All posts by jitu

কুমিল্লা সদরে পিকআপ ভর্তি মাদকসহ একজন আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা সদরের দীঘিরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৪৫.৫ কেজি গাঁজা, ৩৯৪ বোতল ফেন্সিডিল ও ১৮৪ বোতল বিদেশী মদসহ কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী সাকিবকে আটক করেছে র‌্যাব-১১,সিপিসি-২ সদস্যরা। এ সময় মাদক পরিবহন কাজে ব্যবহৃত পিকআপ জব্দ করা হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ অক্টোবর সকালে র‌্যাব বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

আটক হওয়া মাদক ব্যবসায়ী হলেন কুমিল্লা সদরের দক্ষিণ রাচিয়া গ্রামের মোঃ দুলালের ছেলে মোঃ সাকিব (১৯)।

এ ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

স্বর্ণ ব্যবসার আড়ালে কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও, সাজাপ্রাপ্ত আসামী সঞ্জয় গ্রেপ্তার

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট বাজারে মেসার্স বণিক জুয়েলার্স নামে স্বর্ণ দোকান দিয়ে নারী ও পুরুষ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সেই সঞ্জয় বণিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ১ বছরের সাজা রয়েছে।

সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার বারইয়ারহাট বাজারের স্বর্ণপট্টি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি চৌদ্দগ্রাম পৌর এলাকার চান্দিশকরা গ্রামের মৃত করিমল সাহার পুত্র। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা।

জানা গেছে, পৌর এলাকার চান্দিশকরা গ্রামের সঞ্জয় বণিক মুন্সিরহাট বাজারে ‘মেসার্স বণিক জুয়েলার্স’ নামে একটি স্বর্ণ দোকান দিয়ে স্বর্ণ কেনা-বেচা করতো। এছাড়াও  স্বর্ণ বন্ধক রেখে নারী-পুরুষকে ঋণ দিয়ে মোটা অংকের সুদ আদায় করতো। করোনাকালিন সময়ে সঞ্জয় বণিক মানুষের লেনদেন শেষ না করেই কয়েক কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। তখন লোকমুখে শোনা যায়, সে ভারতে পালিয়ে গেছে। ভুক্তভোগীদের একজনের মামলায় আদালত সঞ্জয় বণিকের বিরুদ্ধে ১ বছরের সাজা ও ২০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমার নির্দেশে এসআই উগ্যজাই মারমার নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার গ্রেপ্তারের খবরে ভুক্তভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই উগ্যজাই মারমা বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামী সঞ্জয় বণিককে মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

সিনিয়র জুনিয়র দ্বন্দ্ব: কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে কলেজ ছাত্র খুন

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে কিশোর গ্যাং সদস্যদের ছুরিকাঘাতে এক কলেজ ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত রাকিব ও পলাশ নামে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত মো.জোবায়ের (১৮) বেগমগঞ্জ উপজেলার রাজগঞ্জ ইউনিয়নের আলাদিন নগরের কাজী বাড়ির কামাল উদ্দিনরে ছেলে এবং নোয়াখালীর সোনাপুর আইডিয়াল পলিটেকনিক্যালের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। তারা নোয়াখালী পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডের চন্দ্রপুর মহল্লার শাহাজাহানের বাসায় ভাড়া থাকত।

সোমবার (১০ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ২নম্বর ওয়ার্ডের চন্দ্রপুর মহল্লার শাহাজাহানের বাড়ির সামনে রাস্তার উপর এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আনোয়ার হোসেন বলেন, হত্যার ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদদ করা হচ্ছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে সোমবার সকালের দিকে জোবায়েরের সঙ্গে স্থানীয় রাকিব ও পিয়াসের ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে জোবায়েরের বন্ধু লাদেন মুঠোফোনে তাকে বাসা থেকে ডেকে নেয়। এরপর কিশোর গ্যাংয়ের ৮-১০জন সদস্য রাকিবের নেতৃত্বে জোবায়েরকে তার বাসার সামনে রাস্তায় বেধড়ক পিটিয়ে ছুরিকাঘাত করে। এতে জোবায়ের গুরুত্বর আহত হয়। পরে তাকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে প্রথমে মাইজদী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুমিল্লায় তার মৃত্যু হয়।

ওসি আরো জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হবে। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংবাদিক নেকবরের বড় ভাই রাজ্জাকের দাফন সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লা মহানগরীর ১৩নং ওয়ার্ড এর বাসিন্দা  সাংবাদিক নেকবর হোসেনের বড় ভাই আবদুর রাজ্জাক এর জানাযার নামাজ ৯ অক্টোবর বাদ আছর চর্থা হোচ্ছামিয়া লুৎফুন্নেছা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত জানাযার নামাজে কুমিল্লা-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ও মহানগর আওয়ামীলীগের  সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আকম বাহাউদ্দিন বাহারের  পক্ষ থেকে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন  কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি
ও জেলা পিপি, এড. জহিরুল ইসলাম সেলিম।

পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের জন্য দোয়া প্রার্থনা এবং জানাযায় আগত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের শ্রম বিষায়ক সম্পাদক মোঃ হাসান খসরু।

মরহুমের জানাযার নামাজে অংশগ্রহণ করেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  আরফানুল হক রিফাত , কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুল্লা আল-মাহমুদ সহিদ, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন প্যানেল মেয়র হাবিবুর আল আমিন সাদি, ১৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কায়সার , সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম খাঁন বাবুল, জগন্নাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মামুনুর রশিদ মামুন, ১৩ নং ওর্য়াডের কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, ১৩ নং ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের নেতা এস এম আব্দুল্লা, (ডিস) কাউছার হোসেন, আজহার উদ্দিন মহসিন মোর্তজা রনজু, হানিফ মাহমুদ মিরাজ, ইকবাল হোসেন সাগর, রবিউল আলম বনি, সাহিদ আলী, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী যুবলীগের সদস্য কাউছার খন্দকার,১৩ নং ওয়ার্ডের যুবলীগ নেতা মোতাহের চৌধুরী সেন্টু শহীদ চৌধুরী মিঠু, মাহবুল ভান্ডারী, মহানগর বি এন পির  সদস্য সচিব ইউছুফ মোল্লা টিপুসহ যুবদল ছাত্র দলের নেতৃবৃন্দ, কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহসভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন,সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান পিয়াস,কুমিল্লা মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাঈমুল হক হিমেলসহ ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ,যুবলীগ, সেচ্ছাসেবকলীগ,ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কোম্পানীগঞ্জে শ্যালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ, দুলাভাই গ্রেফতার

 

নোয়াখালী প্রতিনিধি :
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাত বছর বয়সী শ্যালিকাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে দুলাভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃত খালেদ মাহমুদ (৪২) উপজেলার ৪নং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডের মির্জা আলী মিজির বাড়ির মো.আহসান উল্যার ছেলে।

সোমবার (১০ অক্টোবর) দুপুরের দিকে আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পেয়ে গত রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার চরককাঁকড়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ড থেকে অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে শিশুটি তাদের বাড়ির পাশে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। বিকেল ৪টরি দিকে তার দুসম্পর্কের চাচাতো বোনের জামাই খালেদ মাহমুদ শিশুটিকে কৌশলে তার ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। শেষে শিশুটি ঘরে এসে বিষয়টি তার পরিবারের লোকজনকে জানায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই শিশুর প্রতিবেশী এবং দুসম্পর্কের আত্মীয় হয়। এ ঘটনায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে উপপরিদর্শক (এসআই) মো.আক্তার হোসেন। ওই মামলায় আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়।

কুমিল্লায় সেনাকর্মকর্তার স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ, ৭ জন গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

শান্তিরক্ষী মিশনে নিহত তথাকথিত সেনা কর্মকর্তার সহধর্মিনী পরিচয়ে প্রথমে বাসা ভাড়া এবং পরবর্তীতে স্বামীর অনুদানের টাকা উত্তোলনের নামে প্রতারণার মাধ্যমে কুমিল্লা জেলার কয়েকটি পরিবারের নিকট হতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ সিপিসি-২ সদস্যরা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, লক্ষীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম জামিরতলী গ্রামের মৃত. শামসুল হকের মেয়ে ও আব্দুর রহমানের স্ত্রী নুসরাত জাহান জান্নাত (২৭), একই গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে ও জান্নাতের স্বামী আব্দুর রহমান (৩৫), মোহাম্মদ নগর গ্রামের মৃত. ইব্রাহিমের ছেলে সাহাবুদ্দিন @ আলাউদ্দিন (৪৬), একই গ্রামের আমির হোসেনের মেয়ে পারভীন আক্তার (৪৫), চাদঁপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার থামপার গ্রামের হাজী বাড়ির মো: সোলায়মান মিয়ার ছেলে মোঃ ইলিয়াস হোসেন, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার সালমানপুর গ্রামের কিশোর খানের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার (৩৫) এবং বরুড়া উপজেলার এগারগ্রামের জাকির হোসেন আনুর ছেলে মোঃ বশির উদ্দিন।

সময়ের সাথে প্রতারণার নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে সাধারণ জনগণকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তাদের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কয়েকটি প্রতারকচক্র। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লাসহ সারাদেশে বিভিন্ন বাসা-বাড়ীতে সাবলেট ও কোন প্রকার প্রয়োজনীয় তথ্যাদী ব্যতিত বাসা ভাড়া নিয়ে অপরিচিত পরিবারের সাথে সু সম্পর্ক স্থাপন করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বেশ কয়েকটি পরিবারের নিকট হতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। বেশ কিছু প্রতারণার চিত্র প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিকট উপস্থাপন করা হলেও এই ধরণের আরো অনেক প্রতারণার চিত্র ভূক্তভোগীদের অজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষের নিকট উপস্থাপন হয়নি। এধরনের প্রতারণার স্বীকার দুইজন ভূক্তভোগী মোছাঃ হাসিনা বেগম (৭০) এবং মোছাঃ সালমা মির্জা, (২১) গত ২০ আগষ্ট র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লায় স্ব-শরীরে হাজির হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন যেখানে তারা উল্লেখ করেন, শান্তিরক্ষী মিশনে নিহত সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী পরিচয়ে এবং স্বামীর অনুদানের টাকা উত্তোলনের নামে প্রতারণার মাধ্যমে তাদের নিকট হতে আট লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারকচক্র। ভূক্তভোগী হাসিনা বেগম দৌলতপুর, টিএন্ডটি মোড়, হাকিম মঞ্জিলের মালিক। জুলাই মাসে নুসরাত জাহান জান্নাত (২৭), নিজেকে শান্তিরক্ষী মিশনে নিহত সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী পরিচয়ে আমার বাসার ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়। তার নিকট জাতীয় পরিচয় পত্র ও অন্যান্য তথ্যাদি চাহিদা করলে তিনি বলেন আমার শ্বশুড় শ্বাশুড়ী আমাকে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন করায় আমি বাসা ছেড়ে চলে আসছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমি আপনাকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দিয়ে দিবো এবং আমি আপনার বাসায় ২-৩ মাসের মতো থাকবো কারণ ধর্মপুর এলাকায় আমি নিজের জমিতে বাড়ী তৈরীর কাজ শুরু করবো। পরবর্তীতে জান্নাত আমার সাথে বিভিন্ন প্রকার কথা বার্তার মাধ্যমে আমার মন জয় করে এবং প্রায়ই আমার খোজ খবর নেয়। একই অভিযোগে ভূক্তভোগী সালমা মির্জা জানায়, ভূক্তভোগী একজন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ছাত্রী। জান্নাত তার পাশের ফ্ল্যাটে বাসা ভাড়া নেয়ার পর ভূক্তভোগীর সাথে বিভিন্ন প্রকার তালবাহানা করে প্রতিনিয়ত তার রুমে প্রবেশ করে এবং তার সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। জান্নাত তাদের উভয়কে জানায়, এই মাসের মধ্যে তার স্বামীর সরকারী অনুদানের টাকা সোনালী ব্যাংক লিঃ কোর্ট বিল্ডিং, কুমিল্লা শাখায় জমা হয়েছে এবং উক্ত টাকার পরিমাণ ১ কোটি টাকা; যাহা উত্তোলন করিতে উক্ত ব্যাংকে ১০% হারে ভ্যাট হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে। জান্নাত তাদেরকে জানায়, তার নিকট ২ লক্ষ টাকা রয়েছে এবং ভূক্তভোগীরা যদি তাকে ৮ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে দিতে পারে তাহলে সে তার অনাত ছেলেটিকে নিয়ে বাঁচতে পারবে এবং একই সাথে টাকা উত্তোলনের ৩০ মিনিটের মধ্যে তাদের টাকার সাথে ১ লক্ষ করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত প্রদান করবে। জান্নাতের কথা অনুযায়ী ০৮ আগষ্ট ভূক্তভোগীরা ৮ লক্ষ টাকা প্রদান করে এবং টাকা প্রাপ্তির পর পরই জান্নাত উধাও হয়ে যায়। যেহেতু জান্নাতের কোন পরিচয়পত্র বা তথ্যাদি ভূক্তভোগীদের নিকট ছিলনা এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় তাই তাহারা থানায় জিডি করেন এবং আমাদের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন।

উক্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাইপূর্বক র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে এবং মাঠ পর্যায়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। কয়েকটি সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণপূর্বক গোয়েন্দা সূত্র হতে প্রাপ্ত তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এই ঘটনার মূল আসামী জান্নাত ও সংশ্লিষ্ট সকলকে চিহ্নিত করার নিমিত্তে একাধিক টীম মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে। এরই মধ্যে গত ০২ অক্টোবর আরেকজন ভূক্তভোগী মোঃ বিল্লাল হোসেন (২৫), আমাদের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন যেখানে তিনি উল্লেখ করেন আমার পার্শ্ববর্তী ফ্ল্যাটের একজন মহিলা তার স্বামী শান্তিরক্ষী মিশনে নিহত হয়েছেন এবং তার স্বামীর সরকারী অনুদানের টাকা উত্তোলন করতে ব্যাংকে ১০ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে বলে আমার নিকট হতে ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা ২ ঘন্টার জন্য ধার হিসেবে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গিয়েছে। অভিযোগটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায় পূর্বের অভিযোগের একই পক্রিয়া অনুসরণ করে এই ভূক্তভোগীর নিকট হতেও প্রতারণার মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করা হয়েছে।

পূর্বের অভিয্গো হতে প্রাপ্ত তথ্যাদি ও নতুন অভিযোগটি যথাযথ বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য পাওয়া যায়। দুইটি ঘটনার মূলহোতা একজন মহিলা এবং তার পিছনে বেশ বড় একটি প্রতারক চক্র রয়েছে। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এই প্রতারকচক্রের মূল হোতা জান্নাত ও তার সহযোগীদের সনাক্ত করা হয় এবং ০৯ অক্টোবর রাতে লক্ষীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার মান্দারী ইউপি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চক্রের মূলহোতা নুসরাত জাহান জান্নাত এবং তার তিনজন সহযোগী আব্দুর রহমান , সাহাবুদ্দিন @ আলাউদ্দিন ও পারভীন আক্তার এবং কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার কোটবাড়ী এলাকায় একই তারিখ রাতে আরেকটি পৃথক অভিযানে আরো ৩ জন সহযোগী মোঃ ইলিয়াস হোসেন, ফাতেমা আক্তার ও মোঃ বশির উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের নিকট হতে ৯টি মোবাইল ফোন, ০২টি চেক বই, নগদ ৩২ হাজার ৯ শত টাকা এবং বরুড়ার ভাড়া বাসার চাবি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, সম্পুন্ন প্রতারণার প্রক্রিয়াটি মুলত চারটি গ্রুপে সম্পাদন করা হয়। প্রথম গ্রুপ টার্গেট/বাসা চিহ্নিত করে, দ্বিতীয় গ্রুপ বাসা ভাড়া করে এবং টার্গেটের মন জয় করে টাকা প্রদানে সম্মতি করায়, তৃতীয় গ্রুপ ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করে এবং ব্যাংক এলাকা পর্যবেক্ষণ করে এবং চতুর্থ গ্রুপ সকল প্রকার যাতায়াত নিশ্চিত করে। এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ইতিমধ্যে তারা কয়েকটি পরিবারের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানায়।

গ্রেফতারকৃত আসামী ও চক্রের মূলহোতা নুসরাত জাহান জান্নাত জানায়, তার জন্মের ছয় মাসের মধ্যে তার পিতা মাতার ডিভোর্স হয় এবং ১৪ বছর পর্যন্ত সে তার দাদা-দাদীর নিকট বেড়ে উঠে। চৌদ্দ বছর বয়সে সে প্রথম বিয়ে করে এবং এক বছর সংসার করার পর ডিভোর্স হলে সে আবার বিয়ে করে এবং চার বছর সংসার করার পর পুনরায় ডিভোর্স হয়। তার প্রথম ঘরে একটি ও দ্বিতীয় ঘরে তিনটি সর্বমোট চারটি সন্তান রয়েছে। চক্রের মূলহোতা জান্নাত সার্জেন্ট রেজাউল করিমের বাসায় কাজ করার সময় জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরী করে এবং মাতার নাম একই রাখলেও পিতার নাম সার্জেন্ট রেজাউল করিম হিসেবে লিপিবদ্ধ করে। এরপর জান্নাত তার বর্তমান স্বামী অর্থাৎ গ্রেফতারকৃত আসামী আব্দুর রহমানকে বিয়ে করে এবং অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার মধ্য দিয়ে সংসার করে আসছে। ২০১৮-২০২০ সাল পর্যন্ত সে বিভিন্ন বাসা বাড়ীতে কাজ করার নামে ছোট ছোট চুরি করা শুরু করে এবং সফলতার সহিত বেশ কিছু টাকা উপার্জন করে। পরবর্তীতে ২০২১ সালে সে গ্রেফতারকৃত আসামী আব্দুর রহমান, সাহাবুদ্দিন, পারভীন আক্তার, মোঃ ইলিয়াস হোসেন, ফাতেমা আক্তার ও মোঃ বশির উদ্দিন এবং পলাতক আসামী কামাল (৩৫), পিতা-মৃত আশরাফ খান, আবুল খায়ের বাবুচী (৪৫), পিতা-বারু মিয়া, জাহানারা @বুলু (৩০), স্বামী-আবুল খায়ের বাবুচী, শালমানপুর, থানা-সদর দক্ষিণ এর সাথে অল্প পরিশ্রমে প্রতারণার মাধ্যমে কিভাবে নিজেদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছল্লতা আনয়ন করা যায় এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে এবং প্রতারনার এই কৌশলটি অনুসরণ শুরু করে।

উল্লেখ্য যে, আসামী পারভীন আক্তার চক্রের মূলহোতা জান্নাতের আপন ননদ এবং সাহাবুদ্দিন ননদের স্বামী। অপরদিকে আসামী আবুল খায়ের ও জাহানারা চক্রের মূলহোতা জান্নাতের আপন চাচা ও চাচী। জান্নাত জানায়, পলাতক আসামী আবুল খায়ের পেশায় একজন বাবুর্চী । তাই সে ও তার স্ত্রী পলাতক আসামী জাহানারা @বুলু বিভিন্ন বাসা বাড়ীতে রান্নার কাজ করার সময় যে সমস্ত বাড়ীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল এবং বাসা খালি আছে ঐ সমস্ত বাড়ীগুলো টার্গেট করে। খায়েরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী জান্নাত ঐ সমস্ত বাড়ীতে নিজেকে শান্তিরক্ষী মিশনে নিহত সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয়। অধিকাংশ সময় সে তার নিকট জাতীয় পরিচয় পত্র ও অন্যান্য তথ্যাদি চাহিদা করলে তার শ্বশুড় শ্বাশুড়ী তাকে শারিরীক ও মানষিক নির্যাতন করায় সে বাসা ছেড়ে চলে এসেছে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি দিয়ে দিবে বলে বাসা ভাড়া নেয়। কোন বাড়ী ওয়ালা তাতে রাজি না হলে আসামী জান্নাত তার ভূল পরিচয় পত্রটি শুধুমাত্র প্রদান করে। ঐ বাড়িতে প্রথমে সে বাড়ীওয়ালা অথবা পার্শ্ববর্তী ফ্ল্যাটের কাউকে টার্গেট করে এবং তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে। প্রথমদিকে টার্গেটকৃতদের বাড়ীতে বিভিন্ন প্রকার খাবার প্রদান করার মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে। এভাবে ৫-৭ দিন অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বসবাসের মাধ্যমে সে টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের মন জয় করে। এহেন পদ্ধতি অবলম্বন করেই সে ভূক্তভোগী মোঃ বিল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রীর মন জয় করে এবং তাদের দুর্বল পয়েন্টগুলো খুজে বের করে। জান্নাত নিজের অনেক জায়গা সম্পত্তি রয়েছে বিষয়টি বিল্লাল এর স্ত্রীকে বুঝানোর জন্য জান্নাত আসামী মোঃ বশির উদ্দিনের সাথে সমঝোতা করে এবং প্রায়ই বশিরের দোকানে গিয়ে বিল্লালের স্ত্রীসহ গল্প করে ও পার্শ্ববর্তী সকল দোকান তার নিজের বলে দাবী করে। যখন ভূক্তভোগীরা তাকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা শুরুকরে তখন সুযোগ বুঝে তার স্বামীর সরকারী অনুদানের টাকা উত্তোলন করতে ব্যাংকে ১০ লক্ষ টাকা জমা দিতে হবে বলে ভূক্তভোগীর নিকট দশ লক্ষ টাকা ধার দেয়ার জন্য অনুরোধ করে। জান্নাত ভূক্তভোগীকে বলে সে ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকা উত্তোলনের সাথে সাথে তাকে ব্যবসার জন্য বিনাসুদে ২০ লক্ষ টাকা ধার দিবে। যেহেতু ভূক্তভোগী বিল্লাল বিকাশের ব্যবসা করে এবং বর্তমানে ঋণগ্রস্থ রয়েছে তাই বিল্লালের স্ত্রী জান্নাতের কথায় বিশ্বাস করে টাকা দিতে রাজি হয় এবং ২০ সেপ্টেম্বর টাকা দিবে বলে জানায়। উল্লেখিত তারিখে ভূক্তভোগী বিল্লালের স্ত্রী আসামী জান্নাতের সহিত বিল্লালের বন্ধু তহিদুল ইসলাম সহ গ্রেফতারকৃত আসামী ইলিয়াসের অটো যোগে বরুড়া থেকে কুমিল্লা শহরের উদ্দেশ্যে রওনা করে এবং আসামী জান্নাত ভূক্তভোগী বিল্লালকে জানায় তার অনুদানের এক কোটি টাকার মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা বরুড়া সিটি ব্যাংক শাখা হতে উত্তোলন করতে হবে তাই বিল্লাল সিটি ব্যাংকের সামনে অপেক্ষারত থাকে। পথিমধ্যে গ্রেফতারকৃত আসামী বশির বরুড়া আল-আরাফা ব্যাংক এর সামনে সিএনজি নিয়ে অপেক্ষা করে এবং উক্ত সিএনজিতে উঠে আসামী জান্নাত ও বশির এবং ভূক্তভোগী বিল্লালের স্ত্রী ও বন্ধু তহিদুল ইসলাম কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন সোনালী ব্যাংক লিঃ, কুমিল্লা শাখায় গমন করে। সোনালী ব্যাংকে পৌছানোর পর আসামী জান্নাত তহিদুল ইসলামকে বরুড়া চলেযেতে বলে এবং ব্যাংক কর্মকর্তা ওরফে আসামী আব্দুর রহমান আসামী জান্নাতকে টাকা উত্তোলনের জন্য দুইজনের পাসপোর্ট সাইজের ছবি দরকার হবে বলে জানায়। ইতিমধ্যে আসামী সাহাবুদ্দিন ও পারভীন আক্তার ব্যাংক এলাকায় অবস্থান করে চারদিক পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। তাদের নিকট থেকে ক্লিয়ারেন্স পেয়ে আসামী জান্নাত ব্যাংকের নীচে বিল্লালের স্ত্রীর নিকট থেকে টাকাগুলো তার হেফাজতে নিয়ে নেয়। পরবর্তীতে জান্নাত ও বিল্লালের স্ত্রী পার্শ্ববর্তী ষ্টুডিওতে ছবি তোলতে যায় এবং ৫ মিনিট পরে আসামী আব্দুর রহমান ব্যাংক কর্মকর্তা সেজে আসামী জান্নাতকে ফোন দিয়ে অতিদ্রুত ব্যাংকে ভ্যাটের টাকা জমা না দিলে আজকে আর অনুদানের টাকা উত্তোলন করতে পারবে না মর্মে জানায়। তাই আসামী জান্নাত বিল্লালের স্ত্রীকে ষ্টুডিওতে রেখে ব্যাংকে টাকা জমা করার উদ্দেশ্যে গমন করে। ইতিমধ্যে অপর আসামী ফাতেমা সিএনজি নিয়ে জান্নাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে এবং জান্নাত ষ্টুডিও থেকে বের হয়ে সিএনজি যোগে দ্রুত অত্র এলাকা ত্যাগ করে মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্নগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে তাহারা সম্পুর্ণ টাকা নিজেদের মধ্যে পূর্ব নির্ধারিত অংশ অনুযায়ী ভাগ করে নেয়।

এ ঘটনায় ৭ জন গ্রেফতারকৃত, ৩ জন পলাতক এবং ২/৩ জন অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কবিতা: যারা জাগে

 

রেজাউল করিম(সাকিব):

বাতাসে আযানের সুর ছড়ালো
আকাশে তারা আরও চাঁদের আলো
ভোরের আলোয় এক নতুন বাতাস এলো
এই রূপে মুসলিম মসজিদে এলো

নামাজের পরে পাখিরা গান গায়
সূর্য্য উঠে এ ধরায়
স্রষ্টার সেজদায়, সৃষ্টির রূপের মুগ্ধতায়
প্রশান্তির হাওয়া বয়ে যায় মুসলিমের হৃদয়
পাখিরা আল্লাহ গান গায়
সূর্য্য আল্লাহ বিধান সাজায়
সবুজ গাছেরা উঠে জেগে
হরেক রঙের ফুল ফুটায়
শিশির ঘাসের পাতায় পাতায়

নৈঃশব্দ্য এই পরিবেশে
মোরগের ডাক আসে কানে
মুয়াজ্জিনের আযানের সুরে
যারা জাগে
তারাই এই রূপের মুগ্ধতায় সাজে

বুড়িচংয়ের আধুনিক হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় আধুনিক হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় রোজিনা বেগম (৩২) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার শিবরামপুর এলাকার মৃত. আ: মালেক ভূইয়ার ছেলে মো: নাছির ভূইয়া (৪২) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন- ৮ অক্টোবর দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টায় আমার প্রসূতি স্ত্রী রোজিনা বেগমকে সুস্থভাবে ডেলিভারি করানোর জন্য বুড়িচং উত্তর বাজারের আধুনিক হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এনে ভর্তি করাই। ৯ অক্টোবর ভোর ৬ টার দিকে ডা: সাইফুল নামের একজন ও তাঁর সহযোগিরা আমার স্ত্রীর সিজার অপারেশন করে। কণ্যা সন্তান প্রসব করে। কিন্তু সিজারের পর প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকা অবস্থায় তারা সেলাই করে। পরে আবার ডাক্তার বলে আমার স্তà