২ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কিছুটা বাড়লেও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম।

ফলাফল বিবরণীতে জানা গেছে, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ছয় জেলার ১ হাজার ৮২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৭ হাজার ২০৩ জন ছেলে এবং ৫৮ হাজার ১৯৬ জন মেয়ে।

মেয়েদের গড় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ছেলেদের ৬৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারেও মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েদের আধিপত্য দেখা গেছে। এবার ৫ হাজার ৮৪৮ জন মেয়ে শিক্ষার্থী এবং ৩ হাজার ৯৬৬ জন ছেলে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে এগিয়ে বিজ্ঞান

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে ভালো করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৮২ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর মধ্যে ছেলেদের পাসের হার ৮১ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং মেয়েদের ৮৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

মানবিক বিভাগে পাসের হার ৫০ দশমিক ৬১ শতাংশ। এ বিভাগে ছেলেদের পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং মেয়েদের ৫২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

অন্যদিকে বাণিজ্য বিভাগে পাসের হার ৫৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ বিভাগে ছেলেদের পাসের হার ৫২ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং মেয়েদের ৬৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।

এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৪টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২২টি।

ফলাফল ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বোর্ডের সচিব প্রফেসর মো. জাহাঙ্গীর আলম, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোসা. পাপিয়া আক্তারসহ বোর্ডের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

কুমিল্লার দেবিদ্বারে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিছিল করানো সেই যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

কুমিল্লার দেবিদ্বারে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিছিল করানো সেই যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল করার অভিযোগে যুবলীগ নেতা সাদ্দাম মুন্সীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার ছোটশালঘর এলাকায় নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার সাদ্দাম মুন্সী (৩৪) বড়শালঘর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি ছোটশালঘর এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবিরের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে ছোটশালঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষে একটি মিছিল বের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই মিছিলের আয়োজন ও নেতৃত্বে ছিলেন সাদ্দাম মুন্সী। পরে মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনার পর থেকে সাদ্দাম আত্মগোপনে ছিলেন।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে দেবিদ্বার থানা পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দাম মুন্সী নাশকতার একটি মামলাসহ আরও চারটি মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি ইউসুফপুর এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের একটি মিছিলে সাদ্দাম মুন্সীর অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কোমলমতি শিশুদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক দলের মিছিল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর তিনি এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন হত্যায় মামলা, পাওয়া গেছে পা-মাথা

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন নামের এক বাড়ির মালিককে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। শনিবার রাতে নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় মামলা করেন।

রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে একটি ডোবা থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের মাথা ও দুই পায়ের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সকালে একটি ড্রামের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় দুটি পলিথিন ব্যাগে দেহের আরো কিছু খণ্ড উদ্ধার করে স্থানীয় বাসিন্দারা।

মামলার আসামিরা হলেন, দেবিদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের মো. আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী লাইলী আক্তার, পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে মো. আমির হোসেন একই গ্রামের মৃত ফারুক মিয়ার ছেলে মো. সোহেল রানা, মৃত লিলু মিয়ার ছেলে মো. রবিউল ইসলাম।

মামলার ১ নম্বর আসামি লাইলী আক্তারকে বিক্ষুব্ধ জনতা শনিবার সন্ধ্যায় আটক করে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে লাইলী। রবিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, রবিবার সকালে নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের মরদেহের আরো কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিকেলে মাথা ওপায়ের অংশ উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরো জানায়, এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া (সার্কেল) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন জানান, লাইলী আক্তার ২০২১ সালে শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সে কয়েক মাস আগে কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া পায়। এরপর বিভিন্ন জায়গা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। প্রায় ১২ দিন আগে এই বাসায় ভাড়ায় ওঠেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ির মালিকের স্বর্ণালংকারের লোভে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো কয়েকজনের নাম পেয়েছি, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

দাউদকান্দিতে আ’লীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা দাউদকান্দিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা-পুলিশ।

আজ রবিবার (৯ আগস্ট) ভোর রাতে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত আড়াইটার দিকে সুন্দলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের সুন্দলপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়ালীউল্লাহ প্রধানকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়। একই রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অন্য এক অভিযানে বিটেশ্বর এলাকা থেকে শিশু ধর্ষণ (বলাৎকার) মামলার আসামি এবং পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদের ইমাম মো. আব্দুর রহমানকে (৬৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ছাড়া পৃথক অভিযানে সবজিকান্দি এলাকা থেকে ডাকাতি মামলার আসামি মো. ইমরান হোসেন এবং মালীগাঁও এলাকা থেকে সিআর/জিআর পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামি মো. হযরত আলী (৫৩) ও মো. নাঈম মিয়াকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

কুমিল্লায় অটোরিকশা ও মিশুক লাইসেন্সের আবেদন শুরু, করবেন যেভাবে

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) এলাকায় মিশুক ও অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে লাইসেন্স দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজ রোববার (৯ আগস্ট) থেকে অনলাইনে এসব যানবাহনের মালিকানা ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাচ্ছে। আবেদন করা যাবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিটি আবেদনের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা।

কুসিক প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুর স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অটো ও মিশুকের মালিকানা লাইসেন্স এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার সব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

আবেদনের সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) কপি, সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি, নাগরিক সনদ এবং অটো বা মিশুক কেনার বৈধ রসিদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনলাইনে আপলোড করতে হবে। প্রতিটি আবেদনের জন্য ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতিতে ফি পরিশোধ করতে হবে।

আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। একজন ব্যক্তি বা একটি পরিবার থেকে সর্বোচ্চ একটি মালিকানা বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে। একাধিক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ নেওয়া চালকদের মধ্য থেকে যারা ড্রাইভিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন, তাদের লাইসেন্স দেওয়া হবে। আবেদনকারীদের জমা দেওয়া কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই করা হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লাইসেন্সের মেয়াদ হবে এক বছর। পরে প্রতিবছর তা নবায়ন করতে হবে। সরকার সময়ে সময়ে জারি করা সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান ও নির্দেশনাও প্রযোজ্য হবে।

নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলে আবেদন বাতিলের পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদন করা যাবে https://cocceasybike.gov.bd ওয়েবসাইটে। অনলাইন পোর্টালটিতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অটোরিকশা লাইসেন্স ব্যবস্থাপনা সিস্টেম চালু রয়েছে।

কুমিল্লা নগরীতে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা নগরীর ঝাউতলা এলাকার মক্কা হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক মা। জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে একটি নবজাতক জীবিত রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সূচিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও সৌদি আরবপ্রবাসী তারেকুল ইসলাম তারেকের স্ত্রী কুমিল্লার মক্কা হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকদের মধ্যে দুই ছেলে ও তিন মেয়ে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, জন্মের পরপরই পাঁচ নবজাতকের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল।

চিকিৎসকেরা জানায়, ছয় মাসে জন্ম নেওয়ায় তাদের নিবিড় ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। তবে ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করা পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে।

এর মধ্যে একে একে চার নবজাতকের মৃত্যু হয়। বর্তমানে জীবিত নবজাতকটির চিকিৎসা চলছে। আর্থিক সংকটের কারণে তার উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া নিয়েও উদ্বিগ্ন পরিবার।

শিশুটিকে বাঁচাতে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবারটি। একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্মের ঘটনা কুমিল্লায় বিরল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শেখ হাসিনার সঙ্গে কুমিল্লার এক নারী শিক্ষকের ফোনালাপের ভিডিও ভাইরাল

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার এক নারী শিক্ষকের সঙ্গে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জুমে কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের সাঙ্গিশ্বর হাইস্কুলের শিক্ষক মাছুমা হোসেনকে শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়।

রোববার (৯ আগস্ট) ৯ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জানা যায়, গত ১ আগস্ট রাত ৯টায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে দায়মুক্ত লাইভ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন এই শিক্ষিকা।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, জুমে ওই নারী শিক্ষকের সঙ্গে তার স্বামী গোলাম সারওয়ার মিজানও ছিলেন। দুজনে আলাদাভাবে কথা বলেন। আরেকটি ফ্রেমে একজন পুরুষকে হোস্টের ভূমিকায় দেখা যায়। একাংশে শেখ হাসিনার কণ্ঠসদৃশ কথা শোনা যায়। তবে ওই অংশে কারও চেহারা দৃশ্যমান ছিল না। শুধু ইংরেজিতে শেখ হাসিনা লেখা ভাসমান ছিল।

ভিডিওতে নারী শিক্ষক মাছুমা হোসেনকে নিজের কর্মস্থল ও পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘মরা নিয়ে মৃত্যু ভয় পাই না। ওখানে আমার জবপ্লেস।’

ইংরেজিতে শেখ হাসিনা লেখা ফ্রেমের অংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে নারী শিক্ষক মাছুমা হোসেনের ফোনে কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরে তার কর্মস্থল সাঙ্গিশ্বর হাইস্কুলে যোগাযোগ করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জানান, ‘তিনি (মাছুমা হোসেন) সাত দিনের ছুটির একটি দরখাস্ত দিয়ে গেছেন। তবে ছুটি এখনও মঞ্জুর হয়নি। যেহেতু তিনি স্কুলে অনুপস্থিত রয়েছেন, তাই বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সাঙ্গিশ্বর হাইস্কুলের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন জানায়, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম মীর হোসেন জানান, ওই শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া। পরে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।