All posts by jitu

চাঁদপুরে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শন: সিভিল সার্জনকে উত্তরবঙ্গে বদলীর নির্দেশ

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুরে হঠাৎ পরিদর্শনে এসে স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্বে অবহেলা ও ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। এ সময় চাঁদপুরের সিভিল সার্জনকে বদলির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে আকস্মিকভাবে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পূর্বঘোষণা ছাড়াই হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় চাঁদপুরের সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালনের বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তাকে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চাঁদপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মাহমুদুননবি মাসুমসহ অন্যরা।

জিএম হোল্ডিংস-চায়না রেলওয়ের সমঝোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে আবাসন, শিল্প-প্রযুক্তি পার্ক ও আতিথেয়তা খাতে যৌথভাবে বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের (সিআরএফজি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে জিএম হোল্ডিংস লিমিটেড (জিএমএইচএল)।

গত ৬ আগস্ট ২০২৬ রাজধানীর বনানীতে দেশবন্ধু গ্রুপের করপোরেট কার্যালয়ে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও পর্যটন অবকাঠামোসহ একাধিক বৃহৎ প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজে চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট গ্রুপ (সিআরএফজি) প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। শিগগিরই প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় প্রাথমিকভাবে ছয়টি প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকার উত্তরার দক্ষিণখানে ১৫০/১, আইনুচবাগ এলাকায় ‘দক্ষিণা’ নামে একটি আবাসিক কনডোমিনিয়াম প্রকল্প রয়েছে।

এ ছাড়া বগুড়ায় ‘দেশবন্ধু সিটি-০১’ নামে একটি মিশ্র উন্নয়ন প্রকল্প গড়ে তোলা হবে। এতে বিপণিবিতান, করপোরেট কার্যালয় ভবন ও হোটেল ভবন থাকবে।

রংপুরে ‘দেশবন্ধু সিটি-০২’ নামে আরেকটি মিশ্র উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিপণিবিতান, করপোরেট কার্যালয় ভবন, হোটেল ভবনসহ আধুনিক বিভিন্ন সুবিধা থাকবে।

ঢাকার পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এক্সপ্রেসওয়ের পাশে মাস্তুল মৌজায় নির্মিত হবে ‘দেশবন্ধু সেন্টার পয়েন্ট’। এটি হবে একটি সমন্বিত মিশ্র উন্নয়ন প্রকল্প। এখানে বিপণিবিতান, করপোরেট কার্যালয় ভবন, হোটেল এবং আবাসিক কনডোমিনিয়াম থাকবে।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে স্থাপন করা হবে ‘দেশবন্ধু হাইটেক পার্ক’। শিল্পভিত্তিক এ প্রযুক্তি পার্কে শিল্প ভবন, প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা কার্যালয়, শিল্প সহায়ক অবকাঠামো এবং আধুনিক শিল্প সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

সমঝোতার আওতায় আরও একটি মিশ্র উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে আবাসিক, বাণিজ্যিক, হোটেল ও অবকাশযাপন কেন্দ্রের সুবিধা থাকবে।

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জিএম হোল্ডিংস লিমিটেডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম.কে.এ. শাহিনুর রহমান জাহিদ এবং চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট গ্রুপের পক্ষে ব্যবসা ব্যবস্থাপক ফাং ওয়ানকুন (ড্যানিয়েল) নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট গ্রুপের বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উইলিয়াম ওয়াং, বিপণন ব্যবস্থাপক তিয়ান ইউ, উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক লি চেন, অ্যারেনা ফর গ্লোবাল এনগেজমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান সৈয়দ ইকবাল রিজভী, প্রতিষ্ঠানটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন এবং জিএম হোল্ডিংস লিমিটেডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমঝোতা বাংলাদেশের আধুনিক নগরায়ণ, শিল্পায়ন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই প্রবৃদ্ধিতে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

দেশবন্ধু গ্রুপ জানিয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রকল্পে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যমান চিনি, পানীয়, পলিমার, প্যাকেজিং, সিমেন্ট ও বস্ত্রশিল্পের সম্প্রসারণের পাশাপাশি ইস্পাত, জুতা, এফআইবিসি, পিএসএফ-পিইটি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, পরিবেশবান্ধব ইট এবং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি খাতে নতুন শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে প্রত্যাশা করছে গ্রুপটি। এতে দেশবন্ধু গ্রুপের মোট কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারে উন্নীত হবে।

দেশবন্ধু গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জিএম হোল্ডিংস লিমিটেড বর্তমানে আবাসন, আতিথেয়তা, পর্যটন ও শিল্প খাতে বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে দক্ষিণখানে দক্ষিণা কনডোমিনিয়াম, ধানমন্ডিতে একটি বুটিক হোটেল, উত্তরখানে একটি পাঁচ তারকা রিসোর্ট, বগুড়ায় পাঁচ তারকা হোটেল ও বিপণিবিতান, রংপুরে একটি বিনোদন পার্ক এবং সিরাজগঞ্জে একটি শিল্পপার্ক উল্লেখযোগ্য। এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা ও উন্নয়নে জেএলএল, সিনোহাইড্রো ও হিলটনের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করছে।

অন্যদিকে, চায়না রেলওয়ে ফার্স্ট গ্রুপ (সিআরএফজি) চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেডের (সিআরইসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং ফরচুন গ্লোবাল ৫০০-এর অন্তর্ভুক্ত একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর অংশ। রেলপথ, মহাসড়ক, সেতু, সুড়ঙ্গ, নগর অবকাঠামো এবং বৃহৎ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নেও সিআরএফজির উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের অন্যতম বৃহৎ মেগা প্রকল্প পদ্মা রেল লিংক প্রকল্পে প্রতিষ্ঠানটি কৌশলগত ও নির্মাণ অংশীদার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

দেশবন্ধু গ্রুপের এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানিনির্ভরতা কমানো, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নকে উৎসাহিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখা।

দেবীদ্বারে বাড়ির মালিককে কুপিয়ে ৯ টুকরা, পলিথিনে মোড়ানো লাশ উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামের এক বাড়ির মালিককে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। হত্যার পর মরদেহ ৯ টুকরা করে পলিথিনে মুড়ে বাসার পেছনে ফেলে রাখা হয়।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক নারী ভাড়াটিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরের ‘পূর্বাশা আবাসিক এলাকার’ ভূঁইয়া হাউজে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফরিদা ইয়াসমিন ওই এলাকার মফিজুল ইসলামের স্ত্রী।

জানা গেছে, নিহত ফরিদা ইয়াসমিন গত প্রায় ৩০ বছর ধরে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। তার স্বামী চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন এবং দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন।

সম্প্রতি বাড়ির একটি ঘর লাইলী আক্তার নামের এক নারীর কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। শনিবার সকালে ফরিদার স্বামী বারবার ফোনে চেষ্টা করেও স্ত্রীকে না পেয়ে ছোট মেয়েকে বাড়িতে খোঁজ নিতে বলেন।

মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় বারান্দা ভেজা দেখতে পেয়ে স্বজনদের সন্দেহ হয়।

বিকেলের দিকে ফরিদার ভাগনে মামুন বাসার পেছনে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা সংক্ষুব্ধ হয়ে ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এতে তিনি ফরিদা ইয়াসমিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখে।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দেবীদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফরিদার খণ্ডিত লাশের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করে এবং লাইলী আক্তারকে থানায় নিয়ে যায়। লাইলী দেবীদ্বারের চাপানানগর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডে লাইলী আক্তার ছাড়াও তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ এবং রবিউল, সোহেল ও ইমন নামের আরো তিন যুবক জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ‘পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাথা ও পায়ের অংশ এখনো পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

দাউদকান্দিতে ১০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৩

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পুলিশের চেকপোস্টে একটি প্রাইভেটকার থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় গাড়িটির চালক পালিয়ে যায়। একই অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের এক সদস্য এবং দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ।

থানা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাত ৮টায় দাউদকান্দি মডেল থানার মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজার ঢাকামুখী লেনে চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এ সময় একটি প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে গাড়ি থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ইয়াবাসহ প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়। তবে গাড়ির চালক পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলামের নির্দেশনা ও নেতৃত্বে এসআই মোহাম্মদ রেজাউল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে থানা এলাকায় বিশেষ ডিউটি পালনকালে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

এদিকে, পৃথক অভিযানে দাউদকান্দি পৌরসভার উত্তর সতানন্দী এলাকা থেকে আবুল কালাম তানভীর ওরফে তাবরীজ (৩৮) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ তাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। তিনি দাউদকান্দি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে প্রেস রিলিজে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, রাত ৩টার দিকে সবজিকান্দি এলাকা থেকে জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি মো. সেলিম মিয়া (৫৪) এবং রাত ১২টা ৪০ মিনিটে পিপিয়াকান্দি এলাকা থেকে সিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও জব্দ করা প্রাইভেটকারের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

চৌদ্দগ্রামে বাবার বাড়ি থেকে ফেরার পথে ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাবার বাড়ি থেকে ফেরার পথে ট্রেনে কাটা পড়ে আয়েশা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের বেরলা গ্রামের সামছুল আলম মজুমদারের স্ত্রী।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯টায় উপজেলার গুণবতী রেলস্টেশনের কাছে সাতবাড়িয়া রোড ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুণবতী রেলস্টেশন মাস্টার মো. সাইফুল ইসলাম।

নিহত আয়েশা বেগমের মেয়ের স্বামী স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ মোতালেব জানায়, তার শাশুড়ি আয়েশা বেগম শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকালে গুণবতী গ্রামের বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। সেখান থেকে শনিবার সকাল ৯টায় নিজবাড়িতে ফেরার পথে গুণবতী রেলস্টেশনের সাতবাড়িয়া রোডের রেল ক্রসিং পার হওয়ার সময়ে দুটি ট্রেন দুই লেনে একই সময়ে ক্রসিং হচ্ছিল।

তিনি আরো জানান, চট্টগ্রামমুখী লেন ক্রস করলেও অসাবধনতাবশত ঢাকাগামী সুর্বণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি খেয়াল করেননি। এ সময় তিনি ওই ট্রেনের ধাক্কায় মাথায় আঘাত লেগে ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসি।

গুণবতী রেলস্টেশন মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানান, শনিবার সকালে ঢাকাগামী সুর্বণ এক্সপ্রেস গুণবতী রেলস্টেশন পার হওয়ার সময়ে স্টেশনের সন্নিকটে সাতবাড়িয়া রোড রেল ক্রসিংয়ে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই আয়েশা বেগম নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। পরে স্বজনরা এসে মরদেহ নিয়ে যায়।

লাকসাম জিআরপি থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানায়, এই বিষয়ে আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

কুমিল্লায় ৬৭ কেজি গাঁজাসহ আটক ১

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ৬৭ কেজি গাঁজাবাহী পিকআপ ভ্যানসহ ওহিদুর রহমানকে আটক করেছে র‍্যাব। ওহিদুর রহমান উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের শালুকিয়া গ্রামের বারেক মিয়ার ছেলে।

শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন।

স্থানীয় ও র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, ওহিদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ভারত থেকে সীমান্ত পেরিয়ে গাঁজা এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ ও বিক্রি করে আসছিলেন। শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৭-এর একটি দল উপজেলার আমানগণ্ডা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ৬৭ কেজি গাঁজাসহ পিকআপ ভ্যানটি জব্দ এবং ওহিদুরকে আটক করা হয়।

র‍্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওহিদুর রহমান মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের শেষে তাকে চৌদ্দগ্রাম থানায় হস্তান্তর করে র‍্যাব। শনিবার আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানায়, সীমান্তে মাদক পাচার ও কেনাবেচা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন জিরো টলারেন্স নীতি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এতিম শিশুদের শৈশবে আনন্দের রং ছড়াচ্ছে এবিজি ফাউন্ডেশন

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর জামিয়া মোহাম্মাদীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বসবাসরত প্রায় আড়াইশ শিশুর জীবনে আপন বলতে অনেকটাই সীমিত কয়েকটি বাক্স, একটি বিছানা আর ছোট্ট একটি ট্রাংক। পরিবারের সান্নিধ্য থেকে দূরে থাকা এসব শিশুর কাছে ছুটির দিনও অনেক সময় অন্য দিনের মতোই নিরানন্দ। স্বজনের ভালোবাসা ও পারিবারিক আনন্দের অভাব তাদের শৈশবকে করে তোলে নিঃসঙ্গ।

তবে সেই নিঃসঙ্গ জীবনে ভালোবাসা ও আনন্দের পরশ ছড়িয়ে দিচ্ছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর এসব শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে উন্নতমানের খাবার। পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি এই উদ্যোগ তাদের মনে জাগিয়ে তুলছে আপনজনের মতো যত্ন পাওয়ার অনুভূতি।

শুধু নিয়মিত খাবার বিতরণই নয়, নিজের বিশেষ দিনগুলোতেও সায়েম সোবহান আনভীর বেছে নেন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর পথ। জন্মদিনের মতো ব্যক্তিগত আনন্দের দিনেও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পরিবর্তে এতিম শিশুদের মুখে হাসি দেখাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।

মানবিক এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঢাকার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় জুমার নামাজের পর শিশুদের মাঝে বিশেষ খাবারের প্যাকেট ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই আয়োজন কেবল ক্ষুধা নিবারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিশুদের প্রতি সমাজের দায়বদ্ধতা ও সহমর্মিতার বার্তাও পৌঁছে দিচ্ছে।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় শুক্রবার তাদের কাছে একটু আলাদা। জুমার দিন এলেই তারা অপেক্ষা করে বিশেষ খাবারের জন্য। খাবার হাতে পাওয়ার পর তাদের চোখেমুখে দেখা যায় আনন্দ ও স্বস্তির ছাপ।

এক শিক্ষার্থী জানায়, অনেক এতিম শিশু দীর্ঘদিন পর ভালো খাবার খাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সবাই এতে আনন্দিত। আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে ওই শিক্ষার্থী বলেন, তিনি যেন সব সময় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুদের পাশে থাকতে পারেন—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল লতিফ ফারুকী এবিজি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের শুধু খাবারের চাহিদাই পূরণ করে না, তাদের মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। সমাজে এখনো অনেক সহমর্মী মানুষ আছেন—এমন একটি বিশ্বাসও শিশুদের মধ্যে তৈরি হয়।

তিনি বলেন, সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগে খাবার পেয়ে এতিম শিশুদের মুখে যে আনন্দের হাসি ফুটেছে, সেটি যেন আরও বিস্তৃত হয়। এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো আনুষ্ঠানিকতা কিংবা প্রচারের প্রত্যাশা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে নীরবে মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন সায়েম সোবহান আনভীর। তার উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, এবিজি ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সুন্দর ও কল্যাণমূলক। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় পরিসরে মানুষের পাশে দাঁড়াবে বলে তারা আশাবাদী।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগে নিয়মিত প্রতি শুক্রবার অন্তত ১ হাজার ৫০০ অসহায় মানুষ এবং ৫০০ এতিম শিশুর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এর পাশাপাশি পবিত্র রমজান মাসে সাহরি ও ইফতার বিতরণ, কোরবানির ঈদে মাংস বিতরণ, শীতবস্ত্র প্রদান এবং শিক্ষা সহায়তার মতো বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবিজি ফাউন্ডেশন।

ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও মানুষের পাশে থাকার এই কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেন সায়েম সোবহান আনভীর। নিজের বিভিন্ন বিশেষ দিনেও সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তিনি।

এবিজি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ গাজী বাদল বলেন, ‘এবিজি ফাউন্ডেশন একটি সামাজিক ও কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। প্রতি সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় আজও রাজধানীর চারটি মাদ্রাসায় এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসম্মত খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষ এবং এতিম ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত খাবার বিতরণ করা হয়। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

ব্যবসায়িক পরিচয়ের বাইরে সায়েম সোবহান আনভীরের আরেকটি পরিচয়—নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন দানশীল ব্যক্তি। তার মানবিক কর্মকাণ্ডের অনেকটাই প্রচারের আড়ালে থেকে যায়। যারা কাছ থেকে তার কর্মকাণ্ড দেখেছেন, তারাই জানেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য তার সহায়তার পরিধি কতটা বিস্তৃত।

মানুষের কল্যাণে ব্যক্তি উদ্যোগ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম—বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এই ধারাবাহিকতাই এবিজি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। আর সেই উদ্যোগে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে উঠছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখের এক টুকরো হাসি।

সৌদিতে নির্মাণকাজের সময় প্রাণ গেল কুমিল্লার যুবকের

ডেস্ক রিপোর্ট:

সৌদি আরবের দাম্মামে নির্মাণকাজ করার সময় ‘গ্রাইন্ডিং’ মেশিন ছিটকে বুকে আঘাত পেয়ে খাইরুল ইসলাম (২৬) নামে এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দাম্মামের একটি নির্মাণকাজের স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত খাইরুল ইসলাম ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ষাইটশালা পদুয়াপাড়া গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার ছেলে। পরিবারের অসচ্ছলতা দূর করার আশায় প্রায় সাড়ে চার বছর আগে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে দাম্মামের একটি নির্মাণকাজের স্থানে সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করছিলেন খাইরুল। কাজের একপর্যায়ে হঠাৎ একটি ‘গ্রাইন্ডিং’ মেশিন ছিটকে এসে তাঁর বুকে আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

পরে সহকর্মীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় খাইরুলকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

খাইরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে তাঁর পরিবার।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ২০ কিলোমিটার যানজট

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে সংস্কার কাজের শ্লথগতি এবং সাম্প্রতিক বর্ষণে তৈরি হওয়া খানাখন্দের কারণে গতকাল ভোর থেকে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ছুটির দিনে অতিরিক্ত গাড়ির চাপের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সড়কের বেহাল দশা, যার ফলে মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে আদর্শ সদর উপজেলার আমতলী এলাকা থেকে শুরু করে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানবাহনের চাকা থমকে গেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথেই আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দূরপাল্লার যাত্রী ও অ্যাম্বুলেন্সে থাকা অসুস্থ রোগী এবং পরিবহন শ্রমিকদের।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, যানজটের মূল কেন্দ্রবিন্দু কুমিল্লা সেনানিবাস সংলগ্ন আমতলী এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকদের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহের বর্ষণে এই অংশের পিচ-পাথর উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এই ভাঙা অংশ মেরামতের জন্য ঢাকামুখী লেনটি আংশিক বন্ধ রেখে এক লেনে উভয়মুখী গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করেছে। একটি মাত্র সরু লেন দিয়ে দুই দিকের গাড়ি পাস করাতে গিয়েই মূলত পেছনের দিকে যানবাহনের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করে যখন কিছু চালক দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে অধৈর্য হয়ে উল্টো পথ দিয়ে গাড়ি এগিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু করেন। এর ফলে যানজট মুহূর্তের মধ্যে চট্টগ্রামমুখী লেনেও ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

সাধারণ সময়ে ঢাকা থেকে কুমিল্লা রুটে যাতায়াতে যেখানে বড়জোর দুই ঘণ্টা সময় লাগে। গতকাল সেখানে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। দীর্ঘ এই অবরুদ্ধ অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নারী, শিশু এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য যাতায়াত করা অসুস্থ রোগীরা। বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সকে জ্যামের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকতে দেখা গেছে।

এছাড়াও হাজার হাজার গণপরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাক সড়কে আটকা পড়ে দাঁড়িয়ে থাকতেই দেখা যায়। প্রধান সড়ক এড়াতে অনেক চালক আঞ্চলিক ও বিকল্প সড়ক ব্যবহার করায় সেই সংযোগ সড়কগুলোতেও অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ছড়িয়ে পড়ে।

হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আমতলী অংশের এই বেহাল দশা এবং গত কয়েকদিনে গর্তে মালবাহী গাড়ি আটকে যাওয়ার কারণে সমস্যাটি প্রকট হয়েছে। যানজট পরিস্থিতি সামাল দিতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ও একাধিক মোবাইল টিম মোতায়েন করা হয়। পুলিশ সদস্যরা উল্টো পথের গাড়ি ঠেকানো এবং ধীরগতির গাড়িগুলোকে সচল রাখার চেষ্টা চালিয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানায়, আমতলী এলাকার সড়কের জ্যামিতিক গঠনের কারণে (রাস্তার দুই পাশ বা শোল্ডার মূল লেনের চেয়ে উঁচু হওয়ায়) বৃষ্টির পানি সহজে নামতে পারে না। ফলে সংস্কার কাজ করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং গাড়ির চাপ কিছুটা কমলে দ্রুত এই অস্থায়ী মেরামত সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

তনু হত্যা মামলায় সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর ফের গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে ফের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) কার কেরাণীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার কথা সংস্থাটির এক বার্তায় জানানো হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, হাফিজুর রহমান আদালতের আদেশ প্রতিপালন না করায় এবং একই আদেশে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকায় তাকে ফের ধরা হয়েছে। তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বার্তায় বলা হয়েছে।

গত রোববার হাই কোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথীকা হোসাইনের বেঞ্চ হাফিজুর রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

তারপরই রাষ্ট্রপক্ষ সংক্ষুব্ধ হয়ে আপিল বিভাগে গেলে বৃহস্পতিবার আদালত আসামির জামিন বাতিল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তিনি যদি আত্মসমর্পণ না করেন তবে তাকে গ্রেপ্তারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও নির্দেশ দেওয়া হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই নির্ধারিত সময় পেরোলেও আসামি হাফিজুর আত্মসমর্পণ করেননি। এর কয়েক ঘণ্টা বাদে তাকে গ্রেপ্তার করল পিবিআই। দীর্ঘ ১০ বছর পর চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাতে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বাসভবন থেকে তনু হত্যা মামলায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই।

পরদিন তাকে কুমিল্লা আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংস্থাটি সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে। পরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানায়, গ্রেপ্তারের পর হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে ডিএনএ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।